একসঙ্গে চিরকাল থাকব

বৃষ্টি নামছিল কলকাতার উপর। নরম, একটানা। রাস্তার পাশের পুরনো আমগাছগুলো ভিজে চকচক করছিল। অনন্যা জানালার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। তার হাতে এক কাপ চা, কিন্তু চা ঠান্ডা হয়ে গেছে অনেকক্ষণ আগেই। চোখে কোনো অশ্রু নেই, শুধু একটা গভীর শূন্যতা।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

তিন বছর হয়ে গেছে। তিন বছর আগে এই একই জানালার সামনে আদিত্য বলেছিল, “আমি ফিরে আসব।” সে বলেছিল, আর চলে গিয়েছিল। বিদেশ। ক্যারিয়ার। স্বপ্ন। আর অনন্যা রেখে গিয়েছিল এই শহরে, এই ফ্ল্যাটে, এই স্মৃতিগুলোর মাঝে।

দরজায় নক শোনা গেল। হালকা। অনন্যা চমকে উঠল। কেউ আসার কথা ছিল না। সে দরজা খুলল।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

আদিত্য দাঁড়িয়ে। ভিজে চুল, কাঁধে একটা কালো ব্যাকপ্যাক, চোখে সেই পুরনো তীব্রতা। কিন্তু এখন সেখানে ক্লান্তিও আছে।

“অনন্যা…” তার গলা ভেঙে গেল।

অনন্যা কিছু বলল না। শুধু তাকিয়ে রইল। হৃদয়টা বুকের ভিতর তীব্রভাবে ধুকপুক করছিল। সে সরে দাঁড়াল। আদিত্য ভিতরে ঢুকল। দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

তারা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। তিন বছরের নীরবতা মাঝখানে ঝুলছিল।

“তুমি ফিরে এসেছ,” অনন্যা অবশেষে বলল। কণ্ঠস্বর শুকনো।

“হ্যাঁ।” আদিত্য এক পা এগিয়ে এল। “আমি… আমি আর থাকতে পারিনি ওখানে। তোমাকে ছাড়া।”

অনন্যার চোখ জ্বলে উঠল। “তিন বছর পর? তুমি ভাবছ আমি অপেক্ষা করেছি?”

“না। আমি জানি তুমি করোনি।” আদিত্যের গলায় ব্যথা। “কিন্তু আমি চেষ্টা করেছি ভুলতে। পারিনি। একটা দিনও না।”

বৃষ্টি আরও জোরে নামল। ঘরের ভিতর অন্ধকার বাড়ছিল। অনন্যা লাইট জ্বালল না। সে চেয়ারে বসল। আদিত্যও বসল তার সামনে।

স্মৃতিগুলো ভেসে উঠতে লাগল। কলেজের সেই বিকেলগুলো। লেকের পাশে হাঁটা। হাত ধরা। প্রথম চুমু—বৃষ্টির মধ্যে, একটা পুরনো বাসের শেডের নিচে। তারপর সেই রাত। তাদের প্রথম রাত। ধীর, ভয়ার্ত, আর অসম্ভব মিষ্টি।

অনন্যার চোখ বন্ধ হয়ে এল। “তুমি চলে যাওয়ার আগে… সেই রাতটা মনে আছে?”

আদিত্যের শ্বাস ভারী হয়ে উঠল। “প্রতিটা সেকেন্ড।”

তারা একে অপরের দিকে তাকাল। দূরত্বটা কমে আসছিল। অনন্যা উঠে দাঁড়াল। আদিত্যও। হাত বাড়িয়ে অনন্যার গাল ছুঁল আদিত্য। অনন্যা সরে গেল না।

“আমি রাগ করেছি,” সে ফিসফিস করল। “খুব রাগ করেছি। কিন্তু… তোমাকে দেখলেই সব ভুলে যাই।”

