নতুন শহরে একা জীবন

নাওরিনের জীবন যেন একটা শুকনো পাতার মতো ভেঙে পড়ছিল। ঢাকার এক ব্যস্ত এলাকায় ছোট একটা ফ্ল্যাটে সে একা থাকত। মায়ের মৃত্যুর পর বাবাও হঠাৎ চলে গেলেন হার্ট অ্যাটাকে। বড় ভাই বিদেশে চাকরি নিয়ে চলে গেল, ছোট বোন বিয়ে করে স্বামীর বাড়িতে। আত্মীয়স্বজনরা একে একে দূরে সরে গেল। কেউ আর খোঁজ নেয় না। রাতগুলো লম্বা হয়ে যেত। ঘুম আসত না। সে শুধু জানালার পাশে বসে শহরের আলো দেখত, মনে মনে বলত, “আমার আর কেউ নেই।”

¦Ëk¢xz˲Úèžé

সেই সময় আরিশ এসেছিল।

নাওরিন এক বেসরকারি অফিসে কাজ করত। অফিসের পাশের চায়ের দোকানে একদিন সকালে সে চা নিচ্ছিল। হঠাৎ একজন যুবক এগিয়ে এল। লম্বা, গাঢ় চোখ, পরিষ্কার শার্ট। সে হাসল।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

“চায়ের পয়সা দিয়ে দিলাম। আপনার মুখ দেখে মনে হচ্ছে আজকের চাটা আমার দায়িত্ব।”

নাওরিন অবাক হয়ে তাকাল। “কেন?”

“কারণ আপনার চোখে ক্লান্তি আছে। আর আমি ক্লান্ত মানুষকে চা খেতে দেখতে পারি না।”

নাওরিন কিছু বলতে পারল না। আরিশ নিজের পরিচয় দিল। একই অফিস কমপ্লেক্সে অন্য কোম্পানিতে কাজ করে। নাম আরিশ। সেদিন থেকে প্রায়ই দেখা হত। আরিশ কখনো চা এনে দিত, কখনো দুপুরের খাবার শেয়ার করত। নাওরিন প্রথমে দূরে থাকত। কিন্তু আরিশের কথাবার্তায় একটা নরম উষ্ণতা ছিল। সে নাওরিনের কথা শুনত। জোর করে কিছু চাপত না।

একদিন অফিস শেষে বৃষ্টি ছাড়াই আকাশ মেঘলা ছিল। আরিশ বলল, “চলুন, নদীর পাড়ে একটু হাঁটি।”

তারা বুড়িগঙ্গার পাশে গেল। পানির গন্ধ, নৌকার শব্দ। আরিশ হঠাৎ থামল।

“নাওরিন, আপনি একা থাকেন। আমি জানি। কিন্তু একা থাকা মানে মরে থাকা নয়। জীবন আবার শুরু করা যায়।”

নাওরিনের চোখ ভিজে গেল। “কীভাবে?”

আরিশ তার হাত ধরল। হাতটা গরম ছিল। “আমি আছি। আপনি যদি চান।”

সেই রাত থেকে সব বদলে গেল।

আরিশ প্রতিদিন ফোন করত। সকালে উঠে “শুভ সকাল” বলত। রাতে ঘুমানোর আগে “ভাল থাকবেন” বলত। নাওরিন ধীরে ধীরে তার কাছে নিজেকে খুলে দিল। তারা একসাথে সিনেমা দেখত, পুরান ঢাকার গলিতে হাঁটত, চা খেত। আরিশ নাওরিনকে হাসাত। সেই হাসি অনেকদিন পর।

এক রাত অফিস থেকে ফিরে আরিশ তার ফ্ল্যাটে এল। নাওরিন দরজা খুলে দিল। আরিশ ভিতরে ঢুকল। ঘরটা অন্ধকার ছিল। শুধু একটা টেবিল ল্যাম্প জ্বলছিল। আরিশ কাছে এল। দুজনের চোখ মিলল। কোনো কথা হল না। আরিশ নাওরিনের কপালে চুমু দিল। তারপর গালে। তারপর ঠোঁটে।

নাওরিনের শরীর কেঁপে উঠল। আরিশের হাত তার কোমরে গেল। সে টানল। দুজনের শরীর লেগে গেল। আরিশের শ্বাস গরম। নাওরিনের হাত তার বুকে উঠল। শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে আরিশ বলল, “আমি তোমাকে চাই। পুরোপুরি।”

