ছায়ায় লুকানো সম্পর্ক

ইলমা সবসময় ভাবত, রাইয়ান তাকে কখনো সত্যিই গুরুত্ব দেয়নি। ঢাকার উত্তরায় তাদের ছোট্ট ফ্ল্যাটে সেই ভাবনাটা রোজ সকালে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে এসে ভিড় করত। রাইয়ানের মুখ দেখে, তার কথা শুনে, তার নীরবতায়—সবকিছুতেই একটা দূরত্ব। সে দূরত্বটা এতটাই শক্ত যে ইলমার বুকের ভেতরটা কখনো কখনো ফেটে যেত।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

রাইয়ান সকালে উঠে চা বানাত। চায়ের কাপে দুই চামচ চিনি। ইলমা পছন্দ করত এক চামচ। সে কথাটা বহুবার বলেছে। রাইয়ান শুনত, মাথা নাড়ত, তারপর আবার দুই চামচই দিত। ইলমা চা নিয়ে বসত, চুমুক দিত, আর মনে মনে বলত—ও আমাকে শোনে না। ওর কাছে আমার পছন্দ-অপছন্দ কোনো মূল্যই রাখে না।

অফিসে যাওয়ার আগে রাইয়ান জামা গুছিয়ে নিত। ইলমা তার শার্টের বোতাম লাগিয়ে দিত কখনো কখনো। রাইয়ান ধন্যবাদও বলত না। শুধু একবার তাকাত, তারপর বেরিয়ে যেত। সেই তাকানোটাও এমন যেন কেউ অপরিচিতকে দেখছে। ইলমার মনে হত, ওর হাতের স্পর্শও রাইয়ানের গায়ে লাগে না।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

রাতে বিছানায় পাশাপাশি শুয়েও তারা আলাদা থাকত। রাইয়ান মোবাইলে কিছু একটা দেখত। ইলমা পাশ ফিরে শুয়ে থাকত। কখনো কখনো ইলমা হাত বাড়িয়ে রাইয়ানের বুকের ওপর রাখত। রাইয়ান শরীর একটু সরিয়ে নিত। না বলে, শুধু সরিয়ে। ইলমার গলা শুকিয়ে যেত। সে ভেতরে ভেতরে চিৎকার করত—বলো না কেন এত দূরে? আমি কী অপরাধ করেছি?

অথচ রাইয়ানের ভেতরটা অন্যরকম ছিল। সে ইলমাকে হারানোর ভয়ে ভয় পেত। সেই ভয়টা এত গভীর যে সে কথা বলতে পারত না। কথা বললেই সবকিছু ভেঙে পড়বে বলে মনে হত। ইলমা যদি জেনে যায় ও কতটা ভয় পায়, তাহলে ইলমা হয়তো হাসবে। অথবা আরও দূরে চলে যাবে। তাই রাইয়ান চুপ থাকত। কঠিন হয়ে থাকত। দূরত্ব রেখে চলত।

এক রাতের কথা। ইলমা হঠাৎ উঠে বসল। ঘরে আলো জ্বালিয়ে রাইয়ানের দিকে তাকাল।

“তুমি আমাকে ভালোবাসো?”

রাইয়ান মোবাইল নামিয়ে রাখল। চোখ তুলল না।

“কী হয়েছে হঠাৎ?”

