শরীরের ক্ষুধায় হারানো স্থিরতা

ঢাকার বনানীতে সন্ধ্যার আলো যখন নরম হয়ে আসে, তখন আহান আর রুহির গল্প শুরু হয়। দুজনেই তরুণ, দুজনেই নিজেদের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। আহান একটা বেসরকারি ব্যাংকে অফিসার, রুহি একটা ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সিতে ক্রিয়েটিভ এক্সিকিউটিভ। তাদের দেখা হয়েছিল একটা কফি শপে। রুহি ল্যাপটপ খুলে কাজ করছিল, আহান পাশের টেবিলে বসে কফি খাচ্ছিল। একটা চোখা চোখে দেখা, তারপর হাসির আদান-প্রদান, তারপর নাম জানা। সেদিন থেকেই কিছু একটা শুরু হয়ে গিয়েছিল।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

প্রথম কয়েক মাস তাদের সম্পর্ক ছিল আবেগে ভরা। আহান রুহিকে প্রতিদিন সকালে মেসেজ পাঠাতো। “শুভ সকাল আমার জান। আজকের দিনটা তোমার জন্য সুন্দর হোক।” রুহি উত্তর দিত হাসিমুখে। সন্ধ্যায় তারা দেখা করতো। কখনো গুলশানের কোনো রেস্তোরাঁয়, কখনো ধানমন্ডির কোনো ছোট ক্যাফেতে। আহান রুহির হাত ধরে হাঁটতো। তার আঙুলের ফাঁকে রুহির আঙুল গেঁথে রাখতো। রুহি সেই স্পর্শ অনুভব করতো গভীরভাবে। আহানের হাত ছিল উষ্ণ, শক্তিশালী, আর সেই উষ্ণতা রুহির শরীরে ছড়িয়ে পড়তো।

একদিন রাতে তারা আহানের ফ্ল্যাটে গিয়েছিল। বনানীর ছোট একটা অ্যাপার্টমেন্ট। আহান রুহির জন্য চা বানিয়ে এনেছিল। রুহি জানালার কাছে বসে শহরের আলো দেখছিল। আহান পেছন থেকে এসে তার কোমরে হাত রাখলো। রুহি পিছন ফিরে তাকালো। আহানের চোখে ছিল একটা গভীর ক্ষুধা। সে রুহির ঠোঁটে চুমু খেলো। প্রথমে নরম, তারপর তীব্র। রুহির ঠোঁট কেঁপে উঠলো। আহানের জিভ তার ঠোঁটের ফাঁকে ঢুকে গেলো। রুহি আহানের গলা জড়িয়ে ধরলো। তাদের শরীর একে অপরের কাছে এসে লেগে গেলো। আহানের হাত রুহির কোমর থেকে উপরে উঠে তার পিঠে ঘুরতে লাগলো। রুহির শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠলো। সে আহানের শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করলো। আহান রুহির পোশাকের জিপার নামিয়ে দিলো। তাদের শরীরের উষ্ণতা মিলেমিশে এক হয়ে গেলো। আহান রুহিকে বিছানায় নিয়ে গেলো। সে রুহির গলায় চুমু খেলো, তারপর কলারবোন বরাবর নিচে নামলো। রুহি আহানের চুল আঁকড়ে ধরলো। তাদের শরীরের প্রতিটি স্পর্শ ছিল আগুনের মতো। আহান রুহির শরীরকে চিনে নিলো ধীরে ধীরে। প্রতিটি চুমু, প্রতিটি স্পর্শ রুহির ভেতরে একটা তীব্র আবেগ জাগিয়ে তুললো। রুহি আহানের নাম ধরে ডাকলো। তাদের সেই রাত ছিল গভীর, গরম, আর পূর্ণ। সকাল পর্যন্ত তারা একে অপরের কাছে জড়িয়ে ছিল।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

সেই রাতের পর থেকে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলো। আহান রুহিকে প্রতিদিন দেখতে চাইতো। রুহি যদি অফিসের কাজের চাপে দেরি করতো, আহান অস্থির হয়ে যেতো। সে মেসেজ পাঠাতো বারবার। “তুমি এখনো অফিসে? কখন আসবে?” রুহি উত্তর দিত, “আরেকটু সময় লাগবে। কাজ শেষ করেই আসছি।” কিন্তু আহানের মনে একটা অস্বস্তি জন্মাচ্ছিল। সে ভাবতো রুহি হয়তো অন্য কারো সাথে সময় কাটাচ্ছে। রুহি যখন বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে যেতো, আহান সেটাও সহ্য করতে পারতো না সহজে। সে বলতো, “আমাকে সাথে নাও না। আমিও যাবো।” রুহি হাসতো, “এটা মেয়েদের আড্ডা। তুমি থাকলে আমরা গল্প করতে পারবো না।” আহান মুখ ভার করে থাকতো।

