ক্ষত সারানোর শেষ লড়াই

রুহাইনা বিশ্বাস করত, তার জীবনে কখনো সত্যিকারের আপন কেউ থাকবে না। ছোটবেলা থেকেই সে একাই বড় হয়েছে। বাবা-মা দুজনই তাকে রেখে চলে গেছেন অনেক আগে। মামা-মামিরা বড় করেছে ঠিকই, কিন্তু সেই অনুভূতি কখনো আসেনি যে কেউ তাকে সত্যিই চায়। চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় একটা ছোট ফ্ল্যাটে একা থাকা তার অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। চাকরি করে, বাসায় ফিরে একা খায়, একা ঘুমায়। রাতের নিস্তব্ধতায় কখনো কখনো মনে হয়, এই একাকিত্বই হয়তো তার নিয়তি।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

সেদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পথেই সবকিছু বদলে যায়। অফিসের সামনের চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিল রুহাইনা। হঠাৎ পেছন থেকে একটা গভীর গলায় কেউ বলল, “আপা, একটু সরে দাঁড়ান।” ঘুরে তাকিয়ে দেখে একজন লম্বা চেহারার ছেলে। কালো চোখ, হালকা দাড়ি, আর হাসিমুখ। সাফওয়ান।

সাফওয়ান রাজশাহী থেকে এসেছে নতুন চাকরিতে। চট্টগ্রামের এই শাখায় যোগ দিয়েছে মাত্র কয়েকদিন হলো। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতেই কথা শুরু হয়। প্রথমে সাধারণ। কাজের কথা, শহরের কথা, খাবারের কথা। কিন্তু সাফওয়ানের কথাবার্তায় একটা স্বচ্ছতা ছিল, যেটা রুহাইনাকে টানে। দুপুরে লাঞ্চ ব্রেকে আবার দেখা। বিকেলে অফিস শেষে চায়ের দোকানে বসে গল্প। সেদিন সন্ধ্যায় সাফওয়ান বলল, “কাল সকালে সমুদ্রের পাশে হাঁটতে যাবেন?”

¦Ëk¢x/춺'ƒú

রুহাইনা প্রথমে না বলতে চেয়েছিল। কিন্তু মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল, “যাব।”

পরের দিন সকালে পাথরঘাটার কাছে সমুদ্রের ধারে হাঁটছিল দুজন। ঢেউয়ের শব্দ, নোনতা হাওয়া, আর সাফওয়ানের কথা। সাফওয়ান বলছিল তার রাজশাহীর বাড়ির কথা, আমের বাগানের কথা, মায়ের হাতের রান্না। রুহাইনা শুনছিল চুপচাপ। হঠাৎ সাফওয়ান থেমে গিয়ে তার দিকে তাকাল। “আপনার চোখে একটা বিষণ্নতা আছে। কেন?”

রুহাইনা হাসল মৃদু করে। “অভ্যাস হয়ে গেছে হয়তো।”

সাফওয়ান তার হাত ধরল ধীরে। “আমি চাই না আপনি একা থাকুন।”

সেই স্পর্শটা রুহাইনার শরীরে একটা অদ্ভুত কম্পন তুলেছিল। অনেকদিন পর কেউ তাকে এভাবে স্পর্শ করেছে। সাফওয়ানের হাত গরম, শক্ত, আর নিরাপদ। রুহাইনা হাত ছাড়ল না।

সেদিন থেকে প্রায় প্রতিদিন দেখা হতো। অফিসে, চায়ের দোকানে, সন্ধ্যায় সমুদ্রের পাশে। সাফওয়ান তাকে নিয়ে যেত শহরের বিভিন্ন জায়গায়। একদিন নিয়ে গেল চট্টগ্রামের পাহাড়ি রাস্তায়। গাড়ির ভেতরে বসে গল্প করছিল। হঠাৎ সাফওয়ান গাড়ি থামিয়ে রুহাইনার দিকে ঘুরল। “আমি আপনাকে চাই। শুধু বন্ধু হিসেবে নয়।”

