আরিয়ান আর নয়নাকে প্রথম দেখেছিল কফি শপে। সেদিন বৃষ্টি পড়ছিল। নয়না একা বসে ছিল জানালার পাশে, হাতে এক কাপ ল্যাটে। আরিয়ান ঢুকেই দেখল তাকে। চোখে চোখ পড়তেই নয়না একটু হাসল। সেই হাসিটাই আরিয়ানকে আটকে দিল।
আরিয়ান ছিল একজন সফল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বয়স ২৮। অফিসের সবাই তাকে “পারফেক্ট গাই” বলে ডাকত। কিন্তু বাস্তবে সে একা। মা-বাবা চাপ দিত বিয়ে করার জন্য। আরিয়ান সেই চাপ এড়াতে একটা সিদ্ধান্ত নিল—একটা ভুয়ো সম্পর্ক শুরু করবে। কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, বলবে “আমার গার্লফ্রেন্ড আছে”। তাতে কিছুদিন হয়তো শান্তি পাবে।
নয়না ছিল একজন ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনার। ২৬ বছর বয়স। সেও একই সমস্যায় ভুগতছিল। তার বাবা-মা প্রতিদিন ফোন করে বিয়ের কথা বলত। নয়না তাই ঠিক করল, সেও একটা নকল সম্পর্ক দেখাবে। কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, বলবে “আমার বয়ফ্রেন্ড আছে”।
সেদিন কফি শপে আরিয়ান সাহস করে নয়নার টেবিলে গিয়ে বসল।
“মাফ করবেন, আমি কি আপনার পাশে বসতে পারি?”
নয়না অবাক হয়ে তাকাল। তারপর হাসল।
“বসুন।”
কথা শুরু হল। আরিয়ান বলল সে একাকীত্বে ক্লান্ত। নয়নাও বলল সেও একই অবস্থায় আছে। দুজনেই একই সময়ে একই কথা বলে ফেলল—“আমার একটা ভুয়ো সম্পর্ক দরকার।”
তারা হেসে উঠল।
সেই দিন থেকেই তাদের পরিকল্পনা শুরু হল। তারা সিদ্ধান্ত নিল, তারা একে অপরের ভুয়ো পার্টনার হবে। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবে তারা ডেটিং করছে। কিন্তু আসলে কোনো আবেগ থাকবে না। শুধু শো-অফ।
প্রথম কয়েক সপ্তাহ চলল মজা করে। তারা একসঙ্গে ক্যাফেতে যেত, মুভি দেখত, পার্কে হাঁটত। আরিয়ানের অফিসের বন্ধুরা নয়নাকে দেখে বলত, “ভাই, তোর গার্লফ্রেন্ড তো খুব সুন্দর।” নয়নার বন্ধুরাও আরিয়ানকে দেখে বলত, “ওয়াও, তোর বয়ফ্রেন্ড তো হ্যান্ডসাম।”
দুজনেই খুশি। চাপ কমছে। মা-বাবাও কিছুদিনের জন্য চুপ।
কিন্তু ধীরে ধীরে কিছু পরিবর্তন শুরু হল।
একদিন আরিয়ান অফিস থেকে ফিরে দেখল নয়না তার ফ্ল্যাটে অপেক্ষা করছে। সে একটা কেক নিয়ে এসেছে।
“আজ তোমার জন্মদিন,” নয়না বলল।
আরিয়ান অবাক। সে নিজেই ভুলে গিয়েছিল। নয়না কেক কেটে তার মুখে এক টুকরো দিল। আরিয়ানের চোখে পানি চলে এল। কেউ তার জন্মদিন মনে রাখেনি অনেকদিন।