“বলো।”

রাইয়ান চুপ। ইলমা অপেক্ষা করল। এক মিনিট, দুই মিনিট। তারপর উঠে গিয়ে অন্য ঘরে শুয়ে পড়ল। রাইয়ান সেই রাত জেগে কাটাল। বালিশে মুখ গুঁজে। ইলমার কান্না শুনতে পাচ্ছিল ও। কিন্তু যেতে পারল না। পা দুটো যেন সিমেন্টের হয়ে গিয়েছিল।

সকালে ইলমা চা বানিয়ে দিল। এক চামচ চিনি। রাইয়ান খেল। কিছু বলল না। ইলমাও বলল না। দুজনের মধ্যে একটা পুরু দেয়াল উঠে গিয়েছিল।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তারা একসঙ্গে বাজারে যেত। ইলমা হাত ধরতে চাইত। রাইয়ান হাত সরিয়ে নিত। “লোকজন দেখছে,” বলত কখনো। ইলমা হাসত। ভেতরে কাঁদত। বাজার থেকে ফিরে রান্না করত। রাইয়ান টিভিতে খেলা দেখত। ইলমা থালায় খাবার সাজিয়ে দিত। রাইয়ান খেত। ধন্যবাদ বলত না। ইলমা ধুয়ে মুছে রান্নাঘর পরিষ্কার করত। রাতে আবার সেই নীরবতা।

একদিন ইলমা অফিস থেকে ফিরে এসে দেখল রাইয়ান বারান্দায় দাঁড়িয়ে। সিগারেট টানছে। ইলমা গিয়ে পাশে দাঁড়াল।

“কী ভাবছ?”

রাইয়ান ছাই ঝাড়ল। “কিছু না।”

“সবসময় কিছু না। তোমার মুখে আর কোনো কথা নেই?”

রাইয়ান সিগারেট নিভিয়ে ফেলল। ভেতরে ঢুকে গেল। ইলমা একা দাঁড়িয়ে রইল। বাতাস গায়ে লাগছিল। কিন্তু ওর গায়ে লাগছিল না কোনো উষ্ণতা। শুধু ঠান্ডা।

রাত গভীর হলে ইলমা বিছানায় এসে শুয়ে পড়ল। রাইয়ান ইতিমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছিল। ইলমা হাত বাড়িয়ে রাইয়ানের কোমর ধরল। রাইয়ান জেগে উঠল। শরীর শক্ত হয়ে গেল।

ইলমা ফিসফিস করে বলল, “একটু কাছে এসো।”

রাইয়ান ঘুরে শুয়ে পড়ল। পিঠ দিয়ে। ইলমা ওর পিঠে কপাল রাখল। চোখ বন্ধ করল। মনে মনে বলল—তুমি যদি একবার শুধু একবার বলতে যে তুমি ভয় পাও, তাহলে আমি বুঝতাম। কিন্তু তুমি বলো না। কখনোই বলো না।

রাইয়ানের চোখ খোলা ছিল। অন্ধকারে। ইলমার কপালের উষ্ণতা পিঠে অনুভব করছিল। ওর হাত কাঁপছিল। ইলমাকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করছিল। চুমু খেতে ইচ্ছা করছিল। সবকিছু বলে দিতে ইচ্ছা করছিল। কিন্তু গলা বন্ধ হয়ে আসছিল। ভয়। শুধু ভয়। ইলমা যদি চলে যায়। যদি ওকে ছেড়ে দেয়। তাহলে রাইয়ানের পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে। তাই সে চুপ। কঠিন। দূরের।

ইলমা সেই রাত জেগে কাটাল। সকালে উঠে চা বানাল। দুই চামচ চিনি। রাইয়ানের জন্য। নিজের কাপে এক চামচ। দুজনে চুপচাপ খেল। তারপর রাইয়ান অফিসে চলে গেল। ইলমা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রইল। বাইরে গাড়ির শব্দ। মানুষের কোলাহল। কিন্তু ওর ভেতরে শুধু একটা শূন্যতা।

সেই শূন্যতাটা দিন দিন বাড়তে লাগল। রাইয়ানের প্রতিটি নীরবতা, প্রতিটি দূরত্ব, প্রতিটি কঠিন আচরণ ইলমার বুকে আঘাত করত। সে ভাবত—ও আমাকে চায় না। ওর কাছে আমি শুধু একটা অভ্যাস। একটা দায়িত্ব। ভালোবাসা নয়।

