আরশিয়ার বিয়েটা হয়েছিল একদিন সকালে। পরিবারের সিদ্ধান্তে। কোনো প্রেমের গল্প ছিল না, কোনো চিঠি লেখাও হয়নি। শুধু দুই পরিবারের আলোচনা, তারপর একটা তারিখ। ইহতিশামের নামটা প্রথমে তার কাছে শুধু একটা শব্দ ছিল। লম্বা, চুপচাপ মানুষ। বিয়ের দিনেও সে খুব বেশি কথা বলেনি। শুধু হালকা একটা হাসি দিয়েছিল যখন আরশিয়া তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল।
নতুন বাড়িতে আরশিয়া এসেছে তিন মাস হলো। ঢাকার একটা পুরনো বাড়ি। চারতলা। নিচের তলায় ইহতিশামের অফিস-কাজের ঘর, উপরে তাদের দুজনের ঘর। শাশুড়ি থাকেন দোতলায়। স্বামীর মা খুব কম কথা বলেন। আরশিয়াকে কোনোদিন জোর করে কিছু করতে বলেননি। শুধু সকালে চায়ের কাপ হাতে এনে দিতেন আর বলতেন, “আস্তে করে সব শিখে নেবে।”
ইহতিশাম সকাল সকাল বেরিয়ে যেত। ফিরত সন্ধ্যায়। রাতে খাবার টেবিলে বসত। কথা কম। আরশিয়া একদিন লক্ষ্য করল, সে কখনো তার পছন্দের খাবারটা জিজ্ঞেস করে না। কিন্তু প্রতিদিন টেবিলে সেই খাবারটাই থাকে যেটা আরশিয়া বেশি খায়। মাছের ঝোল একটু বেশি ঝাল, সবজি একটু কম নোনতা। কেউ বলেনি। তবু সে জানে।
এক রাত আরশিয়া জেগেছিল। ঘুম আসছিল না। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। নিচে রাস্তার আলো জ্বলছে। পেছন থেকে কেউ এসে দাঁড়াল। ইহতিশাম। হাতে এক গ্লাস পানি।
“ঘুম আসছে না?” সে জিজ্ঞেস করল।
আরশিয়া মাথা নাড়ল।
সে গ্লাসটা তার হাতে দিয়ে বলল, “ঠান্ডা পানি। একটু খেয়ে দেখো।”
কথাটা শেষ করে সে চলে গেল। আরশিয়া গ্লাসটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। পানিটা ঠান্ডা। ঠিক যেমন সে পছন্দ করে। কেউ তাকে বলেনি। তবু সে জানে।
পরের সপ্তাহে আরশিয়ার মাথা ব্যথা হলো। সকাল থেকেই। ইহতিশাম অফিস থেকে ফোন করেছিল।
“মাথা ব্যথা?”
“হ্যাঁ।”
“ওষুধ খেয়েছ?”
“না।”
সে দুপুরেই বাড়ি ফিরল। হাতে এক প্যাকেট ওষুধ আর এক বোতল কমলার রস। আরশিয়া বিছানায় শুয়ে ছিল। সে এসে বসল পাশে। কপালে হাত রাখল।
“জ্বর নেই।”
তারপর ওষুধটা খুলল। পানি এনে দিল। আরশিয়া খেল। ইহতিশাম কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল। তারপর বলল, “আজ আর অফিস যাব না। তুমি ঘুমাও।”
আরশিয়া চোখ বন্ধ করেছিল। কিন্তু ঘুম আসছিল না। তার মনে হচ্ছিল, এই মানুষটা তার কোনো কিছু জোর করে চায় না। দূরত্ব রাখে। কিন্তু প্রতিটা ছোট প্রয়োজন খেয়াল রাখে।
এক সন্ধ্যায় আরশিয়া রান্নাঘরে ছিল। তেলের শিশি ফুরিয়ে গেছে। সে খুঁজছিল। ইহতিশাম এসে দাঁড়াল দরজায়।
“কী খুঁজছ?”
