মায়েশা সবসময় জারিফের রাগকে ভয় পেত। সেই রাগটা এমন নয় যে চিৎকার করে বা কিছু ভেঙে ফেলে। বরং চোখের ভেতর একটা ঠান্ডা অন্ধকার নেমে আসে, কথাগুলো ছোট হয়ে যায়, আর ঘরের বাতাস যেন ভারী হয়ে ওঠে। মায়েশা তখন নিজেকে দূরে সরিয়ে নিত। এক কোণে বসে ভাবত, আজ হয়তো সে কিছু ভুল করেছে।
তারা দুজনই ঢাকার একই এলাকায় বড় হয়েছে। জারিফের বাবা একসময় ব্যবসায় ছিলেন, পরে সবকিছু হারিয়ে ফেলেছিলেন। জারিফ ছোটবেলা থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। মায়েশা তার সেই সংগ্রাম দেখেছে। দেখেছে কীভাবে সে রাত জেগে পড়াশোনা করেছে, কীভাবে চাকরির পর চাকরি বদলেছে, কীভাবে একদিন নিজের ছোট একটা অফিস দাঁড় করিয়েছে।
তারা প্রেম করেছিল ধীরে ধীরে। প্রথমে শুধু কফি শপের টেবিলে বসা, তারপর রাতের ফোনে লম্বা কথা, তারপর হাত ধরা, তারপর আরও গভীরে যাওয়া। জারিফের স্পর্শ সবসময়ই একটু জরুরি লাগত। যেন সে যদি মায়েশাকে এক মুহূর্তও ছাড়ে, তাহলে সে হারিয়ে যাবে।
এক রাতে তারা জারিফের ফ্ল্যাটে ছিল। বাইরে শহরের আওয়াজ, ভেতরে শুধু তাদের শ্বাস। জারিফ মায়েশার চুল সরিয়ে ঘাড়ে চুমু খেল। তার ঠোঁট গরম ছিল। মায়েশা চোখ বন্ধ করে দিল। জারিফের হাত তার কোমর ঘিরে ধরল, শক্ত করে। সে তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। জামা খুলে ফেলল ধীরে। প্রতিটা বোতাম খোলার সঙ্গে সঙ্গে মায়েশার শরীর কাঁপছিল।
জারিফ তার স্তনের ওপর মুখ রাখল। জিভ দিয়ে স্তনবৃন্ত চেপে ধরল। মায়েশা আর্তনাদ করল। জারিফের হাত নিচে নামল, তার প্যান্টের ভেতর ঢুকে গেল। আঙুল দুটো ভেজা জায়গায় ঢুকে গেল সহজেই। জারিফ মায়েশার কানে ফিসফিস করে বলল, “তুমি আমার। শুধু আমার।”
সে তার ভেতরে ঢুকল ধীরে। প্রথমে শুধু মাথা, তারপর পুরোটা। মায়েশা তার পিঠ চেপে ধরল। জারিফ নড়তে শুরু করল। ধীর গতিতে, গভীর করে। প্রতিটা ধাক্কায় মায়েশার শরীর কেঁপে উঠছিল। জারিফ তার ঠোঁট চেপে ধরল, জিভ ঢুকিয়ে দিল। চুমুটা লম্বা ছিল, ক্ষুধার্ত।
তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এভাবেই কাটিয়েছিল। জারিফ মায়েশাকে উপরে তুলে নিয়েছিল, নিচে শুয়ে থেকে তাকে উপরে-নিচে নাচিয়েছিল। মায়েশা যখন শেষবারের মতো কেঁপে উঠল, জারিফ তার ভেতরেই শেষ করল। দুজনের শরীর ঘামে ভিজে গিয়েছিল। জারিফ তখনও তাকে জড়িয়ে ধরেছিল, যেন ছেড়ে দিলে সে উধাও হয়ে যাবে।
সকালে মায়েশা উঠে চা বানাতে গেল। জারিফ এসে তার পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। “আজ অফিসে দেরি করব,” সে বলল। মায়েশা হাসল। কিন্তু তার মনে হচ্ছিল, জারিফের আঁকড়ে ধরাটা একটু বেশি। যেন সে ভয় পাচ্ছে।
সময়ের সঙ্গে মায়েশা বুঝতে শুরু করল। জারিফের রাগ আসলে রাগ নয়। সে যখন রাগ করে, তখন তার চোখে ভয় থাকে। হারানোর ভয়। মায়েশা একদিন তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, “তুমি কেন এত রাগ কর?” জারিফ উত্তর দেয়নি। শুধু তাকে জড়িয়ে ধরেছিল আরও শক্ত করে।