তবুও রোমান্স ছিল গভীর। এক সপ্তাহান্তে তারা কক্সবাজারে গিয়েছিল। সমুদ্রের পাশে একটা কটেজে। সন্ধ্যায় সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শুনতে শুনতে তারা বালিতে বসেছিল। আহান রুহির কাঁধে মাথা রেখেছিল। রুহি আহানের হাত ধরেছিল। পরে রাতে কটেজের ভেতরে তাদের শরীর আবার মিলেছিল। আহান রুহিকে জানালার কাছে দাঁড় করিয়ে চুমু খেয়েছিল। বাইরে সমুদ্রের আওয়াজ, ভেতরে তাদের শ্বাসকষ্ট। আহান রুহির শরীরকে ধীরে ধীরে উন্মোচন করেছিল। রুহির ত্বক ছিল মসৃণ, আর আহানের হাত সেই ত্বকের উপর দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তারা বিছানায় গিয়ে শরীর জড়িয়ে ধরেছিল। আহান রুহির চোখে চোখ রেখে বলেছিল, “তুমি আমার। শুধু আমার।” রুহি সেই কথা শুনে একটু থমকে গিয়েছিল, কিন্তু আবেগের তীব্রতায় সেটা ভুলে গিয়েছিল। তাদের সেই রাত ছিল দীর্ঘ। শরীরের প্রতিটি অংশ একে অপরকে চেনে নিয়েছিল। আহান রুহির ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল ধীরে ধীরে, আর রুহি আহানের পিঠে নখ বসিয়ে দিয়েছিল। তাদের আনন্দ ছিল গভীর, চিৎকার ছিল চাপা। সকালে উঠে তারা সমুদ্রের পাশে হাঁটতে গিয়েছিল। হাত ধরাধরি করে।

ঢাকায় ফিরে এসেও সেই আবেগ চলতে থাকলো। কিন্তু আহানের অধিকারবোধ ধীরে ধীরে বাড়তে লাগলো। রুহি যদি কোনোদিন একা সময় কাটাতে চাইতো, আহান সেটাকে দূরে সরে যাওয়ার সংকেত মনে করতো। একদিন রুহি বলেছিল, “আজকে আমি বাসায় বসে একটু বই পড়বো। তোমার সাথে দেখা করবো না।” আহান সাথে সাথে মেসেজ পাঠিয়েছিল, “কেন? আমি কি কিছু ভুল করেছি? তুমি কি রাগ করেছো?” রুহি বুঝিয়ে বলেছিল, “না, কিছু না। শুধু নিজের জন্য একটু সময় চাই।” কিন্তু আহান সেটা মেনে নিতে পারেনি। সে রাতেই রুহির বাসায় চলে এসেছিল। রুহি দরজা খুলে আশ্চর্য হয়েছিল। আহান ভেতরে ঢুকে রুহিকে জড়িয়ে ধরেছিল। “আমি থাকতে পারছি না তোমাকে ছাড়া,” সে বলেছিল। রুহি আহানের বুকে মুখ লুকিয়েছিল। সেই রাতেও তাদের শরীর মিলেছিল। আহান রুহিকে বিছানায় শুইয়ে তার শরীরকে চুম্বন করেছিল সর্বাঙ্গে। রুহি আহানের নাম ধরে কেঁদে উঠেছিল আনন্দের তীব্রতায়। কিন্তু সকালে উঠে রুহির মনে একটা ক্লান্তি লেগেছিল।

আহান প্রতিদিন রুহির লোকেশন চেক করতো। সে জানতো রুহি কোথায় আছে। রুহি যদি কোনো নতুন বন্ধুর সাথে কথা বলতো, আহান জানতে চাইতো সে কে। রুহি একদিন অফিসের একটা সহকর্মীকে নিয়ে কফি খেতে গিয়েছিল। আহান সেটা জানতে পেরে রুহিকে ফোন করেছিল। “তুমি কার সাথে আছো?” রুহি বলেছিল, “অফিসের একটা বন্ধু। কাজের কথা।” আহান চুপ করে গিয়েছিল। পরে সেদিন সন্ধ্যায় যখন তারা দেখা করেছিল, আহান রুহিকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, “আমি ভয় পাই। ভয় পাই তোমাকে হারানোর।” রুহি আহানের গালে হাত বুলিয়ে দিয়েছিল। “আমি কোথাও যাচ্ছি না।” কিন্তু ভেতরে ভেতরে রুহির মনে একটা প্রশ্ন জাগছিল। এই অধিকারবোধ কতদূর যাবে?