“তেল।”
সে গিয়ে আলমারি থেকে নতুন শিশি বের করে দিল। তারপর চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। আরশিয়া তাকাল। তার চোখে একটা অদ্ভুত শান্তি। কোনো চাপ নেই। কোনো জোর নেই। শুধু পাশে থাকা।
রাতের খাবারের পর ইহতিশাম বারান্দায় বসত। আরশিয়া একদিন গিয়ে পাশে বসল। সে কিছু বলল না। শুধু একটা চাদর এনে তার কাঁধে দিয়ে দিল। আবহাওয়া একটু ঠান্ডা ছিল। আরশিয়া চাদরটা জড়িয়ে নিল। তাদের কাঁধে কাঁধ লেগেছিল। ইহতিশাম সরে গেল না। কিন্তু কোনো অতিরিক্ত স্পর্শও করল না।
আরশিয়ার মনে হচ্ছিল, এই দূরত্বটাই তার সবচেয়ে কাছে। সে ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছিল। এই মানুষটা তাকে জোর করে আপন করে নিতে চায়নি। বরং তাকে সময় দিয়েছে। নিজের মতো করে কাছে আসার সুযোগ দিয়েছে।
এক রাত আরশিয়া স্বপ্ন দেখল। স্বপ্নে ইহতিশাম তার হাত ধরেছে। কোনো কথা নেই। শুধু হাত। সে জেগে উঠল। পাশের বালিশে ইহতিশাম ঘুমাচ্ছে। তার শ্বাসগুলো সমান। আরশিয়া হাত বাড়িয়ে তার চুল ছুঁয়ে দেখল। খুব আলতো করে। ইহতিশাম জেগে উঠল না। আরশিয়া হাত সরিয়ে নিল। বুকে একটা উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ল।
পরের দিন সকালে ইহতিশাম চা নিয়ে এল। দুই কাপ। একটাতে বেশি চিনি, একটাতে কম। আরশিয়ার কাপটা কম চিনির। সে জানে। আরশিয়া চা খেতে খেতে বলল, “তুমি সব জানো কীভাবে?”
ইহতিশাম হালকা হাসল। “দেখি। খেয়াল রাখি।”
কথাটা শুনে আরশিয়ার গলা শুকিয়ে গেল। সে চায়ের কাপ নামিয়ে রাখল। ইহতিশাম তার দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর উঠে গেল। কোনো অতিরিক্ত কথা বলল না। কিন্তু আরশিয়া বুঝতে পারল, এই মানুষটার ভালোবাসা শব্দে নয়। কাজে। দূরত্ব রেখেও পাশে থাকায়।
সেই সপ্তাহে আরশিয়ার জন্মদিন ছিল। কেউ মনে রাখেনি বলে সে ভেবেছিল। সন্ধ্যায় ইহতিশাম বাড়ি ফিরল একটা ছোট বক্স নিয়ে। ভিতরে এক জোড়া কানের দুল। সাদা সোনা। আরশিয়ার পছন্দের ডিজাইন। সে কখনো বলেনি। তবু সে জানে।
আরশিয়া বক্সটা খুলে হাতে নিল। চোখ জল নামল। ইহতিশাম এসে তার সামনে বসল। হাত বাড়িয়ে কানের দুলটা পরাতে চাইল। আরশিয়া মাথা এগিয়ে দিল। তার আঙুল আরশিয়ার কানের লতিতে ছুঁয়ে গেল। উষ্ণ। আলতো। আরশিয়ার শরীর কেঁপে উঠল। ইহতিশাম দুলটা পরিয়ে দিয়ে হাত সরিয়ে নিল। কিন্তু চোখ সরায়নি।
“শুভ জন্মদিন,” সে ফিসফিস করে বলল।
আরশিয়া কিছু বলতে পারল না। শুধু তার হাত ধরে রাখল। ইহতিশাম হাত ছাড়ল না। প্রথমবারের মতো তাদের হাত জড়িয়ে রইল লম্বা সময়। ঘরের আলো মৃদু। বাইরে শহরের শব্দ। ভিতরে দুজন মানুষ। দূরত্ব কমে আসছে। ধীরে ধীরে।
রাত গভীর হলে আরশিয়া বিছানায় শুয়ে ভাবল। এই মানুষটা তাকে কখনো জোর করে কাছে টানেনি। অথচ তার প্রতিটা ছোট ছোট যত্ন তাকে এতটা আপন করে ফেলেছে যে সে নিজেও বুঝতে পারেনি কখন। এখন তার মনে হয়, ইহতিশাম ছাড়া এই বাড়িটা আর বাড়ি নয়। তার শ্বাস, তার নীরবতা, তার হাতের উষ্ণতা—সবকিছু তার ভিতরে ঢুকে গেছে।
