ঢাকার একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দায় সন্ধ্যা নামছিল। আকাশের রং ধীরে ধীরে গাঢ় হচ্ছিল, কিন্তু কোনো বৃষ্টির চিহ্ন নেই। শুধু গরম হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল, আর দূরে কোথাও অটোরিকশার হর্ন বাজছিল। সায়ান সিগারেটের শেষ টান দিল। ধোঁয়া উঠে মিশে গেল অন্ধকারে। তার চোখ দুটো তাকিয়ে আছে রাস্তার দিকে, কিন্তু মন পুরোপুরি অন্য জায়গায়।
ইরা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল। হাতে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি। সায়ানের পিঠে হাত রাখল। আঙুলের স্পর্শ হালকা, কিন্তু সায়ানের শরীর যেন ঝনঝন করে উঠল। সে ঘুরে তাকাল। ইরার চোখে সেই পুরনো টান। যে টান দেখলে সায়ানের বুকের ভিতরটা শক্ত হয়ে যায়।
“কী ভাবছ?” ইরা জিজ্ঞেস করল। গলাটা নরম, কিন্তু ভিতরে একটু চাপা অভিমান।
সায়ান উত্তর দিল না। শুধু সিগারেটটা নিভিয়ে অ্যাশট্রেতে ফেলল। ইরা জানে, এই নীরবতা মানেই ঝগড়া শুরু হতে চলেছে। ছোটখাটো কোনো কথা থেকেই এমন হয়। আজ সকালে অফিস থেকে ফোন করেছিল ইরা। সায়ান মিটিংয়ে ছিল, কথা বলতে পারেনি। ইরা ভেবেছিল সে ইগনোর করছে। তারপর সারাদিন কেউ কারো সঙ্গে কথা বলেনি। এখন সন্ধ্যা। দুজনেই বাড়িতে। কিন্তু দূরত্বটা যেন আরও বেড়ে গেছে।
ইরা গ্লাসটা টেবিলে রাখল। তারপর সায়ানের কাছে গিয়ে বসল। পা দুটো মুড়ে, হাঁটু সামান্য ছুঁয়ে আছে সায়ানের উরুর সঙ্গে। গরম। শরীরের গরম।
“বলো না কিছু,” ইরা ফিসফিস করে বলল। “এভাবে চুপ করে থাকলে আমার আর সহ্য হয় না।”
সায়ান তাকাল। ইরার ঠোঁট সামান্য ফাঁকা। গলায় ছোট একটা লocket ঝুলছে, যেটা সায়ানই কিনে দিয়েছিল কয়েক মাস আগে। সেই লocket-এর চেইন ইরার গলার চামড়ায় হালকা দাগ কেটে রেখেছে। সায়ানের চোখ সেখানে আটকে গেল। তারপর নিচে নামল। ইরার কুর্তার বোতাম খোলা। একটুখানি চামড়া দেখা যাচ্ছে।
“তুমি সকালে ফোন করেছিলে,” সায়ান অবশেষে বলল। গলাটা শুকনো। “আমি ব্যস্ত ছিলাম।”
“জানি।” ইরা চোখ নামিয়ে নিল। “কিন্তু একটা মেসেজও পাঠাতে পারতে। আমি সারাদিন অপেক্ষা করেছি।”
সায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই জায়গায় এসেই সে আটকে যায়। কথা বলতে চায়, কিন্তু গলায় যেন কিছু আটকে থাকে। ইরা অপেক্ষা করে। অপেক্ষা করে করে ক্লান্ত হয়ে যায়। তারপর দূরে সরে যায়। আজও সেই একই ছক।
ইরা হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। “ঠিক আছে। তুমি কথা বলতে চাও না। আমিও চাই না।” সে ঘরে ঢুকে গেল। দরজাটা জোরে বন্ধ করল না, কিন্তু শব্দটা সায়ানের কানে লাগল।
