বিকেলের মৃদু আলো জানালার ভারী পর্দা ভেদ করে ঘরে এসে পড়ছে, কিন্তু সেই আলোর কোনো উষ্ণতা নেই মেহরিনের মনে। চারদিকে এক অদ্ভুত নীরবতা, যা কেবল দেয়ালঘড়ির টিকটিক শব্দে ভেঙে যায়। একই ছাদের নিচে তারা বাস করে, অথচ এই দূরত্ব কয়েক আলোকবর্ষের চেয়েও দীর্ঘ মনে হয়। ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে মেহরিন তার হাতের চায়ের কাপটার দিকে তাকিয়ে ছিল। চা ঠান্ডা হয়ে গেছে, তবুও সে কাপটা নামায়নি।
কিছুক্ষণ পর ভারী বুটের আওয়াজে ঘরের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠল। দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করল আরিশ। তার পরনে অফিসের ফর্মাল স্যুট, টাইটা কিছুটা ঢিলে করা। তার চেহারার থমথমে ভাব আর চোখের ক্লান্তির আড়ালে এক অজানা কাঠিন্য সবসময় লেপ্টে থাকে। আজকেও তার ব্যতিক্রম হলো না। মেহরিনের দিকে একবার চোখ তুলেও তাকাল না সে। ব্যাগটা সোফার এক কোণে ছুড়ে ফেলে সে বাথরুমের দিকে এগিয়ে গেল।
মেহরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বিয়ের পর কেটে গেছে প্রায় আটটি মাস। এই আট মাসে আরিশের কাছ থেকে সে উষ্ণ কোনো কথা তো দূরের কথা, একটা সহজ চাহনিও পায়নি। আরিশের এই কঠোর ব্যবহার, কথায় কথায় খামখেয়ালি মেজাজ আর দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা মেহরিনের জীবনটাকে এক অসহ্য যন্ত্রণায় রূপ দিয়েছে। কিন্তু আজ মেহরিনের ভেতরে একটা তীব্র অভিমানের ঝড় বইছে। সে আর এই নীরবতা সহ্য করতে পারছে না।
রাতের খাবার টেবিলে পিনপতন নীরবতা। ডাইনিং টেবিলের দুই প্রান্তে তারা মুখোমুখি বসা। প্লেটে খাবার সাজানো থাকলেও কেউ খাচ্ছে না।
আরিশ ঠান্ডা গলায় বলল, "খাবার টেবিলে এত চুপচাপ কেন? নাকি সারাদিন ঘরে বসে তোমার কাজ শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলা?"
মেহরিন আর চুপ থাকতে পারল না। তার বুক চিরে বেরিয়ে এল কষ্টের দীর্ঘশ্বাস, আর চোখের কোণে জমে থাকা জল গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল। সে কাঁপা গলায় বলল, "কী দোষ করেছি আমি, আরিশ? কেন তুমি এমন করো আমার সাথে? মানুষ তো বিয়ে করে কাছাকাছি আসার জন্য, আর তুমি তো দিন দিন আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছ। একই ছাদের নিচে দুজন অপরিচিত মানুষের মতো বেঁচে আছি আমরা। যদি এতই ঘৃণা করো আমাকে, তবে বিয়ে করলে কেন?"
আরিশের চামচটা প্লেটে পড়ে একটা তীক্ষ্ণ শব্দ হলো। সে এক ঝটকায় মাথা তুলল। তার চোখ দুটি রক্তিম, কপালে ক্ষোভের বলিরেখা। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, "ঘৃণা? তুমি বুঝবে না মেহরিন, সবকিছুর পেছনে কারণ থাকে। নিজের সীমানার মধ্যে থাকো, বেশি প্রশ্ন করো না বলছি!"