তবুও রোমান্স থেমে থাকেনি। এক রাতে আহান রুহিকে নিয়ে গিয়েছিল তার ফ্ল্যাটে। সে রুহির জন্য নরম আলো জ্বালিয়ে রেখেছিল। মিউজিক বাজিয়েছিল। রুহি এসে বসেছিল সোফায়। আহান তার পাশে বসে হাত ধরেছিল। তারপর ধীরে ধীরে রুহির মুখের দিকে এগিয়ে গিয়ে চুমু খেয়েছিল। সেই চুমু ছিল দীর্ঘ। আহানের হাত রুহির কোমরে ঘুরতে লাগলো। রুহি আহানের শার্ট খুলে ফেললো। আহানের বুকের উপর হাত বুলিয়ে দিলো। আহান রুহিকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় নিয়ে গেলো। সে রুহির পোশাক খুলে ফেললো একটার পর একটা। রুহির শরীর উন্মোচিত হলো আহানের সামনে। আহান রুহির স্তনে চুমু খেলো, তারপর নিচে নামলো। রুহি বিছানার চাদর আঁকড়ে ধরলো। আহানের জিভ রুহির শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গায় স্পর্শ করলো। রুহি কেঁপে উঠলো। আহান উঠে এসে রুহির উপরে উঠলো। তাদের শরীর জুড়ে গেলো। আহান ধীরে ধীরে নড়তে লাগলো। রুহি আহানের পিঠে হাত বুলিয়ে দিলো। তাদের শ্বাস মিলেমিশে এক হয়ে গেলো। আহান রুহির কানে ফিসফিস করে বলেছিল, “আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।” রুহি উত্তর দিয়েছিল একটা দীর্ঘ শ্বাসে। তাদের সেই মিলন ছিল গভীর, গরম, আর পূর্ণ। শেষে তারা একে অপরের বুকে শুয়েছিল। আহান রুহির চুলে হাত বুলিয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু সেই রাতের পর থেকেই রুহির মনে একটা পরিবর্তন আসতে শুরু করেছিল। আহানের প্রতিটি মেসেজ, প্রতিটি ফোন কল, প্রতিটি জিজ্ঞাসা তাকে ক্লান্ত করতে শুরু করেছিল। রুহি যখন নিজের জন্য সময় চাইতো, আহান সেটাকে সম্পর্কের সংকট মনে করতো। রুহি একদিন অফিস থেকে ফিরে এসে দেখলো আহান তার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। “তুমি কেন এলে?” রুহি জিজ্ঞেস করলো। আহান বললো, “তুমি মেসেজের উত্তর দিচ্ছো না। আমি চিন্তিত।” রুহি দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো। আহান পেছন পেছন ঢুকলো। রুহি বললো, “আমি কাজ করছিলাম। একটু সময় দাও।” আহান রুহির হাত ধরে বললো, “আমি থাকতে পারছি না।” সে রুহিকে জড়িয়ে ধরলো। রুহি আহানের বুকে মাথা রাখলো। সেই রাতেও তারা শরীর মিলিয়েছিল। আহান রুহিকে প্রায় জোর করেই জড়িয়ে ধরেছিল। রুহি আহানের স্পর্শে সাড়া দিয়েছিল, কিন্তু মনে মনে একটা দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল।

দিনগুলো চলতে থাকলো। আহান রুহির প্রতিটি পদক্ষেপ জানতে চাইতো। রুহি যদি কোনোদিন বান্ধবীদের সাথে সিনেমা দেখতে যেতো, আহান সেখানেও চলে আসতো। রুহি একদিন বলেছিল, “তুমি আমাকে একটু জায়গা দাও।” আহান চোখ বড় করে তাকিয়েছিল। “জায়গা মানে? তুমি কি আমাকে ছেড়ে যেতে চাও?” রুহি মাথা নেড়ে বলেছিল, “না। শুধু একটু নিজের সময় চাই।” কিন্তু আহান সেটা বুঝতে পারেনি। সে রুহিকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিল। তাদের রোমান্স তখনো গভীর ছিল। এক রাতে আহান রুহিকে নিয়ে গিয়েছিল ছাদে। শহরের আলো দেখতে দেখতে তারা চুমু খেয়েছিল। আহান রুহির শরীরকে স্পর্শ করেছিল। রুহি আহানের হাতে সাড়া দিয়েছিল। তারা ছাদের এক কোণে জড়িয়ে পড়েছিল। আহান রুহির পোশাক সরিয়ে তার শরীরে চুমু খেয়েছিল। রুহি আহানের নাম ধরে ডাকছিল। তাদের সেই মিলন ছিল তীব্র। কিন্তু শেষে রুহি যখন আহানের বুকে শুয়েছিল, তার চোখে একটা ক্লান্তির ছায়া পড়েছিল।

আহানের অধিকারবোধ এখন আর ছোটখাটো বিষয় ছিল না। রুহি যখন নিজের জন্য একটু সময় চাইতো, আহান সেটাকে দূরে সরে যাওয়ার সংকেত মনে করতো। রুহির মনে ধীরে ধীরে একটা সিদ্ধান্ত জন্মাচ্ছিল। সম্পর্কটা আবেগে ভরা, রোমান্সে পূর্ণ, কিন্তু তার নিজের শান্তি কোথায়? সে প্রশ্নটা রুহির মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। আহান তখনো রুহিকে ভালোবাসতো গভীরভাবে। সে রুহির হাত ধরে বলতো, “তুমি আমার জীবন।” রুহি হাসতো, কিন্তু হাসির পেছনে একটা দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল।

একদিন সন্ধ্যায় রুহি আহানের ফ্ল্যাটে গিয়েছিল। আহান তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিল। তারা বিছানায় গিয়ে শরীর মিলিয়েছিল আবার। আহান রুহির শরীরকে চিনে নিয়েছিল নতুন করে। রুহি আহানের স্পর্শে কেঁপে উঠেছিল। তাদের আনন্দ ছিল গভীর। কিন্তু সেই রাতের পর রুহি যখন বাসায় ফিরেছিল, তার মনে একটা সিদ্ধান্ত পাকাপোক্ত হয়ে গিয়েছিল। সে আর এই অধিকারবোধ সহ্য করতে পারবে না।