অথচ রাইয়ান প্রতি রাত জেগে ইলমার শ্বাস শুনত। ওর চুলের গন্ধ নিত। ওর হাতের তাপ অনুভব করত। আর মনে মনে বলত—আমি তোমাকে হারাতে পারব না। তাই কথা বলি না। তাই দূরে থাকি। যদি কাছে যাই, যদি সব খুলে বলি, তাহলে হয়তো তুমি ভয় পাবে। হয়তো চলে যাবে।

দুজনের মধ্যে ভালোবাসা ছিল। গভীর। কিন্তু সেই ভালোবাসা নীরবতার চাদরে ঢাকা। ইলমা সেই চাদর সরিয়ে দেখতে পারত না। রাইয়ান চাদর সরাতে সাহস পাচ্ছিল না।

এক সপ্তাহ এভাবে কেটে গেল। তারপর আরও এক সপ্তাহ। ইলমা একদিন রাতে উঠে বসল। রাইয়ানের দিকে তাকাল।

“আমরা কি এভাবেই চলব সবসময়?”

রাইয়ান চোখ খুলল। কিছু বলল না।

ইলমা উঠে গিয়ে অন্য ঘরে শুয়ে পড়ল। দরজা বন্ধ করে দিল। রাইয়ান উঠে এসে দরজার সামনে দাঁড়াল। হাত তুলল। নক করতে গেল। তারপর হাত নামিয়ে দিল। ফিরে গিয়ে নিজের বিছানায় শুয়ে পড়ল। চোখ বন্ধ করল। কিন্তু ঘুম এল না।

ইলমা অন্য ঘরে কাঁদছিল। নিঃশব্দে। বালিশে মুখ গুঁজে। মনে মনে বলছিল—তুমি যদি একবার শুধু একবার বলতে যে তুমি আমাকে চাও, তাহলে আমি সব সহ্য করতাম। কিন্তু তুমি বলো না। কখনোই বলো না।

রাইয়ান অন্য ঘরে শুয়ে ভাবছিল—আমি যদি বলি, তাহলে তুমি হয়তো চলে যাবে। আমি তোমাকে হারাতে পারব না। তাই চুপ।

দুজনের ভালোবাসা সেই রাতে আরও গভীরে চলে গেল। কিন্তু কথা হয়ে উঠল না। শুধু নীরবতা। শুধু দূরত্ব। শুধু ভয়।

সকাল এল। ইলমা চা বানাল। রাইয়ান খেল। দুজনে চুপ। তারপর রাইয়ান বেরিয়ে গেল। ইলমা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রইল। বাইরের আলো ওর মুখে পড়ছিল। কিন্তু ওর চোখে কোনো আলো ছিল না। শুধু একটা প্রশ্ন—রাইয়ান কি আমাকে সত্যিই চায়?

সেই প্রশ্নের উত্তর রাইয়ানের নীরবতার ভেতরে লুকানো ছিল। কিন্তু ইলমা সেটা দেখতে পাচ্ছিল না। রাইয়ানও দেখাতে পারছিল না।

দুজনের গল্প সেখান থেকে আরও জটিল হয়ে উঠতে শুরু করল। পরিস্থিতি আসছিল। চাপ বাড়ছিল। আর সেই চাপের নিচে তাদের নীরব ভালোবাসা আরও গভীর হয়ে যাচ্ছিল—অথচ আরও দূরে।

পরিস্থিতি এল হঠাৎ করেই। রাইয়ানের অফিসে একটা বড় পরিবর্তন। ট্রান্সফার। চট্টগ্রাম। তিন বছরের জন্য। ইলমার চাকরি ঢাকায়। বাবা-মাও ঢাকায়। সবকিছু ঢাকায়। রাইয়ান চলে যাবে। ইলমা থাকবে।

খবরটা শোনার পর ইলমা প্রথমে কিছু বলতে পারল না। রাতে বাসায় এসে রাইয়ান বসল। ইলমা পাশে।

“তুমি যাবে?”