তাদের সম্পর্ক গভীর হচ্ছিল। তারা একসঙ্গে ঘুরতে যেত, রাতে ছাদে বসে শহর দেখত, একে অপরের শরীর চেনে যেত আরও ভালো করে। জারিফ মায়েশার প্রতিটা অঙ্গ চেনে ফেলেছিল। সে জানত কোথায় স্পর্শ করলে মায়েশা কেঁপে ওঠে, কোথায় চুমু খেলে সে আর্তনাদ করে।
এক সন্ধ্যায় তারা আবার একসঙ্গে ছিল। জারিফ মায়েশাকে বিছানায় শুইয়ে তার পা দুটো আলাদা করে দিল। তার মুখ নিচে নামিয়ে দিল। জিভ দিয়ে মায়েশার ভেজা জায়গা চাটতে শুরু করল। মায়েশা বিছানার চাদর চেপে ধরল। জারিফ তার ক্লিট চেপে ধরে চুষতে লাগল। মায়েশা আর্তনাদ করল জোরে। জারিফ থামল না। সে তার দুই আঙুল ঢুকিয়ে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে জিভ চালাতে লাগল। মায়েশা শেষ পর্যন্ত কেঁপে উঠল। তার শরীর থেকে তরল বেরিয়ে এল। জারিফ সব শুধুয়ে নিল।
তারপর সে তার ওপর উঠে এল। ঢুকল এক ঝটকায়। এবার গতিটা দ্রুত ছিল। বিছানা কেঁপে উঠছিল। মায়েশা তার নাম ডাকছিল। জারিফ তার গলা চেপে ধরেছিল হালকা করে, চোখে চোখ রেখে। “তুমি কোথাও যাবে না,” সে বলেছিল। মায়েশা মাথা নাড়ল। “না, যাব না।”
সেই রাতে জারিফ অনেকক্ষণ জেগে ছিল। মায়েশা ঘুমিয়ে পড়েছিল তার বুকে মাথা রেখে। জারিফ তার চুল আঁচড়াচ্ছিল। তার চোখে সেই ভয়টা আবার ফিরে এসেছিল। যে ভয় সে কখনো মুখে বলেনি।
মায়েশা ধীরে ধীরে বুঝতে পারছিল। জারিফের রাগের আড়ালে লুকিয়ে আছে তাকে হারানোর আতঙ্ক। সে হয়তো ভয় পায় যে মায়েশাও একদিন চলে যাবে, যেমন তার জীবনে অন্যরা চলে গিয়েছিল। কিন্তু মায়েশা তখনও জানত না, সেই ভয় কতটা গভীর।
একদিন তারা একসঙ্গে বসে গল্প করছিল। মায়েশা হাসতে হাসতে বলল একটা কথা। সে ভেবেছিল কথাটা হালকা। কিন্তু জারিফের মুখ হঠাৎ শক্ত হয়ে গেল। চোখের ভেতর সেই ঠান্ডা অন্ধকার নেমে এল। মায়েশা বুঝতে পারল, সে কিছু ভুল করে ফেলেছে। কিন্তু তখন আর পিছিয়ে আসার সুযোগ ছিল না।
মায়েশা যে কথাটা বলেছিল, সেটা ছিল সামান্য। তারা সেদিন জারিফের অফিসের কাছের একটা রেস্টুরেন্টে বসেছিল। কথায় কথায় মায়েশা বলে ফেলল, “তুমি এত কষ্ট করেছ জীবনে। কখনো কি ভেবেছ অন্য কারো সঙ্গে শান্তিতে থাকলে ভালো হত?” সে হাসছিল। মজা করে বলছিল। কিন্তু জারিফের চামড়া যেন শক্ত হয়ে গেল।
সে চুপ করে রইল। প্লেটের খাবারে হাত দিল না। মায়েশা বুঝতে পারল কথাটা ভুল হয়েছে। সে তাড়াতাড়ি বলল, “আমি তো মজা করছিলাম। তুমি জানো না আমি কতটা—”
জারিফ উঠে দাঁড়াল। “চল।” তার গলা শুকনো। তারা বাইরে এল। গাড়িতে উঠল। জারিফ গাড়ি চালাতে শুরু করল। মায়েশা পাশে বসে তার মুখ দেখছিল। চোখে সেই ঠান্ডা আগুন।
ফ্ল্যাটে পৌঁছে জারিফ দরজা বন্ধ করে দিল। মায়েশা তার হাত ধরতে গেল। জারিফ সরিয়ে নিল। “তুমিও ভাবো আমি যথেষ্ট নই?” তার গলা কাঁপছিল রাগে। কিন্তু মায়েশা দেখতে পাচ্ছিল, রাগের নিচে ভয়।
