হারানোর ভয়ে আটকে রাখা

ঢাকার উত্তরায় সন্ধ্যার আকাশটা যেন আগুনের রং ধরেছিল। নভেম্বরের শীতের শুরু, রাস্তায় হালকা কুয়াশা। রিদওয়ান সেদিন অফিস থেকে ফিরছিল। মার্কেটিং ফার্মে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ। বেতন ভালো, কাজের চাপও কম নয়। বাসার কাছে পৌঁছোনোর আগেই সে থামল একটা ছোট চায়ের দোকানে। গরম চা আর সিগারেটের ধোঁয়ায় মুখ ঢেকে বসেছিল।
ঠিক তখনই নুহা এলো। কালো শার্ট আর জিন্সের প্যান্ট। চুলগুলো খোলা, কাঁধ পর্যন্ত। হাতে একটা ল্যাপটপ ব্যাগ। সেও চা চাইল। রিদওয়ান তার দিকে তাকিয়ে রইল। নুহার চোখদুটো গভীর কালো, ঠোঁট পাতলা কিন্তু লালচে। সে হাসল যখন চায়ের কাপ হাতে পেল।
“আপনিও এখানে আসেন?” রিদওয়ান জিজ্ঞেস করল।
নুহা তাকাল। “হ্যাঁ। অফিস কাছে। আপনি?”
“আমিও।”
সেদিন শুধু নাম বিনিময় হলো। রিদওয়ান—নুহা। পরের দিন আবার দেখা। তারপর আবার। এক সপ্তাহের মধ্যে তারা ফেসবুকে যোগাযোগ করল। নুহার প্রোফাইলে ছবি কম, কিন্তু প্রতিটা ছবিতে তার হাসি যেন আলাদা। রিদওয়ান রাতে তার মেসেজ পড়ত। কখনো কখনো সে নিজে থেকে কল করত।
প্রথম ডেট হলো ধানমন্ডির একটা ক্যাফেতে। নুহা এলো হালকা গোলাপি হিজাব পরে, যদিও মাথায় ঢেকে রাখেনি। শুধু ঘাড়ের চুলগুলো আটকে রেখেছিল। রিদওয়ান তার জন্য কফি অর্ডার করল। তারা কথা বলল কাজ নিয়ে, পরিবার নিয়ে। নুহার বাবা সরকারি চাকরি করেন, মা ঘরে থাকেন। রিদওয়ানের বাবা ব্যবসায়ী, মা অসুস্থ থাকেন অনেক সময়।
কথা বলতে বলতে নুহার হাত টেবিলের উপর রাখা ছিল। রিদওয়ান ধীরে ধীরে তার আঙুল স্পর্শ করল। নুহা সরে গেল না। সে শুধু তাকাল। চোখে একটা আগুন জ্বলছিল।
সে রাতে রিদওয়ান তাকে বাসায় পৌঁছে দিল। গাড়িতে তারা কথা কম বলল। শুধু হাত ধরাধরি। নুহার হাত গরম ছিল। রিদওয়ান তার হাতের পিঠে আঙুল বুলিয়ে দিল। নুহা চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিল।
দ্বিতীয় ডেটে তারা গেল উত্তরার একটা পার্কে। রাতের অন্ধকারে গাছের নিচে বসল। রিদওয়ান নুহার কাঁধে হাত রাখল। নুহা তার দিকে ঝুঁকল। তাদের ঠোঁট মিলল। প্রথম চুমুটা ছিল ধীর, সাবধানে। তারপর গভীর। রিদওয়ানের জিহ্বা নুহার ঠোঁটের ফাঁকে ঢুকে গেল। নুহা তার জিভ চেপে ধরল। হাত গিয়ে পড়ল রিদওয়ানের বুকে।