সায়ান বারান্দায় বসে রইল। মনে মনে নিজেকে গালি দিল। ইরাকে সে ভালোবাসে। প্রচণ্ড ভালোবাসে। কিন্তু ভালোবাসার সঙ্গে সঙ্গে এই টানাপোড়েনটাও আছে। ইরার অভিমান, সায়ানের নীরবতা—দুটো মিলেমিশে একটা অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে ফেলে। দেয়ালের ওপারে দুজনেই দাঁড়িয়ে থাকে। একে অপরকে চায়, কিন্তু হাত বাড়ায় না।
কিছুক্ষণ পর সায়ান উঠে ঘরে ঢুকল। ইরা বিছানায় শুয়ে আছে। মুখ দেয়ালের দিকে। আলো নেই, শুধু জানালা দিয়ে বাইরের রাস্তার আলো এসে পড়েছে। সায়ান ধীরে ধীরে বিছানায় বসল। ইরার পিঠে হাত রাখল। আঙুল দিয়ে তার চুল সরিয়ে নিল। গলার পেছনের চামড়া নরম। সায়ান নুয়ে পড়ে সেখানে ঠোঁট ছোঁয়াল।
ইরা কেঁপে উঠল। কিন্তু মুখ ফেরাল না।
সায়ান আরেকটু নুয়ে গেল। ঠোঁট দিয়ে ইরার কানের নিচে চুমু খেল। তারপর গলায়। ইরার শরীর শক্ত হয়ে গেল, তারপর আস্তে আস্তে নরম হলো। সায়ানের হাত ইরার কোমর ঘিরে ধরল। আঙুল দিয়ে কুর্তার নিচ দিয়ে ঢুকিয়ে চামড়ায় স্পর্শ করল। গরম। মসৃণ।
“তুমি আমাকে পাগল করো,” সায়ান ফিসফিস করে বলল। গলায় গভীরতা। “আমি কথা বলতে পারি না। কিন্তু তোমাকে ছাড়া থাকতেও পারি না।”
ইরা অবশেষে ঘুরে তাকাল। চোখে জল নেই, কিন্তু একটা গভীর ক্ষোভ আর আকাঙ্ক্ষা মিশে আছে। “তাহলে কেন এমন করো? কেন আমাকে একা ফেলে রাখো?”
সায়ান উত্তর দিল না। উত্তরের বদলে ইরার ঠোঁটে ঠোঁট রাখল। চুমুটা প্রথমে হালকা। তারপর গভীর হলো। ইরার ঠোঁট নরম, সামান্য নোনতা। সায়ান জিভ ঢোকাল। ইরাও সাড়া দিল। হাত দিয়ে সায়ানের ঘাড় চেপে ধরল। আঙুল দিয়ে চুল মুঠো করে টানল। ব্যথা লাগল, কিন্তু সায়ান আরও কাছে গেল।
দুজনের শরীর জড়িয়ে গেল। সায়ানের হাত ইরার কুর্তা উপরে তুলল। পেটের চামড়ায় হাত বুলোল। ইরার শ্বাস দ্রুত হলো। সায়ান কুর্তাটা পুরোপুরি খুলে ফেলল। ইরার বুকের ওপর ঠোঁট রাখল। জিভ দিয়ে স্তনের বোঁটা চেটে নিল। ইরা আওয়াজ করে উঠল। গলাটা ভেঙে গেল।
“সায়ান…” ইরার কণ্ঠস্বর কাঁপছে।
সায়ান থামল না। অন্য হাত দিয়ে ইরার স্কার্টের নিচে ঢোকাল। উরুর ভিতরের দিকে আঙুল বুলোল। ইরার শরীর কেঁপে উঠল। সায়ান আঙুল আরও উপরে নিয়ে গেল। প্যান্টির কাপড় সরিয়ে নরম জায়গায় স্পর্শ করল। ভিজে। গরম।
ইরা পা দুটো আরও খুলে দিল। সায়ানের আঙুল ভিতরে ঢুকল। ধীরে ধীরে নড়াচড়া করল। ইরার কোমর উঠে এল। সায়ান আরেকটা আঙুল ঢোকাল। ইরার শ্বাস আরও দ্রুত। চোখ বন্ধ করে আছে। ঠোঁট কামড়ে ধরেছে।
সায়ান নিজের জামা খুলে ফেলল। তারপর ইরার প্যান্টি নামিয়ে দিল। দুজনের শরীর একেবারে নগ্ন। সায়ান ইরার দুই পায়ের মাঝখানে গিয়ে বসল। উত্তেজিত লিঙ্গ দিয়ে ইরার ভেজা জায়গায় ঘষল। ইরা কোমর তুলে ধরল। সায়ান ধীরে ধীরে ভিতরে ঢুকল। গভীর পর্যন্ত।
