অপেক্ষার শেষ রাত

এলারা আর নিভানের পরিচয় হয়েছিল ঢাকার একটা ছোট অফিসে। তারা দুজনেই নতুন চাকরিজীবী। এলারা মার্কেটিংয়ে কাজ করত, নিভান আইটিতে। প্রথম দেখায় কেউ কারো দিকে বিশেষ নজর দেয়নি। কিন্তু একদিন অফিসের ক্যান্টিনে চা খেতে খেতে কথা শুরু হয়। নিভান চুপচাপ মানুষ, কথা কম বলে। এলারা একটু বেশি কথা বলে, হাসতে হাসতে সবকিছু বলতে পারে।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। অফিস শেষে তারা প্রায়ই একসঙ্গে বাসায় ফিরত। কখনো নীলক্ষেতের ফুটপাতে হেঁটে হেঁটে চা খেত, কখনো ধানমন্ডির লেকের পাশ দিয়ে হাঁটত। নিভান এলারার কথা মন দিয়ে শুনত। এলারা যখন অফিসের চাপের কথা বলত, নিভান শুধু মাথা নাড়ত আর মাঝে মাঝে তার হাতটা হালকা করে ধরে রাখত। সেই স্পর্শটা এলারার শরীরে একটা অদ্ভুত উষ্ণতা এনে দিত।

একদিন রাতের দিকে অফিসে কাজ শেষ করে দুজনে ছাদে উঠে বসেছিল। আকাশ পরিষ্কার, তারা দেখা যাচ্ছিল। নিভান হঠাৎ এলারার দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি যখন হাসি, আমার মনে হয় পৃথিবীটা একটু হালকা হয়ে যায়।” এলারা মুখ ফিরিয়ে তাকাল। নিভানের চোখে একটা গভীরতা ছিল। সে আর কিছু না বলে এলারার হাতটা ধরল। এলারাও হাত সরিয়ে নিল না। সেই রাতে তাদের প্রথম চুমু হয়েছিল। আস্তে আস্তে, যেন দুজনেই ভয় পাচ্ছে ভাঙবে। কিন্তু যখন ঠোঁট ছুঁয়ে গেল, দুজনের শ্বাসই ভারী হয়ে উঠল। নিভানের হাত এলারার কোমরে গিয়ে রাখল, এলারা তার ঘাড়ে হাত দিয়ে টেনে নিল। চুমুটা দীর্ঘ হয়ে গেল। গরম, গভীর, আর ক্ষুধার্ত।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

সেই রাত থেকে তাদের সম্পর্ক বদলে গেল। তারা একে অপরের শরীর জানতে শুরু করল। নিভানের ফ্ল্যাটে প্রথমবার যখন তারা একসঙ্গে রাত কাটাল, এলারা ভয় পেয়েছিল। কিন্তু নিভান খুব ধৈর্য ধরে তার শরীরের প্রতিটি অংশকে সম্মান করে স্পর্শ করেছিল। তার হাত এলারার পিঠ বেয়ে নেমে গিয়েছিল, বুকের ওপর আস্তে আস্তে ঘষেছিল। এলারার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠেছিল। নিভান তার কানে ফিসফিস করে বলেছিল, “যদি অস্বস্তি লাগে বলো।” এলারা মাথা নাড়েনি। সে শুধু নিভানের ঠোঁট আবার নিজের দিকে টেনে নিয়েছিল।

রাতে তাদের শরীর এক হয়ে গিয়েছিল। নিভান এলারার ভেতরে ঢুকেছিল আস্তে আস্তে। এলারা তার পিঠে নখ বসিয়ে ধরেছিল। প্রতিটি ধাক্কায় এলারার শরীর কেঁপে উঠত। নিভান তার চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে চুমু খেত। শেষে যখন দুজনেই শেষ হয়ে যায়, এলারা নিভানের বুকে মুখ গুঁজে কাঁদছিল। সুখের কান্না। নিভান তার চুল আঁচড়ে দিয়েছিল আর বলেছিল, “আমি তোমাকে হারাব না।”

কিন্তু হারিয়েই গেল।

অফিসে একটা প্রজেক্ট নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়। এলারার এক সহকর্মী নিভানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে সে তথ্য ফাঁস করেছে। প্রমাণ ছিল না। কিন্তু গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এলারা নিভানকে জিজ্ঞেস করে। নিভান বলে, “আমি করিনি।” এলারা বিশ্বাস করতে চায়, কিন্তু সহকর্মীদের কথায় সে দোদুল্যমান হয়ে পড়ে। এক রাতে তারা তর্ক করে। এলারা বলে, “তুমি যদি সত্যিই নির্দোষ হও, তাহলে প্রমাণ দেখাও।” নিভান চুপ করে থাকে। সে জানে প্রমাণ নেই, আর এলারাকে জোর করে বিশ্বাস করানো যায় না।