তারা সেখানেই বেশিক্ষণ থাকল। রিদওয়ান নুহার কোমর জড়িয়ে ধরল। নুহার শরীর তার বুকের সাথে লেগে গেল। পোশাকের নিচে নুহার স্তনগুলো শক্ত হয়ে উঠছিল। রিদওয়ান হাত নিয়ে গিয়ে সেখানে স্পর্শ করল। নুহা একটা নিঃশ্বাস ফেলল, কিন্তু বাধা দিল না। তার পরিবর্তে সে রিদওয়ানের ঘাড়ে চুমু খেল। জিহ্বা দিয়ে চেটে নিল।
সে রাতে তারা আরও এগিয়ে গেল। রিদওয়ানের ফ্ল্যাটে। নুহা প্রথমে দ্বিধায় ছিল। “আমি এখনো তৈরি না,” সে বলেছিল। রিদওয়ান চুপ করে তার হাত ধরে রইল। “যতক্ষণ না তুমি চাও, কিছু হবে না।”
কিন্তু নুহা চেয়েছিল। তারা বিছানায় শুয়ে গেল। রিদওয়ান নুহার শার্ট খুলল ধীরে ধীরে। ভিতরের ব্রাটা কালো। সে খুলে ফেলল। নুহার স্তনগুলো মাঝারি সাইজের, বোঁটা গাঢ় লাল। রিদওয়ান মুখ নিয়ে গিয়ে একটাকে চুষতে শুরু করল। নুহার পিঠ বেঁকে গেল। তার হাত রিদওয়ানের চুলে আটকে গেল।
রিদওয়ান নুহার জিন্স খুলল। প্যান্টির ভিতরটা ভিজে ছিল। সে আঙুল ঢুকিয়ে দিল। নুহা কামড় দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরল যাতে শব্দ না হয়। রিদওয়ান আরেক আঙুল ঢোকাল। নুহার শরীর কেঁপে উঠল। সে রিদওয়ানের হাত চেপে ধরল। “আরও…”
রিদওয়ান নামল। তার জিহ্বা নুহার ভিতরে ঢুকে গেল। নুহা দুই হাত দিয়ে বালিশ চেপে ধরল। পা দুটো ছড়িয়ে দিল। রিদওয়ান চেটে চুষে নিল। নুহার রস তার মুখে লেগে গেল। নুহা প্রথমবার অর্গাজম পেল সে রাতে। তার শরীর কাঁপতে কাঁপতে শক্ত হয়ে গেল, তারপর আলগা।
রিদওয়ান নিজের পোশাক খুলল। তার লিঙ্গ শক্ত হয়ে উঠেছিল। নুহা তাকিয়ে দেখল। সে হাত বাড়িয়ে ধরল। আস্তে আস্তে নাড়াল। তারপর মুখ নিয়ে গিয়ে চুষতে শুরু করল। রিদওয়ানের হাত নুহার মাথায় গিয়ে পড়ল। সে ধীরে ধীরে ঠেলল। নুহা গলায় নিয়ে নিল যতটা পারল।
তারপর রিদওয়ান উপরে উঠল। নুহার পা দুটো তার কোমরে জড়িয়ে দিল। ধীরে ধীরে ঢুকল। নুহা চিৎকার করে উঠল। ব্যথা আর আনন্দ মিশে। রিদওয়ান থামল। “ব্যথা পাচ্ছ?”
“না… চালিয়ে যাও।”
রিদওয়ান ধীরে শুরু করল। তারপর গতি বাড়াল। বিছানা কাঁপতে লাগল। নুহার স্তনগুলো উপরে নিচে নাচছিল। রিদওয়ান এক হাত দিয়ে একটা স্তন চেপে ধরল, অন্য হাত দিয়ে নুহার ক্লাইটরিস ঘষল। নুহা আবার অর্গাজম পেল। তার ভিতর শক্ত হয়ে রিদওয়ানের লিঙ্গ চেপে ধরল। রিদওয়ানও আর থাকতে পারল না। সে বের করে বাইরে ছেড়ে দিল। গরম তরল নুহার পেটে ছড়িয়ে পড়ল।
তারা পাশাপাশি শুয়ে রইল। ঘামে ভেজা শরীর। রিদওয়ান নুহার চুলে হাত বুলিয়ে দিল। “আমি তোমাকে ভালোবাসি,” সে প্রথমবার বলল।
নুহা চোখ খুলল। “এত তাড়াতাড়ি?”
