খাঁচা ছেড়ে মুক্ত আকাশ

ঢাকার বেইলি রোডের একটি অভিজাত ক্যাফে। জানালার ধারের টেবিলে বসে আছে ইশান আর তৃষা। বাইরে অক্টোবরের মৃদু রোদ কাঁচের ওপর এসে পড়ছে। কোনো বৃষ্টি নেই, আকাশটা একদম নীল ও পরিষ্কার। কিন্তু এই উজ্জ্বল আবহাওয়ার ঠিক উল্টো ছবিটা এই টেবিলে। ইশানের ডান হাতটা কফি কাপের হাতল শক্ত করে ধরে আছে, তার আঙুলের কড়গুলো সাদা হয়ে গেছে। তৃষা সামনে বসে ক্লান্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

 

"ইশান, আর কতবার একই কথা বোঝাতে হবে বলো তো?" তৃষার গলার স্বর নরম কিন্তু তাতে ক্লান্তি স্পষ্ট।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

 

"বোঝাতে হবে না তৃষা, কারণ তুমি যতই বলো না কেন, মনের ভেতর থেকে তো ওই ভয়টা যায় না!" ইশানের কণ্ঠে একধরনের অসহনীয় কাঁপন। "আজ অফিস থেকে বের হওয়ার সময় ওই ছেলেটা—কী যেন নাম, রামিম?—তোমার সাথে লিফটে কেন কথা বলছিল? তুমি তো হাসছিলে ওর সাথে!"

 

তৃষা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। "সে আমাদের প্রজেক্টের সহকর্মী, অফিসিয়াল কথা বলছিল। আমি তো রোবট নই ইশান যে কাজ ছাড়া কারোর দিকে তাকিয়ে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকব। একটু হাসলে বা সৌজন্যতা দেখালে কি সব শেষ হয়ে যায়?"

 

"সব শেষ হয়ে যায় না হয়তো, কিন্তু আমার মনে হয় এই হাসিমুখটাই একদিন আমার জন্য আর থাকবে না," ইশান তপ্ত গলায় ফিসফিস করল। "তুমি খুব সুন্দর তৃষা। যেকোনো জায়গায় গেলে সবাই তোমার দিকে তাকায়। আমার মনে হয়, তুমি আমার মতো সাধারণ একটা ছেলেকে কেন সহ্য করছ? যেদিন তোমার চেয়ে ভালো কেউ আসবে, সেদিন তুমি এক সেকেন্ডও ভাববে না।"

 

এই ইনসিকিউরিটি বা অবমূল্যায়নের রোগটাই ইশানকে তিলে তিলে খাচ্ছে। তাদের সম্পর্কের বয়স প্রায় তিন বছর, বিয়ে হয়েছে এক বছর হলো। কিন্তু এই এক বছরে ইশানের অতিরিক্ত সন্দেহ আর হারানোর ভয় তাদের ঘরটাকে একটা অদৃশ্য খাঁচায় পরিণত করেছে। তৃষা বারবার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে, থেরাপিস্টের কাছে যাওয়ার কথা বলেছে, কিন্তু ইশানের মাথার ভেতর এক চিরস্থায়ী আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে—তৃষা তাকে ছেড়ে চলে যাবে।

 

বাড়ি ফিরে আসার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হলো। ড্রয়িংরুমে ঢুকেই ইশান সোফায় বসে পড়ল। তৃষা ব্যাগটা ড্রেসিং টেবিলের ওপর রেখে রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু ইশান হঠাৎ তার হাত শক্ত করে খামচে ধরল।

 

"তুমি আজ ফোনটা সাইলেন্ট করে রেখেছিলে কেন বলো তো?" ইশানের চোখ লাল।

 