সেদিন রাতে তারা ছাদে গিয়ে বসল। চাঁদ উঠেছে। নয়না বলল, “আরিয়ান, তুমি জানো? আমি আসলে একা থাকতে ভয় পাই। রাত হলে মনে হয় কেউ নেই।”
আরিয়ান তার হাত ধরল। কিন্তু সাথে সাথে ছেড়ে দিল। মনে মনে বলল, “এটা ভুয়ো। আবেগ আনব না।”
কিন্তু তার হৃদয় শুনল না।
আরেকদিন নয়না অসুস্থ হয়ে পড়ল। জ্বর। আরিয়ান সব কাজ ফেলে তার বাসায় গেল। সারা রাত জেগে তার সেবা করল। ওষুধ খাওয়াল, কপালে কাপড় দিয়ে ঠান্ডা করল। সকালে নয়না চোখ খুলে দেখল আরিয়ান চেয়ারে ঘুমিয়ে আছে। তার হাতে এখনও ঠান্ডা কাপড়।
নয়নার চোখে জল এল। কেউ এভাবে তার দেখাশোনা করেনি।
সেদিন সে আরিয়ানের কপালে হাত রেখে ফিসফিস করে বলল, “ধন্যবাদ।”
আরিয়ান চোখ খুলল। দুজনের চোখে চোখ পড়ল। কিছুক্ষণ কেউ কিছু বলল না। তারপর আরিয়ান উঠে দাঁড়াল।
“আমি চলে যাই। তোমার বিশ্রাম দরকার।”
দরজায় পৌঁছে সে থেমে গেল। পিছন ফিরে তাকাল। নয়না তাকে দেখছিল।
সে মুহূর্তে আরিয়ানের মনে হল, এই সম্পর্ক আর ভুয়ো নেই। কিন্তু সে নিজেকে বোঝাল—না, এটা শুধু সহানুভূতি।
তৃতীয় মাস শেষ হওয়ার আগেই দুজনের পরিবার জানতে পারল। আরিয়ানের মা ফোন করে বলল, “আরিয়ান, তোর গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে আয়। আমরা দেখতে চাই।”
নয়নার বাবাও একই কথা বলল।
তারা বাধ্য হয়ে একসঙ্গে দুই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেল। সবাই খুশি। সবাই বলল, “কী সুন্দর জোড়া।”
বাড়ি ফেরার পথে গাড়িতে নয়না চুপচাপ বসে ছিল। আরিয়ান স্টিয়ারিং ধরে জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?”
নয়না বলল, “আরিয়ান… আমরা কি এভাবেই চালিয়ে যাব? একদিন না একদিন সত্যি বলতে হবে।”
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “হ্যাঁ। একদিন।”
কিন্তু সেই “একদিন” আসতেই চাইছিল না। কারণ দুজনেরই মনে হচ্ছিল, এই ভুয়ো সম্পর্কটাই এখন তাদের একমাত্র সত্য।
সেই রাতে আরিয়ান ঘুমাতে পারল না। নয়নার মুখ তার চোখের সামনে ঘুরছিল। তার হাসি, তার কথা, তার অসুস্থ সময়ের সেই দৃশ্য।
নয়নাও একই অবস্থায় ছিল। সে আরিয়ানের পাঠানো মেসেজগুলো বারবার পড়ছিল।
তারা দুজনেই জানত, কিছু একটা পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু কেউ স্বীকার করতে চাইছিল না।
কারণ স্বীকার করলেই ভুয়ো সম্পর্কটা শেষ হয়ে যাবে। আর তারা ভয় পাচ্ছিল—যদি সত্যি ভালোবাসা না হয়?