দুজনেই থমকে গেল। শুধু শ্বাসের শব্দ। তারপর সায়ান নড়াচড়া শুরু করল। প্রথমে ধীরে। তারপর দ্রুত। ইরার নখ সায়ানের পিঠে বিঁধে গেল। ব্যথা লাগল, কিন্তু সায়ান থামল না। আরও জোরে ধাক্কা দিল। বিছানার মাথায় ইরার মাথা ঠুকে যাচ্ছিল। সায়ান এক হাত দিয়ে ইরার মাথা চেপে ধরল। অন্য হাত দিয়ে তার কোমর তুলে ধরল।
“আরও…” ইরা ফিসফিস করল। “আরও গভীরে…”
সায়ান চাহিদা মেটাল। শরীরের প্রতিটা অংশ জড়িয়ে ধরে আছড়ে পড়ল। ঘাম বেয়ে পড়ছে। ঘরের বাতাস গরম হয়ে উঠেছে। বাইরে রাস্তার শব্দ মিলিয়ে গেছে। শুধু দুজনের শ্বাস আর শরীরের সংঘর্ষের শব্দ।
ইরা হঠাৎ শক্ত হয়ে গেল। শরীর কেঁপে উঠল। সায়ানও তার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হলো। গভীর পর্যন্ত। দুজনে জড়িয়ে পড়ল। শ্বাস ফেলতে ফেলতে।
কিছুক্ষণ কেউ কথা বলল না। সায়ান ইরার চুল সরিয়ে চুমু খেল। কপালে। গালে। ঠোঁটে।
ইরা চোখ খুলল। “এভাবে কি চলবে?” তার গলায় ক্লান্তি। “রাতে শরীর মিলে যায়। সকালে আবার দূরত্ব।”
সায়ান চুপ করে রইল। ইরার কথা সত্যি। এই টানটা প্রচণ্ড। শরীরের টান। মনের টান। কিন্তু স্বভাবের বিপরীতমুখী স্রোত। সায়ান কথা বন্ধ করে দেয়। ইরা অভিমান করে সরে যায়। কেউ নিজের ভুল স্বীকার করে না। আজও হয়নি।
সায়ান ইরাকে বুকে জড়িয়ে ধরল। “আমি চেষ্টা করব,” সে ফিসফিস করে বলল। “কথা বলার চেষ্টা করব।”
ইরা কিছু বলল না। শুধু আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। দুজনের শরীর এখনও গরম। ঘাম মেশানো। কিন্তু মনের ভিতরে সেই পুরনো প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে। এই অনুভূতি কি যথেষ্ট? শুধু চাওয়া কি যথেষ্ট কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য?
বাইরে রাত গভীর হচ্ছিল। অ্যাপার্টমেন্টের জানালা দিয়ে ঢোকা আলোতে দুজনের মুখ দেখা যাচ্ছিল। সায়ানের চোখে একটা ক্লান্তি। ইরার চোখে একটা অপেক্ষা। দুজনেই জানে, আগামীকাল আবার সকাল হবে। আবার হয়তো কোনো ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি হবে। আবার নীরবতা। আবার অভিমান।
কিন্তু আজ রাতে তারা একে অপরের কাছে আছে। শরীর মিশে আছে। শ্বাস মিশে আছে। এই মুহূর্তটুকু অন্তত তাদের।
সায়ান ইরার কপালে আরেকটা চুমু দিল। “ঘুমাও,” সে বলল।
ইরা চোখ বন্ধ করল। কিন্তু ঘুম আসছিল না। মনে মনে সে ভাবছিল, কতদিন এভাবে চলবে। কতদিন শুধু অনুভূতির ওপর ভরসা করে টিকে থাকবে এই সম্পর্ক। সায়ানও জেগে আছে। তার হাত ইরার পিঠে বুলোচ্ছে। আঙুলের স্পর্শে ইরার শরীর আবার কেঁপে উঠছে। কিন্তু কেউ আর কথা বলছে না।
রাত পুরোপুরি নেমে এসেছে। ঢাকার এই ছোট অ্যাপার্টমেন্টে দুজন মানুষ জড়িয়ে আছে। প্রচণ্ড টান নিয়ে। প্রচণ্ড দূরত্ব নিয়ে। আর মাঝখানে সেই একটা প্রশ্ন—শুধু অনুভূতি কি যথেষ্ট?