“হ্যাঁ। আমি জানি।”
নুহা কিছু বলল না। শুধু তার বুকে মাথা রাখল।
সম্পর্কটা শুরু হলো এভাবেই। প্রতিদিন দেখা। অফিস শেষে রিদওয়ানের ফ্ল্যাটে। কখনো নুহার বাসায়, যখন কেউ থাকত না। রাতের পর রাত তারা একে অপরের শরীর চেনে নিল। নুহা শিখল কীভাবে রিদওয়ানকে বেশি আনন্দ দিতে হয়। রিদওয়ান শিখল নুহার শরীরের কোন জায়গায় স্পর্শ করলে সে কাঁপে।
এক রাতে তারা বারান্দায় দাঁড়িয়ে চুমু খাচ্ছিল। নিচে রাস্তার আলো। রিদওয়ান নুহার পোশাকের ভিতর হাত ঢোকাল। নুহা তার হাত চেপে ধরল। “কেউ দেখতে পারে।”
“দেখুক।” রিদওয়ান তার কানে ফিসফিস করল। তার আঙুল নুহার ভিতরে ঢুকে গেল। নুহা দাঁড়িয়েই অর্গাজম পেল। পা দুটো কেঁপে গেল। রিদওয়ান তাকে ধরে রাখল।
কিন্তু সন্দেহটা এলো ধীরে ধীরে।
নুহার অফিসে একটা নতুন ছেলে জয়েন করল। আরিফ। নুহা কখনো কখনো তার কথা বলত। “আরিফ আজ প্রজেক্টে সাহায্য করেছে।” রিদওয়ান শুনত, কিন্তু চোখ কুঁচকে যেত।
একদিন নুহা দেরি করে ফিরল। রিদওয়ান ফোনে কল করল। “কোথায়?”
“অফিসে। কাজ শেষ হচ্ছে না।”
“কে আছে সাথে?”
“আরিফ আর দুইজন।”
রিদওয়ান চুপ করে গেল। পরে যখন নুহা এলো, সে জিজ্ঞেস করল, “আরিফ তোমাকে ড্রপ দিয়েছে?”
“না। উবারে এসেছি।”
রিদওয়ান বিশ্বাস করল না। সে নুহার ফোন চেক করতে চাইল। নুহা দিল না। “আমার প্রাইভেসি আছে।”
সে রাতে তারা ঝগড়া করল। রিদওয়ান চিৎকার করল। “তুমি আমার। অন্য কারো সাথে সময় কাটাবে না।”
নুহা কেঁদে ফেলল। “তুমি আমাকে বিশ্বাস করো না?”
রিদওয়ান পরে ক্ষমা চাইল। নুহাকে জড়িয়ে ধরল। চুমু খেল। তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিল। তারা আবার সেক্স করল। গভীর, জোরে। রিদওয়ান নুহাকে পেছন থেকে নিল। নুহার চুল ধরে টানল। নুহা চিৎকার করল আনন্দে। শেষে তারা ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে শুয়ে রইল।
কিন্তু সন্দেহটা ফিরে আসল।
নুহা যখন বান্ধবীদের সাথে বাইরে যেত, রিদওয়ান মেসেজ পাঠাত। “কখন ফিরবে?” “কে আছে?” নুহা উত্তর দিত, কিন্তু বিরক্ত হতো।
এক রাতে নুহা দেরি করে এলো। রিদওয়ান দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল। “কোথায় ছিলে?”