রুহাইনার হৃদয় জোরে কাঁপছিল। “আমি ভয় পাই। কেউ আমাকে চায় না শেষ পর্যন্ত।”

সাফওয়ান তার মুখের কাছে এগিয়ে এল। “আমি চাই। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে।”

প্রথম চুমুটা হয়েছিল সেই গাড়ির ভেতরে। সাফওয়ানের ঠোঁট নরম, আর চুমুটা গভীর। রুহাইনা তার কাঁধে হাত রেখে জবাব দিল। শরীর জুড়ে একটা আগুন জ্বলে উঠল। সাফওয়ানের হাত তার কোমরে, তারপর পিঠে। রুহাইনার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠছিল। সাফওয়ান চুমু ভেঙে তার কানে ফিসফিস করল, “আজ রাতে আমার বাসায় আসবে?”

রুহাইনা মাথা নাড়ল।

সাফওয়ানের ভাড়া বাসাটা ছিল শহরের এক কোণে, ছোট কিন্তু পরিপাটি। দরজা বন্ধ হতেই সাফওয়ান তাকে দেয়ালে হেলান দিয়ে চুমু দিল। এবারের চুমু আরও তীব্র, আরও ক্ষুধার্ত। রুহাইনার জামা খুলে ফেলল সাফওয়ান ধীরে ধীরে। তার হাত রুহাইনার ত্বকে ঘুরছিল, বুকের ওপর, কোমরে, তারপর নিচে। রুহাইনা হাঁপাচ্ছিল। সাফওয়ান তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। নিজেও জামা খুলে ফেলল। তার বুকের ওপর রুহাইনার হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল।

সাফওয়ান তার গলায় চুমু দিল, তারপর বুকে, তারপর আরও নিচে। রুহাইনার শরীর কেঁপে উঠছিল। যখন সাফওয়ান তার ভেতরে প্রবেশ করল, রুহাইনা তার পিঠে নখ বসিয়ে দিল। ব্যথা আর সুখ মিশে একাকার। সাফওয়ান ধীরে শুরু করল, তারপর গতি বাড়াল। রুহাইনার কান্না আর আর্তনাদ মিশে যাচ্ছিল। সাফওয়ান তার কানে বলছিল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি আমার।”

রাতভর তারা একে অপরকে চেয়েছিল। কখনো ধীরে, কখনো পাগলের মতো। সাফওয়ান তার শরীরের প্রতিটি অংশ চুমু দিয়েছিল, চাটছিল, আদর করছিল। রুহাইনাও পিছিয়ে থাকেনি। সাফওয়ানের বুকে চুমু দিয়ে, তার গলায় দাঁত বসিয়ে, তার নিচে নেমে গিয়ে তাকে সুখ দিয়েছিল। ভোরের আলো আসার আগে তারা ক্লান্ত হয়ে একে অপরের বুকে শুয়েছিল।

সেই রাত থেকে রুহাইনার বিশ্বাস বদলে যেতে শুরু করে। সাফওয়ান তাকে প্রতিদিন ফোন করে, মেসেজ করে, অফিসে এসে হাত ধরে। সপ্তাহ শেষে তারা আবার মিলিত হয়। প্রতিবারই আরও গভীর, আরও তীব্র। সাফওয়ান তাকে শেখায় কীভাবে ভালোবাসতে হয়, কীভাবে নিজেকে সম্পূর্ণ দিয়ে দিতে হয়। রুহাইনা শেখে কীভাবে চাইতে হয়, কীভাবে চিৎকার করে সুখ প্রকাশ করতে হয়।

এক মাস পরে সাফওয়ান বলল, “আমি তোমাকে আমার পরিবারের সাথে পরিচয় করাব। তুমি আমার জীবনের অংশ।”