“না, জারিফ। আমি তা বলিনি।”
“বলেছ। তুমি বলেছ অন্য কারো সঙ্গে শান্তি পেতাম হয়তো।” জারিফ ঘরের এক কোণে গিয়ে দাঁড়াল। “সবাই যায়। আমার বাবা গিয়েছিল। মা গিয়েছিল। বন্ধুরা গিয়েছিল। তুমিও যাবে।”
মায়েশা কাছে গেল। “আমি যাব না।”
জারিফ হঠাৎ ঘুরে দাঁড়াল। তার চোখ লাল। “যাবে। একদিন যাবে। আর আমি আবার একা হয়ে যাব।” সে দেয়ালে মুষ্টি আছড়ে মারল। দেয়ালে দাগ পড়ল। মায়েশা পিছিয়ে গেল।
সেই রাতে তারা কথা বলল না। জারিফ অন্য ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল। মায়েশা বিছানায় শুয়ে কাঁদল। তার মনে হচ্ছিল, সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পরের দিন জারিফ অফিসে গেল সকাল সকাল। ফিরল রাত গভীরে। মায়েশা অপেক্ষা করছিল। জারিফ এসে শুধু বলল, “আমার জায়গা দরকার।” মায়েশা তার জিনিসপত্র গুছোতে শুরু করল। চোখে জল।
সে চলে যাওয়ার আগে জারিফ তার হাত ধরল। শক্ত করে। “তুমি চলে গেলে আমি বাঁচব না,” সে ফিসফিস করে বলল। তার গলায় কান্না। “তুমি জানো না তুমি আমার কতটা।”
মায়েশা থামল। “তাহলে কেন আমাকে তাড়াচ্ছ?”
জারিফ উত্তর দিল না। শুধু তার হাত ছেড়ে দিল। মায়েশা চলে গেল।
পরের কয়েকদিন তারা কথা বলল না। মায়েশা তার নিজের ফ্ল্যাটে কাটাল। রাতে ঘুম আসত না। জারিফের শরীর মনে পড়ত। তার গরম হাত, তার ভেতরে ঢোকার অনুভূতি, তার কণ্ঠস্বর। সে নিজের শরীর স্পর্শ করত রাতে, জারিফের কথা মনে করে। কিন্তু কিছুতেই সেই তৃপ্তি পাওয়া যেত না।
একদিন জারিফ মেসেজ করল। “আসো।” মায়েশা গেল। জারিফ দরজা খুলে তাকে টেনে ভেতরে নিল। দরজা বন্ধ করেই তাকে দেয়ালে চেপে ধরল। চুমু খেল ক্ষুধার্তের মতো। জিভ ঢুকিয়ে দিল গভীরে। হাত দিয়ে তার জামা ছিঁড়ে ফেলল।
তারা মেঝেতে নেমে গেল। জারিফ মায়েশার প্যান্ট খুলে ফেলল। তার ভেজা জায়গায় মুখ রাখল। জিভ দিয়ে চাটতে লাগল উন্মত্তের মতো। মায়েশা আর্তনাদ করল। জারিফ তার পা দুটো কাঁধে তুলে ধরল। আরও গভীরে জিভ ঢোকাল। মায়েশা শেষ হয়ে গেল একবার, তারপর আবার।
জারিফ উঠে এল। তার প্যান্ট খুলে ফেলল। শক্ত লিঙ্গ বেরিয়ে এল। সে মায়েশার মুখের কাছে নিয়ে গেল। মায়েশা মুখ খুলল। জারিফ ভেতরে ঢুকিয়ে দিল। গভীরে। মায়েশা চোখ বন্ধ করে চুষতে লাগল। জারিফ তার চুল ধরে রেখে সামনে-পেছনে নাড়ছিল।
তারপর সে মায়েশাকে উল্টে দিল। পেছন থেকে ঢুকল। এক ঝটকায়। মায়েশা চিৎকার করল। জারিফ তার কোমর ধরে শক্ত করে ধাক্কা দিতে লাগল। প্রতিটা ধাক্কায় মায়েশার শরীর কেঁপে উঠছিল। জারিফ তার চুল টেনে ধরল। “তুমি আমার,” সে বলল বারবার। “কেউ তোমাকে নেবে না।”
তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চালিয়ে গেল। বিছানায়, দেয়ালে, মেঝেতে। জারিফ মায়েশার প্রতিটা গর্ত ব্যবহার করল। তার মুখ, তার যোনি, তার পেছন। মায়েশা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, কিন্তু জারিফ থামছিল না। যেন সে প্রমাণ করতে চাইছে যে মায়েশা তার।