“সারাহর বাসায়। মুভি দেখেছি।”
রিদওয়ান তার গলায় গন্ধ নিল। “পুরুষের গন্ধ পাচ্ছি।”
নুহা সরে গেল। “তুমি পাগল হয়ে গেছো।”
রিদওয়ান তার হাত ধরে টানল। “বলো সত্যি।”
নুহা কেঁদে ফেলল। “আমি কিছু করিনি। বিশ্বাস করো।”
সে রাতে তারা আবার মিলিত হলো। রিদওয়ান নুহাকে বিছানায় ফেলে দিল। জোরে জোরে নিল। নুহার শরীরে দাগ পড়ল। নুহা ব্যথায় চিৎকার করল, কিন্তু থামল না। শেষে তারা দুজনেই কাঁদল। রিদওয়ান ক্ষমা চাইল। “আমি তোমাকে হারাতে চাই না। তাই এমন করি।”
নুহা তার বুকে মাথা রাখল। “আমিও চাই না। কিন্তু তুমি আমাকে শ্বাসরোধ করছো।”
রিদওয়ান চুপ করে রইল। বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল। জানালার কাচ ভিজে যাচ্ছিল।
সম্পর্কটা চলতে থাকল। প্রেম আর সন্দেহের মধ্যে। রাতের পর রাত তারা একে অপরের শরীর নিয়ে ব্যস্ত থাকত। নুহার শরীর রিদওয়ানের স্পর্শে কাঁপত। রিদওয়ানের লিঙ্গ নুহার ভিতরে ঢুকলে নুহা চোখ বন্ধ করে আনন্দে ডুবে যেত। তারা নতুন নতুন জায়গায় চেষ্টা করত। বাথরুমে, রান্নাঘরে, এমনকি গাড়িতেও।
কিন্তু প্রতিবার ঝগড়ার পর শান্তি আসত শুধু কয়েকদিনের জন্য। তারপর আবার একই কথা। নুহার ফোন। নুহার অফিসের সহকর্মী। নুহার হাসির ধরন।
একদিন নুহা রিদওয়ানকে বলল, “আমাকে একটু স্বাধীনতা দাও।”
রিদওয়ান তার হাত ধরে রাখল। “আমি পারছি না। তোমাকে হারানোর ভয় পাই।”
নুহা তার চোখের দিকে তাকাল। “ভালোবাসা মানে আটকে রাখা না।”
রিদওয়ান উত্তর দিল না। শুধু তাকে জড়িয়ে ধরল। নুহার শরীর তার বুকের সাথে লেগে রইল। বাইরে ঢাকার রাত নীরব হয়ে যাচ্ছিল।
কিন্তু দুজনেরই জানা ছিল, এই শান্তি বেশিদিন টিকবে না।
বৃষ্টি থেমে গিয়েছিল, কিন্তু ঢাকার রাতটা এখনো ভারী। রিদওয়ানের ফ্ল্যাটে জানালা খোলা। ঠান্ডা হাওয়া ঢুকছিল। নুহা বিছানায় শুয়ে ছিল, চোখ খোলা। রিদওয়ান পাশে শুয়ে তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। কয়েক ঘণ্টা আগেই তারা ঝগড়া করেছে। তারপর আবার মিলেছে। শরীরের ঘাম এখনো শুকায়নি।
নুহা পিছন ফিরে তাকাল। “তুমি কি সত্যিই বিশ্বাস করো যে আমি তোমাকে ঠকাচ্ছি?”
রিদওয়ান চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, “আমি ভয় পাই। তোমাকে হারানোর ভয়।”
নুহা উঠে বসল। চাদরটা বুক পর্যন্ত টেনে নিল। “ভয় থাকবে। কিন্তু এভাবে চলবে না। প্রতিদিন ফোন চেক, প্রতিদিন প্রশ্ন… আমি ক্লান্ত।”
রিদওয়ান তার হাত ধরল। “আমি চেষ্টা করব। সত্যি।”
নুহা তার দিকে তাকিয়ে রইল। চোখে ক্লান্তি। তারপর সে ঝুঁকে পড়ে রিদওয়ানের ঠোঁটে চুমু খেল। ধীর চুমু। রিদওয়ান তাকে টেনে নিল কাছে। চাদর সরে গেল। নুহার নগ্ন শরীর আবার তার হাতে এলো।