রুহাইনা তখনো একটু ভয় পেত। কিন্তু সাফওয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে সে বিশ্বাস করে ফেলেছিল। প্রথমবারের মতো কেউ তাকে সত্যিই চায়। সাফওয়ানের হাত ধরে সে ভাবল, হয়তো এবার আর একা থাকতে হবে না।

তারা পরিকল্পনা করল। সাফওয়ান রাজশাহীতে যাবে পরিবারকে জানাবে। রুহাইনা অপেক্ষা করবে। রাতে তারা আবার মিলিত হয়। এবার আরও আবেগময়। সাফওয়ান তাকে বারবার চুমু দেয়, বলে, “তুমি আমার সব।” রুহাইনা তার বুকে মাথা রেখে শোনে তার হৃদয়ের স্পন্দন। সেই স্পন্দনই তার নতুন বিশ্বাস।

কিন্তু সে জানত না, এই বিশ্বাস শীঘ্রই পরীক্ষায় পড়বে। সাফওয়ানের পরিবারের ছায়া ইতিমধ্যেই তাদের সুখের ওপর নেমে আসতে শুরু করেছে। রুহাইনা তখনো স্বপ্ন দেখছিল। সাফওয়ানের সাথে একটা ছোট বাড়ি, সকালে একসাথে চা, রাতে একে অপরের কোলে। সেই স্বপ্নগুলো তখনো বাস্তব মনে হচ্ছিল।

সাফওয়ান তাকে চুমু দিয়ে বলল, “আমি ফিরে আসব। তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করো।”

রুহাইনা মাথা নাড়ল। তার চোখে তখনো আশা জ্বলছিল। সে জানত না, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সবকিছু ভেঙে পড়বে। কিন্তু সেই মুহূর্তে শুধু সাফওয়ানের উষ্ণতাই যথেষ্ট ছিল। তার শরীর, তার চুমু, তার ভালোবাসা। রুহাইনা প্রথমবারের মতো অনুভব করছিল, সে একা নয়।

সাফওয়ান রাজশাহীতে গেল। রুহাইনা প্রতিদিন ফোনের অপেক্ষায় থাকত। প্রথম কয়েকদিন সাফওয়ান নিয়মিত ফোন করত। “আম্মাকে বলেছি তোমার কথা। উনি শুনছেন।” কিন্তু ধীরে ধীরে ফোনের সংখ্যা কমতে থাকে। এক সপ্তাহ পরে সাফওয়ান বলল, “পরিবার একটু চাপ দিচ্ছে। আব্বু চান আমি অন্য কাউকে বিয়ে করি।”

রুহাইনার বুক কেঁপে উঠল। “তুমি কী বললে?”

সাফওয়ান চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। “আমি বলেছি তোমাকেই চাই। কিন্তু তারা শুনছে না।”

রুহাইনা সেদিন রাতে ঘুমাতে পারেনি। পরের দিন সাফওয়ান আবার ফোন করল। গলায় ক্লান্তি। “আম্মা কাঁদছেন। আব্বু বলছেন পরিবারের সম্মানের কথা। তারা চান আমি একটা মেয়ের সাথে কথা বলি যাকে তারা পছন্দ করেছে।”

রুহাইনা জিজ্ঞেস করল, “তুমি কী করবে?”

সাফওয়ান বলল, “আমি লড়ব। তুমি ভয় পেয়ো না।”

কিন্তু লড়াইটা সহজ ছিল না। সাফওয়ানের পরিবার চাপ বাড়াতে থাকে। ফোন আসে রুহাইনার কাছেও। একদিন সাফওয়ানের বড় ভাই ফোন করে বলল, “আপা, আপনি আমাদের ভাইকে ছেড়ে দিন। পরিবারের জন্য এটা জরুরি।”

রুহাইনা ফোন কেটে দিল। তার চোখে জল এল। সে জানত, সাফওয়ান তাকে ভালোবাসে। কিন্তু পরিবারের চাপ কতটা শক্তিশালী হতে পারে, সেটা সে বুঝতে পারছিল না।

