রাহুলের বিয়ে হয়েছিল তিন মাস আগে। সাজানো বিয়ে। মেয়ের নাম মিথিলা। গ্রামের মেয়ে, একদম সরল, একটু বোকা টাইপ। রাহুল শহরের ছেলে, ব্যবসায়ী, মেজাজ খুব গরম। ছোটখাটো কথায় রেগে যায়। বিয়ের রাতেই সে বুঝে গিয়েছিল, মেয়েটা কিছুই জানে না।
“তুমি কি কিছু শেখোনি?” রাহুল রেগে গিয়ে বলেছিল সে রাতে। মিথিলা লজ্জায় মুখ লুকিয়েছিল। সে শুধু কাঁদছিল। রাহুল আর জোরাজুরি করেনি। সেই থেকে তাদের বিছানা আলাদা।
সকালে রাহুল অফিসে যায়। মিথিলা বাড়িতে থাকে। কাজকর্ম করে, কিন্তু সবকিছুতেই ভুল হয়। চা বেশি মিষ্টি হয়ে যায়, কাপড় ধোয়ার সময় সাদা-কালো মিশিয়ে ফেলে। রাহুল ফিরে এলেই চিৎকার শুরু হয়।
“এভাবে চলবে? তুমি কি মানুষ না পুতুল?” একদিন সন্ধ্যায় রাহুল চিৎকার করে উঠল। মিথিলা কেঁপে উঠল। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
“আমি চেষ্টা করছি…” মিথিলা আস্তে বলল।
“চেষ্টা? তিন মাস হয়ে গেল, এখনো চা ঠিকমতো বানাতে পারো না!” রাহুলের গলা উঁচু হয়ে গেল। সে টেবিলে হাত চাপড়াল। গ্লাস পড়ে ভেঙে গেল।
মিথিলা ভয়ে পিছিয়ে গেল। সে জানত রাহুল হাত তোলে না, কিন্তু তার রাগ দেখে ভয় লাগে। রাহুল ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। মিথিলা একা বসে কেঁদে কেঁদে রাত কাটাল।
রাত দুটোয় রাহুলের ঘুম ভাঙল। সে বারান্দায় এসে দেখল মিথিলা বসে আছে। চোখ ফোলা। রাহুলের মনে একটু দরদ হল। কিন্তু সে স্বীকার করতে চাইল না।
“কেন ঘুমাচ্ছ না?” রাহুল জিজ্ঞেস করল। গলায় রাগ কম।
মিথিলা উঠে দাঁড়াল। “আমি… আমি ভয় পাচ্ছিলাম।”
রাহুল কাছে এল। “ভয়? আমি কি তোমাকে মারব নাকি?”
মিথিলা মাথা নাড়ল। “না… কিন্তু তোমার রাগ…”
রাহুল দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “চলে যাও ঘুমাতে।”
মিথিলা চলে গেল। রাহুল জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল। তার মনে হচ্ছিল, এই মেয়েটা তার জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। অথচ বিয়ের আগে সে নিজেই রাজি হয়েছিল। বাবার চাপে।
পরের দিন অফিসে রাহুলের মেজাজ আরও খারাপ। পার্টনার তাকে বলল, “বাড়িতে সমস্যা নাকি? মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে।”
রাহুল চুপ করে রইল। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখল মিথিলা তার প্রিয় খাবার বানিয়েছে। চিকেন কারি। কিন্তু নুন একটু কম।
রাহুল এক চামচ খেয়ে বলল, “নুন কম হয়েছে।”
মিথিলা ভয়ে বলল, “আমি… আমি আবার দিয়ে দিই?”