রাইয়ান মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ। অপশন নেই।”

ইলমা চুপ। তারপর বলল, “আমিও যেতে পারি।”

রাইয়ান তাকাল। প্রথমবার চোখে চোখ রেখে। “না। তোমার চাকরি। তোমার পরিবার। তুমি থাকো।”

“আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি না?”

রাইয়ান চোখ নামিয়ে নিল। “এখন না।”

ইলমা উঠে গিয়ে রান্নাঘরে চলে গেল। চা বানাতে লাগল। হাত কাঁপছিল। চিনির পাত্র উল্টে গেল। সে মেঝেতে বসে পড়ল। কাঁদতে লাগল।

রাইয়ান এসে দাঁড়াল। হাত বাড়াল। তারপর নামিয়ে দিল। “ইলমা…”

ইলমা মাথা তুলল না। “যাও। প্যাক করো। আমি থাকব।”

সেই রাতে তারা পাশাপাশি শুয়েও আলাদা থাকল। রাইয়ান হাত বাড়িয়ে ইলমার কাঁধে রাখল। ইলমা সরল না। কিন্তু কাঁদল। নিঃশব্দে। রাইয়ান ওর কাঁধে হাত রেখেই চোখ বন্ধ করল। ভেতরে সবকিছু ভেঙে পড়ছিল।

পরের দিন থেকে প্যাকিং শুরু। রাইয়ানের জামাকাপড়, বই, ছোটখাটো জিনিসপত্র। ইলমা সাহায্য করল। কথা বলল না। শুধু গুছিয়ে দিল। রাইয়ানও চুপ। দুজনের মধ্যে কথা যেন মরে গিয়েছিল।

এক রাতে ইলমা হঠাৎ রাইয়ানের কাছে এসে দাঁড়াল। জামা খুলে ফেলল। রাইয়ান উঠে বসল। চোখ বড় হয়ে গেল।

“ইলমা…”

ইলমা বিছানায় এসে বসল। রাইয়ানের কাছে। হাত দিয়ে ওর মুখ ছুঁল। “আজ রাতটা আমার। তুমি যাওয়ার আগে।”

রাইয়ান আর থামতে পারল না। ওর হাত ইলমার কোমরে গেল। টানল। ইলমা এসে ওর কোলে বসল। দুজনের ঠোঁট মিলল। গভীর। উষ্ণ। ক্ষুধার্ত। রাইয়ানের হাত ইলমার পিঠে ঘুরতে লাগল। ইলমার আঙুল রাইয়ানের চুলে। কাপড় সরতে লাগল একের পর এক। ত্বক ত্বকের সংস্পর্শ। গরম। ভেজা। চাপা শ্বাস। ইলমার গলা থেকে একটা আওয়াজ বেরোল। রাইয়ান ওর গলায় চুমু খেল। বুকে। পেটে। আরও নিচে। ইলমা শরীর বাঁকিয়ে দিল। পা দুটো জড়িয়ে ধরল। রাইয়ান ভেতরে ঢুকল। ধীরে। গভীরে। ইলমা নখ দিয়ে ওর পিঠ আঁচড়াল। দুজনের শরীর একসঙ্গে নড়তে লাগল। বিছানা কাঁপছিল। ঘাম। উত্তাপ। শ্বাস। আরও গভীর। আরও জোরে। ইলমা চোখ বন্ধ করে চিৎকার চাপা দিল। রাইয়ান ওর কানে ফিসফিস করল—আমি তোমাকে চাই। শুধু তোমাকে। ইলমা শুনল। কান্না এসে গেল চোখে। শরীর কাঁপতে কাঁপতে শেষ হল দুজনের। রাইয়ান ইলমার ওপর শুয়ে রইল। ইলমা ওর চুল আঁচড়ে দিল।

