রাতের নিষিদ্ধ স্পর্শ

বৃষ্টি পড়ছিল। কলকাতার সেই সন্ধ্যায় বৃষ্টি মানেই একধরনের নিঃশব্দ বিচ্ছেদ। রাস্তার আলোগুলো জলে ভাসছিল, আর আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম তোমার বাড়ির সামনে। হাতে একটা ছাতা, কিন্তু মাথায় কোনো ছাতা ছিল না। ভিজে যাচ্ছিলাম ইচ্ছে করে।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

তুমি দরজা খুলেছিলে। কালো শাড়ি। চুলে জলের ফোঁটা। চোখে সেই একই প্রশ্ন—কেন এসেছো?

“ঢুকো,” তুমি বলেছিলে। কণ্ঠস্বর শান্ত, কিন্তু চোখ অস্থির।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

আমি ঢুকেছিলাম। দরজা বন্ধ হয়েছিল। বাইরে বৃষ্টির শব্দ, ভিতরে শুধু আমাদের শ্বাস।

তুমি আমার বোনের বন্ধু। ছোটবেলা থেকে দেখেছি তোমাকে। পুজোর সময় একসাথে আতশবাজি জ্বালতাম, গ্রীষ্মের ছুটিতে একসাথে আমের আচার খেতাম। তখন তুমি ছিলে শুধু “দিদি”র বন্ধু। তারপর সময় গড়িয়েছে। তুমি বিয়ে করেছো। আমিও। কিন্তু বিয়ে মানে সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। কিছু জিনিস শুধু চাপা পড়ে থাকে।

সেই রাতে তুমি আমার হাত ধরেছিলে। আঙুলে তোমার আংটির ঠান্ডা ছোঁয়া। “যাও,” বলেছিলে। “এখন যাও।”

আমি যাইনি।

তোমার ঠোঁট কাঁপছিল। আমি কাছে গিয়েছিলাম। তোমার গালে হাত রেখেছিলাম। তুমি চোখ বন্ধ করেছিলে। বৃষ্টির শব্দ আরও জোরে হয়েছিল।

প্রথম চুমুটা ছিল ভয়ের মতো। তারপর ক্ষুধার মতো। তোমার ঠোঁট নরম, স্বাদ চিনির মতো আর লবণের মতো একসাথে। আমি তোমার কোমর চেপে ধরেছিলাম। তোমার শাড়ির আঁচল আমার হাতে এসে গিয়েছিল। তুমি আমার জামায় হাত রেখেছিলে, আঙুল ঢুকিয়ে দিয়েছিলে আমার ত্বকে।

“এটা ভুল,” তুমি ফিসফিস করে বলেছিলে আমার ঠোঁটের ওপর।

“জানি,” আমি বলেছিলাম।

তারপর আর কথা হয়নি। শুধু শ্বাস আর হাতের স্পর্শ। তোমার শাড়ি খুলে গিয়েছিল ধীরে ধীরে। আমি তোমার বুকের ওপর চুমু খেয়েছিলাম। তোমার ত্বক গরম ছিল, বৃষ্টির ঠান্ডা বাতাসের বিপরীতে। তুমি আমার চুল টানতে টানতে আমার নাম বলেছিলে। সেই নাম যা শুধু তুমিই বলো, আর কেউ বলে না।

আমরা মেঝেতে নেমেছিলাম। কার্পেটের ওপর। তোমার চুল ছড়িয়ে গিয়েছিল। আমি তোমার পায়ের পাতা থেকে শুরু করে উপরে উঠেছিলাম। চুমুতে চুমুতে। তোমার হাঁটুর ভেতরের নরম জায়গায় জিভ রেখেছিলাম। তুমি কেঁপে উঠেছিলে। আঙুল দিয়ে তোমার ভেতর ঢুকেছিলাম। তুমি ভিজে ছিলে। আমার জন্য। শুধু আমার জন্য।

“আরও,” তুমি বলেছিলে। কণ্ঠস্বর ভাঙা।

আমি আরও দিয়েছিলাম। তোমার ক্লিট চেপে ধরে, আঙুল ঘুরিয়ে, মুখ রেখে। তুমি আমার মাথা চেপে ধরেছিলে। পা দুটো আমার কাঁধে তুলে দিয়েছিলে। তোমার শরীর কেঁপে উঠেছিল। আমি থামিনি। তোমার রস আমার মুখে লেগেছিল। মিষ্টি আর নোনতা।