“দিও।” রাহুল রুক্ষ গলায় বলল।
মিথিলা নুন দিয়ে আবার পরিবেশন করল। এবার বেশি হয়ে গেল। রাহুল থালা ঠেলে দিল। “তুমি পারবে না। থাক।”
মিথিলা চোখ নামিয়ে নিল। তার বুক ভারী হয়ে উঠল। সে ভেবেছিল আজ রাহুল খুশি হবে। কিন্তু আবারও ব্যর্থ।
রাতের বেলা মিথিলা বিছানায় শুয়ে ভাবছিল। রাহুলের শরীরের গন্ধ তার নাকে এখনো লাগে। বিয়ের রাতের কথা মনে পড়ে। রাহুল তার শরীর স্পর্শ করেছিল। গরম হাত। কিন্তু সে ভয় পেয়ে শক্ত হয়ে গিয়েছিল। রাহুল থেমে গিয়েছিল। তারপর আর কাছে আসেনি।
মিথিলার শরীরে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল। সে জানে না সেটা কী। শুধু জানে, রাহুল যখন কাছে আসে, তার বুক ধড়ফড় করে। রাগ দেখে ভয় লাগে, কিন্তু দূরে থাকলে একাকীত্ব লাগে।
এক সপ্তাহ পরে রাহুলের জন্মদিন। মিথিলা চুপিচুপি কেক বানাতে গেল। কিন্তু ডিম ভাঙতে গিয়ে খোসা পড়ে গেল। কেক পুড়ে গেল। রাহুল বাড়ি এসে দেখল ধোঁয়া।
“আবার?” রাহুলের চোখ লাল হয়ে গেল। “তুমি কি ইচ্ছে করে আমার জীবন নষ্ট করছ?”
মিথিলা কেঁদে ফেলল। “না… আমি চেয়েছিলাম তোমাকে খুশি করতে…”
রাহুল কাছে গিয়ে তার কাঁধ ধরল। জোরে। “খুশি? তুমি কি করে খুশি করবে? তুমি তো কিছুই পারো না!”
মিথিলার চোখের জল রাহুলের হাতে পড়ল। রাহুল হাত সরাল। তার বুকে একটা চাপ অনুভূত হল। সে পিছিয়ে গেল।
সে রাতে রাহুল ঘুমাতে পারল না। মিথিলার কান্না তার কানে বাজছিল। সে উঠে মিথিলার ঘরে গেল। দরজা আধখোলা। মিথিলা ঘুমাচ্ছে। চোখের কোণে জলের দাগ। রাহুল দাঁড়িয়ে দেখল। তার মনে হল, এই মেয়েটা সত্যিই বোকা। কিন্তু খারাপ নয়। শুধু অসহায়।
রাহুল বিছানার পাশে বসল। আস্তে করে মিথিলার চুল সরিয়ে দিল। মিথিলা চোখ খুলল। ভয়ে শরীর শক্ত করে নিল।
“ঘুমাও,” রাহুল আস্তে বলল। “আমি… আমি রেগে গিয়েছিলাম।”
মিথিলা চুপ করে রইল। রাহুল উঠে চলে গেল। কিন্তু সে রাত থেকে তার ভেতরে কিছু একটা পরিবর্তন শুরু হল।
পরের কয়েকদিন রাহুল কম রেগে যেত। মিথিলা লক্ষ্য করল। সে আরও চেষ্টা করতে লাগল। একদিন চা ঠিকমতো হল। রাহুল খেয়ে বলল, “ভালো হয়েছে।”
মিথিলার মুখে হাসির রেখা ফুটল। প্রথমবার। রাহুল সে হাসি দেখে একটু অবাক হল। মেয়েটার হাসি সুন্দর।
সেদিন রাতে রাহুল টিভি দেখছিল। মিথিলা এসে পাশে বসল। আগে কখনো বসেনি। রাহুল তাকাল। মিথিলা মাথা নিচু করে বলল, “আমি… আমি তোমার সাথে বসতে পারি?”