চার মাস পেরিয়ে গেল। আরিয়ান আর নয়নার ভুয়ো সম্পর্ক এখন সবার কাছে সত্যি মনে হয়। কিন্তু তাদের নিজেদের কাছে এটা এখন আর ভুয়ো নেই। তবুও তারা মুখে বলে, “এটা শুধু শো।”
একদিন অফিসে আরিয়ানের বস তাকে ডাকল।
“আরিয়ান, তোমাকে দুই সপ্তাহের জন্য সিঙ্গাপুর যেতে হবে। একটা প্রজেক্ট।”
আরিয়ান রাজি হল। বাড়ি ফিরে নয়নাকে বলল।
নয়না চুপ করে গেল। তারপর বলল, “তুমি যাও। আমি ঠিক আছি।”
কিন্তু তার চোখে জল দেখা যাচ্ছিল।
আরিয়ান সিঙ্গাপুরে গেল। প্রথম কয়েকদিন ব্যস্ততায় কেটে গেল। কিন্তু রাতে একা হলে নয়নার কথা মনে পড়ত। সে ফোন করত। নয়নাও ফোন ধরত। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলত। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে। কফি শপের কথা, বৃষ্টির কথা, সেই প্রথম দিনের কথা।
এক রাতে আরিয়ান বলল, “নয়না, তুমি জানো? আমি এখানে একা থাকতে পারছি না। তোমার কথা মনে পড়ে।”
নয়না অন্য প্রান্তে চুপ করে গেল। তারপর ধীরে বলল, “আমারও।”
সেই রাত থেকেই তাদের কথোপকথন বদলে গেল। তারা আর “ভুয়ো” শব্দটা ব্যবহার করত না।
আরিয়ান সিঙ্গাপুর থেকে ফিরল। এয়ারপোর্টে নয়না অপেক্ষা করছিল। আরিয়ান তাকে দেখেই দৌড়ে গেল। জড়িয়ে ধরল। মানুষজন তাকিয়ে আছে। কিন্তু তারা কেয়ার করল না।
সেই রাতে তারা নয়নার বাসায় গেল। বৃষ্টি পড়ছে। দুজনে বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিল। আরিয়ান হঠাৎ বলল, “নয়না, আমরা কি এখনও ভুয়ো?”
নয়না তাকাল। তার চোখে ভয় আর আশা দুটোই ছিল।
“আমি জানি না,” সে বলল। “কিন্তু আমি আর ভান করতে পারছি না।”
আরিয়ান তার হাত ধরল। এবার আর ছাড়ল না।
“আমিও পারছি না।”
তারা প্রথমবার চুমু খেল। সেই চুমুতে কোনো ভান ছিল না। শুধু সত্য।
কিন্তু পরের দিনই সমস্যা শুরু হল।
আরিয়ানের মা ফোন করে বলল, “আরিয়ান, আমরা নয়নাকে পছন্দ করেছি। এবার বিয়ের কথা ঠিক কর।”
নয়নার বাবাও একই কথা বলল।
দুজনে আতঙ্কিত। তারা এখনও নিজেদের কাছে স্বীকার করেনি যে এটা সত্যি প্রেম। তারা ভয় পাচ্ছিল—যদি এটা শুধু একা থাকার ভয় থেকে জন্ম নেওয়া অনুভূতি হয়?
এক সপ্তাহ পর নয়নার এক পুরনো বন্ধু এল শহরে। নাম রাহুল। রাহুল একসময় নয়নাকে ভালোবাসত। সে নয়নাকে দেখে বলল, “তুমি কি সত্যিই এই আরিয়ানের সঙ্গে আছ? নাকি আবার কোনো নাটক?”
নয়না চুপ। রাহুল হাসল।
“আমি জানি তুমি। তুমি কখনো কাউকে সত্যি ভালোবাসোনি। সবসময় ভয় পেয়েছ।”
নয়নার মনে সন্দেহ জেগে গেল। সে আরিয়ানকে এড়িয়ে চলতে শুরু করল। আরিয়ান বুঝতে পারল না কী হচ্ছে।
একদিন আরিয়ান তার বাসায় গেল। নয়না দরজা খুলল না। আরিয়ান ফোন করল। নয়না ধরল না।
শেষে আরিয়ান মেসেজ পাঠাল: “নয়না, আমি জানি না কী হয়েছে। কিন্তু আমি তোমাকে হারাতে চাই না। তুমি যদি চাও, আমরা থামতে পারি। কিন্তু আগে একবার দেখা কর।”
নয়না সেই রাতে এল। বৃষ্টিতে ভিজে। চোখ লাল।
“আরিয়ান,” সে বলল, “আমি ভয় পাচ্ছি। যদি এটা সত্যি না হয়? যদি আমরা শুধু একা থাকার ভয়ে একে অপরকে ধরে রেখে থাকি?”