রিদওয়ান নুহাকে উপুড় করে শুইয়ে দিল। পিঠের উপর চুমু খেতে খেতে নেমে গেল। নুহার কোমর ধরে তুলল সামান্য। তারপর জিহ্বা দিয়ে তার গভীরে ঢুকে গেল। নুহা বালিশে মুখ গুঁজে শব্দ চাপল। পা দুটো ছড়িয়ে দিল আরও। রিদওয়ান চেটে চুষে নিল যতক্ষণ না নুহার শরীর কেঁপে উঠল। নুহা অর্গাজম পেল মুখ গুঁজে। তার রস রিদওয়ানের মুখে লেগে গেল।
রিদওয়ান উঠে এসে নুহার উপর শুয়ে পড়ল। এক টানে ঢুকে গেল। নুহা চিৎকার করে উঠল। রিদওয়ান জোরে শুরু করল। বিছানা দেয়ালে ঠোকাঠুকি করছিল। নুহার স্তনগুলো তার হাতে চেপে ধরল। বোঁটা দুটো মুখে নিয়ে চুষল। নুহা নখ দিয়ে তার পিঠ আঁচড়ে দিল। ব্যথা আর আনন্দ মিশে এক হয়ে গেল।
রিদওয়ান নুহাকে উল্টে দিল। এবার নুহা উপরে। সে নিজে থেকে উঠানামা শুরু করল। রিদওয়ানের লিঙ্গ গভীরে ঢুকছিল। নুহার চুল খোলা, ঘামে ভেজা। সে হাত দিয়ে নিজের স্তন চেপে ধরল। রিদওয়ান নিচ থেকে ঠেলছিল। দুজনেই শেষ পর্যন্ত একসাথে পৌঁছাল। নুহা রিদওয়ানের বুকে ঢলে পড়ল। শ্বাস ফেলছিল দ্রুত।
কিন্তু শান্তিটা টিকল না।
পরের সপ্তাহে নুহার অফিসে একটা প্রজেক্ট মিটিং ছিল সন্ধ্যা পর্যন্ত। সে রিদওয়ানকে মেসেজ দিল। “আজ দেরি হবে। আরিফ আর টিম আছে।”
রিদওয়ান উত্তর দিল না। ঘণ্টাখানেক পর কল করল। নুহা ধরল না। আবার কল। আবার। শেষে নুহা ধরল। “কী হয়েছে?”
“কোথায়?”
“অফিসে। বলেছি তো।”
“আরিফের সাথে?”
নুহা চুপ করে গেল। তারপর বলল, “হ্যাঁ। কাজ নিয়ে।”
রিদওয়ান রাগ করে কেটে দিল। নুহা যখন রাত এগারোটার দিকে ফ্ল্যাটে এলো, রিদওয়ান দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল। চোখ লাল।
“তুমি আমাকে অপমান করছো,” সে বলল।
নুহা ব্যাগ নামিয়ে রাখল। “আমি কাজ করেছি। শুধু কাজ।”
রিদওয়ান তার ফোন ছিনিয়ে নিল। পাসওয়ার্ড চাইল। নুহা দিল না। রিদওয়ান চিৎকার করল। “খোলো!”
নুহা কেঁদে ফেলল। “না। এটা আমার।”
রিদওয়ান ফোনটা দেয়ালে ছুড়ে মারল। স্ক্রিন ফেটে গেল। নুহা হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর সে নিজেই বেরিয়ে গেল। রাতে রাস্তায় হেঁটে। রিদওয়ান পেছনে পেছনে গেল। “ফিরে আয়! ক্ষমা চাই!”
নুহা থামল না। একটা রিকশায় উঠে চলে গেল।
সে রাতে রিদওয়ান একা বিছানায় শুয়ে রইল। নুহার গন্ধ এখনো চাদরে লেগে আছে। সে নুহার পুরনো মেসেজগুলো পড়ল। তাদের প্রথম চুমুর কথা মনে পড়ল। নুহার শরীরের উষ্ণতা। কিন্তু সে বুঝতে পারল না কেন সে এমন করে।
পরের দিন নুহা অফিস থেকে কল করল। “আমরা কথা বলব।”
তারা মিলল ধানমন্ডির একটা পার্কে। বিকেলের রোদ। নুহা হিজাব পরে এসেছিল। চোখ ফোলা।
“আমি আর পারছি না,” সে সরাসরি বলল। “তুমি আমাকে ভালোবাসো, কিন্তু তুমি আমাকে নিজের সম্পত্তি মনে করো। প্রতিদিন সন্দেহ, প্রতিদিন নিয়ন্ত্রণ। আমি শ্বাস নিতে পারছি না।”
রিদওয়ান তার হাত ধরতে গেল। নুহা সরিয়ে নিল। “না। আর না।”