আদিত্য তাকে টেনে নিল কাছে। তাদের ঠোঁট মিলল। প্রথমে ধীর। তারপর ক্ষুধার্ত। তিন বছরের আকাঙ্ক্ষা একসঙ্গে ফেটে পড়ল। অনন্যার হাত আদিত্যের চুলে গিয়ে আটকে গেল। আদিত্যের হাত তার কোমরে, তারপর আরও নিচে।

তারা শোবার ঘরে গেল। দরজা বন্ধ হল। বৃষ্টির শব্দ জানালা দিয়ে ঢুকছিল।

আদিত্য অনন্যার শাড়ির আঁচল খুলল ধীরে। অনন্যা তার শার্টের বোতাম খুলতে লাগল। ত্বক স্পর্শ করল ত্বক। গরম। চেনা। আর নতুন।

“অনন্যা…” আদিত্য তার গলায় চুমু দিল। “আমি চাই তোমাকে। পুরোটা।”

অনন্যা তার চোখের দিকে তাকাল। “তাহলে নাও।”

তারা বিছানায় শুয়ে পড়ল। আদিত্যের হাত অনন্যার বুকের উপর দিয়ে নামল। স্তন ছুঁয়ে, নিপলকে আঙুল দিয়ে ঘষে। অনন্যা কাতর স্বরে আওয়াজ করল। আদিত্য তার স্তনে মুখ রাখল। জিভ দিয়ে চাটল, চুষল। অনন্যার পিঠ বাঁকা হয়ে উঠল।

তারপর আরও নিচে। শাড়ির ঘাগরা সরিয়ে, প্যান্টি খুলে। আদিত্য তার উরু দুটোকে আলতো করে আলাদা করল। মুখ রাখল তার গোপনাঙ্গে। জিভের আঁচড়। ধীর, গভীর। অনন্যা চাদর মুঠো করে ধরল। “আদিত্য… আরও…”

আদিত্য শুনল। জিভ ঢুকিয়ে দিল। চুষতে লাগল। অনন্যার শরীর কেঁপে উঠল। সে চেপে ধরল আদিত্যের মাথা। প্রথম অর্গাজম এল ঝড়ের মতো। অনন্যা চিৎকার করে উঠল, তারপর কাঁপতে কাঁপতে শান্ত হল।

আদিত্য উঠে এল। নিজের প্যান্ট খুলল। তার লিঙ্গ শক্ত, গরম। অনন্যা হাত বাড়িয়ে ধরল। আঙুল দিয়ে ঘষল। আদিত্য দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

সে অনন্যার উপর এল। লিঙ্গের মাথা তার ভেজা প্রবেশপথে রাখল। ধীরে ঢুকল। পুরোটা। অনন্যা কাতর হয়ে উঠল। পূর্ণতা। তিন বছর পর।

আদিত্য নড়তে শুরু করল। ধীর থেকে দ্রুত। অনন্যার পা তার কোমরে জড়িয়ে গেল। তারা একে অপরকে চেপে ধরল। চুমু, স্বেদ, আর গভীর আর্তনাদ।

“আমি তোমাকে ভালোবাসি,” আদিত্য ফিসফিস করল। “প্রতিটা মুহূর্ত।”

অনন্যা তার পিঠে নখ বসাল। “আমিও… ঈশ্বর, আমিও।”

তারা একসঙ্গে পৌঁছাল। তীব্র। শরীর কেঁপে উঠল। আদিত্য অনন্যার ভিতরেই ঢেলে দিল নিজেকে। তারপর তার উপর ভর দিয়ে শুয়ে রইল। শ্বাস মিলিয়ে।

রাত গভীর হল। তারা কথা বলল। আদিত্য বলল বিদেশের একা একা রাতগুলোর কথা। অনন্যা বলল তার নিজের লড়াইয়ের কথা। কান্না এল। তারপর আবার স্পর্শ।

দ্বিতীয়বার আরও ধীর ছিল। আরও গভীর। আদিত্য অনন্যাকে উপুড় করে শোয়াল। পেছন থেকে ঢুকল। হাত দিয়ে তার স্তন চেপে ধরল। অনন্যা মাথা তুলে আদিত্যের দিকে তাকাল। তাদের চোখ মিলল।