রাহুল মাথা নাড়ল। দুজনে পাশাপাশি বসল। দূরত্ব কম। রাহুলের হাতের গরম মিথিলার হাতে লাগল। মিথিলা কেঁপে উঠল। কিন্তু সরে গেল না।
রাহুলের মনে হল, এই মেয়েটা আস্তে আস্তে বদলাচ্ছে। আর সে নিজেও।
মাস চারেক পরে পরিস্থিতি আগের মতো রইল না। রাহুল এখনো রেগে যায়, কিন্তু আগের মতো চিৎকার করে না। মিথিলাও আগের মতো ভয় পায় না। সে রাহুলের মেজাজ বুঝতে শিখেছে।
একদিন রাহুল অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে ফিরল। ব্যবসায় লোকসান। মেজাজ খারাপ। বাড়িতে ঢুকেই বলল, “আজ কেউ কাছে আসবে না।”
মিথিলা চুপ করে রান্নাঘরে চলে গেল। রাতের খাবার পরিবেশন করল। রাহুল খেল, কিন্তু কিছু বলল না। মিথিলা তার প্লেট নিয়ে অন্যদিকে বসল।
খাবার শেষে রাহুল বারান্দায় গিয়ে সিগারেট ধরাল। মিথিলা পেছন থেকে এসে দাঁড়াল। “তোমার চা লাগবে?”
রাহুল পেছন ফিরে তাকাল। “না।” তারপর একটু পরে বলল, “বোসো।”
মিথিলা পাশে বসল। রাতের বাতাস ঠান্ডা। রাহুলের শরীর থেকে সিগারেটের গন্ধ আসছিল। মিথিলা আস্তে বলল, “অফিসে সমস্যা?”
রাহুল অবাক হয়ে তাকাল। আগে মিথিলা কখনো এমন প্রশ্ন করেনি। “হ্যাঁ। লোকসান হয়েছে।”
মিথিলা মাথা নাড়ল। “আমি… আমি কিছু করতে পারি?”
রাহুল হাসল। প্রথমবার সত্যিকারের হাসি। “তুমি কী করবে? হিসাব?”
মিথিলা লজ্জায় মাথা নিচু করল। “না… শুধু… তোমার পাশে থাকতে পারি।”
রাহুলের বুকে একটা উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ল। সে সিগারেট ফেলে দিল। হাত বাড়িয়ে মিথিলার হাত ধরল। মিথিলা কেঁপে উঠল, কিন্তু হাত সরাল না।
“তুমি বদলে যাচ্ছ,” রাহুল বলল।
মিথিলা তাকাল। “তুমিও।”
সে রাতে তারা আলাদা বিছানায় শুলেও, দুজনের মনেই একটা অদ্ভুত শান্তি ছিল। রাহুল ভাবছিল, এই মেয়েটা হয়তো তার জন্যই। মিথিলা ভাবছিল, রাহুলের রাগের আড়ালে একটা নরম মানুষ লুকিয়ে আছে।
কয়েকদিন পর রাহুলের জ্বর হল। সকাল থেকেই শরীর খারাপ। অফিস যায়নি। মিথিলা সারাদিন তার পাশে বসে রইল। কপালে কাপড় দিয়ে ঠান্ডা করল, ওষুধ খাওয়াল, স্যুপ বানাল।
রাহুল দুর্বল গলায় বলল, “তুমি যাও, ঘুমাও।”
মিথিলা মাথা নাড়ল। “না। আমি এখানেই থাকব।”
রাত গভীর হলে রাহুলের জ্বর বাড়ল। মিথিলা তার শরীর মুছে দিচ্ছিল। রাহুলের চোখ খুলল। মিথিলার মুখ কাছে। তার নিঃশ্বাস রাহুলের গালে লাগছিল।
রাহুল হাত তুলে মিথিলার গাল স্পর্শ করল। “কেন এত যত্ন করছ?”
মিথিলা চোখ নামিয়ে নিল। “কারণ… তুমি আমার স্বামী।”
রাহুল তাকে টেনে নিজের দিকে নিল। মিথিলা তার বুকে শুয়ে পড়ল। রাহুলের হাত তার পিঠে ঘুরতে লাগল। আস্তে আস্তে। মিথিলার শরীর গরম হয়ে উঠল। সে জানে না কী করবে। শুধু রাহুলের গন্ধ নিচ্ছিল।
রাহুল তার চুলের মধ্যে মুখ রাখল। “তুমি এত নরম কেন?”