সকালের আলো জানালা দিয়ে ঢুকে পড়েছিল। সায়ান চোখ খুলল। ইরা এখনও তার বুকের ওপর মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে। চুলগুলো এলোমেলো, গালে একটু লাল দাগ। রাতের ঘাম শুকিয়ে গেছে, কিন্তু শরীরের গন্ধ এখনও মিশে আছে চাদরে। সায়ান আঙুল দিয়ে ইরার চুল সরিয়ে দিল। ঠোঁট দিয়ে কপালে হালকা চুমু খেল।
ইরা নড়ে উঠল। চোখ খুলে সায়ানের দিকে তাকাল। কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ। তারপর হাসল। সেই হাসিটা দেখলে সায়ানের বুকের ভিতরটা গলে যায়।
“সকাল হয়ে গেছে,” ইরা ফিসফিস করে বলল।
“হ্যাঁ।” সায়ান তার কোমর জড়িয়ে ধরল। “অফিস যেতে হবে।”
ইরা মুখ গোমড়া করল। “আজ ছুটি নাও। একদিন।”
সায়ান চুপ করে রইল। সে জানে, একদিন ছুটি নিলেও সমস্যার সমাধান হবে না। কিন্তু ইরার চোখে সেই আকুলতা দেখে না বলতে পারল না। “ঠিক আছে। আজ থাকি।”
ইরা উঠে বসল। চাদরটা সামান্য সরে গেল। বুকের ওপরের চামড়া দেখা যাচ্ছে। সায়ানের চোখ সেখানে আটকে গেল। ইরা লক্ষ্য করল। হাসি দিয়ে চাদরটা আরও সরিয়ে দিল।
“দেখছ কী?” ইরার গলায় খেলা।
সায়ান উত্তর দিল না। হাত বাড়িয়ে ইরার বুকে স্পর্শ করল। আঙুল দিয়ে স্তনের বোঁটা ঘষল। ইরা শ্বাস টেনে নিল। সায়ান উঠে বসে ইরাকে টানে কাছে নিয়ে এল। ঠোঁটে ঠোঁট রাখল। চুমুটা গভীর। জিভ ঢুকিয়ে ইরার মুখের ভিতর ঘুরল। ইরাও সাড়া দিল। হাত দিয়ে সায়ানের চুল মুঠো করল।
দুজনে আবার বিছানায় পড়ে গেল। সায়ান ইরার গলায় চুমু খেল। তারপর বুকে। জিভ দিয়ে স্তন চেটে নিল। ইরার শরীর কেঁপে উঠল। সায়ান আরও নিচে নামল। পেটের চামড়ায় ঠোঁট বুলোল। নাভি ঘিরে জিভ ঘোরাল। ইরা কোমর তুলে ধরল।
সায়ান ইরার দুই পা আলাদা করে দিল। মাথা নামিয়ে ভেজা জায়গায় মুখ রাখল। জিভ দিয়ে চেটে নিল। ইরা আওয়াজ করে উঠল। হাত দিয়ে সায়ানের মাথা চেপে ধরল। সায়ান থামল না। জিভ আরও গভীরে ঢোকাল। চুষল। ইরার উরু কাঁপছে। শ্বাস দ্রুত।
“সায়ান… আর সহ্য হচ্ছে না…” ইরার গলা ভেঙে যাচ্ছে।
সায়ান উঠে এল। নিজের লিঙ্গটা ইরার ভেজা মুখে ছুঁইয়ে দিল। ইরা মুখ খুলে নিল। ঠোঁট দিয়ে ঘিরে ধরে চুষতে শুরু করল। সায়ানের চোখ বন্ধ হয়ে গেল। হাত দিয়ে ইরার চুল ধরে রাখল। ধীরে ধীরে কোমর নড়াচড়া করল। ইরার গলায় ঢুকিয়ে দিল। ইরা চোখ তুলে তাকাল। চোখে জল, কিন্তু থামল না।
সায়ান সরে গিয়ে ইরাকে উপুড় করে শোয়াল। পেছন থেকে ভিতরে ঢুকল। এক ধাক্কায় গভীর পর্যন্ত। ইরা বালিশে মুখ গুঁজে আওয়াজ করল। সায়ান কোমর চেপে ধরে জোরে জোরে ধাক্কা দিতে লাগল। শরীরের শব্দ ঘরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ঘাম বেয়ে পড়ছে। ইরার পিঠে সায়ানের হাত বুলোচ্ছে। আঙুল দিয়ে মেরুদণ্ড ঘষছে।
“জোরে…” ইরা বলল। “আরও জোরে…”
সায়ান চাহিদা মেটাল। আরও গভীর। আরও দ্রুত। ইরার শরীর শক্ত হয়ে গেল। কেঁপে উঠল। সায়ানও তার সঙ্গে শেষ হলো। গভীরে। দুজনে পড়ে রইল। শ্বাস ফেলতে ফেলতে।
কিছুক্ষণ পর ইরা ঘুরে তাকাল। “এভাবে প্রতিদিন হলে ভালো হতো।”
সায়ান হাসল। কিন্তু হাসিটা পুরোপুরি পৌঁছাল না চোখে। “প্রতিদিন সম্ভব না।”
ইরা উঠে বসল। চাদর জড়িয়ে নিল। “কেন? তুমি কি আমাকে শুধু রাতে চাও?”