আরিয়ান তার কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
“আমিও ভয় পাই। কিন্তু আমি জানি একটা জিনিস। সিঙ্গাপুরে থাকার সময় প্রতি রাত আমি তোমার কথা ভেবে কাটিয়েছি। তুমি অসুস্থ থাকার সময় আমি ঘুমাইনি। তোমার হাসি দেখলে আমার মন ভরে যায়। এটা যদি ভুয়ো হয়, তাহলে সত্যি প্রেম কাকে বলে?”
নয়না কাঁদতে কাঁদতে তার বুকে মুখ লুকাল।
“আমি তোমাকে ভালোবাসি,” সে ফিসফিস করে বলল। “কিন্তু আমি ভয় পাই।”
আরিয়ান তার চুল ছুঁয়ে বলল, “ভয় পেও না। আমিও ভালোবাসি। আর এবার আমরা আর ভান করব না।”
সেই রাতে তারা প্রথমবার সত্যি করে একে অপরকে গ্রহণ করল। কোনো শর্ত ছাড়া।
কিন্তু সমস্যা শেষ হয়নি।
পরের সপ্তাহে আরিয়ানের অফিসে একটা বড় সমস্যা হল। প্রজেক্ট ফেইল। আরিয়ানকে দোষ দেওয়া হল। সে ডিপ্রেশনে চলে গেল। নয়না প্রতিদিন তার পাশে থাকত। কিন্তু আরিয়ান একসময় বলল, “তুমি চলে যাও। আমি তোমাকে এই অবস্থায় দেখাতে চাই না।”
নয়না রাগ করে চলে গেল। কিন্তু রাতে ফিরে এল। আরিয়ানকে জড়িয়ে ধরে বলল, “তুমি যখন আমার পাশে ছিলে অসুস্থ সময়, আমি তোমাকে তাড়াইনি। এখন তুমিও আমাকে তাড়াবে না।”
আরিয়ান কেঁদে ফেলল। সেই প্রথম।
দুজনে বুঝল, ভালোবাসা শুধু সুখের সময়ের জিনিস নয়। দুঃখের সময়ও একে অপরকে ধরে রাখতে হয়।
ছয় মাস পেরিয়ে গেল। আরিয়ান আর নয়না এখন আর কাউকে বলত না যে তাদের সম্পর্ক ভুয়ো। কারণ এটা আর ভুয়ো ছিল না।
কিন্তু পরিবারের চাপ বাড়ছিল। দুই পরিবারই বিয়ের কথা বলছিল। আরিয়ান আর নয়না সিদ্ধান্ত নিল, তারা বিয়ে করবে। কিন্তু আগে তারা একটা জিনিস পরিষ্কার করতে চায়।
একদিন তারা দুজনে সমুদ্রের ধারে গেল। সূর্যাস্তের সময়। ঢেউ আসছে যাচ্ছে।
আরিয়ান নয়নার হাত ধরে বলল, “মনে আছে সেই প্রথম দিন? আমরা বলেছিলাম ভুয়ো সম্পর্ক করব।”
নয়না হাসল। “হ্যাঁ। আর দেখ, এখন কী হয়েছে।”
আরিয়ান হাঁটু গেড়ে বসল। পকেট থেকে একটা ছোট বক্স বের করল। ভেতরে একটা সাধারণ সিলভার রিং। দামি নয়। কিন্তু আরিয়ান নিজে বেছে নিয়েছে।
“নয়না, আমি জানি আমরা ভুয়ো দিয়ে শুরু করেছিলাম। কিন্তু এখন আমি সত্যি করে তোমাকে বিয়ে করতে চাই। তুমি কি রাজি?”