রুহির সিদ্ধান্তটা এসেছিল ধীরে ধীরে, কিন্তু একবার এসে গেলে আর ফেরানো যায়নি। আহানের ফ্ল্যাট থেকে ফিরে সে রাতে রুহি নিজের বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করেছিল। শরীরে এখনো আহানের স্পর্শের উষ্ণতা লেগে ছিল। কিন্তু মনের ভেতরটা ভারী হয়ে গিয়েছিল। পরের দিন সকালে সে আহানকে মেসেজ পাঠালো।

“আমাদের কথা বলতে হবে। আজ সন্ধ্যায় দেখা করি।”

আহান সাথে সাথে উত্তর দিলো। “ঠিক আছে জান। আমি অপেক্ষা করছি।”

সন্ধ্যায় তারা বনানীর একটা শান্ত ক্যাফেতে বসলো। রুহি কফি অর্ডার করলো, আহান চা। আহান রুহির হাত ধরতে গেলো, কিন্তু রুহি হাত সরিয়ে নিলো। আহানের চোখে একটা অস্বস্তি ফুটে উঠলো।

রুহি সোজাসুজি বললো, “আহান, আমি আর পারছি না। তোমার এই অধিকারবোধ আমাকে ক্লান্ত করে দিচ্ছে। আমি যখন নিজের জন্য একটু সময় চাই, তুমি সেটাকে দূরে সরে যাওয়ার সংকেত মনে করো। আমি শ্বাস নিতে পারছি না এই সম্পর্কে।”

আহান চুপ করে বসে রইলো। তার চোখ লাল হয়ে উঠছিল। “আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি শুধু তোমাকে হারানোর ভয় পাই।”

রুহি মাথা নাড়লো। “ভালোবাসা মানে মালিকানা নয়। আমি তোমার সম্পত্তি না। আমাকে একটু জায়গা দাও। নাহলে আমি আর থাকতে পারবো না।”

আহান টেবিলের ওপর হাত রাখলো। “আমি বদলাবো। আমি চেষ্টা করবো। তুমি শুধু একটা সুযোগ দাও।”

রুহি চোখ তুলে তাকালো। “আমি অনেকবার সুযোগ দিয়েছি। এবার আর পারছি না।”

সেদিন তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো। আহান রুহির হাত আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিল, কিন্তু রুহি উঠে দাঁড়ালো। বাইরে এসে রুহি একটা রিকশায় উঠে বসলো। চোখ দিয়ে জল পড়ছিল, কিন্তু সে মুছলো না। আহান পেছনে দাঁড়িয়ে দেখছিল। তার বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছিল।

পরের কয়েক সপ্তাহ ছিল কঠিন। আহান প্রতিদিন মেসেজ পাঠাতো। “রুহি, আমাকে ক্ষমা করো। আমি বদলে যাবো।” রুহি উত্তর দিত না। আহান ফোন করতো, রুহি কেটে দিতো। একদিন আহান রুহির অফিসের সামনে দাঁড়িয়েছিল। রুহি তাকে দেখে থমকে গেলো। আহান এগিয়ে এসে বললো, “একবার শোনো। শুধু একবার।” রুহি মাথা নাড়লো। “আহান, দয়া করে আমাকে একা থাকতে দাও।” সে ভেতরে ঢুকে গেলো। আহান বাইরে দাঁড়িয়ে রইলো অনেকক্ষণ।

রুহি নিজের জীবন সামলাতে শুরু করলো। সে অফিসে বেশি সময় দিতো। বান্ধবীদের সাথে সময় কাটাতো। একদিন সে নিজেই একটা ছোট ট্রিপে গেলো কক্সবাজারে। সমুদ্রের পাশে বসে ভাবলো, এই শান্তিটা কতদিন পরে পেলো সে। আহানের স্পর্শের কথা মনে পড়তো। সেই গভীর চুমু, সেই রাতের উষ্ণতা। রুহির শরীর কেঁপে উঠতো সেই স্মৃতিতে। কিন্তু সে নিজেকে বলতো, শান্তিটা বেশি দরকার।

আহানের দিকটা অন্যরকম ছিল। সে প্রথম কয়েক সপ্তাহ প্রায় পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিল। রাতে ঘুম হতো না। রুহির ছবি দেখতো ফোনে। তাদের সেই রাতগুলোর কথা মনে পড়তো। এক রাতে সে নিজের ফ্ল্যাটে একা বসে ভাবছিল সেই দিনের কথা, যখন রুহিকে বিছানায় শুইয়ে তার শরীরকে চুম্বন করেছিল সর্বাঙ্গে। রুহির শ্বাসকষ্ট, তার নখের চাপ, তাদের শরীরের মিলন। আহানের শরীর গরম হয়ে উঠতো সেই স্মৃতিতে। সে নিজের হাত দিয়ে নিজেকে সামলাতো, কিন্তু মনের ভেতরের ক্ষুধা মেটতো না।

ধীরে ধীরে আহান নিজেকে সামলাতে শুরু করলো। সে একটা কাউন্সেলরের কাছে গেলো। কথা বললো তার ভয় নিয়ে, তার অধিকারবোধ নিয়ে। কাউন্সেলর বললো, “ভালোবাসা মানে নিয়ন্ত্রণ নয়। জায়গা দিতে শেখো।” আহান শুনলো। সে নিজের জীবনে ব্যস্ত হতে চেষ্টা করলো। অফিসে বেশি সময় দিলো। বন্ধুদের সাথে সময় কাটালো। কিন্তু রুহির কথা মনে পড়তো প্রতিদিন।

