অবহেলার পর যত্নের ছোঁয়া

সন্ধ্যার লাল আলো তখন ভেঙে পড়েছে পুরান ঢাকার পুরনো জমিদার বাড়ির ব্যালকনিতে। বাতাসে চায়ের কাপের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে আছে এক অদ্ভুত ভারী নীরবতা। নেহারা ঘরের এক কোণে চুপচাপ দাঁড়িয়ে নিজের শাড়ির আঁচলটা মুঠি করে ধরে আছে। তার চোখের কোণে জমে থাকা ক্লান্তি আর বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস কেউ দেখার নেই। আজ তার জীবনের সবচেয়ে বড় একটা পরিবর্তন ঘটে গেল—পরিবারের চাপে তার বিয়ে হয়েছে রুদ্রায়নের সঙ্গে। যে মানুষটির সঙ্গে জীবনের বাকিটা পথ চলার কথা, সেই মানুষটির চোখে তার জন্য এক ফোঁটাও ভালোবাসা তো দূরের কথা, সামান্য কৌতূহলও ছিল না।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

 

রুদ্রায়ন ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। তার চোখে-মুখে সারাদিনের কাজের ক্লান্তি আর বিরক্তি স্পষ্ট। নেহারার দিকে একবার চাউনি ফেলে সে খাট থেকে তার কোটটা তুলে নিল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ঠান্ডা গলায় বলল, "জানি না কেন তোমার বাবা-মা এই বিয়েটার জন্য এত জোরাজুরি করলেন। একটা কথা স্পষ্ট করে বলে দিই, নেহারা—এই সম্পর্কটাকে জোর করে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার জীবনে এসবের কোনো জায়গা নেই। তুমি তোমার মতো থাকো, আমি আমার মতো। ঘরের বাইরের সমাজে আমরা যা-ই দেখাই না কেন, এই চার দেয়ালের ভেতর আমাদের দূরত্বটাই সত্যি।"

¦Ëk¢x/춺'ƒú

 

রুদ্রায়নের এই কথাগুলো নেহারার বুকে তীরের মতো বিঁধল। কিন্তু সে কোনো প্রতিবাদ করল না। শুধু ঠোঁটে এক চিলতে অভিমানের হাসি টেনে নিচু গলায় বলল, "আপনার যা বলার, তা তো আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন। নতুন করে আর বলার কিছু নেই।"

 

দিনগুলো এভাবেই গড়িয়ে যেতে লাগল। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে সবকিছু ঠিকঠাক আছে। কিন্তু তাদের এই সম্পর্কের ভেতর ছিল এক অদৃশ্য প্রাচীর। রুদ্রায়ন সকাল সকাল বেরিয়ে যেত অফিসে, আর ফেরে গভীর রাতে। নেহারা একা একা বিশাল এই বাড়িতে সময় কাটায়। রান্নার দায়িত্ব, গুছিয়ে রাখা—সবই সে নিখুঁতভাবে করে, কিন্তু রুদ্রায়নের কাছ থেকে একটা ভালো কথা বা উষ্ণ দৃষ্টি সে কোনোদিন পায়নি। রাতের বেলা যখন রুদ্রায়ন বিছানায় শুতে আসত, তখন তাদের মাঝে দূরত্ব থাকত মাইলের পর মাইল। কোনো কথা হতো না, শুধু ছাদের দিকে তাকিয়ে দুজনে আলাদা দুটো জগতের বাসিন্দা হয়ে জেগে থাকত।

 

এক বিকেলে হঠাৎ করেই আবহাওয়াটা বদলে গেল। অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামল বাইরে। সমস্ত ঘর অন্ধকার করে মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছিল। নেহারা জানলার ধারে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো দেখছিল। হুট করেই তার মাথাটা কেমন যেন ঘুরে উঠল। শরীরটা হঠাৎ করেই ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ল, যেন সমস্ত শক্তি কেউ এক নিমিষে শুষে নিয়েছে। সে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। চোখের সামনে সবকিছু যেন অন্ধকার হয়ে এল এবং সে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল।

 