দুই সপ্তাহ পরে সাফওয়ান চট্টগ্রামে ফিরে এল। রুহাইনা স্টেশনে গিয়েছিল। সাফওয়ান তাকে দেখেই জড়িয়ে ধরল। কিন্তু তার চোখে একটা অদ্ভুত বিষণ্নতা ছিল। রাতে তারা সাফওয়ানের বাসায় গেল। সাফওয়ান তাকে চুমু দিল, আদর করল, কিন্তু আগের মতো পাগলামি ছিল না। রুহাইনা জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?”

সাফওয়ান মাথা নিচু করে বলল, “আমাকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরিবার আমাকে বলেছে, যদি তোমাকে বেছে নিই তাহলে তারা আমাকে ত্যাগ করবে। আব্বু অসুস্থ। আম্মা কাঁদছেন রোজ।”

রুহাইনার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। “তুমি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছ?”

সাফওয়ান তাকাল তার দিকে। চোখে জল। “আমাকে কিছুদিনের জন্য দূরে থাকতে হবে। আমি তাদের সাথে কথা বলে দেখি।”

রুহাইনা বুঝতে পারল না। “দূরে থাকা মানে কী?”

সাফওয়ান বলল, “আমাকে সেই মেয়ের সাথে দেখা করতে বলা হয়েছে। শুধু দেখা। আমি রাজি হয়েছি শুধু পরিবারকে শান্ত করার জন্য।”

রুহাইনার কাছে সেটা বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে হল। সে উঠে দাঁড়াল। “তুমি আমাকে ভালোবাসো আর অন্য মেয়ের সাথে দেখা করতে যাচ্ছ?”

সাফওয়ান তার হাত ধরতে গেল। রুহাইনা সরিয়ে নিল। “না। আমাকে ছুঁয়ো না।”

সেই রাতে তারা মিলিত হয়নি। রুহাইনা কেঁদে কেঁদে বাসায় ফিরল। পরের কয়েকদিন সাফওয়ান ফোন করে, মেসেজ করে, কিন্তু রুহাইনা জবাব দেয় না। একদিন সাফওয়ান অফিসে এসে তাকে থামায়। “আমাকে শোনো। আমি তোমাকেই চাই। কিন্তু আমাকে সময় দাও।”

রুহাইনা বলল, “তুমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছ, সেটাই আমার কাছে যথেষ্ট। তুমি আমাকে বেছে নাওনি।”

সাফওয়ান তার হাত ধরে টানল কাছে। “আমি তোমাকে ভুলে যাইনি। রাতেও তোমার কথা ভাবি। তোমার শরীর, তোমার চুমু, তোমার কান্না। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।”

রুহাইনা তার চোখের দিকে তাকাল। সাফওয়ান চুমু দিতে চাইল। রুহাইনা প্রথমে বাধা দিল, তারপর হার মানল। তারা অফিসের পেছনের একটা খালি রুমে গেল। সাফওয়ান তাকে দেয়ালে হেলান দিয়ে চুমু দিল ক্ষুধার্তের মতো। রুহাইনার জামা তুলে তার বুকে হাত বুলিয়ে দিল। রুহাইনা হাঁপাচ্ছিল। সাফওয়ান তার স্কার্ট তুলে তার উরুতে হাত বুলিয়ে দিল, তারপর আরও উপরে। রুহাইনা তার কাঁধে মাথা রেখে বলল, “এটা শেষবার।”

সাফওয়ান তাকে উল্টে দাঁড় করিয়ে পেছন থেকে প্রবেশ করল। রুহাইনা চিৎকার চেপে ধরল। সাফওয়ান দ্রুত গতিতে চলছিল, তার হাত রুহাইনার বুকে, তারপর নিচে। রুহাইনার শরীর কেঁপে উঠছিল। সাফওয়ান তার কানে বলছিল, “তুমি আমার। শুধু তুমি।” কিন্তু রুহাইনার চোখে জল ছিল। সুখের সাথে মিশে ছিল বেদনা।