তিন মাস কেটে গেলো। রুহি এখন অনেকটা শান্ত। সে নিজের জন্য সময় বের করে। সকালে হাঁটতে যায়। সন্ধ্যায় বই পড়ে। একদিন অফিসের একটা ইভেন্টে সে গিয়েছিল। সেখানেই আহানের সাথে দেখা হয়ে গেলো। আহান অন্য একটা কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিল। দুজনের চোখ মিললো। রুহি প্রথমে সরে যেতে চাইলো, কিন্তু আহান এগিয়ে এসে বললো, “রুহি… কেমন আছো?”

রুহির গলা শুকিয়ে গেলো। “ভালো। তুমি?”

আহান হাসি দিলো একটু। “চেষ্টা করছি। তোমার কথা মনে পড়ে প্রতিদিন।”

রুহি চুপ করে রইলো। আহান বললো, “একটু কথা বলতে পারি? বাইরে?”

তারা ইভেন্ট হলের বাইরে এলো। সন্ধ্যার আলো নরম। আহান বললো, “আমি বদলেছি। আমি আর সেই মানুষটা নেই। আমি শিখেছি জায়গা দিতে। তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না আর।”

রুহি তাকালো আহানের চোখের দিকে। সেই চোখে এখনো ভালোবাসা আছে, কিন্তু আগের মতো পাগলামি নেই। “আহান, আমি এখন শান্তিতে আছি। আমি আর সেই সম্পর্কে ফিরতে চাই না।”

আহান মাথা নাড়লো। “আমি জানি। আমি শুধু বলতে চেয়েছিলাম। আমি চেষ্টা করেছি বদলানোর।”

তারা একটু চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর আহান বললো, “একটা কফি খাবে আমার সাথে? শুধু কথা বলার জন্য।”

রুহি একটু দ্বিধা করলো। তারপর বললো, “ঠিক আছে। একবার।”

তারা কাছের একটা ক্যাফেতে গেলো। বসলো। আহান রুহির দিকে তাকিয়ে বললো, “তুমি সুন্দর দেখাচ্ছো। আগের চেয়েও বেশি।”

রুহি হাসি দিলো একটু। “ধন্যবাদ।”

আহান তার হাতের কাছে হাত রাখলো, কিন্তু ধরলো না। “আমি রাতে ঘুমাতে পারি না অনেকদিন। তোমার কথা মনে পড়ে। সেই রাতগুলোর কথা। তোমার শরীরের উষ্ণতা, তোমার শ্বাস… সব।”

রুহির শরীর একটু কেঁপে উঠলো। সেই স্মৃতি এখনো জীবন্ত। আহানের হাত তার কোমরে, তার ঠোঁট তার গলায়, তাদের শরীরের গভীর মিলন। রুহি চোখ নিচু করলো। “আহান, সেসব আগের কথা।”

আহান বললো, “আমি জানি। আমি শুধু বলতে চেয়েছি। আমি এখনো তোমাকে চাই। কিন্তু এবার অন্যভাবে। জায়গা দিয়ে, সম্মান দিয়ে।”

রুহি কফি মুখে দিলো। তার মনে পড়ছিল সেই সব রাতের কথা। আহান যখন তাকে বিছানায় শুইয়ে ধীরে ধীরে উন্মোচন করেছিল। যখন তার জিভ রুহির শরীরের সংবেদনশীল জায়গায় স্পর্শ করেছিল। যখন তারা একসাথে কেঁপে উঠেছিল। রুহির শরীরে একটা উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়লো। কিন্তু সে নিজেকে সামলালো।

তারা অনেকক্ষণ কথা বললো। আহান বললো সে কাউন্সেলিং করছে। নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করছে। রুহি শুনলো। শেষে উঠতে উঠতে আহান বললো, “আবার দেখা হতে পারে?”

রুহি একটু চুপ করে থেকে বললো, “হয়তো। কিন্তু বন্ধু হিসেবে।”

আহান মাথা নাড়লো। “ঠিক আছে।”

বাইরে এসে তারা আলাদা হয়ে গেলো। রুহি রিকশায় উঠে বসলো। মনে মনে ভাবলো, আহান সত্যিই বদলেছে কি না। তার শরীরে এখনো সেই পুরনো আবেগের আগুন জ্বলছে। কিন্তু মনের ভেতরটা বলছে, শান্তিটা ছাড়বে না।

পরের কয়েকদিন রুহি আহানের কথা ভেবেই কাটালো। এক রাতে সে নিজের বিছানায় শুয়ে সেই সব রাতের কথা মনে করলো। আহান যখন তাকে জানালার কাছে দাঁড় করিয়ে চুমু খেয়েছিল। যখন তার হাত রুহির শরীরের প্রতিটি অংশে ঘুরে বেড়িয়েছিল। রুহির শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠলো। সে নিজের হাত দিয়ে নিজের শরীর স্পর্শ করলো। আহানের নাম মনে মনে ডাকলো। শরীর কেঁপে উঠলো। কিন্তু শেষে চোখের জল এসে গেলো। সে বুঝতে পারলো, শরীর চায় আহানকে, কিন্তু মন চায় শান্তি।