ইহতিশাম পাশে শুয়ে আছে। আরশিয়া তার দিকে ঘুরল। হাত বাড়িয়ে তার বুকের ওপর রাখল। ইহতিশামের হাত এসে তার হাত চেপে ধরল। কোনো কথা নেই। শুধু স্পর্শ। গভীর। গরম। আরশিয়ার চোখ বন্ধ হয়ে এল। সে অনুভব করল, এই প্রথম সে সত্যিই কাউকে এত কাছে পেয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্তে শুরু হওয়া এই সম্পর্ক এখন তার নিজের হয়ে উঠছে। ধীরে ধীরে। নিঃশব্দে। কিন্তু খুব গভীরভাবে।
আরশিয়া এখন আর আগের মতো দূরত্ব রাখে না। সকালে ইহতিশাম চা নিয়ে এলে সে তার হাত ছুঁয়ে নেয়। রাতে বিছানায় শোয়ার সময় তার বুকে মাথা রাখে। ইহতিশাম কখনো আপত্তি করে না। শুধু তার চুল আলতো করে সরিয়ে দেয়। কখনো কপালে চুমু খায়। খুব হালকা। যেন সে এখনো সাবধানে এগোচ্ছে।
এক রাত আরশিয়া তার গলার কাছে মুখ রাখল। ইহতিশামের শ্বাস তার গালে লাগল। উষ্ণ। সে তার ঠোঁট ছুঁয়ে দেখল। ইহতিশাম স্থির হয়ে গেল। তারপর ধীরে ধীরে আরশিয়ার ঠোঁটের ওপর নিজের ঠোঁট রাখল। চুমুটা লম্বা হলো। গভীর। আরশিয়ার হাত তার চুলে গিয়ে আটকে গেল। ইহতিশামের হাত তার কোমরে। চাপটা বাড়ল। শরীরের তাপ মিলতে লাগল। আরশিয়ার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। ইহতিশাম থামল না। তার জিভ আরশিয়ার ঠোঁটের ফাঁকে ঢুকল। স্বাদ মিষ্টি। চাপা উত্তেজনা।
তারা বিছানায় গড়িয়ে পড়ল। ইহতিশামের শরীর তার ওপর। ওজনটা ভারী কিন্তু আরামদায়ক। আরশিয়া তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিল। ইহতিশামের হাত তার জামার নিচে ঢুকে গেল। ত্বকের স্পর্শ। গরম। আরশিয়া কেঁপে উঠল। ইহতিশাম তার কানে ফিসফিস করল, “বলো যদি থামতে চাও।”
আরশিয়া মাথা নাড়ল। “না। থেমো না।”
ইহতিশাম তার জামা খুলল। ধীরে। প্রতিটা বোতাম। তারপর তার নিজের শার্ট। বুকের চামড়া ছুঁয়ে গেল আরশিয়ার বুক। নরম। চাপা। আরশিয়ার স্তন তার হাতে এল। ইহতিশাম আঙুল ঘোরাল। স্তনবৃন্ত শক্ত হয়ে উঠল। আরশিয়া আর্তনাদ চাপল। ইহতিশাম মুখ নামিয়ে একটা স্তন মুখে নিল। জিভ দিয়ে চেটে দিল। চুষল। আরশিয়ার কোমর উঠে এল। তার হাত ইহতিশামের চুল শক্ত করে ধরল।
ইহতিশাম নিচে নামল। তার পেট চুম্বন করল। নাভির চারপাশে। তারপর আরও নিচে। প্যান্টের ফিতা খুলল। আরশিয়া উঠে বসতে চাইল। ইহতিশাম তাকে চেপে ধরল। “শুয়ে থাকো।”
তার জিভ আরশিয়ার ভিতরে ঢুকল। গরম। ভেজা। আরশিয়া চোখ বন্ধ করে আর্তনাদ করল। ইহতিশামের হাত তার উরু চেপে ধরেছে। জিভ ঘুরছে। চাপ দিচ্ছে। আরশিয়ার শরীর কাঁপছে। সে ইহতিশামের মাথা চেপে ধরল। “আর… আর পারি না…”
ইহতিশাম থামল না। আরশিয়া চূড়ান্ত বিন্দুতে পৌঁছাল। শরীর শক্ত হয়ে গেল। তারপর ঢেউয়ের মতো কেঁপে উঠল। ইহতিশাম উঠে এসে তার ঠোঁটে চুমু খেল। আরশিয়া তার স্বাদ পেল নিজের শরীরের। ইহতিশাম তার প্যান্ট খুলল। শক্ত হয়ে আছে। আরশিয়া হাত দিয়ে ধরল। ইহতিশাম শ্বাস ফেলল। “আস্তে…”