শেষ হওয়ার পর সাফওয়ান তাকে জড়িয়ে ধরল। “আমি ফিরে আসব। কথা দিচ্ছি।”

রুহাইনা তার বুক থেকে সরে গেল। “না। তুমি যাও। আমাকে আর কষ্ট দিয়ো না।”

সেদিনের পর সাফওয়ান চলে গেল রাজশাহীতে। রুহাইনা শুনল, সে সেই মেয়ের সাথে কথা বলছে। বিয়ের কথা উঠছে। রুহাইনার কাছে সেটা ছিল চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা। সে সাফওয়ানের সব মেসেজ ব্লক করে দিল। ফোন নম্বর চেঞ্জ করল। চাকরি ছেড়ে অন্য শহরে চলে যাওয়ার কথা ভাবল। কিন্তু পারল না। চট্টগ্রামেই থেকে গেল, একা।

রাতগুলো কঠিন ছিল। বিছানায় শুয়ে সাফওয়ানের স্পর্শ মনে পড়ত। তার চুমু, তার গভীর কণ্ঠস্বর, তার শরীরের উষ্ণতা। রুহাইনা নিজে নিজে কাঁদত। কখনো রাগে, কখনো বেদনায়। সে বিশ্বাস করত, কেউ তাকে চায় না। সাফওয়ান এসে সেই বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছিল, তারপর আবার গড়ে তুলেছিল সেই দেয়াল।

মাস চলে যায়। সাফওয়ানের কোনো খবর নেই। রুহাইনা কাজ করে, বাসায় ফিরে একা থাকে। কখনো কখনো মনে হয়, হয়তো সবকিছু স্বপ্ন ছিল। কিন্তু শরীর মনে রাখে। রাতে ঘুমের মধ্যে সাফওয়ানের নাম ধরে ডাকে। জেগে উঠে দেখে একা।

একদিন অফিসের এক সহকর্মী বলল, “সাফওয়ানের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে শুনলাম।”

রুহাইনার হাত কেঁপে উঠল। সে কিছু বলল না। বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ করে কেঁদে ভাঙল। সেই রাতে সে সিদ্ধান্ত নিল, সাফওয়ানকে ভুলে যাবে। কিন্তু মন মানল না। শরীর মানল না। প্রতিটি চুমু, প্রতিটি স্পর্শ তার ত্বকে খোদাই হয়ে আছে।

বছর শেষের দিকে রুহাইনা শুনল, সাফওয়ানের বিয়ে হয়নি। কী কারণে জানে না। কিন্তু সে আর খোঁজ নেয় না। তার ক্ষতগুলো এখনো কাঁচা। সাফওয়ানের সিদ্ধান্ত তার কাছে এখনো বিশ্বাসঘাতকতা। সে জানে না, সাফওয়ানও তাকে ভুলতে পারেনি। রাতে একা শুয়ে সাফওয়ানও তার নাম ধরে ডাকে। কিন্তু দূরত্ব বাড়তেই থাকে।

বছর শেষে ভাগ্য আবার তাদের সামনে দাঁড় করায়। রুহাইনা একটা প্রজেক্টের জন্য ঢাকায় গিয়েছিল। হোটেলের লবিতে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিল। হঠাৎ চোখ পড়ল এক পরিচিত মুখে। সাফওয়ান। সেও তাকিয়ে আছে তার দিকে। সময় যেন থেমে গেল।

সাফওয়ান এগিয়ে এল। “রুহাইনা।”

রুহাইনার গলা শুকিয়ে গেল। “তুমি এখানে কেন?”

“কাজের সূত্রে। তুমি?”