সেই রাতে তারা আর ঘুমাল না। শুধু একে অপরকে অনুভব করল। বৃষ্টি থামল। কিন্তু তাদের ভিতরের ঝড় থামল না।

সকালে আলো এল। অনন্যা আদিত্যের বুকে মাথা রেখে শুয়ে ছিল। আদিত্যের আঙুল তার চুলে খেলছিল।

“এবার আর যাবে না?” অনন্যা জিজ্ঞেস করল।

আদিত্য তার কপালে চুমু দিল। “না। এবার আমি থাকব। তোমার সঙ্গে। যতদিন তুমি চাও।”

অনন্যার চোখে জল এল। কিন্তু এবার সেটা সুখের।

তারা উঠল। একসঙ্গে চা বানাল। জানালার কাছে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির পরের শহর দেখল। হাত ধরে।

কিন্তু অনন্যার মনে একটা ভয় রয়ে গেল। তিন বছর আগেও সে বিশ্বাস করেছিল। এবার কি সত্যিই থাকবে?

আদিত্য যেন তার মন পড়তে পারল। তাকে ঘুরে দাঁড় করিয়ে চুমু দিল। গভীর। প্রতিশ্রুতির মতো।

“আমি প্রমাণ করব,” সে বলল। “প্রতিটা দিন।”

অনন্যা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। কিন্তু হৃদয়টা এখনও সতর্ক। ভালোবাসা সহজ নয়। আর তাদের ভালোবাসা কখনোই সহজ ছিল না।

সারাদিন তারা ঘরেই থাকল। কথা বলল, হাসল, আবার শরীর মিলিয়ে নিল। বিকেলে আদিত্য অনন্যাকে রান্নাঘরে তুলে ধরল। কাউন্টারের উপর বসিয়ে তার শাড়ি উপরে তুলল। দাঁড়িয়ে থেকেই ঢুকল তার ভিতরে। অনন্যা তার কাঁধে মুখ গুঁজে আর্তনাদ করল।

সন্ধ্যা নামল। তারা ছাদে গেল। কলকাতার আলোগুলো জ্বলছিল। আদিত্য অনন্যার হাত ধরে বলল, “আমরা আবার শুরু করব। নতুন করে।”

অনন্যা তার দিকে তাকাল। চোখে ভালোবাসা, আর একটু সন্দেহ। “নতুন করে… কিন্তু পুরনো ক্ষতগুলো নিয়ে।”

আদিত্য মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ। সেগুলোও। একসঙ্গে সারাব।”

রাত নামল। তারা আবার বিছানায় এল। এবার আরও আস্তে। আরও আবেগময়। আদিত্য অনন্যার প্রতিটা ইঞ্চি চুমু দিল। তার পেট, তার উরু, তার পায়ের আঙুল। অনন্যা কেঁদে উঠল সুখে।

শেষে তারা জড়িয়ে শুয়ে রইল। ঘুম এল ধীরে। অনন্যার শেষ চিন্তা ছিল—এইবার কি সত্যি?

বাইরে শহর নীরব। ভিতরে দুটো হৃদয় আবার একসঙ্গে ধুকপুক করছিল।

সপ্তাহ চলে গেল। আদিত্য অনন্যার ফ্ল্যাটেই থাকল। তারা আবার সেই পুরনো ছন্দে ফিরে গেল। সকালে একসঙ্গে চা, বিকেলে হাঁটা, রাতে দীর্ঘ আলিঙ্গন।

কিন্তু বাইরের দুনিয়া অপেক্ষা করছিল।

আদিত্যের মা ফোন করল একদিন। কঠোর গলায়। “তুমি ফিরে এসেছ? আর সেই মেয়েটার সঙ্গে আবার?”