সেই রাতে তারা আরও দুবার একসঙ্গে হল। প্রতিবারই আরও গভীর। আরও ক্ষুধার্ত। যেন বছরের পর বছরের নীরবতা এক রাতে ভেঙে পড়ছে। ইলমা রাইয়ানের বুকে মুখ গুঁজে শুয়ে রইল। রাইয়ান ওর চুলে চুমু খেল। কথা বলল না। কিন্তু শরীর দিয়ে সব বলে দিল।

সকালে রাইয়ান উঠে চা বানাল। এক চামচ চিনি। ইলমার জন্য। ইলমা খেল। চোখে জল। রাইয়ান পাশে বসল। হাত ধরল।

“আমি ফিরে আসব।”

ইলমা মাথা নাড়ল। “যাও।”

রাইয়ান চলে গেল সেই দিনই। স্টেশনে ইলমা গেল না। বাসায় বসে রইল। জানালার পাশে। গাড়ির শব্দ শুনতে পেল। তারপর নীরবতা।

চট্টগ্রামে রাইয়ান একা। ছোট্ট একটা রুম। রাতে বিছানায় শুয়ে ইলমার কথা ভাবে। ওর গায়ের গন্ধ। ওর শ্বাস। ওর গলার আওয়াজ। হাত দিয়ে নিজেকে স্পর্শ করে। চোখ বন্ধ করে ইলমার মুখ দেখে। শরীর কাঁপে। শেষ হয়। তারপর আরও একা লাগে।

ইলমা ঢাকায়। রাতে বিছানায় শুয়ে রাইয়ানের কথা ভাবে। ওর হাতের স্পর্শ। ওর ঠোঁট। ওর ভেতরের উষ্ণতা। হাত দিয়ে নিজের শরীর ছুঁয়। চোখ বন্ধ করে রাইয়ানকে ডাকে। শরীর কাঁপে। শেষ হয়। তারপর কান্না আসে।

মাসের পর মাস কেটে যায়। ফোন আসে। কথা হয় কম। রাইয়ান বলে—কেমন আছ? ইলমা বলে—ভালো। তারপর চুপ। ভিডিও কল হয় কখনো। দুজনে তাকিয়ে থাকে। কথা হয় না। শুধু দেখে। তারপর কেটে যায়।

এক রাতে ইলমা ফোন করল। রাত দুটো। রাইয়ান তুলে নিল।

“আমি তোমাকে মিস করি।”

রাইয়ান চুপ। তারপর বলল, “আমিও।”

ইলমা কাঁদল। “তুমি কেন এত চুপ থাকো সবসময়?”

রাইয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “কারণ আমি ভয় পাই। তোমাকে হারানোর ভয়।”

ইলমা চুপ। তারপর বলল, “আমি যাইনি। তুমি চলে গেছ।”

রাইয়ান কিছু বলল না। কল কেটে গেল।

দুজনের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ল। সময় কেটে গেল। দুই বছর। তারপর তিন। রাইয়ানের ট্রান্সফার শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে আরেকটা সুযোগ এল। বিদেশ। ইলমা জানল ফোনে।

“তুমি যাবে?”

রাইয়ান বলল, “হয়তো।”

ইলমা ফোন রেখে দিল। সেই রাতে আর ঘুমাল না। সকালে উঠে সিদ্ধান্ত নিল। যথেষ্ট হয়েছে। সে আর অপেক্ষা করবে না।

রাইয়ান চট্টগ্রাম থেকে ফিরল ঢাকায়। কিন্তু ইলমা ততদিনে অন্য জায়গায় চলে গেছে। নতুন বাসা। নতুন রুটিন। রাইয়ান খুঁজল। ফোন করল। ইলমা ধরল না।