শেষে তারা বিছানায় শুয়ে পড়ল। ঘামে ভিজে। জারিফ মায়েশাকে জড়িয়ে ধরেছিল। তার হাত কাঁপছিল। “আমি ভয় পাই,” সে বলল। “তুমি চলে গেলে আমি কিছুই থাকব না।”
মায়েশা তার বুকে মাথা রাখল। “আমি যাব না। কিন্তু তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে শেখো।”
জারিফ চুপ রইল। তার চোখে আবার সেই অন্ধকার। সম্পর্কটা তখনও ভাঙার মুখে দাঁড়িয়ে ছিল। একটা ভুল কথা, একটা ভয়—সবকিছু নড়বড়ে।
মায়েশা সেই রাতেও ঘুমাতে পারল না। জারিফের শরীর তার পাশে ছিল, কিন্তু মনটা দূরে। সে ভাবছিল, জারিফের পুরোনো ক্ষতটা আসলে কী। কেন সে এত ভয় পায় হারানোর।
পরের সপ্তাহটা কঠিন কাটল। তারা কথা বলত, কিন্তু দূরত্ব থেকে যেত। জারিফ মায়েশাকে স্পর্শ করত, কিন্তু চোখে সেই ভয়। মায়েশা একদিন সিদ্ধান্ত নিল। সে জারিফের অতীত জানতে চায়।
সে জারিফের এক পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে কথা বলল। বন্ধুটা বলল, জারিফের বাবা যখন ব্যবসা হারান, তখন পরিবার ভেঙে যায়। মা চলে যান অন্য কোথাও। জারিফ তখন কিশোর। সে একা পড়ে যায়। পরে এক সম্পর্কেও প্রতারণা হয়। মেয়েটা তাকে ছেড়ে চলে যায় অন্য কারো কাছে। তারপর থেকে জারিফ কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে না। ভয় পায় যে কেউ থাকবে না।
মায়েশা সব শুনে ফিরে এল। জারিফ সেদিন অফিস থেকে এসে দেখল মায়েশা অপেক্ষা করছে। সে বসল। মায়েশা তার হাত ধরল।
“আমি জানি,” সে বলল। “তোমার বাবা, তোমার মা, সেই মেয়েটা। আমি জানি কেন তুমি ভয় পাও।”
জারিফের চোখ ভিজে গেল। সে মুখ ফিরিয়ে নিল। “তুমি জানলে কী হবে? তুমিও একদিন যাবে।”
মায়েশা তার মুখ ঘুরিয়ে দিল। “আমি যাব না। আমি তোমার। তোমার জীবনে আমার জায়গাটা তুমি যতটা ভাবো, তার চেয়েও গভীর।”
জারিফ তার দিকে তাকাল। মায়েশা উঠে দাঁড়াল। তার জামা খুলে ফেলল। তারপর প্যান্ট। নগ্ন হয়ে জারিফের সামনে দাঁড়াল। “এসো,” সে বলল। “আমাকে নাও। পুরোটা।”
জারিফ উঠে এল। তাকে জড়িয়ে ধরল। চুমু খেল গভীর করে। তারা বিছানায় গেল। এবার জারিফ ধীর ছিল। সে মায়েশার প্রতিটা অঙ্গ চুমু খেল। ঘাড়, স্তন, পেট, উরু। তার যোনিতে মুখ রাখল। জিভ দিয়ে আস্তে আস্তে চাটল। মায়েশা আর্তনাদ করল। জারিফ তার ক্লিট চুষল। আঙুল ঢোকাল। মায়েশা শেষ হয়ে গেল তার মুখে।
তারপর জারিফ তার ওপর উঠে এল। ঢুকল ধীরে। চোখে চোখ রেখে। “আমি ভয় পাই,” সে বলল। “কিন্তু তোমাকে ছাড়তে পারি না।”
মায়েশা তার পিঠ চেপে ধরল। “ছোড়ো না। কখনো ছোড়ো না।”
জারিফ নড়তে শুরু করল। গভীর করে, ধীর গতিতে। প্রতিটা ধাক্কায় তাদের শরীর মিলে যাচ্ছিল। মায়েশা তার নাম ডাকছিল। জারিফ তার ঠোঁট চেপে ধরল। তারা একসঙ্গে শেষ হল। জারিফ তার ভেতরেই ঢেলে দিল। তারপরও বেরুল না। শুয়ে রইল তার ভেতরে।