মিথিলা উত্তর দিল না। তার হাত রাহুলের বুকে রাখল। হৃদস্পন্দন অনুভব করল। দ্রুত।
সে রাতে আর কিছু হল না। রাহুল অসুস্থ ছিল। কিন্তু দুজনের শরীর পাশাপাশি থাকল সারারাত। সকালে রাহুল সুস্থ। মিথিলা তার পাশে ঘুমাচ্ছিল। রাহুল তাকে দেখল। মেয়েটার মুখ শান্ত। ঠোঁট একটু ফোলা। রাহুল আস্তে করে তার ঠোঁটে চুমু খেল। মিথিলা চোখ খুলল। অবাক। কিন্তু সরে গেল না।
রাহুল বলল, “সরি। আমি… আমি আর রেগে যেতে চাই না।”
মিথিলা হাসল। “আমিও শিখছি।”
সেদিন থেকে তাদের মধ্যে দূরত্ব কমে গেল। রাহুল অফিস থেকে ফিরে এলে মিথিলা তার জুতা খুলে দিত। রাহুল মিথিলার চুল আঁচড়ে দিত। কখনো কখনো হাত ধরে বসত।
একদিন সন্ধ্যায় বৃষ্টি নামল। বিদ্যুৎ চলে গেল। মোমবাতির আলোয় দুজনে বসল। রাহুল মিথিলাকে কাছে টেনে নিল। মিথিলা তার কোলে বসল। প্রথমবার।
রাহুল তার কানে ফিসফিস করল, “তুমি এখনো ভয় পাও?”
মিথিলা মাথা নাড়ল। “না। এখন আর না।”
রাহুল তার গলায় চুমু খেল। মিথিলা শিউরে উঠল। তার হাত রাহুলের চুলের মধ্যে গেল। রাহুল আরও নিচে নামল। মিথিলার জামা খোলার দিকে হাত বাড়াল। মিথিলা থামিয়ে দিল।
“আস্তে…” সে বলল।
রাহুল থেমে গেল। “ভয়?”
“না… শুধু… আমি জানি না কীভাবে…”
রাহুল হাসল। “আমি শেখাব।”
কিন্তু সে রাতে আর এগোল না। শুধু জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল। মিথিলার বুকের নরম স্পর্শ রাহুলের শরীরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু সে ধৈর্য ধরল। সে বুঝেছিল, মিথিলাকে সময় দিতে হবে।
পরের সপ্তাহে রাহুল মিথিলাকে শপিংয়ে নিয়ে গেল। নতুন জামা কিনে দিল। মিথিলা আয়নায় নিজেকে দেখে লজ্জায় লাল হয়ে গেল। রাহুল পেছন থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরল।
“সুন্দর লাগছে,” সে বলল।
মিথিলা তার দিকে তাকাল। “সত্যি?”
রাহুল তার ঠোঁটে চুমু খেল। এবার গভীর। মিথিলার ঠোঁট কেঁপে উঠল। সে রাহুলের জিভ অনুভব করল। প্রথমবার। তার শরীর নরম হয়ে গেল। রাহুলের হাত তার কোমরে।
বাড়ি ফিরে তারা আর আলাদা হল না। রাহুল মিথিলাকে তার বিছানায় নিয়ে গেল। মিথিলা ভয় পাচ্ছিল না। শুধু উত্তেজিত। রাহুল তার জামা খুলল আস্তে আস্তে। মিথিলার শরীর উন্মোচিত হল। রাহুল তাকিয়ে রইল।
“তুমি… তুমি খুব সুন্দর,” সে বলল। গলায় কামনার ছাপ।
মিথিলা লজ্জায় চোখ বন্ধ করল। রাহুল তার স্তনে চুমু খেল। মিথিলা আর্তনাদ করে উঠল। প্রথমবার। তার শরীর কেঁপে উঠল। রাহুল আরও নিচে নামল। মিথিলার পেটে, নাভিতে। তারপর আরও নিচে।
মিথিলা তার চুল ধরে টানল। “রাহুল… আমি…”
রাহুল উঠে এসে তার ঠোঁটে চুমু খেল। “বলো। কী চাও?”
মিথিলা ফিসফিস করল, “তোমাকে…”
রাহুল তার শরীর তার উপর চাপাল। দুজনের ত্বক মিশে গেল। গরম। রাহুল আস্তে আস্তে ঢুকল। মিথিলা ব্যথায় চিৎকার করল। রাহুল থেমে গেল।
“ব্যথা?”