আহানও সেই রাতগুলো মনে করে কাটাতো। সে রুহিকে মেসেজ পাঠালো একদিন। “শুধু জানাতে চাই, আমি ভালো আছি। তুমিও থেকো ভালো।” রুহি উত্তর দিলো। “তুমিও।”

দুজনের মধ্যে আবার একটা যোগাযোগ শুরু হলো। ধীরে ধীরে। আহান আর অতিরিক্ত মেসেজ পাঠাতো না। রুহিও মাঝে মাঝে উত্তর দিতো। একদিন আহান বললো, “একটা ডিনারে যাবে আমার সাথে? শুধু খাবার। কোনো চাপ নেই।”

রুহি ভাবিয়ে বললো, “ঠিক আছে।”

তারা একটা রেস্তোরাঁয় গেলো। আহান রুহির জন্য চেয়ার টেনে দিলো। তারা খেতে খেতে কথা বললো। আহান হাসছিল আগের মতো। রুহিও একটু একটু করে খুলছিল। খাবার শেষে আহান বললো, “তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিই?”

রুহি রাজি হলো। গাড়িতে বসে তারা চুপচাপ ছিল। আহান হঠাৎ বললো, “আমি এখনো তোমার শরীরের গন্ধ মনে করতে পারি। তোমার চুলের গন্ধ, তোমার ত্বকের উষ্ণতা।”

রুহির শরীর গরম হয়ে উঠলো। সে বললো, “আহান…”

আহান হাত বাড়িয়ে রুহির হাত ধরলো। এবার রুহি সরায়নি। আহানের আঙুল তার আঙুলের ফাঁকে ঢুকে গেলো। সেই উষ্ণতা রুহির শরীরে ছড়িয়ে পড়লো। গাড়ি রুহির বাসার সামনে থামলো। আহান বললো, “একটু উপরে আসবো?”

রুহি দ্বিধা করলো। তারপর বললো, “একটু।”

উপরে উঠে রুহি দরজা খুললো। আহান ভেতরে ঢুকলো। দুজনে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলো। আহান এগিয়ে এসে রুহির মুখের কাছে গেলো। “একটা চুমু… শুধু একটা।”

রুহি মাথা নাড়লো। আহান তার ঠোঁটে চুমু খেলো। নরম করে। তারপর তীব্র করে। রুহির ঠোঁট কেঁপে উঠলো। সে আহানের গলা জড়িয়ে ধরলো। আহানের হাত তার কোমরে ঘুরতে লাগলো। তাদের শরীর একে অপরের কাছে এসে লেগে গেলো। আহান রুহিকে দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে চুমু খেতে লাগলো। রুহির শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠলো। আহানের হাত তার পোশাকের নিচে ঢুকে গেলো। রুহির ত্বক গরম। আহান তার কলারবোন বরাবর চুমু খেলো। রুহি আহানের চুল আঁকড়ে ধরলো।

তারা বিছানার দিকে এগোলো। আহান রুহির পোশাক খুলতে লাগলো। রুহিও আহানের শার্ট খুলে ফেললো। তাদের শরীর উন্মোচিত হলো। আহান রুহিকে বিছানায় শুইয়ে তার স্তনে চুমু খেলো। রুহি কেঁপে উঠলো। আহান নিচে নামলো। তার জিভ রুহির শরীরের গভীরে স্পর্শ করলো। রুহি বিছানার চাদর আঁকড়ে ধরে কেঁদে উঠলো। আহান উঠে এসে রুহির উপরে উঠলো। তাদের শরীর জুড়ে গেলো। আহান ধীরে ধীরে নড়তে লাগলো। রুহি তার পিঠে নখ বসিয়ে দিলো। তাদের শ্বাস মিলেমিশে এক হয়ে গেলো। আহান রুহির কানে বললো, “আমি তোমাকে এখনো চাই।” রুহি উত্তর দিলো একটা দীর্ঘ শ্বাসে। তাদের মিলন ছিল গভীর, গরম, আর পুরনো আবেগে ভরা। শেষে তারা একে অপরের বুকে শুয়ে রইলো।

রুহি আহানের বুকে মাথা রেখে ভাবলো, শরীর তো সাড়া দিয়েছে। কিন্তু মন? মন এখনো শান্তির খোঁজে।

সেই রাতের পর রুহি সকালে উঠে আহানকে দেখলো তার বিছানায় শুয়ে আছে। আহানের হাত তার কোমরে জড়ানো। রুহির শরীরে এখনো গত রাতের উষ্ণতা লেগে আছে। আহানের চুমু, তার স্পর্শ, তাদের গভীর মিলন—সবকিছু মনে পড়ছে স্পষ্ট করে। রুহি ধীরে ধীরে আহানের হাত সরিয়ে উঠে বসলো। জানালার দিকে তাকিয়ে শহরের সকাল দেখলো। মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এই আবেগ কি আবার তাকে আগের মতো বেঁধে ফেলবে?

আহান চোখ খুললো। রুহির দিকে তাকিয়ে হাসি দিলো। “সকালেও তুমি সুন্দর।” সে উঠে বসে রুহির কাঁধে হাত রাখলো। রুহি একটু সরে গেলো। আহান বুঝতে পারলো। “কী হয়েছে?”