নয়নার চোখে জল। সে মাথা নাড়ল।
“হ্যাঁ।”
রিং পরানোর সময় নয়না বলল, “আরিয়ান, একটা কথা। আমরা যদি কখনো ভুলে যাই যে আমরা কীভাবে শুরু করেছিলাম, তখন একে অপরকে মনে করাব। যে ভালোবাসা ভয় থেকে শুরু হলেও, সাহস দিয়ে বেঁচে থাকে।”
বিয়ের আয়োজন শুরু হল। দুই পরিবার খুশি। কিন্তু বিয়ের এক সপ্তাহ আগে একটা ঘটনা ঘটল।
রাহুল আবার এল। সে নয়নাকে একা পেয়ে বলল, “তুমি কি সত্যিই সুখী? নাকি আবার নিজেকে বোকা বানাচ্ছ?”
নয়না শান্ত গলায় বলল, “রাহুল, আমি একসময় ভয় পেতাম। কিন্তু এখন আর পাই না। আরিয়ান আমার ভয়কে ভালোবাসায় বদলে দিয়েছে।”
রাহুল চলে গেল। আর ফিরল না।
বিয়ের দিন এল। আরিয়ান আর নয়না মণ্ডপে দাঁড়াল। পুরোহিত মন্ত্র পড়ছেন। আরিয়ান নয়নার দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি জানো? আমি আজও বিশ্বাস করতে পারি না যে একটা ভুয়ো গল্প এতদূর এসেছে।”
নয়না হাসল। “কারণ এটা আর গল্প নেই। এটা আমাদের জীবন।”
বিয়ে হয়ে গেল। সবাই আশীর্বাদ করল।
এক বছর পরে। আরিয়ান আর নয়না একটা ছোট ফ্ল্যাটে থাকে। নয়না গর্ভবতী। আরিয়ান প্রতিদিন তার পায়ে তেল মাখে। নয়না আরিয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, “মনে আছে সেই কফি শপ?”
আরিয়ান হাসল। “কীভাবে ভুলব? সেখান থেকেই সব শুরু।”
একদিন রাতে নয়না বলল, “আরিয়ান, যদি আমাদের সন্তান কখনো জিজ্ঞেস করে আমরা কীভাবে পরিচিত হলাম, তখন কী বলব?”
আরিয়ান চিন্তা করে বলল, “বলব—আমরা প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম। তাই ভুয়ো সম্পর্ক শুরু করেছিলাম। কিন্তু ভালোবাসা এত শক্তিশালী যে সে ভয়কেও জয় করে ফেলে।”
নয়না তার হাত ধরল। পেটের ওপর রাখল।
“হ্যাঁ। আর আমরা শিখেছি—সত্যি প্রেম কখনো পরিকল্পনা করে আসে না। সে চুপিচুপি এসে হৃদয় দখল করে নেয়।”
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। ঠিক সেই প্রথম দিনের মতো।
আরিয়ান জানালা খুলে বলল, “দেখ, আবার বৃষ্টি।”
নয়না তার পাশে এসে দাঁড়াল। দুজনে বৃষ্টি দেখছে। কোনো কথা নেই। শুধু নীরবতা। আর সেই নীরবতায় ভরপুর ভালোবাসা।
তারা জানে, জীবনে আরও অনেক ঝড় আসবে। অনেক ভয় আসবে। কিন্তু এবার তারা একা নয়।
একটা ভুয়ো সম্পর্ক দিয়ে শুরু হওয়া গল্প আজ সত্যি প্রেমে পরিণত হয়েছে।
আর সেই প্রেম এখন আর কারও প্রমাণের অপেক্ষায় নেই। কারণ তারা নিজেরাই জানে—এটা সত্য।
....