আদিত্য ফোন রেখে দিল। অনন্যা শুনে ফেলেছিল। তার মুখ মলিন হয়ে গেল।

“তোমার পরিবার এখনও আমাকে মেনে নেয়নি,” সে বলল।

আদিত্য তার হাত ধরল। “আমি মানব। আর কেউ না মানলেও।”

কিন্তু কথা সহজ, বাস্তব কঠিন।

এক সন্ধ্যায় তারা নদীতে গেল। গঙ্গার পাড়ে বসল। আদিত্য অনন্যার মাথায় হাত রাখল।

“আমি চাকরি ছেড়ে এসেছি,” সে স্বীকার করল। “সব কিছু। শুধু তোমার জন্য।”

অনন্যা চমকে উঠল। “কী? তুমি পাগল?”

“হয়তো।” আদিত্য হাসল। “কিন্তু আমি চাই এখানেই কিছু শুরু করতে। তোমার সঙ্গে।”

অনন্যার চোখে জল এল। সে আদিত্যকে জড়িয়ে ধরল। “আমি ভয় পাচ্ছি। যদি আবার চলে যাও…”

আদিত্য তার ঠোঁটে আঙুল রাখল। “যাব না। প্রতিজ্ঞা।”

রাত গভীর হল। তারা বাড়ি ফিরল। উত্তেজনা আর ভয় একসঙ্গে কাজ করছিল। শোবার ঘরে ঢুকেই আদিত্য অনন্যাকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরল। চুমু দিল ক্ষুধার্তের মতো। অনন্যা তার শার্ট ছিঁড়ে খুলল।

তারা মেঝেতেই নেমে গেল। আদিত্য অনন্যার শাড়ি খুলে ফেলল এক টানে। ব্রা, প্যান্টি—সব। অনন্যা সম্পূর্ণ নগ্ন। আদিত্য তার স্তন দুটোকে চেপে ধরল। মুখ দিয়ে চুষতে লাগল। অনন্যা আর্তনাদ করল।

আদিত্য নিজের প্যান্ট খুলল। লিঙ্গ বেরিয়ে এল শক্ত। অনন্যা হাঁটু গেড়ে বসল। মুখে নিল। আদিত্যের হাত তার চুলে গিয়ে আটকে গেল। অনন্যা চুষল, জিভ ঘষল, গভীরে নিল। আদিত্য দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “অনন্যা… থামো… নাহলে…”

অনন্যা থামল না। আদিত্য তাকে তুলে ধরল। বিছানায় শোয়াল। পা দুটোকে কাঁধে তুলে ঢুকল এক টানে। গভীর। অনন্যা চিৎকার করে উঠল। আদিত্য দ্রুত নড়তে লাগল। প্রতিটা ধাক্কায় অনন্যার স্তন কাঁপছিল।

“তুমি আমার,” আদিত্য গর্জন করল। “শুধু আমার।”

অনন্যা মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ… শুধু তোমার…”

তারা একসঙ্গে এল। তীব্র। আদিত্য অনন্যার ভিতরেই থাকল। শ্বাস মিলিয়ে।

কিন্তু পরের দিন সকালে সমস্যা এল।

আদিত্যের বাবা এল ফ্ল্যাটে। বয়স্ক, কঠোর মুখ। “তুমি ফিরে এসো বাড়ি। এই মেয়ের সঙ্গে আর নয়।”

অনন্যা ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে শুনল। আদিত্য রেগে গেল। “আমি থাকব এখানে। তার সঙ্গে।”

বাবা চলে গেল রাগে। দরজা বন্ধ হয়ে গেল জোরে।

অনন্যা কেঁদে ফেলল। “দেখো… আমি তোমার পরিবার ভাঙছি।”

আদিত্য তাকে জড়িয়ে ধরল। “না। তারা নিজেরাই ভাঙছে। আমি তোমাকে বেছে নিয়েছি।”

সেই রাতে তারা কথা বলল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অনন্যা বলল তার নিজের পরিবারের কথা—কীভাবে তারাও আদিত্যকে পছন্দ করেনি একসময়। আদিত্য বলল তার বিদেশের একা একা রাতগুলোর কথা। কীভাবে সে প্রতি রাত অনন্যার ছবি দেখে ঘুমাত।