মিথিলা মাথা নাড়ল। “একটু… কিন্তু থেমো না।”
রাহুল আস্তে আস্তে নড়তে শুরু করল। মিথিলার ব্যথা কমে গিয়ে সুখের অনুভূতি এল। সে রাহুলের পিঠে নখ বসাল। রাহুলের গতি বাড়ল। ঘর ভরে গেল তাদের নিঃশ্বাসে, আর্তনাদে।
শেষে রাহুল তার ভিতরেই গিয়ে থামল। দুজনে জড়িয়ে পড়ল। ঘামে ভেজা শরীর। মিথিলা রাহুলের বুকে মাথা রাখল।
“আমি… আমি ভালোবাসি তোমাকে,” মিথিলা আস্তে বলল।
রাহুল তার চুলে চুমু খেল। “আমিও। আস্তে আস্তে।”
সে রাতে তারা আরও দুবার এক হল। প্রতিবার মিথিলা আরও সাহসী হয়ে উঠল। রাহুলের রাগ যেন মিলিয়ে গিয়েছিল। তার জায়গায় এসেছিল একটা গভীর ক্ষুধা। মিথিলার জন্য।
তৃতীয় পর্ব
বিয়ের ছয় মাস পরে তাদের সম্পর্ক পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। রাহুল আর সেই রেগে যাওয়া মানুষ নয়। মিথিলাও আর সেই ভয় পাওয়া বোকা মেয়ে নয়। এখন তারা একে অপরকে চেনে। শরীর দিয়ে, মন দিয়ে।
এক শুক্রবার সন্ধ্যায় রাহুল তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরল। মিথিলা রান্না করছিল। রাহুল পেছন থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরল। হাত তার স্তনে চলে গেল।
“আজ অফিস তাড়াতাড়ি ছাড়লাম,” রাহুল তার কানে বলল।
মিথিলা হাসল। “কেন?”
“কারণ তোমাকে ছাড়া থাকতে পারছি না।” রাহুল তার গলায় দাঁত বসাল। মিথিলা কেঁপে উঠল। চামচ হাত থেকে পড়ে গেল।
রাহুল তাকে ঘুরিয়ে দিল। ঠোঁটে আক্রমণ করল। জিভ দিয়ে মুখের ভিতর দখল করল। মিথিলার হাত তার চুলে। রাহুল তাকে তুলে নিয়ে টেবিলের উপর বসাল। জামা উপরে তুলে স্তনে মুখ রাখল। জিভ দিয়ে বোঁটায় বৃত্ত আঁকতে লাগল।
মিথিলা মাথা পেছনে ফেলল। “রাহুল… রান্না…”
“পরে,” রাহুল গোঙাল। সে তার সালোয়ার নিচে নামিয়ে দিল। আঙুল ঢুকিয়ে দিল। মিথিলা ভিজে। খুব ভিজে। রাহুল আঙুল নাড়াতে লাগল। মিথিলার কোমর দুলতে লাগল।
“এখানে?” মিথিলা হাঁপাচ্ছে।
রাহুল প্যান্ট খুলল। “হ্যাঁ। এখানেই।” সে ঢুকে গেল এক ঝটকায়। মিথিলা চিৎকার করে উঠল। রাহুল জোরে জোরে ধাক্কা দিতে লাগল। টেবিল কেঁপে উঠল। বাসনপত্র শব্দ করছিল। মিথিলার আর্তনাদ বাড়ছিল।
রাহুল তার পা দুটো কাঁধে তুলল। আরও গভীরে ঢুকল। মিথিলার নখ তার পিঠে রক্তের দাগ কাটল। শেষে দুজনে একসাথে কেঁপে উঠল। রাহুল তার ভিতরে ঢেলে দিল। গরম।
তারা একটুক্ষণ জড়িয়ে রইল। তারপর রাহুল তাকে তুলে বিছানায় নিয়ে গেল। সেখানে আবার শুরু হল। এবার আস্তে। রাহুল মিথিলার শরীরের প্রতিটি অংশ চুম্বন করল। স্তন, পেট, উরু, তারপর সেই জায়গায় মুখ রাখল। জিভ ঢুকিয়ে দিল। মিথিলা বিছানায় ছটফট করল। তার হাত রাহুলের মাথা চেপে ধরল।