তারপর আমি উঠে এসেছিলাম। তোমার ওপর। তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে। তুমি আমার প্যান্ট খুলে দিয়েছিলে। হাত দিয়ে ধরেছিলে। গরম, শক্ত। তুমি নিজেই নিচে নামিয়েছিলে। মুখে নিয়েছিলে। আমি চোখ বন্ধ করেছিলাম। তোমার জিভের স্পর্শ, গলার গভীরতা—সবকিছু একসাথে। তুমি আমার উরু চেপে ধরেছিলে। আমি তোমার চুল মুঠো করেছিলাম।

“থেমে যাও,” আমি বলেছিলাম। “নাহলে শেষ হয়ে যাব।”

তুমি হেসেছিলে। সেই হাসি যা আমি ছোটবেলা থেকে চিনি। তারপর উঠে এসে আমার ওপর শুয়ে পড়েছিলে। আমি ভেতরে ঢুকেছিলাম। ধীরে। তোমার চোখ বড় হয়ে গিয়েছিল। তোমার নখ আমার পিঠে ফুটে গিয়েছিল। আমরা একসাথে নড়েছিলাম। বৃষ্টির তালে। তোমার স্তন আমার মুখে। তোমার কোমর আমার হাতে। তোমার নাম আমার মুখে। আমার নাম তোমার মুখে।

শেষে তুমি কেঁদে ফেলেছিলে। আমিও। শুধু শরীরের জন্য না। সবকিছুর জন্য। যা হয়ে গেছে, যা হওয়ার নয়, যা আর ফিরে পাওয়া যাবে না।

রাত গভীর হয়েছিল। আমরা পাশাপাশি শুয়েছিলাম। তোমার মাথা আমার বুকে। আমি তোমার চুল এলিয়ে দিচ্ছিলাম।

“কাল সকালে তুমি চলে যাবে,” তুমি বলেছিলে।

“হ্যাঁ।”

“আর কখনো আসবে না।”

আমি চুপ করেছিলাম। কারণ মিথ্যে বলতে পারিনি।

কিন্তু পরের সপ্তাহেই এসেছিলাম। তারপর আবার। তারপর আবার। প্রতিবারই বলেছিলাম এটা শেষ। প্রতিবারই তুমি বলেছিলে যাও। প্রতিবারই আমরা একে অপরকে খেয়ে ফেলেছি।

একদিন তোমার স্বামী বাইরে ছিলেন। তুমি আমাকে ডেকেছিলে। “আজ রাতটা থাকো,” বলেছিলে। আমি থেকেছিলাম। পুরো রাত। তোমার বিছানায়। তোমার শরীরে। তোমার স্মৃতিতে। সকালে উঠে চা বানিয়েছিলে। আমি তোমার রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে তোমাকে দেখেছিলাম। শাড়ি ছাড়া, শুধু আমার শার্ট গায়ে। চুলে এলোমেলো। ঠোঁটে হাসি।

সেই মুহূর্তে আমি ভালোবেসে ফেলেছিলাম। পুরোপুরি। নিষিদ্ধভাবে। অসম্ভবভাবে।

তারপর একদিন তোমার স্বামী জানতে পেরেছিলেন। কিভাবে জানি না। হয়তো কেউ দেখেছে। হয়তো তুমি নিজেই বলেছো। আমি জানি না। শুধু জানি যে তুমি ফোন করেছিলে। কণ্ঠস্বর কাঁপা। “এখন আর পারব না,” বলেছিলে। “সব শেষ।”

আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। বৃষ্টি পড়ছিল আবার। তোমার কথা শুনে ফোন নামিয়ে রেখেছিলাম। তারপর হেঁটেছিলাম। কোথায় জানি না। শুধু হেঁটেছিলাম।

মাসখানেক পরে তুমি আবার ফোন করেছিলে। “একবার দেখা করতে চাই,” বলেছিলে। আমি গিয়েছিলাম। একটা পুরনো কফি শপে। তুমি এসেছিলে। চোখে কালো চশমা। হাতে সেই আংটি।

“আমি তোমাকে ভুলে যেতে পারছি না,” বলেছিলে।

আমি তোমার হাত ধরেছিলাম। টেবিলের নিচে। “আমিও না।”