স্পর্শ এল আবার। এবার আরও আবেগময়। আদিত্য অনন্যাকে কোলে তুলে বিছানায় বসল। অনন্যা তার উপর বসল। ধীরে ঢুকিয়ে নিল। তারা মুখোমুখি। চোখে চোখ রেখে নড়তে লাগল। অনন্যার হাত আদিত্যের বুকে। আদিত্যের হাত তার কোমরে।

“আমি তোমাকে হারাতে চাই না,” অনন্যা ফিসফিস করল।

“হারাতে দিব না,” আদিত্য উত্তর দিল।

তারা ধীরে ধীরে শিখরে পৌঁছাল। অনন্যা আদিত্যের গলায় মুখ গুঁজে কাঁদল সুখে। আদিত্য তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিল।

পরের কয়েকদিন শান্ত ছিল। কিন্তু ভিতরে ঝড় জমছিল। আদিত্য চাকরি খুঁজতে শুরু করল শহরে। অনন্যা তাকে সাহায্য করল। তারা একসঙ্গে প্ল্যান করল—একটা ছোট ফ্ল্যাট, হয়তো একদিন বিয়ে।

এক রাতে আদিত্য অনন্যাকে নিয়ে গেল তাদের পুরনো জায়গায়—কলেজের পেছনের সেই বাগান। সেখানেই প্রথম চুমু হয়েছিল।

বৃষ্টি নামল আবার। তারা একটা গাছের নিচে দাঁড়াল। আদিত্য হাঁটু গেড়ে বসল। পকেট থেকে একটা ছোট বক্স বের করল।

“অনন্যা… তুমি কি আমার সঙ্গে সারাজীবন কাটাবে?”

অনন্যার চোখে জল। সে মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ।”

আদিত্য আংটি পরাল। তারপর উঠে তাকে জড়িয়ে ধরল। চুমু দিল বৃষ্টির মধ্যে।

বাড়ি ফিরে তারা উদযাপন করল। শরীর দিয়ে। আদিত্য অনন্যাকে বিছানায় শোয়াল। পা ছড়িয়ে দিয়ে মুখ রাখল তার মধ্যে। জিভ দিয়ে নাচাল। অনন্যা চাদর ছিঁড়ে ফেলল প্রায়। দুইবার এল তার শরীর কেঁপে। তারপর আদিত্য ঢুকল। ধীর, গভীর, ভালোবাসার সঙ্গে।

“আমার স্ত্রী,” সে ফিসফিস করল।

অনন্যা হাসল কাঁদতে কাঁদতে। “আমার স্বামী।”

তারা রাতভর জাগল। কথা বলল ভবিষ্যতের। স্বপ্নের।

কিন্তু সকালে ফোন এল। আদিত্যের মা। হাসপাতাল থেকে। বাবা অসুস্থ।

আদিত্য মুখ মলিন করে বলল, “আমাকে যেতে হবে।”

অনন্যা মাথা নেড়ে বলল, “যাও। আমি আছি।”

আদিত্য চলে গেল। অনন্যা জানালার কাছে দাঁড়িয়ে রইল। আংটি আঙুলে ঝিলমিল করছিল। কিন্তু হৃদয়টা আবার ভয় পাচ্ছিল।

তিন বছর আগেও সে চলে গিয়েছিল। এবার কি ফিরবে?

রাত নামল। অনন্যা একা বিছানায় শুয়ে রইল। আদিত্যের গন্ধ এখনও বালিশে। সে চোখ বন্ধ করল। মনে মনে প্রার্থনা করল।

ফোন বাজল মধ্যরাতে। আদিত্য। “বাবা স্থিতিশীল। আমি কাল ফিরছি। তোমাকে ভালোবাসি।”

অনন্যা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। “আমিও। ফিরে এসো।”