“আমিও।”

চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল দুজন। সাফওয়ান বলল, “কথা বলবে? একটু সময় দাও।”

রুহাইনা প্রথমে না বলতে চেয়েছিল। কিন্তু মাথা নাড়ল। তারা হোটেলের ক্যাফেতে বসল। সাফওয়ান বলল, “বিয়ে হয়নি। আমি পারিনি। তোমাকে ভুলে যেতে পারিনি। পরিবারকে বলেছি, আমি তোমাকেই চাই। তারা এখনো রাজি নয়, কিন্তু আমি আর তাদের কথা শুনব না।”

রুহাইনার চোখে জল এল। “তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছ। তোমার সিদ্ধান্ত আমার কাছে বিশ্বাসঘাতকতা ছিল।”

সাফওয়ান মাথা নিচু করল। “আমি জানি। আমি ভয় পেয়েছিলাম। আব্বু অসুস্থ ছিলেন। আমি ভেবেছিলাম সময় নিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আমি ভুল করেছি। প্রতিদিন তোমার কথা ভেবেছি। তোমার শরীর, তোমার হাসি, তোমার কান্না। আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম।”

রুহাইনা উঠে দাঁড়াতে চাইল। সাফওয়ান তার হাত ধরল। “যাবে না। আমাকে সুযোগ দাও।”

সেই রাতে তারা সাফওয়ানের হোটেল রুমে গেল। দরজা বন্ধ হতেই সাফওয়ান তাকে জড়িয়ে ধরল। চুমু দিল গভীর করে। রুহাইনা প্রথমে শক্ত হয়ে রইল, তারপর হার মানল। সাফওয়ানের হাত তার শরীরে ঘুরছিল যেন হারিয়ে যাওয়া কিছু খুঁজে পাচ্ছে। রুহাইনার জামা খুলে ফেলল। তার বুকে চুমু দিল, চাটল, আদর করল। রুহাইনা হাঁপাচ্ছিল। সাফওয়ান তাকে বিছানায় শুইয়ে নিজেও খুলে ফেলল।

তারা মিলিত হল পাগলের মতো। সাফওয়ান তার ভেতরে প্রবেশ করে থেমে গেল। “আমি তোমাকে হারাব না আর।” রুহাইনা তার পিঠে নখ বসিয়ে টানল। সাফওয়ান গতি বাড়াল। রুহাইনার চিৎকার ঘরের দেয়ালে আছড়ে পড়ছিল। সাফওয়ান তার গলায় চুমু দিয়ে বলছিল, “তুমি আমার। শুধু আমার।” রুহাইনা জবাব দিল কান্না মেশানো গলায়, “তুমি আমাকে ভুলে গিয়েছিলে।”

সাফওয়ান থেমে গিয়ে তার মুখের দিকে তাকাল। “না। কখনো না। প্রতি রাতে তোমার কথা ভেবেছি। তোমার এই শরীর, এই চোখ, এই ঠোঁট।” সে আবার শুরু করল। এবার আরও গভীর, আরও ধীর। রুহাইনার সুখ চিৎকারে বেরিয়ে এল। সাফওয়ানও তার সাথে মিলে গেল।

পরে তারা একে অপরের বুকে শুয়ে কথা বলল। সাফওয়ান বলল, “আমি পরিবারকে পরিষ্কার বলে দিয়েছি। তারা মানুক বা না মানুক, আমি তোমাকেই বেছে নিয়েছি। তুমি কি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে?”

রুহাইনা চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। “ক্ষতগুলো এখনো কাঁচা। তুমি যেভাবে চলে গিয়েছিলে, সেটা ভুলতে পারছি না।”

সাফওয়ান তার কপালে চুমু দিল। “আমি জানি। আমি অপেক্ষা করব। তুমি যতদিন সময় নাও।”

পরের কয়েকদিন তারা ঢাকায়ই থাকল। দিনে কাজ, রাতে একে অপরের কাছে। প্রতি রাতেই তারা মিলিত হয়। কখনো আস্তে, কখনো তীব্রভাবে। সাফওয়ান তার শরীরের প্রতিটি অংশ আবার চিনতে চায়। রুহাইনাও তাকে আবার গ্রহণ করে। কিন্তু কথা হয় কম। ক্ষতগুলো সারানো সহজ নয়।

একদিন রাতে রুহাইনা কেঁদে ফেলল সাফওয়ানের বুকে। “আমি ভয় পাই। যদি আবার চলে যাও?”