অফিস থেকে ফিরে রুদ্রায়ন যখন ঘরের দরজা খুলল, সে দেখল নেহারা মেঝেতে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে আছে। মুহূর্তের জন্য তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। চিরকালের ঠান্ডা আর উদাসীন রুদ্রায়ন যেন পলকে বদলে গেল। সে আর এক মুহূর্তও নষ্ট করল না। নিজেই নেহারাকে কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিল। দ্রুত হাতে কপালে জলীয় পট্টি দিতে শুরু করল, তার হাতদুটো তখন কাঁপছিল। ঘরের কাজের লোকজনকে ডেকে ডাক্তার আনা হলো। ডাক্তার এসে দেখে বললেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ আর অনিয়মের কারণেই তার এই অবস্থা হয়েছে, অবিলম্বে প্রচুর বিশ্রাম এবং গভীর যত্নের প্রয়োজন।

 

ডাক্তার চলে যাওয়ার পর সারা ঘর আবার শান্ত হয়ে গেল। গভীর রাত। নিস্তব্ধ ঘরে কেবল ঘড়ির টিকটিক শব্দ শোনা যাচ্ছে। নেহারা তখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। রুদ্রায়ন চেয়ার টেনে তার বিছানার ঠিক পাশেই বসে রইল। তার চোখদুটো লাল, মুখের ভাব থমথমে। যে মানুষটি এতদিন নেহারার চোখের জল দেখেও মুখ ফিরিয়ে থাকত, সেই মানুষটিই আজ গভীর রাতে তার কপালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আলতো করে নেহারার ঠান্ডা হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় তুলে নিয়ে রুদ্রায়ন নিজের মনে বিড়বিড় করে উঠল, "এতটা অবহেলা কি সত্যিই তোমার প্রাপ্য ছিল, নেহারা? তোমাকে কষ্ট দিয়ে আজ নিজের ওপরই আমার রাগ হচ্ছে।"

 

ঘরের আবছা আলোয় রুদ্রায়নের চোখের সেই লুকানো অনুতাপ নেহারা অবচেতন অবস্থাতেও যেন অনুভব করতে পারল। কিছু অনুভূতি হয়তো কোনোদিন মুখে প্রকাশ পায় না, কিন্তু মানুষের আচরণ আর চোখের ভাষা সব সত্যি প্রকাশ করে দেয়। এই অসুস্থতার রাতটিই তাদের সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রথম সোপান হয়ে রইল।

পরদিন সকালে যখন নেহারার ঘুম ভাঙল, সে খেয়াল করল তার গায়ে একটা হালকা কম্বল ছড়ানো রয়েছে। অথচ গতরাতে সে যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তখন তার গায়ে কোনো চাদর পর্যন্ত ছিল না। সে ধড়মড় করে বিছানায় উঠতে গেল, কিন্তু মাথাটা সামান্য ধরে রইল। ঠিক তখনই ঘরের দরজা ঠেলে রুদ্রায়ন ভেতরে প্রবেশ করল। তার এক হাতে ভাপ ওঠা চায়ের কাপ আর অন্য হাতে ডাক্তারবাবুর লিখে দেওয়া কিছু ওষুধের প্যাকেট।

 

রুদ্রায়নকে এভাবে নিজের খেয়াল রাখতে দেখে নেহারা এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। যে মানুষটি এতদিন তাকে ছায়ার মতো এড়িয়ে চলত, আজ তার চোখে মুখে এক অদ্ভুত অদৃশ্য টান আর অনুশোচনার ছায়া। রুদ্রায়ন ধীর পায়ে বিছানার কাছে এসে চায়ের কাপটা টিপয় রাখল এবং কোনো রাখঢাক না করে নরম গলায় জিজ্ঞেস করল, "এখন শরীর কেমন লাগছে, নেহারা? মাথা ঘোরা কি এখনো আছে?"

 

নেহারা অবাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে নিচুস্বরে বলল, "আগে থেকে অনেক ভালো আছি। আপনি... আপনি অফিসে যাননি?"

 

"আজকের দিনটা অফিসের কাজ ঘরে বসেই করব ঠিক করেছি," গম্ভীর অথচ অত্যন্ত স্নেহের সুরে উত্তর দিল রুদ্রায়ন। সে নিজের হাতে ওষুধের পাতা থেকে একটা ওষুধ বের করে গ্লাসের জলসহ নেহারার দিকে বাড়িয়ে দিল। "আগে ওষুধটা খাও, তারপর না হয় অন্য কথা।"

 

নেহারা কোনো কথা না বাড়িয়ে ওষুধটা খেয়ে নিল। সেই ছোট ছোট যত্ন নেহারার হৃদয়ের গভীরে এক অদ্ভুত উষ্ণতার সৃষ্টি করল। এতদিন সে যে দেয়ালগুলো রুদ্রায়নের চারপাশে দেখে এসেছিল, সেগুলো যেন এক এক করে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। সকালের রোদ যখন জানলা গলে ঘরের ভেতর এসে পড়ল, তখন মনে হলো এই ঘরের আকাশেও বুঝি প্রথমবার কোনো নতুন ভোরে সূর্যের আলো পড়েছে।