তৃষা এবার আর সহ্য করতে পারল না। সে হাতটা ঝটকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে মুখোমুখি দাঁড়াল। "ইশান! সীমা লঙ্ঘন করছ তুমি। মিটিংয়ের সময় ফোন সাইলেন্ট করা কি অপরাধ? তুমি আমাকে বিশ্বাস করো না, একবিন্দুও বিশ্বাস করো না। তোমার এই অতিরিক্ত ভালোবাসার নামে দমবন্ধ করা পাহারা আমি আর নিতে পারছি না।"

 

"আমি তোমাকে ভালোবাসি বলেই তো ভয় পাই!" ইশান আর্তনাদ করে উঠল।

 

"ভালোবাসা আর মানসিক অত্যাচার এক জিনিস নয়!" তৃষার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। "তোমার এই ভয়ের আগুনে তুমি আমাকে পোড়াচ্ছ, আর সাথে নিজেকেও ধ্বংস করছ। এভাবে চলতে পারে না।"

 

রাত গভীর হলো। ছাদের খোলা বাতাসে কোনো বৃষ্টির ছোঁয়া নেই, কেবল হিমেল বাতাস বইছে। তৃষা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছিল। ইশান তার ঘরের বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে হাঁপিয়ে উঠছে। তার বুকের ভেতর একটা তীব্র মোচড়। সে বুঝতে পারছে সে ভুল করছে, কিন্তু তার এই মানসিক দুর্বলতা সে কিছুতেই আটকাতে পারছে না।

 

পরদিন সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে কোনো কথা হলো না। তৃষা নিজের মতো করে তৈরি হয়ে নাল। দরজার সামনে এসে সে একটা ছোট ট্রাভেল ব্যাগ নামাল।

 

ইশান চমকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াল। "এটা কী? কোথায় যাচ্ছ তুমি?"

 

তৃষা শান্ত অথচ পাথরের মতো শক্ত গলায় বলল, "আমি গুলশানে আমার এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছি। কয়েকটা দিন আমরা আলাদা থাকি ইশান। তোমার এই ভয়, এই সন্দেহ আর আমার এই কান্না—এখান থেকে একটু মুক্তি দরকার। আমাদের সম্পর্কের স্পেস দরকার।"

 

"না, তৃষা! যেও না! আমি আর এমন করব না, সত্যি বলছি!" ইশান ছুটে এসে তৃষার হাত জড়িয়ে ধরল, তার চোখে অসহায় কান্নার প্লাবন।

 

তৃষা নিজের হাতটা আলতো করে ইশানের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিল। তার চোখে এক গভীর ভালোবাসার রেশ, কিন্তু সাথে চরম বিচ্ছেদ বেদনার ক্লান্তি। "কাউকে ধরে রাখার উপায় তাকে খাঁচায় বন্দী করা নয় ইশান। তুমি নিজেকে সময় দাও, নিজের ভেতরের এই অন্ধকারটাকে চিনতে শেখো। আমি ফিরে আসব, যদি তুমি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাও।"

 

দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল। ফ্ল্যাটটা এক নিমেষে ফাঁকা আর নিস্তব্ধ হয়ে গেল। ইশান ঘরের মাঝখানে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। বাইরে রোদ ঝলমলে একটা দুপুর, অথচ ইশানের চারপাশ জুড়ে কেবল গাঢ় অন্ধকার।

 

দফায় দফায় ইশান নিজেকে প্রশ্ন করতে লাগল। কেন সে এতটা স্বার্থপর হয়ে উঠল? তৃষাকে কি সে সত্যিই ভালোবাসে, নাকি তাকে নিজের সম্পত্তি বানিয়ে রাখতে চায়? এই দূরত্বই হয়তো জীবনের প্রথম মোড়, যেখানে তাকে নিজের সাথে লড়তে হবে।