সায়ানের মুখ শক্ত হয়ে গেল। “এমন কথা বলো না।”
“তাহলে বলো। সকালে যখন ফোন করি, তখন কেন জবাব দাও না? কেন মেসেজও পাঠাও না?” ইরার গলায় অভিমান ফিরে এসেছে।
সায়ান উঠে দাঁড়াল। জামা খুঁজতে লাগল। “আমি ব্যস্ত থাকি। তুমি জানো।”
“ব্যস্ত। সবসময় ব্যস্ত।” ইরা বিছানা থেকে নেমে এল। “আর আমি? আমি কি শুধু অপেক্ষা করার জন্য আছি?”
সায়ান ঘুরে তাকাল। “তুমিও তো অফিস করো। তোমারও কাজ আছে।”
“আমার কাজ আছে বলে আমি তোমাকে ভুলে যাই না।” ইরা কাছে এল। “তুমি কথা বন্ধ করে দাও। আমি অভিমান করি। তারপর রাতে শরীর মিলাও। সকালে আবার একই জিনিস। এভাবে কতদিন চলবে?”
সায়ান চুপ করে রইল। এই জায়গায় এসেই সে আটকে যায়। কথা খুঁজে পায় না। ইরা অপেক্ষা করে। অপেক্ষা করে ক্লান্ত হয়। তারপর দূরে সরে যায়।
ইরা জামা পরে নিল। “আমি রান্না করছি। খেতে চাইলে এসো।” সে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।
সায়ান বিছানায় বসে রইল। মাথায় হাত দিল। সে জানে ইরা ঠিকই বলছে। কিন্তু স্বীকার করতে গেলে যেন নিজের দুর্বলতা প্রকাশ হয়ে যায়। সায়ান ছোটবেলা থেকেই এমন। সমস্যা হলে চুপ করে যায়। কথা বলে না। ইরা তার উল্টো। কথা বলে, অভিমান করে, দূরে সরে যায়। দুজনের স্বভাব মিলে না। কিন্তু শরীরের টানটা প্রচণ্ড। মনের টানটাও।
সায়ান উঠে রান্নাঘরে গেল। ইরা ডিম ভাজছে। পিঠ তার দিকে। সায়ান পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। গলায় চুমু খেল।
“রাগ করেছ?” সায়ান ফিসফিস করে বলল।
ইরা মাথা নেড়ে জবাব দিল না। সায়ান আরও শক্ত করে জড়াল। হাত দিয়ে ইরার পেট ছুঁল। “আমি চেষ্টা করব। কথা বলার চেষ্টা করব।”
ইরা চুলা বন্ধ করল। ঘুরে তাকাল। চোখে জল। “চেষ্টা করবে বলে প্রতিবার বলো। তারপর আবার একই কাজ করো।”
সায়ান ইরার গালে হাত রাখল। “আজ সারাদিন তোমার সঙ্গে থাকব। কোনো অফিস নেই। কোনো ফোন নেই। শুধু আমরা।”
ইরা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর মাথা নামিয়ে সায়ানের বুকে মুখ রাখল। “ঠিক আছে। আজ থাকো।”
দুজনে সকালের নাস্তা করল। কথা কম। কিন্তু নীরবতাটা আর ভারী লাগছে না। সায়ান ইরার হাত ধরে রেখেছে। আঙুলের ফাঁকে আঙুল। ছোট স্পর্শ, কিন্তু গভীর।
দুপুরে তারা বারান্দায় বসল। গরম হাওয়া বইছে। দূরে ট্রাফিকের শব্দ। সায়ান ইরার মাথা নিজের কাঁধে রাখতে দিল। ইরা চোখ বন্ধ করে আছে। সায়ান তার চুলে হাত বুলোচ্ছে।
“তুমি কি কখনো ভেবেছ,” ইরা হঠাৎ বলল, “আমরা একে অপরকে এত চাই, অথচ একসঙ্গে থাকলেই কষ্ট পাই?”