রুহি বললো, “আহান, গত রাতটা… ভুল হয়েছে হয়তো।”

আহানের মুখের হাসি মিলিয়ে গেলো। “ভুল? আমি তো ভেবেছিলাম আমরা আবার…”

রুহি মাথা নাড়লো। “শরীর চেয়েছে, আবেগ চেয়েছে। কিন্তু আমি আর সেই ফাঁদে পা দিতে চাই না। তুমি বদলেছো বলেছো, আমি দেখেছি কিছুটা। কিন্তু আমি এখন নিজের শান্তিকে বেশি গুরুত্ব দিই।”

আহান চুপ করে বসে রইলো। তার চোখে ব্যথা ফুটে উঠলো। “আমি সত্যিই চেষ্টা করেছি। আমি আর আগের মতো নই।”

রুহি বললো, “আমি জানি। কিন্তু আমি নিজেকে হারাতে চাই না আবার।”

আহান উঠে দাঁড়ালো। তার শার্ট পরতে পরতে বললো, “আমি অপেক্ষা করবো। যতদিন লাগে।”

রুহি কিছু বললো না। আহান চলে গেলো। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ রুহির কানে বাজলো। সে বিছানায় বসে রইলো অনেকক্ষণ। শরীরে এখনো আহানের গন্ধ। সেই গভীর রাতের স্মৃতি তাকে অস্থির করে তুললো। আহান যখন তাকে দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে চুমু খেয়েছিল, যখন তার হাত রুহির ত্বকের নিচে ঢুকে গিয়েছিল, যখন তারা একে অপরের শরীরে হারিয়ে গিয়েছিল—সব মনে পড়ছে। রুহির শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠলো। সে নিজেকে সামলালো। উঠে গোসল করতে গেলো।

পরের কয়েকদিন দুজনের মধ্যে কোনো যোগাযোগ হলো না। রুহি অফিসে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করলো। সন্ধ্যায় বান্ধবীদের সাথে সময় কাটালো। কিন্তু রাতে একা শুয়ে আহানের কথা মনে পড়তো। এক রাতে সে স্বপ্ন দেখলো তাদের সেই পুরনো রাতগুলোর। আহান তাকে সমুদ্রের পাশের কটেজে জড়িয়ে ধরেছে। তার ঠোঁট রুহির গলায়, তার হাত রুহির শরীরের প্রতিটি অংশে। রুহি স্বপ্নে কেঁপে উঠলো। চোখ খুলে দেখলো অন্ধকার ঘর। শরীর গরম। সে উঠে পানি খেলো। মনে বললো, এটা শুধু শরীরের ক্ষুধা। মন শান্তি চায়।

আহানও সেই দিনগুলো কঠিনভাবে কাটালো। সে রুহিকে মেসেজ পাঠাতে চাইতো, কিন্তু নিজেকে থামিয়ে রাখতো। কাউন্সেলরের সাথে কথা বলতো। বলতো, “আমি তাকে চাই। কিন্তু আমি আর জোর করতে চাই না।” রাতে একা শুয়ে রুহির শরীরের কথা মনে করতো। সেই মসৃণ ত্বক, সেই গভীর শ্বাস, তাদের মিলনের তীব্রতা। আহানের শরীর অস্থির হয়ে উঠতো। সে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করতো। অফিসে দেরি পর্যন্ত কাজ করতো।

এক সপ্তাহ পর আহান রুহিকে একটা মেসেজ পাঠালো। “শুধু জানাতে চাই, আমি তোমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। তুমি ভালো থেকো।” রুহি উত্তর দিলো। “তুমিও ভালো থেকো।”

আর কোনো কথা হলো না।

দুই সপ্তাহ কেটে গেলো। রুহি একদিন অফিস থেকে ফিরছিল। রাস্তায় হঠাৎ আহানকে দেখতে পেলো। আহান একটা বইয়ের দোকান থেকে বেরিয়ে আসছিল। দুজনের চোখ মিললো। রুহি থামলো। আহান এগিয়ে এলো।

“কেমন আছো?” আহান জিজ্ঞেস করলো।

“ভালো। তুমি?”

“চেষ্টা করছি।” আহান একটু হাসি দিলো। “একটু হাঁটবে আমার সাথে?”

রুহি ভাবিয়ে বললো, “ঠিক আছে।”

তারা পাশাপাশি হাঁটতে লাগলো। কথা হলো কম। আহান বললো, “আমি এখন নিজের জন্য সময় দিই। বই পড়ি। বন্ধুদের সাথে থাকি। তোমার কথা মনে পড়ে, কিন্তু আর পাগলের মতো হই না।”

রুহি শুনলো। “ভালো লাগলো শুনে।”

তারা একটা পার্কের কাছে এসে থামলো। বেঞ্চিতে বসলো। আহান রুহির দিকে তাকিয়ে বললো, “আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু এবার আমি জানি, ভালোবাসা মানে ধরে রাখা নয়।”