নাওরিন মাথা নাড়ল। তারা বিছানায় গেল। আরিশ ধীরে ধীরে তার জামা খুলল। নাওরিনের ত্বক নরম। আরিশ চুমু খেল তার গলায়, কাঁধে, বুকে। নাওরিনের আঙুল তার চুলে গিয়ে আটকে গেল। আরিশ তার পায়ের মাঝে নিজেকে রেখে ধীরে ঢুকল। নাওরিন চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিল। ব্যথা আর আনন্দ একসাথে। আরিশ নড়ল। প্রতিটা ধাক্কায় নাওরিনের শরীর কেঁপে উঠল। ঘাম জমল। আরিশ তার কানে ফিসফিস করে বলল, “তুমি আমার।”

নাওরিন জবাব দিল না। শুধু আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। সেই রাত তারা কয়েকবার এক হল। শরীরের প্রতিটা অংশ চেনা হয়ে গেল। আরিশ নাওরিনকে কতভাবে ছুঁয়েছিল, কতভাবে চুমু খেয়েছিল—নাওরিন আর ভুলতে পারল না।

পরের দিনগুলোতে রোম্যান্স আরও গভীর হল। অফিসের ছাদে দুপুরে চুমু, রাতে ফোন করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা, সপ্তাহান্তে আরিশের ছোট বাসায় পুরো দিন কাটানো। আরিশ রান্না করত। নাওরিন টেবিল সাজাত। তারপর তারা বিছানায় গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একে অপরকে ছুঁত। আরিশ নাওরিনের শরীরের প্রতিটা রেখা মুখস্থ করে ফেলল। নাওরিনও। তাদের শরীর যেন একটা ভাষা শিখে গিয়েছিল—যে ভাষায় শুধু স্পর্শ আর শ্বাস আর গরম কথা।

নাওরিন আবার বাঁচতে শুরু করল। আরিশ তাকে শিখিয়েছিল কীভাবে একা থাকা সত্ত্বেও পূর্ণ থাকা যায়। কীভাবে ভালোবাসা দিয়ে শূন্যতা ভরা যায়। তারা বিয়ের কথাও ভাবত। আরিশ বলত, “একদিন তোমাকে আমার নামে লিখে নেব।”

নাওরিন হাসত। “তুমি আমার সব।”

কিন্তু জীবন কখনোই সহজ থাকে না।

নাওরিনের অফিসে এক নতুন ম্যানেজার এল। নাম রাফি। সে নাওরিনের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিত। অতিরিক্ত কাজ দিত, দেরি করে অফিস রাখত। আরিশ খবর পেল। সে রাগান্বিত হল। একদিন অফিসের বাইরে রাফির সাথে কথা হল। কথা কাটাকাটি বাড়ল। রাফি হুমকি দিল। “তোমার গার্লফ্রেন্ডের চাকরি যাবে যদি তুমি মাথা গলাতে থাকো।”

আরিশ চুপ করে গেল। সে নাওরিনকে কিছু বলল না। ভয় পেল নাওরিনের চাকরি হারানোর।

একদিন নাওরিন দেখল আরিশ রাফির সাথে কথা বলছে। দূর থেকে মনে হল তারা হাসছে। নাওরিনের মনে সন্দেহ জাগল। সে জিজ্ঞাসা করল। আরিশ অস্পষ্ট জবাব দিল। “অফিসের ব্যাপার।”

নাওরিন বিশ্বাস করতে পারল না। তার জীবনে যারা ছিল, সবাই একসময় চলে গেছে। আরিশও কি একই রকম?

এক রাত তারা তর্ক করল। নাওরিন চিৎকার করল, “তুমিও আমাকে ছেড়ে চলে যাবে! সবাই যায়!”

আরিশ তার হাত ধরতে গেল। নাওরিন সরিয়ে দিল। “যাও। আমাকে একা থাকতে দাও।”

আরিশ দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখে পানি। কিন্তু সে কিছু বলল না। শুধু বেরিয়ে গেল।

নাওরিন দরজা বন্ধ করে কাঁদল। সে ভাবল আরিশ আর ফিরবে না।

কিন্তু আরিশ ফিরেছিল না। কারণ সে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যে সিদ্ধান্ত নাওরিন কখনো জানত না।

আরিশ চলে যাওয়ার পর নাওরিনের জীবন আবার অন্ধকার হয়ে গেল। অফিসে সে আর আগের মতো কাজ করতে পারত না। রাফি তার সুযোগ নিয়ে আরও চাপ দিতে লাগল। একদিন রাফি সরাসরি প্রস্তাব দিল। “আমার সাথে থাকো। চাকরি নিরাপদ থাকবে।”

নাওরিন প্রত্যাখ্যান করল। পরের সপ্তাহেই তার চাকরি চলে গেল। কোনো কারণ ছাড়াই।

সে বাসায় বসে কাঁদল। আরিশকে অভিশাপ দিল। “তুমিও আমাকে ছেড়ে গেলে। তোমার মতো মানুষের কোনো দরকার নেই।”