সায়ান চুপ করে রইল। ইরার মাথায় চুমু খেল। “ভাবি। প্রায়ই ভাবি।”
“তাহলে কী করব?” ইরার গলা কাঁপছে। “শুধু অনুভূতি দিয়ে কি টিকে থাকা যায়?”
সায়ান উত্তর খুঁজছিল। কিন্তু উত্তর পাচ্ছিল না। সে শুধু ইরাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। “আজকের দিনটা অন্তত নষ্ট করি না। কালের কথা কাল ভাবা যাবে।”
ইরা মাথা তুলে তাকাল। চোখে সেই পুরনো টান। সায়ান নুয়ে পড়ে ঠোঁটে চুমু খেল। চুমুটা ধীরে। গভীর। ইরা সায়ানের ঘাড়ে হাত রাখল। দুজনে উঠে ঘরে ঢুকল।
এবার তাড়াহুড়ো নেই। সায়ান ইরার জামা একটা একটা করে খুলল। প্রতিটা বোতামে চুমু। ইরার শরীর আবার গরম হয়ে উঠল। সায়ান তাকে বিছানায় শোয়াল। নিজেও জামা খুলল। দুজনের নগ্ন শরীর পাশাপাশি। সায়ান ইরার পুরো শরীরে ঠোঁট বুলোল। গলা। বুক। পেট। উরু। ইরা কেঁপে উঠছে। সায়ান আবার তার দুই পার মাঝখানে মুখ রাখল। জিভ দিয়ে আস্তে আস্তে চাটল। ইরার আঙুল চাদর মুঠো করল।
সায়ান উঠে এসে ইরার ওপর শুয়ে পড়ল। ভিতরে ঢুকল। ধীরে। গভীর। চোখে চোখ রেখে নড়াচড়া করল। ইরার হাত সায়ানের পিঠে বুলোচ্ছে। নখ দিয়ে আঁচড় কাটছে। সায়ান কোমর তুলে আরও গভীরে গেল। ইরার পা সায়ানের কোমর জড়িয়ে ধরল। দুজনে একসঙ্গে শ্বাস ফেলছে। একসঙ্গে কাঁপছে।
শেষের দিকে সায়ানের গতি বেড়ে গেল। ইরা চোখ বন্ধ করে আওয়াজ করল। সায়ানও গভীরে শেষ হলো। দুজনে জড়িয়ে পড়ল। ঘাম মেশানো শরীর।
সায়ান ইরার কানে ফিসফিস করল। “আমি তোমাকে হারাতে চাই না।”
ইরা চোখ খুলল। “তাহলে হারাবে না। কিন্তু শুধু শরীর দিয়ে রাখা যায় না। কথাও লাগে। স্বীকারও লাগে।”
সায়ান চুপ করে রইল। ইরার কথাগুলো তার মনে গেঁথে যাচ্ছে। সে জানে, আজকের এই শান্তিটা অস্থায়ী। কাল আবার হয়তো কোনো ছোট ভুল বোঝাবুঝি হবে। আবার নীরবতা। আবার অভিমান। কিন্তু আজ অন্তত তারা একে অপরের কাছে আছে। শরীর মিশে আছে। শ্বাস মিশে আছে।
বিকেলের আলো জানালা দিয়ে এসে পড়েছে। দুজনে এখনও জড়িয়ে আছে। কেউ কথা বলছে না। কিন্তু নীরবতাটা এবার ভারী নয়। একটু হালকা। একটু আশা নিয়ে।
সায়ান ইরার চুলে হাত বুলোচ্ছে। মনে মনে সে প্রতিজ্ঞা করছে। কথা বলবে। চেষ্টা করবে। কিন্তু মনের গভীরে সেই প্রশ্নটা এখনও ঘুরপাক খাচ্ছে—শুধু অনুভূতি কি যথেষ্ট কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য?