রুহি চোখ তুলে তাকালো। আহানের চোখে আগের মতো অধিকারের ছায়া নেই। শুধু একটা শান্ত ভালোবাসা। রুহির মনে একটা নরম অনুভূতি জাগলো। কিন্তু সে বললো, “আহান, আমিও তোমাকে ভুলে যাইনি। শরীর এখনো তোমার স্পর্শ মনে রাখে। কিন্তু আমি আর সেই সম্পর্কে ফিরবো না। আমি শিখেছি নিজেকে আগে রাখতে।”

আহান মাথা নাড়লো। “আমি বুঝি। আমি জোর করবো না।”

তারা চুপ করে বসে রইলো। সন্ধ্যার আলো নরম হয়ে আসছিল। আহান হঠাৎ বললো, “একটা শেষ চুমু… যদি দাও।”

রুহি দ্বিধা করলো। তারপর ধীরে ধীরে মাথা নাড়লো। আহান এগিয়ে এসে রুহির ঠোঁটে চুমু খেলো। নরম, ধীর, গভীর। রুহির ঠোঁট কেঁপে উঠলো। সে আহানের গলায় হাত রাখলো। আহানের হাত তার কোমরে ঘুরলো। চুমুটা দীর্ঘ হলো। আহানের জিভ তার ঠোঁটের ফাঁকে ঢুকে গেলো। রুহির শরীর গরম হয়ে উঠলো। পুরনো আবেগ আবার জেগে উঠলো। আহান রুহিকে আরও কাছে টানলো। তাদের শ্বাস মিলে গেলো।

কিন্তু রুহি ধীরে ধীরে সরে গেলো। “যথেষ্ট।”

আহান চোখ খুললো। তার চোখে আর্দ্রতা। “আমি বুঝি।”

তারা উঠে দাঁড়ালো। আহান বললো, “তুমি যদি কখনো মনে করো… আমি থাকবো। কিন্তু এবার দূর থেকে।”

রুহি হাসি দিলো একটু। “তুমিও নিজের যত্ন নিয়ো।”

তারা আলাদা দিকে হাঁটতে শুরু করলো। রুহি কয়েক পা গিয়ে পেছন ফিরে তাকালো। আহান দাঁড়িয়ে আছে। সে একবার হাত তুললো। রুহিও হাত তুললো। তারপর মুখ ঘুরিয়ে এগোলো।

সেই রাতে রুহি বাসায় ফিরে বিছানায় শুয়ে ভাবলো। আহানের চুমুর উষ্ণতা এখনো ঠোঁটে লেগে আছে। শরীর চায় আরও। মনে পড়ছে সেই সব রাতের কথা—আহান যখন তাকে বিছানায় শুইয়ে সর্বাঙ্গে চুমু খেয়েছিল, যখন তাদের শরীর একে অপরের ভেতর হারিয়ে গিয়েছিল, যখন তারা একসাথে কেঁপে উঠেছিল আনন্দের তীব্রতায়। রুহির শরীর অস্থির হয়ে উঠলো। সে নিজের হাত দিয়ে নিজের ত্বক স্পর্শ করলো। আহানের নাম মনে মনে ডাকলো। শরীর কেঁপে উঠলো একবার। তারপর চোখের জল এসে গেলো। সে বুঝতে পারলো, এই আবেগ থাকবে। কিন্তু সে আর এতে ডুববে না।

পরের মাসগুলোতে রুহি নিজের জীবন গড়ে তুললো নতুন করে। সে প্রমোশন পেলো অফিসে। নতুন বন্ধু বানালো। সপ্তাহান্তে নিজে নিজে ঘুরতে গেলো সিলেটে। পাহাড়ের কোলে বসে ভাবলো, এই শান্তিটাই তার দরকার ছিল। আহানের কথা মাঝে মাঝে মনে পড়তো। সেই গভীর রোমান্সের কথা, সেই অধিকারবোধের কথা। কিন্তু এখন আর বুক ভারী হয় না।

আহানও এগোতে থাকলো। সে অন্য একটা শহরে বদলি হলো কাজের সূত্রে। নতুন পরিবেশে নিজেকে ব্যস্ত রাখলো। রুহিকে আর মেসেজ পাঠালো না। কিন্তু মনে মনে সেই ভালোবাসা ধরে রাখলো শান্তভাবে।

একদিন রুহি তার বান্ধবীকে বললো, “আমি শিখেছি, ভালোবাসা থাকতে পারে, কিন্তু নিজের শান্তিটা ছাড়া কিছুই টেকে না।”

বান্ধবী জিজ্ঞেস করলো, “আহানকে এখনো মনে পড়ে?”

রুহি হাসি দিলো। “মনে পড়ে। শরীর মনে রাখে। কিন্তু আমি এখন নিজেকে বেছে নিয়েছি।”

গল্পের শেষে রুহি এক সন্ধ্যায় নিজের বারান্দায় বসে শহরের আলো দেখছিল। মনে কোনো অনুশোচনা নেই। আহানের সাথে কাটানো সেই আবেগভরা দিনগুলো স্মৃতি হয়ে আছে। গভীর, গরম, সুন্দর। কিন্তু এখন তার কাছে নিজের শান্তিটাই সবচেয়ে বড়।

আহান আর রুহির গল্প এখানেই শেষ।

 

তারা একে অপরকে ভালোবেসেছিল গভীরভাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রুহি বেছে নিয়েছিল নিজেকে।

....
👁 19