"না, আজ আমি প্রশ্ন করব!" মেহরিন টেবিল থেকে উঠে দাঁড়াল। তার চোখে তখন অভিমানের আগুন। "আমি তোমার স্ত্রী, তোমার ঘরের মানুষ। তোমার এই কঠিন দেওয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার অধিকার আমার আছে।"
মেহরিনের এই সাহসিকতা দেখে আরিশ যেন মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। সে দ্রুত চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল এবং বড় বড় পায়ে মেহরিনের সামনে এসে দাঁড়াল। তাদের মাঝখানের দূরত্ব মাত্র কয়েক ইঞ্চি। আরিশের দীর্ঘ উচ্চতা এবং তার শরীরের শক্তিশালী উপস্থিতি মেহরিনকে এক অদ্ভুত উত্তেজনায় কাঁপিয়ে দিল।
আরিশ তার শক্ত হাত দিয়ে মেহরিনের বাহু খপ করে ধরে ফেলল। হাতের সেই শক্ত মুঠোটা ব্যথাময় হলেও তার ভেতরে এক তীব্র কাঁপন ছিল। আরিশ তার মুখের একদম কাছে মুখ নিয়ে এল। তার গরম নিঃশ্বাস মেহরিনের গালের চামড়াকে ছুঁয়ে গেল। আরিশের চোখের গভীরের সেই রহস্যময় আগুন মেহরিনের সমস্ত প্রতিরোধক্ষমতা নিমেষে ধূলিস্যাৎ করে দিল।
আরিশ ফিসফিস করে বলল, "তুমি ভাবছ তুমি আমাকে চেনো? তুমি আমার এই কাঠিন্যের আসল অর্থ জানো না, মেহরিন। আগুন নিয়ে খেলছ তুমি। যদি আমার কাছে টানো, পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।"
মেহরিনের হৃদস্পন্দন তখন পাগলের মতো ছুটছে। রাগ আর অভিমানের আড়ালে এই চরম নৈকট্য, আরিশের আঙুলের উষ্ণ স্পর্শ এবং তার চোখের সেই তীব্র আকর্ষণ মেহরিনকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। সে আরিশের চোখের দিকে তাকিয়ে রুদ্ধশ্বাসে বলল, "পুড়ে যেতেই তো চেয়েছি... যদি সেই আগুনে একটুও ভালোবাসার আঁচ থাকে।"
আরিশের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। তার চোখের কঠোরতা মুহূর্তের জন্য গলে গিয়ে এক গভীর আর্তনাদে রূপ নিল। কিন্তু পরক্ষণেই সে নিজেকে সামলে নিল এবং মেহরিনকে এক ধাক্কায় কিছুটা দূরে সরিয়ে দিয়ে ঝড়ের বেগে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল, পেছনের দরজা সজোরে বন্ধ করে।
মেহরিন ঘরের মাঝে একা দাঁড়িয়ে হাঁপাতে লাগল। তার ঠোঁটে এক অদ্ভুত তৃপ্তির হাসি আর হৃদয়ে তখন ঝড়ের তাণ্ডব। সে বুঝতে পেরেছে, আরিশের এই কঠিন খোলসের নিচে এমন কিছু একটা লুকিয়ে আছে, যা সে সামনে আনবেই।
দরজা সজোরে বন্ধ হওয়ার শব্দে পুরো ঘরটা যেন কেঁপে উঠল। মেহরিন এক দৃষ্টিতে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। তার শরীরের ভেতরে তখনো আরিশের আঙুলের সেই শক্ত গ্রিপের রেশ রয়ে গেছে। রাগ, অভিমান আর এক অজানা উত্তেজনার মিশ্রণে তার বুকটা দ্রুত স্পন্দিত হচ্ছিল। সে বুঝতে পারছিল, আরিশের এই পালিয়ে যাওয়া কোনো সাধারণ বিরক্তি নয়; এটা পালানোর চেষ্টা—নিজের ভেতরের কোনো এক গভীর সত্যকে তার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখার মরিয়া প্রয়াস।
ঘড়ির কাঁটা রাত দুটো ছুঁইছুই। পুরো বাড়িটায় পিনপতন নীরবতা। মেহরিনের চোখে এক ফোঁটাও ঘুম নেই। সে বিছানা ছেড়ে আলতো পায়ে ড্রয়িংরুমের দিকে এগিয়ে গেল। ঘরের এক কোণে আরিশের পড়ার টেবিলটা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে আছে। সেখানে কিছু ফাইলপত্র ছড়ানো। সাধারণত আরিশ তার স্টাডি রুমে কাউকে প্রবেশ করতে দেয় না, কিন্তু আজ মেহরিনের ভেতরের কৌতূহল এবং এক অদ্ভুত জেদ সমস্ত বাধা অতিক্রম করে গেল।
টেবিলের ওপর রাখা ফাইলগুলোর মধ্যে হাতড়াতে গিয়ে তার হাত একটা পুরোনো চামড়ার ডায়রির ওপর গিয়ে থামল। ডায়রিটার পাতাগুলো বেশ পুরোনো, ওপরের প্রচ্ছদটা কিছুটা মলিন। মেহরিন দ্বিধাগ্রস্ত হাতে ডায়রিটা তুলে নিল এবং প্রথম পাতাটা উল্টাল। আরিশের হাতের লেখা—পরিষ্কার কিন্তু কিছুটা কোণাকোণি।
পাতা উলটাতে উলটাতে হঠাৎ একটা পাতা থেকে একটা পুরোনো ফটোগ্রাফ নিচে খসে পড়ল। মেহরিন দ্রুত মেঝে থেকে ছবিটা তুলে টেবিলের ল্যাম্পের আলোয় নিয়ে এল। ছবিটা দেখে তার হাত কেঁপে উঠল। সেটা ছিল একটি ছোট মেয়ের ছবি, যার চোখে একরাশ ভীতি আর বিষাদ। ছবির পেছনে পেন্সিলে লেখা: "যেদিন আমি রক্ষা করতে পারিনি..."