আরিশ কিন্তু কাছেই ছিল। সে নাওরিনের বাসার সামনে দূর থেকে দেখত। কখনো ফোন করত না। কারণ সে জানত নাওরিন রাগ করেছে। আর সেই রাগের পেছনে সত্য লুকানো আছে।

সত্যটা ছিল এমন—

রাফি আরিশকে ডেকেছিল। বলেছিল, “নাওরিনকে ছেড়ে দাও। নইলে তার চাকরি যাবে। আর তোমার কোম্পানিতেও তোমার বিরুদ্ধে নালিশ দেব। তুমি জানো আমার কত ক্ষমতা।”

আরিশ জানত। রাফির বাবা বড় ব্যবসায়ী। প্রভাবশালী। আরিশ যদি লড়াই করত, নাওরিন চাকরি হারাত, আরিশ নিজেও। আর নাওরিনের তখন কোনো সাপোর্ট ছিল না।

আরিশ সিদ্ধান্ত নিল। সে চলে যাবে। নাওরিনকে রক্ষা করতে।

সে তার চাকরি ছেড়ে দিল। ঢাকা ছেড়ে চলে গেল চট্টগ্রামে। একটা ছোট কোম্পানিতে কম বেতনে কাজ নিল। প্রতি মাসে তার বেতনের একটা বড় অংশ নাওরিনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাত। বেনামে। নাওরিন ভাবত এটা কোনো ভুল ট্রান্সফার। কিন্তু টাকাটা কাজে লাগত। তার ভাড়া, খাবার—সব চলত।

আরিশ চট্টগ্রামে একা থাকত। রাতে নাওরিনের ছবি দেখত। যে ছবিগুলো তারা একসাথে তুলেছিল। তাদের প্রথম চুমু, তাদের প্রথম রাত, তাদের হাসির মুহূর্ত। আরিশ কাঁদত। নিঃশব্দে। কেউ জানত না।

নাওরিন ঢাকায় নতুন কাজ খুঁজছিল। কঠিন সময় গেল। কখনো ক্ষুধায় কাটাত, কখনো ভাড়া দিতে পারত না। কিন্তু সেই অজানা টাকা আসত। সে কখনো ভেবে দেখেনি কে পাঠায়।

দুই বছর পার হয়ে গেল।

নাওরিন একদিন পুরনো মোবাইল খুঁজতে গিয়ে আরিশের একটা মেসেজ পেল। পুরনো। যেখানে আরিশ লিখেছিল, “আমি তোমাকে কখনো ছাড়ব না। যাই হোক।”

নাওরিনের মন খারাপ হল। সে আরিশকে খুঁজতে শুরু করল। সোশ্যাল মিডিয়ায়। কোনো খোঁজ পেল না। আরিশ সব অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছিল।

একদিন নাওরিনের পুরনো অফিসের এক সহকর্মী ফোন করল। “তুমি জানো? রাফি তখন আরিশকে হুমকি দিয়েছিল। আরিশ চলে গেছে তোমার জন্য।”

নাওরিন বিশ্বাস করতে চাইল না। “মিথ্যা।”

কিন্তু সহকর্মী প্রমাণ দিল। রাফির সাথে আরিশের কথোপকথনের একটা রেকর্ডিং। যেখানে আরিশ বলছে, “আমি চলে যাচ্ছি। নাওরিনকে কিছু বোলো না। তার চাকরি নিরাপদ রাখো।”

নাওরিনের পৃথিবী ভেঙে পড়ল।

সে যে মানুষটাকে সবচেয়ে বেশি অভিশাপ দিয়েছিল, সেই মানুষটাই তার জন্য সব ছেড়ে দিয়েছিল। চাকরি, শহর, নিজের জীবন।

নাওরিন কাঁদতে কাঁদতে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। আরিশের ঠিকানা সে সহকর্মীর কাছ থেকে পেয়েছিল।

চট্টগ্রামের এক ছোট গলিতে আরিশের বাসা। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। নাওরিন দরজায় কড়া নাড়ল।

আরিশ দরজা খুলল। দেখে থমকে গেল। দুজনের চোখ মিলল। কয়েক সেকেন্ড কেউ কথা বলল না।

নাওরিনের গলা কেঁপে উঠল। “তুমি কেন চলে গেলে?”