সাফওয়ান তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। “না। আর কখনো না। আমি তোমাকে আমার জীবনের কেন্দ্রে রাখব। পরিবার যদি না মানে, আমি আলাদা হয়ে যাব। তুমিই আমার পরিবার।”

রুহাইনা তার চোখের দিকে তাকাল। সাফওয়ান চুমু দিল ধীরে। তারপর আবার মিলিত হল। এবার আরও আবেগময়। সাফওয়ান তার ভেতরে থেকে থেমে গিয়ে বলল, “বলো তুমি আমাকে চাও।” রুহাইনা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, “চাই। আমি তোমাকে চাই।”

তারা ঢাকা থেকে ফিরে চট্টগ্রামে এল। সাফওয়ান তার পুরনো বাসায় আর গেল না। রুহাইনার সাথেই থাকতে শুরু করল। পরিবার থেকে ফোন আসে। সাফওয়ান কথা বলে, কিন্তু নতি স্বীকার করে না। রুহাইনা দেখে, সাফওয়ান এবার সত্যিই লড়ছে।

ক্ষতগুলো ধীরে ধীরে সারতে থাকে। কিন্তু পুরোপুরি নয়। কখনো কখনো রুহাইনার মনে হয়, সাফওয়ান আবার চলে যাবে। সেই ভয় তাকে রাতে জাগিয়ে রাখে। সাফওয়ান তখন তাকে জড়িয়ে ধরে, চুমু দেয়, ভালোবাসে। বলে, “আমি এখানেই আছি।”

এক মাস পরে সাফওয়ান রুহাইনাকে নিয়ে রাজশাহী গেল। পরিবারের সাথে দেখা করতে। রুহাইনা ভয় পেয়েছিল। কিন্তু সাফওয়ান তার হাত ধরে রেখেছিল পুরোটা সময়। আম্মা প্রথমে কথা বলেননি। আব্বু তাকিয়েছিলেন কঠোর দৃষ্টিতে। সাফওয়ান পরিষ্কার বলেছিল, “আমি রুহাইনাকে বিয়ে করব। আপনারা মানুন বা না মানুন।”

বাড়ি ফিরে রুহাইনা সাফওয়ানের বুকে মাথা রেখে বলল, “এটা সহজ হবে না।”

সাফওয়ান তার চুলে হাত বুলিয়ে দিল। “আমি জানি। কিন্তু আমরা একসাথে আছি। সেটাই যথেষ্ট।”

রাতে তারা আবার মিলিত হল। এবার আরও গভীর ভালোবাসায়। সাফওয়ান তার শরীরে চুমু দিয়ে দিয়ে বলছিল, “তুমি আমার জীবন। আমি তোমাকে হারাব না।” রুহাইনা তার পিঠে হাত বুলিয়ে জবাব দিল শরীর দিয়ে। সুখের চিৎকারে পুরোনো ক্ষতগুলো একটু একটু করে মিলিয়ে যাচ্ছিল।

রুহাইনা এখন আর বিশ্বাস করে না যে সে একা থাকবে। সাফওয়ান এসেছে, ভুল করেছে, ফিরে এসেছে। পুরোনো ক্ষত সারানোই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু তারা লড়ছে। একসাথে। প্রতি রাতে, প্রতি চুমুতে, প্রতি স্পর্শে। বাংলাদেশের এই দুই প্রান্তের দুজন মানুষ এখন এক। আর সেই এক হওয়ার গল্পই তাদের নতুন বিশ্বাস।

....
👁 11