 

দুপুরের দিকে আবহাওয়া আবার হঠাৎ করেই গম্ভীর হয়ে এল। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ভেতরকার নিস্তব্ধতা যেন আরও গভীর হয়ে উঠল। নেহারা রান্নাঘর থেকে দু কাপ চা বানিয়ে ড্রয়িংরুমে নিয়ে এল। রুদ্রায়ন তখন ল্যাপটপে অফিসের কোনো জরুরি কাজ দেখছিল। নেহারা তার সামনে কাপটা রেখে একপাশে দাঁড়াতে গিয়েই হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো।

 

ঝটপট রিফ্লেক্সে রুদ্রায়ন ল্যাপটপ সরিয়ে এক টানে নেহারার হাত ধরে নিজের কাছে টেনে নিল। মুহূর্তের মধ্যে তাদের মাঝের দূরত্বটুকু শূন্যে মিলিয়ে গেল। রুদ্রায়নের শক্ত বাহুর বেষ্টনীতে আটকে পড়ে নেহারার বুক তখন দ্রুত স্পন্দিত হচ্ছে। রুদ্রায়ন তাকে শক্ত করে ধরে নিজের বুকের খুব কাছে টেনে নিয়ে এল। তার মুখের গরম নিঃশ্বাস নেহারার কপালের চুলগুলোকে উড়িয়ে দিল।

 

খুব কাছ থেকে নেহারার চোখে চোখ রেখে রুদ্রায়ন ফিসফিস করে বলল, "সাবধানে চলতে পারো না? একটুতেই তো তুমি পড়ে যাও। সারাক্ষণ কী এমন অমনোযোগী থেকো তুমি?"

 

নেহারার গালুটু লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। সে রুদ্রায়নের প্রশস্ত বুকের ওপর হাত রেখে আলতো করে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই রুদ্রায়ন তার কোমরটা আরও একটু শক্ত করে নিজের বাহudohoray আটকে ধরে আরও কাছে টেনে নিল। ঘরের বাইরের বৃষ্টির শব্দ আর ভেতরের এই নিবিড় নৈকট্য তাদের দুজনকে এক অন্য পৃথিবীতে নিয়ে গেল। রুদ্রায়নের চোখের গভীর চাউনিতে যে অগাধ আকুলতা ও না বলা ভালোলাগা ফুটে উঠল, তা নেহারার সব অভিমান নিমেষে মুছে দিল।

 

সেদিনের পর থেকে তাদের সম্পর্কের সমীকরণ পুরো পাল্টে গেল। রুদ্রায়ন আর আগের মতো উদাসীন থাকে না। অফিস থেকে ফেরার সময় নেহারার পছন্দের কিছু না কিছু ঠিক নিয়ে আসে। রাতের বেলা ডিনারের পর দুজনে মিলে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ঠান্ডা বাতাসে দীর্ঘক্ষণ গল্প করে। রুদ্রায়ন এখন তার কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যেই নেহারার চোখে চোখ রেখে জানতে চায় তার মনের কথা। নেহারার নীরব হাসি আর চোখের ভাষা এখন রুদ্রায়ন খুব সহজেই পড়তে শিখে গেছে।

 

কিন্তু তাদের এই সুন্দর মুহূর্তগুলোর আড়ালে এক গভীর ভালোবাসার টান তৈরি হলেও, মনের আসল কথাগুলো এখনো যেন অধরা রয়ে গেছে। একে অপরকে ভালোবাসার কথা মুখে কেউ বলেনি, কিন্তু তাদের প্রতিটি স্পর্শ আর চোখের চাউনি সেই অব্যক্ত প্রেমের গল্পই লিখে চলেছে।

বর্ষার দিনগুলো পেরিয়ে শরৎকালের মিষ্টি রোদ তখন চারপাশটা ভরিয়ে তুলেছে। জমিদার বাড়ির বিশাল আঙিনায় এখন আর আগের মতো ঠান্ডা বা থমথমে পরিবেশ নেই। বরং সেখানে সারাক্ষণ এক অদৃশ্য সুখের ছোঁয়া লেগে থাকে। রুদ্রায়ন আর নেহারার সম্পর্কের বরফ পুরোপুরি গলে একাকার হয়ে গেছে। এখন আর তাদের মাঝে কোনো দূরত্ব নেই, নেই কোনো নীরবতার দেওয়াল।