সে ঘুমাল। স্বপ্নে আদিত্যকে দেখল। তাদের ভবিষ্যৎকে দেখল।

কিন্তু জীবন সহজ নয়। পরের দিন আদিত্য ফিরল সত্যি। কিন্তু তার চোখে একটা ছায়া। বাবার শর্ত—বিয়ে করতে হলে পরিবারের অনুমতি লাগবে। আর অনুমতি সহজ নয়।

অনন্যা শুনে চুপ করে গেল। আদিত্য তার হাত ধরল। “আমরা লড়ব। একসঙ্গে।”

সেই রাতে তাদের মিলন আরও তীব্র হল। যেন ভয়কে জয় করার জন্য। আদিত্য অনন্যাকে দেয়ালের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে ঢুকল। পা তুলে ধরে। অনন্যা তার কাঁধে নখ বসাল। তারা চিৎকার করে এল একসঙ্গে।

তারপর বিছানায় শুয়ে আদিত্য বলল, “আমি তোমাকে হারাব না। যাই হোক।”

অনন্যা তার বুকে মাথা রাখল। “আমিও না।”

বাইরে শহর ঘুমাচ্ছিল। ভিতরে দুটো মানুষ লড়ছিল ভালোবাসার জন্য।

মাস চলে গেল। আদিত্যের বাবা ধীরে ধীরে সুস্থ হলেন। কিন্তু সম্পর্ক এখনও টানাপোড়েনপূর্ণ।

একদিন আদিত্য অনন্যাকে নিয়ে গেল তার বাড়িতে। মা-বাবা মুখ ভার করে বসলেন। লম্বা আলোচনা হল। অনন্যা শান্তভাবে কথা বলল। তার চোখে দৃঢ়তা।

শেষে বাবা বললেন, “যদি তোমরা সত্যিই এত ভালোবাসো… তাহলে প্রমাণ করো। এক বছর অপেক্ষা করো। যদি তখনও একসঙ্গে থাকো, আমরা মানব।”

আদিত্য রাজি হল। অনন্যাও।

তারা ফিরে এল। রাতে আদিত্য অনন্যাকে বলল, “এক বছর। আমরা পারব।”

অনন্যা হাসি দিল। “পারব।”

সেই রাতে তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হল। আদিত্য অনন্যাকে ধীরে ধীরে চুমু দিল সর্বাঙ্গে। তার পিঠের রেখা ধরে, কোমর ঘষে, উরুর ভিতর দিয়ে। অনন্যা কেঁপে উঠল। আদিত্য মুখ রাখল তার মধ্যে। জিভ দিয়ে তাকে পাগল করে তুলল। অনন্যা দুইবার এল তার মুখে। তারপর আদিত্য ঢুকল। পাশে শুয়ে, পা তুলে। ধীর গতিতে। চোখে চোখ রেখে।

“আমি তোমার,” অনন্যা বলল।

“আর আমি তোমার,” আদিত্য উত্তর দিল।

তারা একসঙ্গে শিখরে পৌঁছাল। তারপর জড়িয়ে শুয়ে রইল।

এক বছর কেটে গেল ধীরে ধীরে। আদিত্য চাকরি পেল একটা ভালো জায়গায়। অনন্যা তার কাজ চালিয়ে গেল। তারা একসঙ্গে একটা ছোট ফ্ল্যাট ভাড়া নিল। রান্না করল, ঝগড়া করল, মিলল।

মাঝে মাঝে ভয় আসত। কিন্তু প্রতিবারই তারা একে অপরকে ধরে রাখত।

এক রাতে, বর্ষাকালে, তারা ছাদে গেল। আদিত্য অনন্যার হাত ধরে বলল, “কাল আমরা বাবার কাছে যাব। সময় হয়েছে।”

অনন্যা মাথা নেড়ে বলল। হৃদয় কাঁপছিল।

পরের দিন তারা গেল। বাবা-মা তাকিয়ে রইলেন। আদিত্য বলল, “এক বছর হয়েছে। আমরা এখনও একসঙ্গে। আর থাকব সারাজীবন।”

বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তারপর মাথা নেড়ে বললেন, “তাহলে… তোমরা বিয়ে করো।”

