বনের গভীরে তীব্র আকর্ষণ

গহীন সবুজ অরণ্যে ঢাকা ছোট গ্রামটির নাম শালবনী। শহরের ব্যস্ততা, গাড়ির ধোঁয়া কিংবা যান্ত্রিকতার কোলাহল থেকে এটি বহুদূরে। শালবনী গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে এক আঁকাবাঁকা কাঁচা পথ, যা মিশেছে বনের একদম গহীন অংশে। ওই ঘন জঙ্গল আর উঁচু উঁচু শাল-পিয়ালের গাছের আড়ালেই গড়ে উঠেছে এক নির্জন কাঠের বাংলা। আর সেখানেই একা থাকে অরণ্য।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

 

অরণ্য নামটার মতোই লোকটা কেমন যেন রহস্যময়। দীর্ঘকায় শরীর, চওড়া বুক, তীক্ষ্ণ চোয়াল আর কালো চোখের গহীনে এক অদ্ভুত টান। খুব একটা কথা বলে না মানুষের সাথে। পেশায় চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর হলেও ওর আসল আশ্রয় এই নীরব জঙ্গল। ও কাঠ আর পাথর কেটে রূপ দেয় নিজের কল্পনার। তবে গ্রামে তাকে নিয়ে ফিসফাস কম নয়। শালবনীর মেয়েরা দূর থেকে তাকে দেখে আড়ালে নিঃশ্বাস ফেলে, আর পুরুষরা তাকে সমীহ করে চলে।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

 

অন্যদিকে রূপকথা হলো শহরের চঞ্চল, প্রাণবন্ত এক তরুণী। তবে নামের মতোই তার চেহারাতেও এক মায়াবী রূপ বিরাজ করে। উজ্জ্বল ফর্সা ত্বক, কোমর অবধি ঢেউখেলানো রেশমি চুল, আর ডাগর ডাগর দুটো চোখ, যে চোখে সবসময় একপ্রকার অবাধ্য কৌতূহল খেলে যায়। সম্প্রতি ঢাকা শহর ছেড়ে এই প্রত্যন্ত গ্রামে এসেছে সে তার বাবার পুরনো এক বাংলোতে কদিনের জন্য বিশ্রাম নিতে। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই শালবনীর নির্জনতা তাকে টানার চেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছিল ওই রহস্যময় লোকটা—অরণ্য।

 

যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিল, সেদিন ঝুম বৃষ্টি নামছিল।

 

রূপকথা ছাতা মাথায় দিয়ে গ্রামের শেষ সীমানায় হাঁটতে গিয়েছিল। হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ছাতা উড়ে যায় ঝোড়ো বাতাসে। আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে সে ঢুকে পড়েছিল বনের ভেতরের সেই কাঠের ঘরটার বারান্দায়। ভিজে একসার হয়ে কাঁপছিল রূপকথা। পাতলা সুতির জামাটা গায়ের সাথে লেপ্টে গিয়ে তার শরীরের মসৃণ খাঁজগুলোকে স্পষ্ট করে তুলেছিল। পানির ফোঁটা গাল বেয়ে, গলা পেরিয়ে নেমে যাচ্ছিল তার বুক আর নাভির দিকে।

 

ঠিক তখনই দরজার ভারী কবাট খুলে বাইরে এসেছিল অরণ্য। গায়ে কোনো জামা ছিল না, পরনে কেবল একটা কালচে ট্রাউজার। বৃষ্টিতে ভেজা চওড়া বুকে আর শক্ত পেশীতে পানির ফোঁটাগুলো চকচক করছিল। অরণ্যের দৃষ্টি যখন প্রথম রূপকথার ওপর পড়েছিল, থমকে গিয়েছিল পুরো পরিবেশ।

 

অরণ্যের তীক্ষ্ণ, ঘন কালো চোখ দুটো রূপকথার ভেজা শরীরের প্রতিটি বাঁকে ধীরে ধীরে নেমে এসেছিল। অরণ্যের সেই চাওয়াটা সাধারণ ছিল না—তাতে ছিল এক তীব্র, অনাবিল আকর্ষণ। রূপকথাও যেন অরণ্যের বুকের সেই সুগঠিত পেশী আর বলিষ্ঠ চেহারার দিকে তাকিয়ে নিজের অজান্তেই স্তব্ধ হয়ে যায়। এক অদ্ভুত উষ্ণতা খেলে যায় তার শিরদাঁড়া বেয়ে।