ঠিক সেই মুহূর্তেই পড়ার ঘরের ভারী দরজাটা হড়াস করে খুলে গেল। মেহরিন চমকে উঠে পেছনে তাকাল।
দরজায় দাঁড়িয়ে আছে আরিশ। তার শার্টের বোতামগুলো খোলা, চুলগুলো উসকোখুসকো। তার চোখ দুটি লাল এবং তাতে রাগের চেয়েও অনেক বেশি ভয় ও ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। সে যখন দেখল মেহরিনের হাতে তার সেই পুরোনো ডায়রি আর ছবি, তখন তার মুখ দিয়ে এক অদ্ভুত আর্তনাদ বেরিয়ে এল।
"এটা তুমি কেন খুললে? কে তোমাকে অধিকার দিয়েছে আমার ব্যক্তিগত জিনিসে হাত দেওয়ার?" আরিশের গলা কাঁপছিল। সে বিদ্যুৎগতিতে এগিয়ে এসে মেহরিনের হাত থেকে ডায়রিটা ছিনিয়ে নিল এবং ছুড়ে ফেলে দিল দূরে।
মেহরিন ভয় পাওয়ার পরিবর্তে এবার এক অদ্ভুত জেদ আর মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল। সে এক পা সামনে এগিয়ে গিয়ে আরিশের চোখের দিকে সোজা তাকাল। তার গলায় কোনো কাঁপুনি ছিল না, বরং ছিল এক গভীর দৃঢ়তা।
সে শান্ত অথচ শক্ত গলায় বলল, "কতদিন পালিয়ে বেড়াবে, আরিশ? কিসের এই ভয়? কার কথা লুকিয়ে রাখছ এই ডায়রিতে? কেন নিজের ভেতরের মানুষটাকে এমন বন্দি করে রেখেছ? তুমি কি ভাবছ তোমার এই কঠিন খোলস দেখে আমি দূরে সরে যাব? ভুল ভাবছ তুমি!"
আরিশ যেন আর সহ্য করতে পারল না। তার সমস্ত রাগ, সব প্রতিরোধ এক নিমেষে ভেঙে চৌচির হয়ে গেল। সে মেহরিনের দুই কাঁধ শক্ত করে চেপে ধরল এবং প্রায় আর্তনাদের সুরে বলে উঠল, "তুমি বোঝো না কেন মেহরিন! কিছু ক্ষত এমন থাকে যা কাউকে দেখালে সেও পচে যায়। আমি তোমাকে আমার অন্ধকারের মধ্যে টানতে চাই না। অতীতে আমি এমন একজনকে হারিয়েছি যাকে আমি রক্ষা করতে চেয়েছিলাম... আজ যদি তোমার কিছু হয়ে যায়, আমি বাঁচব না!"
কথাটা শেষ করেই আরিশ যেন নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল। তার ভেতরের সমস্ত বাঁধ ভেঙে প্লাবনের মতো আছড়ে পড়ল মেহরিনের ওপর। সে মেহরিনকে এক টানে নিজের আরও কাছে টেনে নিল, যাতে তাদের মাঝখানে বাতাসের টুকরোটাও ঢোকার জায়গা না পায়।
আরিশের বুক তখন হাঁপানির মতো দ্রুত ওঠানামা করছে। তার চোখ দুটোতে এক তীব্র ক্ষুধা ও আকুলতা। মেহরিন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে তার নিজের হাত দুটি বাড়িয়ে দিয়ে আরিশের ঘাড় জড়িয়ে ধরল।
আরিশ আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করল না। তার উষ্ণ ঠোঁটগুলো মেহরিনের থমকে যাওয়া ঠোঁটের ওপর নেমে এল। সেই চুম্বনে কোনো আলস্য ছিল না, ছিল মাসের পর জমে থাকা অভিমান, গভীর আকুলতা আর হার না মানা ভালোবাসার এক তীব্র বিস্ফোরণ। মেহরিন তার চোখের পাতা বুজে ফেলল এবং আরিশের এই অগাধ ভালোবাসার বন্যায় নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করে দিল। ঘরের সেই ম্লান আলোর নিচে দুজন মানুষ যেন এক হয়ে গেল, যেখানে সমস্ত দূরত্ব, সমস্ত অতীত এক লহমায় মুছে গেল।