দুজন আলাদা হয়ে গেল। পরিস্থিতির চাপে। নীরবতার চাপে। ভয়ের চাপে।

রাইয়ান একা। ইলমা একা। কিন্তু দুজনের ভেতরেই একজন মানুষ আগলে রাখা। মুখে প্রকাশ হয়নি। শরীরে হয়েছে। হৃদয়ে হয়েছে। কিন্তু কথা হয়নি।

সময় কেটে যেতে লাগল। দীর্ঘদিন।

তিন বছর পর। ঢাকার একটা ক্যাফে। ইলমা বসে আছে। ল্যাপটপ খুলে। কাজ করছে। হঠাৎ দরজায় কেউ ঢুকল। ইলমা মাথা তুলল। রাইয়ান।

দুজনে চোখে চোখ রাখল। সময় থেমে গেল। রাইয়ান এগিয়ে এল। ইলমার টেবিলের সামনে দাঁড়াল।

“ইলমা।”

ইলমা ল্যাপটপ বন্ধ করল। “বসো।”

রাইয়ান বসল। দুজনে চুপ। তারপর ইলমা বলল, “কীভাবে জানলে?”

“তোমার অফিসের একজন বলেছে।”

আরও চুপ। রাইয়ান হাত বাড়িয়ে ইলমার হাত ছুঁল। ইলমা সরাল না।

“আমি ফিরে এসেছি। চাকরি ছেড়ে।”

ইলমা তাকাল। “কেন?”

“তোমার জন্য।”

ইলমা হাসল। তিক্ত। “এতদিন পর?”

রাইয়ান মাথা নামিয়ে নিল। “আমি ভয় পেতাম। তোমাকে হারানোর। তাই চুপ থাকতাম। দূরে থাকতাম। ভেবেছিলাম যদি কাছে যাই, যদি সব বলি, তাহলে তুমি চলে যাবে। অথচ তুমি চলে গেছ আমার নীরবতার জন্যই।”

ইলমা চোখে জল নিয়ে তাকাল। “আমি সবসময় ভেবেছি তুমি আমাকে গুরুত্ব দাও না। তোমার কঠিন আচরণ, দূরত্ব—সব আমাকে আহত করত।”

রাইয়ান ইলমার হাত শক্ত করে ধরল। “প্রতিটি নীরবতার পেছনে ছিল তোমাকে হারানোর ভয়। আমি মুখে বলতে পারিনি। কিন্তু সারাজীবন তোমাকেই আগলে রেখেছি ভেতরে।”

ইলমা উঠে দাঁড়াল। “চলো।”

তারা ক্যাফে থেকে বেরোল। ইলমার নতুন বাসায় গেল। দরজা বন্ধ হতে না হতেই রাইয়ান ইলমাকে দেয়ালে ঠেস দিয়ে চুমু খেল। গভীর। ক্ষুধার্ত। তিন বছরের অপেক্ষা। ইলমা ওর জিভ চুষে নিল। হাত দিয়ে জামা খুলতে লাগল। রাইয়ান ইলমার শার্ট ছিঁড়ে ফেলল প্রায়। ব্রা খুলে ফেলল। স্তন মুখে নিল। চুষতে লাগল। ইলমা মাথা পেছনে ফেলে আওয়াজ করল। রাইয়ানের হাত নিচে নামল। প্যান্টের ভেতর ঢুকল। আঙুল ঢুকিয়ে দিল। ইলমা পা দুটো ফাঁক করে দিল। রাইয়ান হাঁটু গেড়ে বসল। ইলমার প্যান্ট নামিয়ে দিল। মুখ লাগাল। জিভ দিয়ে চেটে চেটে খেতে লাগল। ইলমা চুল মুঠো করে ধরল। শরীর কাঁপতে লাগল। একটু পরেই শেষ হয়ে গেল প্রথমবার।