“আর পারছি না…” মিথিলা গোঙাল।
রাহুল উঠে এসে ঢুকে গেল আবার। এবার মিথিলা উপরে উঠল। নিজে থেকে নড়তে লাগল। তার স্তন দুলছিল। রাহুল সেগুলো চেপে ধরল। মিথিলার গতি বাড়ল। ঘামে শরীর চকচক করছিল। রাহুল তার কোমর ধরে আরও জোরে তুলল। দুজনে আবার শেষ করল।
রাত গভীর হল। তারা কথা বলছিল। রাহুল মিথিলার চুলে হাত বোলাচ্ছিল।
“মনে আছে প্রথম দিনের কথা?” রাহুল বলল।
মিথিলা হাসল। “তুমি খুব রেগেছিলে।”
“তুমি ভয় পেয়েছিলে।”
মিথিলা তার বুকে চুমু খেল। “এখন আর ভয় নেই। এখন শুধু… এই।” সে রাহুলের লিঙ্গ স্পর্শ করল। আবার শক্ত হয়ে উঠছিল।
রাহুল হাঁসল। “তুমি এখন আর বোকা নও।”
মিথিলা তার উপর উঠে বসল। “শেখিয়েছ তুমি।” সে নিজে থেকে ঢুকিয়ে নিল। আস্তে আস্তে নড়তে লাগল। রাহুল তার কোমর ধরে সাহায্য করল। মিথিলার চোখ বন্ধ। মুখ খোলা। আর্তনাদ বেরোচ্ছিল।
রাহুল উঠে বসল। মিথিলাকে বুকে চেপে ধরল। দুজনে একসাথে নড়ছিল। ঘামে ভেজা শরীর। চুমু। কামড়। নখের আঁচড়। শেষ পর্যন্ত মিথিলা রাহুলের কাঁধে দাঁত বসিয়ে চিৎকার করল। রাহুলও তার সাথে গিয়ে পৌঁছাল।
তারা শুয়ে রইল। শরীর জড়ানো। রাহুল মিথিলার কানে বলল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি। খুব।”
মিথিলা তার হাত চেপে ধরল। “আমিও। আগের থেকে অনেক বেশি।”
ভোর পর্যন্ত তারা আরও কয়েকবার এক হল। কখনো রাহুল পেছন থেকে, কখনো মিথিলা হাঁটু গেড়ে, কখনো দাঁড়িয়ে দেয়ালে। প্রতিবারই আরও তীব্র। আরও গভীর। তাদের শরীর যেন একে অপরের জন্য তৈরি।
সকালে রোদ এল। মিথিলা রাহুলের বুকে শুয়েছিল। রাহুল তার পিঠে হাত বোলাচ্ছিল।
“আজ অফিস যাবে না?” মিথিলা জিজ্ঞেস করল।
রাহুল হাসল। “যাব। কিন্তু সন্ধ্যায় ফিরে তোমাকে আবার এই বিছানায় নিয়ে আসব।”
মিথিলা তার ঠোঁটে চুমু খেল। “অপেক্ষা করব।”
রাহুল উঠে গোসল করতে গেল। মিথিলা বিছানায় শুয়ে তার শরীরের দাগগুলো দেখল। গলায় কামড়ের দাগ, স্তনে আঙুলের দাগ, উরুতে লাল লাল দাগ। সে হাসল। একসময় যে রাগ তাকে ভয় দেখাত, এখন সেই রাগই তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভালোবাসায় মেশানো আগুন।
সেদিন থেকে তাদের প্রতিদিন এমনই কাটে। রাগে নয়, কামনায়। ভালোবাসায়। মিথিলা আর বোকা নয়। রাহুল আর শুধু রেগে যাওয়া স্বামী নয়। তারা একে অপরের। শরীরে, মনে, আত্মায়।
....