বাইরে তখন ঝিরঝিরে বৃষ্টি পড়ছে। ড্রয়িংরুমের সেই মৃদু আলোয় মেহরিন আর আরিশের নিঃশ্বাস যেন এক সুতোয় গাঁথা। রাতের সেই তীব্র আবেশ কেটে যাওয়ার পরও ঘরের বাতাস ভারী হয়ে ছিল এক অদম্য উষ্ণতায়। আরিশ তার বাহুডোরে মেহরিনকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরে রেখেছিল, যেন পৃথিবী উল্টে গেলেও সে আর এই বাঁধন আলগা করবে না। তার শক্ত বুকের সাথে লেপ্টে শুয়ে মেহরিন অনুভব করছিল আরিশের হৃৎস্পন্দন—যে হৃদস্পন্দন এতদিন কেবল কাঠিন্য আর ভয়ের চাদরে ঢাকা ছিল, আজ তা সম্পূর্ণ মুক্ত ও শান্ত।
আরিশ তার চিবুকটা মেহরিনের কপাਲের ওপর রাখল। তার আঙুলগুলো মেহরিনের লম্বা চুলে আলতো করে বিলি কাটতে কাটতে অত্যন্ত নরম গলায় বলল, "আজ আর কিছু লুਕাব না, মেহরিন। আমার অতীত নিয়ে আমার মনে যে অপরাধবোধ কাজ করত, আমি ভেবেছিলাম তোমাকে সেই অন্ধকারে জড়ালে তোমাকেও হারিয়ে ফেলব। কিন্তু আজ বুঝলাম, তোমার ছোঁয়া না পেলে আমি নিজেই প্রতিদিন তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিলাম।"
মেহরিন মাথা তুলে আরিশের চোখের দিকে তাকাল। তার চোখে তখন কোনো অভিযোগ ছিল না, ছিল কেবল অগাধ বিশ্বাস আর ভালোবাসা। সে তার নরম হাত দিয়ে আরিশের গালের রুক্ষ দাড়িগুলো ছুঁয়ে দিয়ে বলল, "অতীত কখনো বর্তমানকে গ্রাস করতে পারে না, যদি বর্তমানের মানুষটা হাত শক্ত করে ধরে থাকে। আমি তো কোথাও যাচ্ছি না, আরিশ। তোমার সব অন্ধকার আলো দিয়ে মুছে ফেলার দায়িত্ব আজ থেকে আমার।"
আরিশ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে মেহরিনকে আরও শক্ত করে বুকে টেনে নিয়ে তার ঠোঁটে এক দীর্ঘ, গভীর ও মায়াবী চুমু আঁকল। সেই চুম্বনে কোনো তাড়া ছিল না, ছিল নিখাদ সমর্পণ আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। সমস্ত দেয়াল ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার পর তাদের এই মিলনের গভীরতা যেন ঘরটাকে এক স্বর্গীয় সুখে ভরিয়ে দিল।
পরদিন সকালে যখন জানallর ফাঁক দিয়ে রোদের সোনালী আলো ঘরে এসে পড়ল, তখন এক নতুন পৃথিবীর সূচনা হলো। ড্রয়িংরুমের সেই ছন্নছাড়া পরিবেশ যেন রাতারাতি বদলে গেছে। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে চায়ের সুবাস।
মেহরিন গ্যাস ওভেনের সামনে দাঁড়িয়ে চা তৈরি করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছনে একজোড়া চেনা শক্তিশালী বাহু তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। আরিশ তার মুখটা মেহরিনের ঘাড়ের কাছে গুঁজে দিয়ে মিষ্টি হেসে ফিসফিস করে বলল, "আজ সকালের চা-টা আমার জীবনের সবচেয়ে সেরা চা হবে, কারণ আজ তুমি আমার বউ হিসেবে শুধু আমার নয়, আমার পুরো দুনিয়া জুড়ে আছ।"
মেহরিন লাজুক হাসল এবং গ্যাসের নব ঘুরিয়ে চা নামিয়ে আরিশের দিকে ঘুরে দাঁড়াল। তাদের দুজনের মুখে তখন এক বিজয়ের হাসি, এক নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতি। সমস্ত দূরত্ব মুছে গিয়ে আজ তারা একে অপরের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে মিশে গেছে। ঘরের কোণে পড়ে থাকা সেই পুরোনো ডায়রিটা তখন টেবিলের এক কোণে বন্ধ হয়ে পড়ে রইল, যার ভেতরকার সব অন্ধকার আজ আরিশ আর মেহরিনের ভালোবাসার উষ্ণ আলোয় চিরতরে হারিয়ে গেছে।
....