“আমি বদলাব,” রিদওয়ান বলল। গলা কেঁপে উঠল। “একবার শেষ সুযোগ দাও।”
নুহা মাথা নাড়ল। “তুমি প্রতিবারই বলো। তারপর আবার একই কাজ। আমি ক্লান্ত, রিদওয়ান। আমি তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু এভাবে বাঁচতে পারব না।”
রিদওয়ান হাঁটু গেড়ে বসল তার সামনে। “আমি ছাড়া তুমি পারবে না। আমিও পারব না।”
নুহা কেঁদে ফেলল। “পারব। সময় লাগবে। কিন্তু পারব।”
সে উঠে দাঁড়াল। রিদওয়ান তার পা জড়িয়ে ধরল। “যাস না।”
নুহা তাকে সরিয়ে দিল আস্তে করে। “বিদায়, রিদওয়ান।”
সে হেঁটে চলে গেল। রিদওয়ান মাটিতে বসে রইল। চারপাশের মানুষ তাকিয়ে দেখছিল। সে কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না। শুধু নুহার পিঠ। ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়া।
সে রাতে রিদওয়ান ফ্ল্যাটে ফিরল। নুহার জিনিসপত্র এখনো ছিল। একটা শার্ট, একটা চিরুনি, একটা বই। সে সেগুলো হাতে নিল। গন্ধ শুঁকল। তারপর বিছানায় শুয়ে পড়ল। রাতভর ঘুমাল না। নুহার শরীরের কথা মনে পড়ল। কীভাবে সে তার ভিতরে কেঁপে উঠত। কীভাবে তার ঠোঁট রিদওয়ানের ঘাড়ে লেগে থাকত। কীভাবে তারা একসাথে শেষ হতো।
পরের কয়েকদিন রিদওয়ান অফিস গেল না। ফোন করল নুহাকে। নুহা ধরল না। মেসেজ পাঠাল। কোনো উত্তর এলো না। সে নুহার অফিসের সামনে গিয়ে দাঁড়াল একদিন। নুহা বেরোনোর সময় তাকে দেখে দ্রুত চলে গেল। রিদওয়ান পেছনে পেছনে গেল না। শুধু দাঁড়িয়ে দেখল।
এক সপ্তাহ পর নুহা একটা মেসেজ পাঠাল। “আমার জিনিসগুলো পাঠিয়ে দাও। আর কল করো না।”
রিদওয়ান সব প্যাক করে পাঠিয়ে দিল। সাথে একটা চিঠি। “আমি ভুল করেছি। আমি বুঝতে পেরেছি। কাউকে ভালোবাসার অর্থ তাকে নিজের কাছে আটকে রাখা নয়। তোমাকে মুক্ত রেখেও ভালোবাসা যায়। আমি এখন বুঝেছি। কিন্তু হয়তো অনেক দেরি হয়ে গেছে।”
নুহা কোনো উত্তর দিল না।
মাসখানেক পর রিদওয়ান একদিন উত্তরার সেই চায়ের দোকানে গেল যেখানে প্রথম দেখা হয়েছিল। বিকেলে। চায়ের কাপ হাতে বসেছিল। হঠাৎ নুহাকে দেখল। সে একা হাঁটছিল। হিজাব পরা, চোখে শান্তি। রিদওয়ান উঠে দাঁড়াল। নুহা তাকে দেখল। কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর আস্তে করে মাথা নাড়ল। হাসি নয়, শুধু একটা স্বীকৃতি। তারপর হেঁটে চলে গেল।
রিদওয়ান আবার বসে পড়ল। চা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। সে বুঝতে পারল, নুহা এখন মুক্ত। আর সে নিজেও শিখছে মুক্ত হতে। ভালোবাসা মানে দখল নয়। মানে ছেড়ে দেওয়া। মানে অন্যের শ্বাস নেওয়ার জায়গা রেখে দেওয়া।
সন্ধ্যা নেমে এলো। ঢাকার আকাশ আবার লাল হয়ে উঠল। রিদওয়ান উঠে হেঁটে চলল। পেছনে ফিরে তাকাল না। সামনে শুধু রাস্তা। আর একটা শিক্ষা—যে ভালোবাসা আটকে রাখে না, সেই ভালোবাসাই আসল।

....
👁 56