আরিশ মাথা নিচু করল। “তোমাকে বাঁচাতে।”

নাওরিন ভিতরে ঢুকল। ঘরটা ছোট। একটা বিছানা, একটা চেয়ার, একটা টেবিল। দেয়ালে নাওরিনের একটা ছবি। পুরনো।

নাওরিন কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আমি তোমাকে অভিশাপ দিয়েছি। প্রতিদিন। আর তুমি... তুমি আমার জন্য সব দিয়েছ।”

আরিশ কাছে এল। তার চোখেও পানি। “তুমি আমার সব ছিলে। আমি চাইনি তোমার আর কোনো ক্ষতি হোক।”

নাওরিন তার বুকে মুখ গুঁজে দিল। আরিশ তাকে জড়িয়ে ধরল। দুজনের শরীর কেঁপে উঠল। কয়েক বছরের বিচ্ছেদ, ব্যথা, ভুল—সব একসাথে ভেঙে পড়ল।

আরিশ নাওরিনের মুখ তুলে ধরল। চুমু দিল। প্রথমে নরম। তারপর গভীর। নাওরিন সাড়া দিল। তাদের জিহ্বা মিলল। আরিশের হাত তার কোমরে গেল। নাওরিনের হাত তার চুলে।

তারা বিছানায় গেল। জামাকাপড় খুলতে খুলতে আরিশ বলল, “আমি তোমাকে মিস করেছি। প্রতিদিন।”

নাওরিন তার গলায় চুমু খেল। “আমিও। আর কখনো ছাড়ব না।”

আরিশ তার শরীরের প্রতিটা অংশ আবার চিনল। বুকে চুমু, পেটে, উরুতে। নাওরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আরিশ তার পায়ের মাঝে নিজেকে রাখল। ধীরে ঢুকল। নাওরিনের নখ তার পিঠে ফুটল। আরিশ নড়ল। গভীর, শক্ত। নাওরিন তার নাম ডাকল। আরিশ আরও জোরে। তাদের শরীর ঘামে ভিজে গেল। বিছানার চাদর এলোমেলো। আরিশ নাওরিনের হাত চেপে ধরল। দুজন একসাথে শিখরে পৌঁছাল।

কিন্তু সেখানেই থামল না। রাতভর তারা একে অপরকে নিল। কখনো আরিশ উপরে, কখনো নাওরিন। কখনো ধীরে, কখনো উগ্র। আরিশ নাওরিনের কানে বলল, “তুমি আমার স্ত্রী হবে।”

নাওরিন জবাব দিল, “আমি ইতিমধ্যেই তোমার।”

সকাল হল। তারা এখনো জড়িয়ে আছে। আরিশ নাওরিনের চুল সরাচ্ছিল।

“চল, ঢাকায় ফিরি। একসাথে।”

নাওরিন মাথা নাড়ল। “কিন্তু তোমার চাকরি?”

আরিশ হাসল। “নতুন করে শুরু করব। তোমার সাথে।”

তারা সেদিনই বেরিয়ে পড়ল। ট্রেনে বসে আরিশ নাওরিনের হাত ধরে রাখল। জানালা দিয়ে বাংলাদেশের মাঠ, নদী, গ্রাম দেখা যাচ্ছিল। কোনো বৃষ্টি ছিল না। শুধু রোদ আর আকাশ।

ঢাকায় ফিরে তারা একসাথে থাকতে শুরু করল। আরিশ নতুন চাকরি পেল। নাওরিনও। তারা বিয়ে করল। ছোট একটা অনুষ্ঠান। শুধু কাছের কয়েকজন।

বিয়ের রাতে আবার সেই গভীর মিলন। এবার আর কোনো ভয় নেই, কোনো সন্দেহ নেই। শুধু ভালোবাসা। আরিশ নাওরিনকে বলল, “আমি যখন চলে গিয়েছিলাম, প্রতি রাত কাঁদতাম। তোমার ছবি দেখে।”

নাওরিন তার বুকে মাথা রাখল। “আমিও। কিন্তু এখন আর কাঁদব না। তুমি আছ।”

তাদের জীবন আবার শুরু হল। কখনো তারা পুরান ঢাকায় হাঁটে, কখনো নদীর পাড়ে বসে। রাতে তারা একে অপরের শরীর চেনে নতুন করে। আরিশ নাওরিনের প্রতিটা ইচ্ছা পূরণ করে। নাওরিনও।

একদিন নাওরিন আরিশকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কি কখনো আমাকে ছেড়ে যাবে?”

আরিশ তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “না। এবার আর কখনো না। আমি তোমার জন্য কেঁদেছিলাম। এখন তোমার জন্য হাসব। সারাজীবন।”

নাওরিন চোখ বন্ধ করল। তার জীবনে যে মানুষটা হঠাৎ এসেছিল, সেই মানুষটাই তাকে নতুন করে বাঁচিয়েছিল। আর সেই মানুষটাকে সে একসময় হারিয়েছে বলে ভেবেছিল। কিন্তু সত্যিটা জানার পর সে বুঝেছিল—ভালোবাসা কখনো যায় না। শুধু কখনো কখনো নীরবে ত্যাগ হয়ে যায়। আর সেই ত্যাগই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

তাদের গল্প এখানেই শেষ নয়। প্রতিদিন নতুন করে শুরু হয়। গভীর ভালোবাসায়, গরম স্পর্শে, আর একসাথে থাকার প্রতিজ্ঞায়।

....
👁 12