অনন্যার চোখে জল। আদিত্য তাকে জড়িয়ে ধরল।

বিয়ের দিন এল। ছোট্ট অনুষ্ঠান। শুধু কাছের মানুষ। অনন্যা লাল শাড়ি পরেছিল। আদিত্য সাদা পাঞ্জাবি। তাদের চোখে শুধু একে অপর।

রাত নামল। নতুন ফ্ল্যাটে। স্বামী-স্ত্রী।

আদিত্য অনন্যাকে কোলে তুলে বিছানায় নিয়ে গেল। শাড়ি খুলল ধীরে। অলঙ্কার খুলল একটা একটা করে। অনন্যা তার জামা খুলল। তারা নগ্ন হল।

আদিত্য অনন্যার গায়ে হাত বুলিয়ে বলল, “আমার বউ।”

অনন্যা হাসল। “আমার স্বামী।”

তারা চুমু দিল। গভীর। আদিত্য তার স্তনে মুখ রাখল। চুষল, কামড় দিল আলতো। অনন্যা আর্তনাদ করল। আদিত্য নিচে নামল। উরু খুলে জিভ ঢোকাল। অনন্যা চাদর মুঠো করল। প্রথম অর্গাজম এল তাড়াতাড়ি।

তারপর আদিত্য উঠে এল। লিঙ্গ রাখল তার প্রবেশপথে। “দেখো আমাকে,” সে বলল।

অনন্যা তাকাল। আদিত্য ধীরে ঢুকল। পুরোটা। তারা নড়তে শুরু করল। ধীর থেকে দ্রুত। অনন্যার পা তার কোমরে। আদিত্যের হাত তার স্তনে।

“আমি তোমাকে ভালোবাসি,” আদিত্য বারবার বলল।

অনন্যা চিৎকার করে উঠল। “আমিও… আরও গভীরে…”

আদিত্য আরও গভীরে গেল। তারা একসঙ্গে পৌঁছাল। তীব্র। শরীর জড়িয়ে। স্বেদ মিশে।

তারপর আবার। এবার অনন্যা উপর। দুলতে লাগল। আদিত্য তার কোমর ধরে রইল। অনন্যার চুল এলোমেলো। স্তন কাঁপছিল। তারা আবার এল।

রাত গভীর হল। তারা কথা বলল। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। সন্তানের কথা। বৃদ্ধ বয়সের কথা।

সকালে আলো এল। অনন্যা আদিত্যের বুকে শুয়ে ছিল। আংটি দুটো পাশাপাশি ঝিলমিল করছিল।

আদিত্য চোখ খুলল। হাসল। “শুভ সকাল, বউ।”

অনন্যা চুমু দিল তার বুকে। “শুভ সকাল, স্বামী।”

তারা উঠল। জানালার কাছে গেল। শহর জেগে উঠছিল। বৃষ্টির গন্ধ এখনও বাতাসে।

অনন্যা আদিত্যের হাত ধরল। “আমরা পেরেছি।”

আদিত্য তাকে জড়িয়ে ধরল। “হ্যাঁ। আর পারব। সারাজীবন।”

তারা আবার চুমু দিল। ধীর। প্রতিশ্রুতির। ভালোবাসার।

ঘরে নীরবতা। শুধু দুটো হৃদয়ের শব্দ। একসঙ্গে। চিরকালের মতো।

সেই থেকে তাদের জীবন চলল। সুখ, দুঃখ, ঝগড়া, মিলন—সব নিয়ে। কিন্তু ভালোবাসা থেকে গেল অটুট। প্রতি রাতে তারা একে অপরকে খুঁজে নিত। শরীরে, মনে।

আর যখনই বৃষ্টি নামত, তারা জানালার কাছে দাঁড়াত। হাত ধরে। মনে করত সেই প্রথম রাতের কথা। আর হাস্ত। কারণ এবার আর বিচ্ছেদ নেই। শুধু একসঙ্গে থাকা। চিরকাল।

....
👁 19