তৃষা চলে যাওয়ার পর প্রথম দুই দিন ইশানের কাটল এক ঘোর লাগা অবস্থায়। গুলশানের বাসা থেকে তৃষা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত কোনো ফোন বা দেখা করা চলবে না। সম্পর্ককে একটু দম ফেলার সুযোগ দিতে হবে। ইশান অফিস থেকে ছুটি নিয়েছে। বিশাল ফ্ল্যাটটার চার দেয়াল যেন তাকে গিলে খেতে আসছে। ড্রয়িংরুমের সোফা, ডাইনিং টেবিল—প্রতিটি কোণায় তৃষার ছায়া, তার হাসিমুখ আর শেষ যাওয়ার মুহূর্তের শক্ত চাহনিটা ভাসছে।

 

তৃতীয় দিনে এসে ইশানের ভেتরের অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করল। এক তীব্র ছটফটানিতে সে বিছানা থেকে উঠে বসল। বারবার মনে হচ্ছে, তৃষা কি অন্য কারও সাথে কথা বলছে? এই ভাবনাটা আসামাত্রই তার বুকটা কেঁপে উঠল। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ল তৃষার শেষ কথাটা—"কাউকে ধরে রাখার উপায় তাকে খাঁচায় বন্দী করা নয়।"

 

ইশান আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। নিজের ক্লান্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে সে নিজে নিজেই শিউরে উঠল। উসকোখুসকো চুল, চোখের নিচে কালচে দাগ, ঠোঁটে একরাশ হতাশা। এই মানুষটাকে কি তৃষা ভালোবেসেছিল? নাকি সে ধীরে ধীরে এক পরাধীনতার জেলখানা তৈরি করেছিল?

 

সে সোফায় বসে তৃষার পাঠানো শেষ মেসেজটা বারবার পড়তে লাগল। কোনো ক্ষোভ বা রাগ নেই, কেবল এক গভীর উপলব্ধির আহ্বান। ইশান বুঝল, তার এই ইনসিকিউরিটি বা অকারণ সন্দেহ কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এটা একধরনের মানসিক অসুস্থতা, যা সে নিজেই নিজের জীবনে ডেকে এনেছিল। অতীতে ছোটবেলায় নিজের ভেতরের কিছু নিরাপত্তাহীনতা এবং হারিয়ে ফেলার আতঙ্ক হয়তো অবচেতনভাবেই তার বর্তমান সম্পর্কটাকে গ্রাস করছিল।

 

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামল। বাইরে ঢাকার রাস্তায় গাড়ির হর্ন আর কোলাহল, আকাশটা একদম পরিষ্কার—কোনো বৃষ্টির লেশমাত্র নেই। ইশান ঠিক করল, সে এভাবে ভেঙে পড়তে পারে না। সে ল্যাপটপ খুলে একজন ভালো ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলরের সন্ধান করতে লাগল। তৃষা অতীতে অনেকবার তাকে একজন বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল, কিন্তু তখন ইশানের ইগো বা জেদ তা হতে দেয়নি। সে ভেবেছিল, সে ঠিক আছে, সমস্যা তো তৃষার চলাফেরায়। আজ নিজের ভুলটা তার চোখের সামনে আয়নার মতো স্পষ্ট।

 

পরদিন সকালে ইশান অনলাইনেই একজন থেরাপিস্টের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করল। বিকেলবেলা চেম্বারে গিয়ে বসল সে। দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে থেরাপিস্টের সাথে কথা বলার পর ইশানের মাথার ভেতর থেকে যেন একটা ভারী পাথর সরে গেল। থেরাপিস্ট শান্ত গলায় তাকে বোঝালেন, অতিরিক্ত ভালোবাসার আড়ালে দখল করার প্রবণতা আসলে ভালোবাসার নয়, বরং ভয়ের প্রকাশ। কাউকে নিজের করে রাখতে গেলে তার নিজস্ব আকাশটাকে সম্মান করতে হয়।

 

চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসার সময় ইশানের বুকটা হালকা লাগছিল। সে তৃষাকে কোনো বিরক্তিকর কল বা মেসেজ করল না। সে বুঝতে পারল, তৃষাকে ফিরে পেতে হলে আগে ইশানকে নিজের ভেତরের এই দুর্বল, ভয়তুর মানুষটাকে বদলাতে হবে।