পরের দিন সকালে সায়ান অফিস গেল। ইরাও বেরিয়ে পড়ল। দুজনেই চেষ্টা করছিল স্বাভাবিক থাকার। সায়ান মনে মনে নিজেকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল—কথা বলতে হবে। মেসেজ দিতে হবে। ইরাও নিজেকে বলছিল—অভিমান কম করতে হবে। একটু সহ্য করতে হবে।
দুপুরের দিকে ইরা ফোন করল। সায়ান ব্যস্ত ছিল। মিটিং চলছিল। ফোন কেটে দিল। ইরা অপেক্ষা করল। পাঁচ মিনিট। দশ মিনিট। কোনো মেসেজ এল না। ইরার বুকে সেই পুরনো চাপটা ফিরে এল। সে ফোনটা সাইলেন্ট করে টেবিলে রাখল। কাজ করতে গেল। কিন্তু মন অন্য জায়গায়।
সায়ান মিটিং শেষ করে ফোন দেখল। ইরার মিসড কল। সে মেসেজ টাইপ করতে গেল। “মিটিং ছিল। এখন ফ্রি।” কিন্তু পাঠাল না। মুছে দিল। আবার টাইপ করল। আবার মুছে দিল। শেষ পর্যন্ত কিছুই পাঠাল না। অফিস থেকে বেরোনোর সময় ইরাকে ফোন করল। ব্যস্ত লাগল। কেউ ধরল না।
সন্ধ্যায় দুজনে বাড়ি ফিরল। দরজা খুলে ইরা দেখল সায়ান ইতিমধ্যে এসে গেছে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে। ইরা জামা খুলে ভিতরে ঢুকল। কথা বলল না। সায়ানও কিছু বলল না।
রাতের খাবার টেবিলে বসল দুজনে। চামচের শব্দ ছাড়া আর কিছু নেই। ইরা হঠাৎ থামল। “তুমি দুপুরে ফোন কেটে দিয়েছিলে।”
সায়ান মাথা তুলল। “মিটিং ছিল।”
“মিটিং শেষে মেসেজ দিতে পারতে।” ইরার গলা শান্ত, কিন্তু ভিতরে আগুন। “আমি অপেক্ষা করেছি।”
সায়ান চামচ রাখল। “আমি চেষ্টা করেছিলাম। পাঠাতে পারিনি।”
“কেন?” ইরা তাকাল। “কী এমন কঠিন?”
সায়ান উত্তর খুঁজছিল। গলায় কথা আটকে যাচ্ছিল। “আমি… জানি না। হয়ে যায়।”
ইরা উঠে দাঁড়াল। “হয়ে যায়। সবসময় হয়ে যায়। তুমি কথা বন্ধ করো। আমি দূরে সরে যাই। তারপর রাতে শরীর মিলাও। সকালে আবার একই। এভাবে আর পারছি না, সায়ান।”
সায়ানও উঠল। “তুমিও তো সহজ না। একটু অপেক্ষা করতে পারো না। সঙ্গে সঙ্গে অভিমান।”
“কারণ আমি ভয় পাই।” ইরার চোখে জল। “ভয় পাই তুমি আমাকে ছেড়ে দিচ্ছো। নীরবতা মানেই দূরত্ব আমার কাছে।”
সায়ান কাছে গেল। হাত বাড়াল। ইরা সরে গেল। “আজ নয়। আজ শরীর দিয়ে মিটিয়ে নেবে না।”
সায়ানের হাত থেমে গেল। সে দাঁড়িয়ে রইল। ইরা ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করল। সায়ান বারান্দায় গিয়ে বসল। সিগারেট জ্বালাল। ধোঁয়া উঠছে। মনে পড়ছে গতকালের কথা। ইরার শরীর। ইরার শ্বাস। ইরার কথা—“শুধু অনুভূতি দিয়ে কি টিকে থাকা যায়?”
রাত গভীর হলো। সায়ান ঘরে ঢুকল। ইরা বিছানায় শুয়ে আছে। মুখ অন্য দিকে। সায়ান পাশে শুইল। হাত বাড়িয়ে ইরার কোমর ছুঁতে গেল। ইরা সরে গেল।
“আমাকে ছুঁয়ো না,” ইরা ফিসফিস করল।
সায়ান হাত তুলে নিল। চোখ বন্ধ করল। কিন্তু ঘুম এল না। ইরার শ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে। এত কাছে, অথচ এত দূরে।
ভোরের দিকে সায়ান উঠে বসল। ইরা এখনও ঘুমাচ্ছে। সায়ান তাকিয়ে রইল। ইরার চুল এলোমেলো। গালে হালকা দাগ। সে নুয়ে পড়ে কপালে চুমু খেল। ইরা নড়ে উঠল। চোখ খুলল।
“ক্ষমা চাই,” সায়ান বলল। গলাটা শুকনো। “আমি ভুল করেছি। কথা বলতে পারিনি। মেসেজ দিতে পারিনি। আমি… ভয় পাই। কথা বললে মনে হয় সব ভেঙে যাবে। তাই চুপ করে যাই।”
ইরা উঠে বসল। চাদর জড়িয়ে। চোখে অবাক দৃষ্টি। সায়ান এভাবে আগে কখনো বলেনি।
“আমিও ভুল করেছি,” ইরা বলল। “অভিমান করে দূরে সরে যাই। তোমাকে জানতেই দিই না কী চাই। শুধু অপেক্ষা করি আর রাগ করি।”
দুজনে চুপ করে তাকিয়ে রইল। সায়ান হাত বাড়াল। এবার ইরা সরে গেল না। হাত ধরল। আঙুলের ফাঁকে আঙুল।
“আমরা একে অপরকে চাই,” সায়ান বলল। “প্রচণ্ড চাই। কিন্তু চাওয়াটাই কি যথেষ্ট? নাকি আরও কিছু লাগে?”