পরের দিন এলারা অফিসে যায় না। নিভান ফোন করে, মেসেজ করে। এলারা জবাব দেয় না। এক সপ্তাহ পর এলারা তার চাকরি ছেড়ে অন্য শহরে চলে যায়। নিভান তাকে আটকায়নি। সে জানত, সত্যিটা একদিন এলারা নিজেই জানতে পারবে। সে শুধু একটা চিঠি লিখে রেখেছিল এলারার ডেস্কে। “আমি অপেক্ষা করব। যতদিন লাগে।”

দশ বছর কেটে যায়।

দশ বছর পর এলারা আবার ঢাকায় ফিরে আসে। এখন সে একটা বড় কোম্পানির মার্কেটিং হেড। সফল, আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু ভেতরে এখনও সেই পুরনো ক্ষত। সে জানত নিভান এখনও ঢাকায় আছে। সে জানত নিভান কখনো বিয়ে করেনি। গুজব শুনেছে যে নিভান এখন নিজের একটা সফটওয়্যার কোম্পানি চালায়।

তাদের দেখা হয় একটা বিজনেস কনফারেন্সে। হোটেলের হলে এলারা যখন স্পিচ দিচ্ছিল, হঠাৎ দর্শকদের মধ্যে নিভানকে দেখে ফেলে। নিভান পেছনের সারিতে বসে আছে। চোখের দৃষ্টি আগের মতোই গভীর। এলারার কণ্ঠস্বর এক মুহূর্তের জন্য থেমে যায়। তারপর সে আবার কথা বলে।

কনফারেন্স শেষে নিভান তার কাছে আসে। “এলারা।” শুধু নামটা। এলারার শরীর শিরশির করে ওঠে। দশ বছর পরও সেই গলা।

তারা কফি হাউসে বসে। কথা কম হয় প্রথমে। নিভান জিজ্ঞেস করে, “কেমন আছো?” এলারা বলে, “ভালো।” তারপর চুপ। নিভান হঠাৎ বলে, “সেই চিঠিটা পড়েছিলে?” এলারা মাথা নাড়ে। “পড়েছিলাম। কিন্তু বিশ্বাস করতে পারিনি।”

নিভান তার ফোন থেকে একটা পুরনো ইমেইল দেখায়। সেই সহকর্মী যে অভিযোগ করেছিল, সে পরে স্বীকার করেছিল যে সে মিথ্যা বলেছিল। নিভান সেই মেইলটা এলারাকে পাঠিয়েছিল, কিন্তু এলারা তখন ব্লক করে রেখেছিল। এলারা পড়ে। তার হাত কাঁপে।

“তুমি কেন আমাকে থামাওনি?” এলারা জিজ্ঞেস করে।

নিভান বলে, “কারণ আমি জানতাম তুমি নিজেই জানতে পারবে। আর যদি আমি জোর করতাম, তুমি আরও দূরে চলে যেতে।”

এলারার চোখে জল আসে। সে উঠে দাঁড়ায়। “দশ বছর, নিভান। দশ বছর আমি ভেবেছি তুমি আমাকে ছেড়ে দিয়েছ।”

নিভানও উঠে দাঁড়ায়। “আমি তোমাকে ছাড়িনি। আমি শুধু অপেক্ষা করেছি। অপেক্ষার ধরন বদলে গেছে শুধু।”

সেই রাতে এলারা নিভানের অ্যাপার্টমেন্টে যায়। নিভান দরজা খুলে দেয়। ভেতরে ঢুকে এলারা তার দিকে তাকায়। নিভান এক পা এগিয়ে আসে। এলারা তার জামায় হাত দেয়। নিভান এলারার মুখ দুহাতে ধরে চুমু খায়। গভীর, ক্ষুধার্ত, দশ বছরের অপেক্ষার চুমু। এলারার শরীর কেঁপে ওঠে। নিভান তাকে তুলে নিয়ে বেডরুমে নিয়ে যায়।