 

"ভেতরে এসো। বাইরে থাকলে ঠাণ্ডা লেগে যাবে," অরণ্যের কণ্ঠস্বর ছিল ভারী, গম্ভীর এবং অদ্ভুত রকমের মায়াবী।

 

রূপকথা কোনো কথা না বলে নীরবে পা বাড়িয়েছিল ঘরের ভেতরে। ঘরে ঢুকতেই কাঠের গন্ধ, রঙের সুবাস আর এক গোপন উষ্ণতা তাকে জড়িয়ে ধরে। অরণ্য একখণ্ড তোয়ালে বাড়িয়ে দিয়েছিল তার দিকে।

 

"ধন্যবাদ," রূপকথার গলা কাঁপছিল—বৃষ্টির ঠাণ্ডায় নাকি অরণ্যের এই তীব্র উপস্থিতির কামনায়, তা সে নিজেও বুঝতে পারছিল না।

 

সেদিন বেশি কথা হয়নি। কিন্তু অরণ্যের সেই না-বলা চোখের চাহনি রূপকথার ঘুমের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। তারপর থেকে দিন যত গড়িয়েছে, রূপকথার পা দুটো বারবার ছুটে গেছে ওই বনের মাঝে, অরণ্যের ঘরে।

 

আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার মুখে রূপকথা আবার গিয়ে হাজির হলো অরণ্যের কাঠের বাংলোতে।

 

আকাশে মেঘের ঘনঘটা। যেকোনো মুহূর্তে মুষলধারে কালবৈশাখী নামবে। বাইরে ঝোড়ো বাতাস বইছে, গাছের পাতাগুলোর মরমর শব্দে অরণ্য যেন আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। ঘরের ভেতরে আবছা আলো। একটা কাঠের তক্তায় বসে অরণ্য মনোযোগ দিয়ে কাঠে ছেনি আর হাতুড়ি দিয়ে ভাস্কর্য তৈরি করছিল। তার কপালে জমে থাকা ঘামের ফোঁটা ঘরের বাতিতে মুক্তোর মতো জ্বলছিল।

 

রূপকথা ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকল। পরনে লাল রঙের একটি পাতলা সুতির শাড়ি, সাথে ম্যাচিং লাল ব্ল্যাউজ। শাড়ির আঁচলটা আলগাভাবে কাঁধে ফেলা, যার ফাঁক দিয়ে তার মেদহীন ফর্সা কোমর আর নাভির বাঁক স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। রূপকথার উপস্থিতি টের পেয়েও অরণ্য থামল না, শুধু কাজের গতি একটু ধীর হয়ে গেল।

 

"আজও এলে?" অরণ্য কাজ করতে করতেই ভারী গলায় বলল।

 

"বারবার চলে আসি... আপনি কি চান না আমি আসি?" রূপকথা এগোতে এগোতে বলল। তার কণ্ঠে ছিল এক উন্মুক্ত আমন্ত্রণ।

 

অরণ্য হাতুড়িটা পাশে রেখে উঠে দাঁড়াল। তার বিশাল চওড়া অবয়বটা রূপকথার ঠিক সামনে এসে থামল। দুজনের মধ্যে দূরত্ব এখন মাত্র কয়েক ইঞ্চির। অরণ্যের গা থেকে আসা পুরুষালী সুবাস আর ঘামের মায়াবী গন্ধ রূপকথার মগজে এক মাতাল করা অনুভূতি তৈরি করল।

 

"তুমি জানো না তুমি কিসের মুখোমুখি হচ্ছো, রূপকথা," অরণ্য একধাপ এগিয়ে এসে রূপকথার একদম মুখোমুখি দাঁড়াল। তার গলার স্বর নিচু, কিন্তু তাতে এক তীব্র আদেশ আর কামনার প্রচ্ছন্ন প্রকাশ। "এই অরণ্যে একবার হারিয়ে গেলে ফিরে যাওয়া কঠিন।"