ইরা কাছে সরে এল। “লাগে। কথা লাগে। স্বীকার লাগে। চেষ্টা লাগে। শুধু অনুভূতি দিয়ে টিকে থাকা যায় না। অনুভূতি থাকে, কিন্তু সম্পর্ক ভাঙে।”
সায়ান ইরাকে টানে কাছে নিয়ে এল। ঠোঁটে ঠোঁট রাখল। চুমুটা আস্তে। গভীর। ইরা সায়ানের ঘাড়ে হাত রাখল। দুজনে বিছানায় পড়ে গেল। এবার তাড়াহুড়ো নেই। রাগ নেই। শুধু একটা নতুন বোঝাপড়া।
সায়ান ইরার জামা খুলল। ধীরে। প্রতিটা স্পর্শে যত্ন। ইরার গলায় চুমু। বুকে। পেটে। ইরা শ্বাস টেনে নিচ্ছে। সায়ান তার দুই পা আলাদা করে মুখ রাখল। জিভ দিয়ে আস্তে আস্তে চাটল। ইরার আঙুল সায়ানের চুলে মুঠো হলো। সায়ান চুষল। ইরার কোমর উঠে এল।
সায়ান উঠে এসে ইরার ওপর শুয়ে পড়ল। চোখে চোখ রেখে ভিতরে ঢুকল। ধীরে। গভীর। ইরার পা তার কোমর জড়িয়ে ধরল। সায়ান নড়াচড়া করল। প্রতিটা ধাক্কায় ইরার শ্বাস মিশে যাচ্ছে। হাত দিয়ে ইরার মুখ ছুঁয়ে দিল। ইরা চোখ বন্ধ করে আছে। ঠোঁট কামড়ে ধরেছে।
“খোলো চোখ,” সায়ান ফিসফিস করল।
ইরা চোখ খুলল। দুজনে তাকিয়ে রইল। সায়ানের গতি বাড়ল। ইরার নখ তার পিঠে বিঁধল। ঘাম বেয়ে পড়ছে। শরীরের শব্দ ঘরে ভরে উঠেছে। ইরা হঠাৎ শক্ত হয়ে গেল। কেঁপে উঠল। সায়ানও গভীরে শেষ হলো। দুজনে জড়িয়ে পড়ল।
কিছুক্ষণ কেউ কথা বলল না। শুধু শ্বাস। সায়ান ইরার চুলে হাত বুলোল। “আমরা চেষ্টা করব। প্রতিদিন। কথা বলব। স্বীকার করব। দূরে সরে যাব না।”
ইরা মাথা তুলে তাকাল। “হ্যাঁ। চেষ্টা করব। শুধু অনুভূতি নয়। অনুভূতির সঙ্গে দায়িত্বও।”
সায়ান চুমু খেল। কপালে। গালে। ঠোঁটে। “সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে শুধু অনুভূতি যথেষ্ট নয়। কিন্তু অনুভূতি ছাড়াও কিছুই হয় না। দুটোই লাগে।”
ইরা হাসল। সেই হাসিটা দেখে সায়ানের বুক হালকা হয়ে গেল। বাইরে সকালের আলো জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ছে। গরম হাওয়া বইছে। কোনো বৃষ্টি নেই। শুধু দুজন মানুষ। যারা একে অপরকে চায়। আর এবার চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাখার চেষ্টাও করবে বলে স্থির করেছে।
সায়ান ইরাকে বুকে জড়িয়ে ধরল। ইরাও জড়াল। দুজনের শরীর এখনও গরম। মন এখন একটু হালকা। প্রশ্নটার উত্তর তারা পেয়েছে। অনুভূতি যথেষ্ট নয়। কিন্তু অনুভূতি আর চেষ্টা একসঙ্গে থাকলে হয়তো যথেষ্ট হয়ে ওঠে।
....