রাইয়ান উঠে এসে ইলমাকে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিল। নিজের কাপড় খুলল। ইলমা তাকিয়ে রইল। রাইয়ানের শরীর। তিন বছর পর। আরও শক্ত। ইলমা হাত বাড়িয়ে ধরল। মুখে নিল। চুষতে লাগল। রাইয়ান মাথা পেছনে ফেলল। গলা থেকে আওয়াজ বেরোল। ইলমা আরও গভীরে নিল। তারপর রাইয়ান সরিয়ে দিল। ইলমার ওপর উঠে এল। পা দুটো জোর করে ফাঁক করল। এক ধাক্কায় ঢুকে গেল। ইলমা চিৎকার করল। রাইয়ান থামল না। জোরে জোরে ধাক্কা দিতে লাগল। বিছানা সরতে লাগল। ইলমার নখ রাইয়ানের পিঠে ফুটছে। দুজনের ঘাম মিশে যাচ্ছে। রাইয়ান ইলমার গলায় কামড় দিল। ইলমা ওর কানে দাঁত বসাল। আরও জোরে। আরও গভীরে। ইলমা আবার শেষ হয়ে গেল। রাইয়ানও। ভেতরে। গরম তরল ছড়িয়ে পড়ল।

তারা থামল না। রাতভর। রাইয়ান ইলমাকে উল্টে দিল। পেছন থেকে ঢুকল। ইলমার চুল মুঠো করে টানল। ইলমা বালিশে মুখ গুঁজে আওয়াজ চাপা দিল। রাইয়ান আরও জোরে। ইলমার স্তন চেপে ধরল। নিপল মোচড়াল। ইলমা আবার কাঁপতে লাগল। শেষ হল। তারপর আবার। ইলমা রাইয়ানের ওপর উঠে বসল। নিজে নিয়ন্ত্রণ নিল। উপরে নিচে। রাইয়ানের হাত ইলমার কোমরে। ইলমা মাথা পেছনে ফেলে চোখ বন্ধ করে নড়তে লাগল। ঘাম ঝরছে। শ্বাস ফেলতে পারছে না। রাইয়ান উঠে বসল। ইলমার স্তন মুখে নিল। চুষতে লাগল যখন ইলমা নড়ছে। দুজনে একসঙ্গে শেষ হল।

সকাল হয়ে গেল। তারা এখনও বিছানায়। নগ্ন। জড়িয়ে। রাইয়ান ইলমার চুলে হাত বুলাচ্ছে।

“আমি আর কখনো চুপ থাকব না।”

ইলমা ওর বুকে মুখ রেখে বলল, “বলো। সব বলো।”

রাইয়ান বলল। ভয়ের কথা। নীরবতার কথা। প্রতিটি রাতের কথা যখন সে ইলমাকে মনে করে নিজেকে স্পর্শ করত। ইলমা শুনল। তারপর নিজেও বলল। কতবার সে কাঁদত। কতবার ভাবত রাইয়ান তাকে চায় না।

দুজনে আবার কাছে এল। এবার ধীরে। গভীরে। চুমু খেতে খেতে। হাত ঘষতে ঘষতে। রাইয়ান ইলমার ভেতরে ঢুকল আস্তে। ইলমা পা জড়িয়ে ধরল। দুজনে চোখে চোখ রেখে নড়তে লাগল। কথা বলল। “আমি তোমাকে ভালোবাসি।” “আমিও।” শরীর আর হৃদয় একসঙ্গে মিলল। শেষ হল আবার। উষ্ণ। ভরা।

ইলমা বুঝতে পারল—কিছু মানুষ মুখে অনুভূতি প্রকাশ করতে না পারলেও সারাজীবন একজন মানুষকেই নিজের ভেতরে আগলে রাখে। রাইয়ান সেই মানুষ। আর ইলমাও।

তারা সেই সকালে উঠে চা বানাল। এক চামচ চিনি। দুজনেরই। পাশাপাশি বসল। হাত ধরে। আর কখনো দূরত্ব রইল না। শুধু কাছাকাছি। গভীরে। গরমে। ভালোবাসায়

....
👁 9