সেই রাতে আমরা আবার মিলেছিলাম। একটা সস্তা হোটেলে। ঘরটা ছোট। বিছানা শক্ত। কিন্তু আমরা দেখিনি। শুধু একে অপরকে দেখেছি। তুমি আমার ওপর উঠে বসেছিলে। ধীরে ধীরে নিজেকে নামিয়েছিলে। চোখ বন্ধ করে। ঠোঁট কামড়ে। আমি তোমার কোমর ধরে উপরে তুলেছিলাম, আবার নামিয়েছিলাম। তোমার স্তন আমার হাতে। তোমার চুল আমার মুখে। তোমার আর্তনাদ দেয়ালে বাজিয়ে উঠেছিল।

শেষে তুমি আমার বুকে শুয়ে কেঁদেছিলে। “আমাকে ছেড়ে দিও না,” বলেছিলে।

আমি বলেছিলাম, “পারব না।”

কিন্তু জীবন এত সহজ নয়। তোমার স্বামী, আমার স্ত্রী, পরিবার, সমাজ—সবকিছু এসে দাঁড়িয়েছিল আমাদের মাঝে। আমরা চুরি করে দেখা করতাম। পার্কে, সিনেমা হলে, গাড়ির পেছনের সিটে। প্রতিবারই ভয়। প্রতিবারই আগুন।

এক রাত আমি তোমার বাড়িতে ঢুকেছিলাম জানালা দিয়ে। তুমি জেগে ছিলে। আমাকে দেখে চমকে উঠেছিলে, তারপর হেসেছিলে। আমি তোমার বিছানায় উঠেছিলাম। তোমার স্বামী পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। আমরা শব্দ না করেই একে অপরকে নিয়েছিলাম। তোমার মুখ আমার কাঁধে চেপে ধরেছিলে যাতে চিৎকার না বেরোয়। আমি তোমার ভেতরে গভীরে গিয়েছিলাম। ধীরে, কিন্তু জোরে। তোমার পা আমার কোমরে জড়িয়ে ছিল। শেষে তুমি কেঁপে উঠেছিলে নিঃশব্দে। আমিও।

সেই রাতের পর আরও অনেক রাত গেছে। অনেক চুমু, অনেক কাঁদাকাটি, অনেক প্রতিশ্রুতি যা রাখা যায়নি।

একদিন তুমি বলেছিলে, “চলো পালিয়ে যাই।”

আমি তাকিয়েছিলাম তোমার দিকে। “কোথায়?”

“যেখানে কেউ চিনবে না।”

আমি হেসেছিলাম। তিক্ত হাসি। “আমরা নিজেরাই নিজেদের চিনি। সেটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।”

তুমি চুপ করে গিয়েছিলে। তারপর আমার হাত ধরেছিলে। “তাহলে এভাবেই থাকব। যতদিন পারি।”

আমরা এভাবেই থেকেছি। বছরের পর বছর। কখনো কাছে, কখনো দূরে। কখনো তোমার শরীরে আমার নাম লেখা, কখনো আমার বুকে তোমার চোখের জল।

আজকে আবার বৃষ্টি পড়ছে। আমি তোমার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছি। হাতে ছাতা নেই। তুমি দরজা খুলবে কি না জানি না। কিন্তু আমি জানি, তুমি যদি খোলো, আমি ঢুকব। আর যদি না খোলো, আমি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকব। বৃষ্টিতে ভিজে। তোমার জন্য অপেক্ষা করে।

কারণ নিষিদ্ধ জিনিসই সবচেয়ে বেশি টানে। আর তুমি আমার সবচেয়ে নিষিদ্ধ সত্য।

তোমার শরীরের গন্ধ এখনও আমার নাকে। তোমার ঠোঁটের স্বাদ এখনও আমার জিভে। তোমার ভেতরের উষ্ণতা এখনও আমার স্মৃতিতে জ্বলছে। আমি চোখ বন্ধ করলেই দেখি—তুমি আমার ওপর, চুল এলোমেলো, ঠোঁট ফোলা, চোখে সেই ক্ষুধা যা শুধু আমি মেটাতে পারি।

আমি তোমার কাছে যাব। আবার। যতবারই ডাকো। যতবারই নিষেধ করো। কারণ ভালোবাসা যখন নিষিদ্ধ হয়, তখন সেটা আরও গভীর হয়। আরও জ্বলে। আরও বেঁচে থাকে।

বৃষ্টি বাড়ছে। আমি হাঁটছি তোমার দরজার দিকে। হাত তুলছি। কড়া নাড়ছি।

দরজা খুলবে তুমি। আমি জানি। কারণ তুমিও জানো—এই আগুন নেভার নয়।

....
👁 60