 

এদিকে গুলশানে তৃষার নিজের মতো করেই কাটছে দিনগুলো। প্রথম প্রথম তারও মন কেমন করত। ইশানের পাগলামিগুলোর অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া স্বভাবের কথা মনে পড়লে এক দীর্ঘশ্বাস বের হতো। কিন্তু সে জানত, এই কড়া সিদ্ধান্তটা না নিলে তাদের দুজনের কারোরই মুক্তি মিলত না। বান্ধবীর বাসায় বসে সে নিজের প্রজেক্টের কাজ করছে, বই পড়ছে, আর নিজের ভেতরের শূন্যতাটাকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

 

সপ্তাহখানেক কেটে গেল। এই সাত দিনে ইশান একবারও তৃষাকে জোর করে যোগাযোগের চেষ্টা করেনি। সে নিজের থেরাপি সেশন চালিয়ে যাচ্ছে, নিয়মিত মেডিটেশন করছে এবং নিজের রাগ ও সন্দেহ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।

 

একদিন রাতে তৃষা তার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে কফি খাচ্ছিল, ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে সে দেখল ইশানের নাম। তৃষার বুকটা একটু কেঁপে উঠল। সে ফোনটা রিসিভ করল, ওপাড় থেকে বেশ কিছুক্ষণ কোনো কথা এল না। শুধু ইশানের দীর্ঘশ্বাসের শব্দ পাওয়া গেল।

 

"তৃষা..." ইশানের গলাটা বেশ শান্ত এবং অনেক বেশি পরিপক্ব মনে হলো। "কেমন আছো?"

 

তৃষা মৃদু হেসে নরম গলায় বলল, "ভালো আছি ইশান। তুমি কেমন আছো?"

 

"আমিও ভালো... মানে, আগের চেয়ে অনেক ভালো," ইশান বিরতি দিয়ে একটু সামলে নিল। "আজ একটা সপ্তাহ হয়ে গেল তুমি নেই। এই সাতটা দিন আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিন ছিল। তবে আমি বসে ছিলাম না তৃষা। আমি একজন থেরাপিস্টের সাথে কথা বলছি। নিজের ভেতরের ওই ভুতুড়ে ভয়টার সাথে লড়তে শিখেছি। বুঝতে পেরেছি, তোমাকে কতটা অন্যায়ভাবে বন্দি করে রেখেছিলাম।"

 

তৃষার চোখের কোণ দিয়ে এক ফোঁটা আনন্দের জল গড়িয়ে পড়ল। সে বুঝল, ইশান সত্যিই বদলাতে শুরু করেছে।

ঢাকার মালিবাগের একটি ছিমছাম ক্যাফে। বিকেলের নরম রোদে চারপাশটা ঝলমল করছে। আকাশে একটুকরো মেঘও নেই, একেবারে পরিষ্কার নীল আকাশ। ইশান জানধারের টেবিলটায় বসে আছে। তার পরনে হালকা নীল শার্ট, চোখে চশমা আর মুখে এক আত্মবিশ্বাসী ও পরিচ্ছন্ন হাসি। আগের সেই অস্থির, নখ কামড়ানো বা বারবার ঘড়ি দেখার ছটফটানি আজ আর তার মধ্যে নেই। সে শান্ত হয়ে তৃষার আসার অপেক্ষা করছে।

 

ঠিক তখনই ক্যাফের দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল তৃষা। পরনে একটা হালকা গোলাপি রঙের সালোয়ার-কামিজ, চোখে সেই চিরপরিচিত মায়ার ঝিলিক, তবে মুখে একটা নতুন স্বস্তির দীপ্তি। ইশানকে টেবিলের ওপাশে বসে থাকতে দেখে তৃষার পা দুটো যেন একটু থেমে গেল। সে খেয়াল করল ইশানের চোখে আগের সেই ভয়ের কালো ছায়াটা নেই; বরং দৃষ্টিতে এক গভীর প্রশান্তি ও শ্রদ্ধাবোধ।