রাত গভীর হল। তারা আবার শুরু করল। এবার মায়েশা উপরে উঠল। জারিফের লিঙ্গে বসল। উপরে-নিচে নড়তে লাগল। তার স্তন দুলছিল। জারিফ তার কোমর ধরে রেখে সাহায্য করছিল। মায়েশা যখন শেষ হল, জারিফ তাকে উল্টে দিল। পেছন থেকে ঢুকল। এবার গতিটা জোরে। বিছানা কেঁপে উঠছিল। মায়েশা চিৎকার করছিল। জারিফ তার চুল টেনে ধরেছিল। “বলো তুমি আমার,” সে বলল।
“আমি তোমার,” মায়েশা বলল। “সবসময়।”
তারা সকাল পর্যন্ত থামল না। ঘামে, তরলে ভিজে গিয়েছিল বিছানা। শেষে জারিফ মায়েশাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল। তার হাত আর কাঁপছিল না।
“তুমি আমার জীবনের সব,” সে বলল। “আমি যখন একা ছিলাম, তখন ভাবতাম কেউ আসবে না। তুমি এসেছ। তুমি থাকবে।”
মায়েশা তার বুকে কান রাখল। হৃদয়ের শব্দ শুনল। “আমি জানি এখন। তোমার রাগের আড়ালে শুধু ভয়। আমাকে হারানোর ভয়। কিন্তু আমি হারাব না।”
জারিফ তার চুল আঁচড়াল। “আমি চেষ্টা করব। রাগ না করার। বিশ্বাস করার।”
মায়েশা উঠে তার ওপর চুমু খেল। “আমরা একসঙ্গে চেষ্টা করব।”
সেই সকালে তারা আবার একসঙ্গে স্নান করল। জারিফ মায়েশার শরীর সাবান দিয়ে মুছল। তার স্তন, তার পেট, তার যোনি। তারপর তাকে দেয়ালে চেপে ধরে আবার ঢুকল। গরম পানির নিচে তারা আবার শেষ হল।
দুপুরে তারা একসঙ্গে রান্না করল। হাসল। কথা বলল। জারিফ মায়েশার হাত ধরে রেখেছিল প্রায় সবসময়। যেন নিশ্চিত হতে চাইছে সে এখনো আছে।
রাত হলে তারা আবার বিছানায় গেল। এবার আরও গভীর। জারিফ মায়েশার চোখে চোখ রেখে বলল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমার জায়গাটা আমার জীবনে এমন যে তুমি না থাকলে আমি কিছুই নই।”
মায়েশা তার ঠোঁটে চুমু খেল। “আমিও। আর আমি যাব না।”
তারা সেই রাতেও একে অপরকে নিয়ে ব্যস্ত রইল। শরীর মিলিয়ে, প্রাণ মিলিয়ে। জারিফের ভয়টা এখনো পুরোপুরি যায়নি। কিন্তু মায়েশা জানত, সময়ের সঙ্গে সেটা কমবে। কারণ এখন সে জানে, জারিফের রাগের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই আতঙ্ক কতটা গভীর। আর সেই আতঙ্কের কেন্দ্রে আছে শুধু সে—মায়েশা।
তাদের সম্পর্ক আর ভাঙেনি। বরং আরও মজবুত হয়েছে। জারিফ এখনো মাঝে মাঝে রাগ করে। কিন্তু মায়েশা আর ভয় পায় না। সে জানে, সেই রাগের নিচে আছে ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসা এত গভীর যে হারানোর ভয়টাই তাকে এতটা শক্ত করে ধরে রাখে।
মায়েশা এখন আর দূরে সরে যায় না। সে কাছে যায়। জারিফকে জড়িয়ে ধরে। বলে, “আমি এখানে। আমি থাকব।” আর জারিফ তখন তার শরীরে মুখ গুঁজে কাঁদে কখনো কখনো। তারপর তাকে নিয়ে যায় বিছানায়। গভীর করে ভালোবাসে। হট করে, আস্তে করে, যতক্ষণ না দুজনের শরীর এক হয়ে যায়।
এভাবেই চলে তাদের গল্প। বাংলাদেশের এই শহরে, এই ফ্ল্যাটে, দুজন মানুষ একে অপরকে ধরে রেখেছে। একজনের ভয়, আরেকজনের বোঝাপড়া। আর মাঝখানে সেই গভীর, গরম ভালোবাসা—যা কখনো থামে না।
....