আরশিয়া তাকে ভিতরে নিতে চাইল। ইহতিশাম ধীরে ঢুকল। পূর্ণ। গভীর। আরশিয়া চোখ বড় করে তাকাল। ইহতিশাম নড়ল। প্রথমে আস্তে। তারপর দ্রুত। আরশিয়ার পা তার কোমরে জড়িয়ে গেল। প্রতিটা ধাক্কায় আরশিয়ার ভিতর কেঁপে উঠছে। ইহতিশাম তার গলায় চুমু খাচ্ছে। কামড় দিচ্ছে। আরশিয়া তার পিঠে নখ বসাচ্ছে। ঘাম মিশছে। শ্বাস মিশছে। শেষ পর্যন্ত ইহতিশামও চূড়ান্ত বিন্দুতে পৌঁছাল। তার শরীর শক্ত হয়ে আরশিয়ার ওপর পড়ল। দুজনের শ্বাস এক হয়ে গেল।
পরের কয়েকদিন তারা এভাবেই কাটাল। রাতে গভীর মিলন। সকালে নীরব যত্ন। আরশিয়া এখন পুরোপুরি নিশ্চিত। এই মানুষটা তার। পরিবারের সিদ্ধান্তে শুরু হলেও এখন তার নিজের ইচ্ছায়।
এক সন্ধ্যায় দরজায় কড়া নাড়ল। ইহতিশাম খুলল। বাইরে একজন মেয়ে। লম্বা। চুল বাঁধা। চোখে একটা পরিচিতি। ইহতিশাম স্থির হয়ে গেল।
“সারা?” সে ফিসফিস করে বলল।
মেয়েটা হাসল। “হ্যাঁ। ফিরে এসেছি।”
আরশিয়া পেছন থেকে দেখছিল। তার বুকটা শক্ত হয়ে গেল। সারা। ইহতিশামের অতীতের মানুষ। সে জানত না বিস্তারিত। শুধু শুনেছিল অনেক আগে একটা সম্পর্ক ছিল। যেটা শেষ হয়ে গেছে। এখন সে ফিরে এসেছে।
সারা ভিতরে এল। ইহতিশাম তাকে বসতে বলল। আরশিয়া চা নিয়ে এল। হাত কাঁপছিল। সারা আরশিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি আরশিয়া? সুন্দর নাম।”
আরশিয়া মাথা নাড়ল। কথা বলতে পারল না। সারা ইহতিশামের দিকে তাকাল। “আমরা কথা বলব? একটু বাইরে?”
ইহতিশাম আরশিয়ার দিকে তাকাল। আরশিয়া চোখ সরিয়ে নিল। ইহতিশাম উঠল। সারার সঙ্গে বারান্দায় গেল। আরশিয়া জানালা দিয়ে দেখল। তারা কথা বলছে। সারা হাসছে। ইহতিশামের মুখ গম্ভীর। কিছুক্ষণ পর সারা চলে গেল। ইহতিশাম ভিতরে এল।
আরশিয়া জিজ্ঞেস করল, “কে?”
“পুরনো বন্ধু।”
“শুধু বন্ধু?”
ইহতিশাম চুপ করে রইল। তারপর বলল, “অতীত। শেষ হয়ে গেছে।”
আরশিয়া বিশ্বাস করতে চাইল। কিন্তু ভয়টা চেপে বসল। সে প্রথমবারের মতো ভয় পেল। যাকে নিজের অজান্তে এতটা আপন করে ফেলেছে, তাকে হয়তো এবার সত্যিই হারাতে হবে।
রাতের খাবারে আরশিয়া কথা বলল না। ইহতিশামও চুপ। বিছানায় শোয়ার সময় আরশিয়া দূরে সরে শুল। ইহতিশাম তার দিকে হাত বাড়াল। আরশিয়া সরিয়ে দিল।
“আরশিয়া…”
“আমাকে একটু সময় দাও।”
ইহতিশাম হাত গুটিয়ে নিল। আরশিয়া চোখ বন্ধ করল। মনে মনে প্রার্থনা করল। যেন এই ভয়টা মিথ্যা হয়। যেন সারা শুধুই অতীত থাকে। কিন্তু তার বুকে একটা চাপা ব্যথা ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রথমবার সে অনুভব করল, ভালোবাসা কতটা ভয়ংকর হতে পারে। যখন হারানোর সম্ভাবনা থাকে।
সারা আবার এল। পরের দিন। ইহতিশাম অফিসে। আরশিয়া একা। সারা দরজায় দাঁড়িয়ে বলল, “একটু কথা বলব?”