 

আজ ছুটির দিন। সকাল থেকেই আকাশটা একদম নীল আর মেঘহীন। রুদ্রায়ন নিজের রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটা বই পড়ছিল। কিন্তু তার মন বইয়ের পাতার চেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিল ঘরের ভেতর হেঁটে বেড়ানো নেহারার প্রতি নজর রাখতে। নেহারা হালকা নীল রঙের একটা সুতির শাড়ি পরে ঘরের কাজ গুছিয়ে নিচ্ছিল। তার চুলে লাগানো ছোট্ট খোপা থেকে একটা চুল আলগা হয়ে মুখের ওপর এসে পড়ছিল, আর সে বারবার হাত দিয়ে তা সরিয়ে দিচ্ছিল।

 

রুদ্রায়ন আর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না। সে বইটা টেবিলে রেখে ধীর পায়ে ঘরের ভেতর প্রবেশ করল এবং পিছন দিক থেকে এসে আচমকা নেহারার দুটি হাত নিজের মুঠোয় বন্দी করে ফেলল। আকস্মিক এই ছোঁয়ায় নেহারা চমকে উঠল। সে ঘুরে দাঁড়াতেই রুদ্রায়ন তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। তাদের মধ্যে এখন আর এক ইঞ্চি ফাঁকও নেই।

 

রুদ্রায়নের চোখের গভীরে তাকিয়ে নেহারার বুক কেঁপে উঠল। সে আলতো করে মাথা নিচু করতে চাইলে রুদ্রায়ন তার চিবুকটা নিজের আঙুলের ডগায় ধরে উঁচুতে তুলল। অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং গভীর কণ্ঠে রুদ্রায়ন ফিসফিস করে বলল, "কতটা বোকা আমি বলো তো, নেহারা? যে মানুষটাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় বোঝা ভেবেছিলাম, আজ সেই মানুষটাই আমার জীবনের সবচেয়ে দামি এবং সুন্দর অংশ হয়ে গেছে। তোমাকে ছাড়া একটা মুহূর্তও এখন আমার ভালো লাগে না।"

 

নেহারার চোখদুটো আনন্দের জলে ভিজে এল। এতদিন ধরে জমানো সব অভিমান, সব কষ্ট যেন এক নিমিষে উবে গেল। সে নিজের দুহাত রুদ্রায়নের প্রশস্ত কাঁধের ওপর রেখে কম্পিত গলায় বলল, "আপনার এই পরিবর্তনটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি তো ভেবেছিলাম এই সম্পর্কটা সারাজীবন একটা অভিশাপ হয়েই থাকবে।"

 

"কখনোই না," রুদ্রায়ন তার কথার মাঝেই বলে উঠল। সে নেহারার কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে এক গভীর স্নেহের চুম্বন আঁকল। সেই স্পর্শে নেহারার সর্বাঙ্গ শিহরিত হয়ে উঠল। রুদ্রায়ন তাকে আরও শক্ত করে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, "আমাদের এই সম্পর্কটা কোনো জোর করা বোঝাপড়া নয়, এ হলো আমাদের দুই হৃদয়ের এক গভীর মেলবন্ধন। কথা দাও, সারাজীবন এভাবেই আমার পাশে থাকবে?"

 

নেহারা কোনো দ্বিধা না করে রুদ্রায়নের বুকে মাথা এলিয়ে দিয়ে মৃদু অথচ দৃঢ় স্বরে উত্তর দিল, "সারাজীবন কেন, প্রতিটা জন্মেই আমি আপনার এই ভালোবাসার ছায়ায় থাকতে চাই।"

 

বাইরে তখন শরৎকালের ঝিরঝিরে বাতাস বইছে, আর ঘরের ভেতর দুই বিপরীত মেরুর মানুষ দুটি সম্পূর্ণ এক হয়ে গেছে। কিছু অনুভূতি সত্যি শব্দে প্রকাশ করতে হয় না, সেগুলোর গভীরতা বোঝানোর জন্য কেবল একটা ভালোবাসার মানুষ আর দুটো জড়িয়ে থাকা হাতই যথেষ্ট। তাদের এই অসম্পূর্ণ বৃত্তটা অবশেষে এক পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল, যেখানে ভালোবাসার উষ্ণতা চিরকালের মতো স্থায়ী হয়ে গেল।

....
👁 53