 

তৃষা এসে ইশানের সামনে বসল। ওয়েটার এসে কফির অর্ডার নিয়ে চলে যাওয়ার পর দু'জনের মাঝে কয়েক মুহূর্তের এক মধুর নীরবতা নেমে এল।

 

তৃষা মৃদু হেসে ফিসফিস করে বলল, "অপেক্ষায় রেখে ভালো করেছ, ইশান। মানুষটাকে বদলে ফেলার জন্য এই সময়টুকু খুব দরকার ছিল।"

 

ইশান তৃষার হাতটা নিজের হাতের ওপর আলতো করে রাখল। তার হাতের কাঁপনটা আজ আর নেই। একদম স্থির আর উষ্ণ সেই স্পর্শ।

 

"তুমি ঠিকই বলেছিলে তৃষা," ইশানের গলায় এক আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ঝরে পড়ল। "আমি এতদিন ভালোবাসার নামে এক অদ্ভুত শেকল তৈরি করেছিলাম। ভেবেছিলাম তোমাকে পাহਾਰায় রাখলেই তুমি আমার থাকবে। কিন্তু থেরাপিস্টের সাথে কথা বলার পর আর নিজের ভেতরের অন্ধকারগুলোর মুখোমুখি হওয়ার পর বুঝলাম, কাউকে ধরে রাখার সেরা উপায় তাকে নিজের মতো করে উড়তে দেওয়া। ভালোবাসা মানে দখল করা নয়, ভালোবাসা হলো বিশ্বাস আর স্বাধীনতা।"

 

তৃষার চোখের কোণটা সামান্য ভিজে উঠল। সে ইশানের হাতের ওপর নিজের অন্য হাতটা রাখল। এই গভীর স্পর্শে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই, আছে পূর্ণাঙ্গ সমর্পণ আর একাত্মতার উষ্ণতা। তাদের ভেতরের দূরত্ব যেন এক নিমেষে বরফের মতো গলে জল হয়ে গেল। ক্যাফের মৃদু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আর কাপ থেকে ওঠা ধোঁয়া তাদের চারপাশের পৃথিবীকে আরও রোমান্টিক করে তুলল।

 

সন্ধ্যা নামার সময় তারা ক্যাফে থেকে বেরিয়ে বেইলি রোডের ফুটপাথে এসে দাঁড়াল। ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা, গাড়ির হেডলাইটের আলো, আর মুক্ত বাতাসে কোনো বৃষ্টির লেশমাত্র নেই—একদম স্নিগ্ধ ও চমৎকার একটা পরিবেশ।

 

ইশান তৃষার কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের একটু কাছাকাছি টেনে নিল। তৃষা মাথাটা ইশানের কাঁধে এলিয়ে দিল। কোনো ভনিতা নেই, কোনো ইনসিকিউরিটি নেই—কেবল দুই হৃদয়ের এক নিবিড় ও গভীর রোমান্টিক উষ্ণতা।

 

ইশান তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, "বাসায় ফিরবে আমার সাথে, তৃষা? এবার আর কোনো খাঁচা থাকবে না, কেবল মুক্ত আকাশ আর আমাদের এই ভালোবাসা থাকবে।"

 

তৃষা মৃদু হেসে মুখ তুলে ইশানের চোখের দিকে তাকাল। তার চোখের তারায় জ্বলজ্বল করছে এক নতুন বিশ্বাসের আলো। সে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

 

পুরোনো সব ভুল বোঝাবুঝি আর সন্দেহের পাহাড় পেরিয়ে ইশান ও তৃষার জীবনে নেমে এল এক নতুন ও রোমাঞ্চকর সকাল। তারা হাত ধরাধরি করে রাতের ঢাকার আলো ঝলমলে রাস্তার দিকে হেঁটে চলল, যেখানে তাদের সামনের পুরো পথটা জুড়ে কেবল আলো আর ভালোবাসা।

....
👁 11