আরশিয়া তাকে ভিতরে নিল। চা দিল। সারা বসল। চুপ করে কিছুক্ষণ। তারপর বলল, “আমি ইহতিশামকে ভালোবাসতাম। অনেক। কিন্তু সময়টা ঠিক ছিল না। এখন ফিরে এসেছি। দেখতে। সে সুখী কিনা।”
আরশিয়ার গলা শুকিয়ে গেল। “সে সুখী।”
সারা তাকাল। “তুমি নিশ্চিত?”
আরশিয়া মাথা নাড়ল। কিন্তু ভিতরে সন্দেহ। সারা উঠে গেল। যাওয়ার সময় বলল, “ওকে বলো, আমি অপেক্ষা করব না। কিন্তু যদি কখনো… ”
কথা শেষ না করে সে চলে গেল। আরশিয়া দরজা বন্ধ করল। হাত কাঁপছে। সে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। শহরের আওয়াজ। কিন্তু তার কানে শুধু সারার কথা।
ইহতিশাম সন্ধ্যায় ফিরল। আরশিয়া তাকে কিছু বলল না। রাতে সে আবার দূরে শুল। ইহতিশাম এসে পাশে বসল।
“কী হয়েছে?”
আরশিয়া চুপ।
ইহতিশাম তার মুখ ঘুরিয়ে ধরল। “বলো।”
আরশিয়া বলল, “সারা এসেছিল। সে এখনো… ”
ইহতিশাম চোখ বন্ধ করল। তারপর খুলল। “শোনো। সারা আমার অতীত। তুমি আমার বর্তমান। আর ভবিষ্যৎও।”
আরশিয়া কাঁদল। “আমি ভয় পাচ্ছি। তোমাকে হারানোর ভয়।”
ইহতিশাম তাকে বুকে টেনে নিল। “হারাতে দেব না। কখনো না।”
সে আরশিয়ার ঠোঁটে চুমু খেল। প্রথমে আলতো। তারপর গভীর। আরশিয়া সাড়া দিল। ভয়টা গলে যেতে লাগল। ইহতিশাম তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। জামা খুলল। তার স্তনে মুখ রাখল। চুষল। কামড় দিল। আরশিয়া আর্তনাদ করল। ইহতিশাম তার পা দুটো আলাদা করল। মুখ নামিয়ে তার ভিতর চেটে দিল। জিভ গভীরে। আরশিয়া কোমর তুলল। ইহতিশামের হাত তার স্তন চেপে ধরছে। আরশিয়া চূড়ান্ত বিন্দুতে পৌঁছাল দ্রুত। শরীর কাঁপছে।
ইহতিশাম উঠে এসে ঢুকল। একটানে। পূর্ণ। আরশিয়া চোখ বড় করল। ইহতিশাম নড়ল। জোরে। গভীরে। প্রতিটা ধাক্কায় আরশিয়ার ভিতর কেঁপে উঠছে। ইহতিশাম তার কানে বলল, “তুমি আমার। শুধু আমার।”
আরশিয়া তার পিঠে নখ বসাল। “আর তুমি আমার।”
তারা একসঙ্গে চূড়ান্ত বিন্দুতে পৌঁছাল। ঘামে ভেজা শরীর। জড়িয়ে থাকা হাত। ইহতিশাম আরশিয়ার কপালে চুমু খেল। “সারা চলে যাবে। আমি তাকে বলে দেব। তুমিই আমার সব।”
পরের দিন ইহতিশাম সারাকে ফোন করল। আরশিয়া পাশে বসে শুনল। ইহতিশাম স্পষ্ট বলল, “আমার জীবনে আরশিয়া আছে। তুমি অতীত। দয়া করে আর এসো না।”
সারা অন্য প্রান্তে চুপ। তারপর কেটে দিল। ইহতিশাম ফোন নামিয়ে আরশিয়াকে বুকে টানল। “শেষ।”
আরশিয়া তার গলায় মুখ রাখল। শ্বাস নিল। উষ্ণ। পরিচিত। সে বুঝতে পারল, ভয়টা মিথ্যা ছিল। এই মানুষটা তাকে কখনো হারাতে দেবে না। দূরত্ব রেখে শুরু করা এই সম্পর্ক এখন গভীর মূলে পৌঁছেছে। রাতের অন্ধকারে তাদের শরীর আবার মিলল। ধীরে। গভীরে। কোনো তাড়া নেই। শুধু ভালোবাসা। গরম। অটুট। আরশিয়া চোখ বন্ধ করে অনুভব করল, পরিবারের সিদ্ধান্তে শুরু হওয়া এই বিয়ে এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য। ইহতিশাম তার। আর সে ইহতিশামের। চিরকাল।
....