জামা খুলে যায় একের পর এক। নিভানের হাত এলারার শরীরে ঘুরতে থাকে। বুক, কোমর, উরু। এলারা নিভানের ঘাড়ে মুখ গুঁজে হাঁপায়। নিভান তার কানে বলে, “আমি তোমাকে প্রতিদিন মনে রেখেছি।” এলারা তার ঠোঁট চেপে ধরে। নিভান এলারার ভেতরে ঢোকে। এলারা চিৎকার করে ওঠে। দশ বছর পরও শরীর চেনে একে অপরকে। প্রতিটি ধাক্কায় এলারার নখ নিভানের পিঠে বসে। নিভান তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। শেষে দুজনেই কেঁপে কেঁপে শেষ হয়। এলারা নিভানের বুকে শুয়ে কাঁদে। নিভান তার চুল আঁচড়ায়।

কিন্তু সকালে এলারা উঠে জামা পরে। “এটা একটা রাত। দশ বছরের অভিমান এক রাতে শেষ হয় না।” নিভান কিছু বলে না। সে শুধু তাকে বিদায় জানায়।

এলারা পরের কয়েকদিন নিভানের থেকে দূরে থাকে। কিন্তু মন থাকে না। রাতে ঘুম আসে না। নিভানের স্পর্শ, তার চুমু, তার গলার আওয়াজ—সব মনে পড়ে। একদিন সে নিভানের অফিসে যায়। নিভান তাকে দেখে অবাক হয়। এলারা বলে, “আমরা কথা বলি।”

তারা নদীতে নৌকায় করে ঘুরতে যায়। সূর্য ডুবছে। এলারা বলে, “আমি ক্ষমা চাই। আমি তোমাকে বিশ্বাস করিনি।” নিভান বলে, “আমি ক্ষমা করে দিয়েছি অনেক আগেই। শুধু তোমার অপেক্ষায় ছিলাম।”

এলারা তার হাত ধরে। “আর কতদিন অপেক্ষা করবে?”

নিভান হাসে। “যতদিন লাগে।”

সেই রাতে তারা আবার একসঙ্গে থাকে। এবার আর তাড়া নেই। নিভান এলারার শরীরকে আস্তে আস্তে চুমু খেতে খেতে নিচে নামে। এলারার পেট, নাভি, তারপর আরও নিচে। এলারা বিছানায় শুয়ে হাঁপায়। নিভানের জিভ যখন তাকে স্পর্শ করে, এলারা চিৎকার করে ওঠে। নিভান তাকে শেষ করে দেয় জিভ দিয়ে। তারপর উঠে এসে এলারার ভেতরে ঢোকে। এবার ধীর। গভীর। প্রতিটি নড়াচড়ায় এলারার শরীর কেঁপে ওঠে। নিভান তার কানে বলে, “আমি তোমাকে ভালোবাসি। দশ বছর ধরে।” এলারা তার ঠোঁট চেপে ধরে আর বলে, “আমিও।”

তারা সারারাত একসঙ্গে থাকে। ভোরে এলারা নিভানের বুকে শুয়ে বলে, “অভিমান শেষ হয়নি সম্পূর্ণ। কিন্তু আমি থাকতে চাই।” নিভান তার কপালে চুমু দিয়ে বলে, “আমরা সময় নেব। ধীরে ধীরে।”

পরের মাসগুলোতে তারা আবার একে অপরকে চেনে। পুরনো ক্ষতগুলো ধীরে ধীরে সারে। নিভান এলারাকে তার কোম্পানিতে নিয়ে যায়, এলারা নিভানকে তার নতুন প্রজেক্টে সাহায্য করে। রাতে তারা একে অপরের শরীরে হারিয়ে যায়। কখনো তাড়াহুড়ো করে, কখনো ধীর গতিতে। নিভান এলারার প্রতিটি অংশকে চুমু খায়, এলারা নিভানের শরীরকে আঁকড়ে ধরে। তাদের ভালোবাসা এখন আরও গভীর, আরও পরিণত।

একদিন এলারা নিভানকে বলে, “তুমি কি এখনও অপেক্ষা করছ?”

নিভান হাসে। “না। এখন আর অপেক্ষা নেই। এখন শুধু তুমি আছ।”

এলারা তার বুকে মুখ গুঁজে বলে, “তাহলে আর কখনো ছেড়ে যেয়ো না।”

নিভান তার চিবুক তুলে চুমু খায়। “যাব না।”

এবং সে যায়নি। দশ বছরের অভিমান একদিনে শেষ হয়নি। কিন্তু প্রতিদিন একটু একটু করে শেষ হয়েছে। আর তাদের ভালোবাসা, যা একসময় ভুল বোঝাবুঝিতে হারিয়ে গিয়েছিল, এখন আরও গভীর হয়ে ফিরে এসেছে।

....
👁 11