 

"আমি তো হারাতেই চাই, অরণ্য। আপনি কি আমাকে খুঁজে নেবেন না?" রূপকথা সাহসী হয়ে চোখ তুলে চাইল। তার চোখের মনি তখন কামনায় ও ভালোলাগায় টলমল করছে।

 

অরণ্য আর নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারল না। সে ডান হাতটা বাড়িয়ে দিল, শক্ত মোটা আঙুলগুলো রূপকথার চিবুকে চেপে ধরল আলতো করে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে। তারপর আঙুলগুলো গড়িয়ে নামল রূপকথার নরম গলায়, সেখান থেকে কলার বোনের ওপর। রূপকথার শ্বাসের গতি দ্রুত হয়ে উঠল।

 

"তোমার এই চোখ দুটো খুব অবাধ্য, রূপকথা," অরণ্য ফিসফিস করে বলল। "এরা বারবার আমাকে প্ররোচিত করে।"

 

"তবে মেনে নিন সেই প্ররোচনা..." রূপকথা চোখ দুটো বুজে ফেলে অরণ্যের বুকের ওপর নিজের দুটো হাত রাখল। অরণ্যের বুকের ভেতরের ধুকপুকানি পরিষ্কার টের পাচ্ছিল সে।

 

বাইরে তখন বিকট শব্দে বাজ পড়ল, আর তার সাথেই শুরু হলো তোলপাড় করা বৃষ্টি। ঝোড়ো হাওয়ায় ঘরের কাঠের জানালাগুলো সশব্দে কেঁপে উঠল। সেই অন্ধকার আর ঝড়ের রাতে ভেতরের আলোটাও যেন হঠাৎ নিভে গেল—থেকে গেল শুধু বাইরে থেকে আসা বিদ্যুৎ চমকানোর আবছা আলো।

 

অরণ্য রূপকথাকে এক টানে নিজের একদম কাছে টেনে নিল। রূপকথার নরম, কোমল শরীরটা অরণ্যের শক্ত, পাহাড়ের মতো কামোত্তেজিত বুকের সাথে মিশে গেল। অরণ্য তার দুটো হাত রূপকথার কোমরে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তাকে নিজের সাথে লেপ্টে নিল। শাড়ির সূক্ষ্ম কাপড়ের ওপর দিয়েই অরণ্যের গরম হাতের স্পর্শ রূপকথার শিরদাঁড়ায় বিদ্যুতের তরঙ্গ খেলে দিল।

 

"অরণ্য..." রূপকথা মৃদু সিসকার দিয়ে উঠল।

 

অরণ্য কোনো উত্তর দিল না। সে তার ঠোঁট দুটো নামিয়ে আনল রূপকথার ঘাড়ের কাছে। আলতো করে ছোঁয়াতেই রূপকথা শিউরে উঠল। অরণ্যের উষ্ণ শ্বাস রূপকথার নরম ত্বকে আছড়ে পড়ছিল। অরণ্য সেখানে আলতো করে দাঁত বসিয়ে স্পর্শ করতে রূপকথা উত্তেজনায় অরণ্যের পিঠের ওপর নিজের নখ বিঁধিয়ে দিল।

 

বিদ্যুতের আলোয় অরণ্য রূপকথার চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে ছিটকে বেরোচ্ছে তীব্র কামাকুল ইচ্ছা। অরণ্যের হাত চলে গেল রূপকথার শাড়ির আঁচলে। আলতো এক হ্যাঁচকায় শাড়ির আঁচলটা রূপকথার ফর্সা কাঁধ থেকে খসে পড়ল নিচে। উন্মুক্ত হয়ে পড়ল তার নিটোল কাঁধ আর গলার সুন্দর খাঁজ।

 

অরণ্য রূপকথাকে এক হাতে শূন্যে তুলে নিয়ে সোজা হেঁটে গেল ঘরের মাঝখানে থাকা কাঠের বড় বিছানাটার দিকে। রূপকথাকে সাবধানে শুইয়ে দিল নরম তোষকের ওপর। অরণ্য নিজে তার ওপর ঝুঁকিয়ে পড়ল। অরণ্যের শরীরের সমস্ত ভর, তার উত্তাপ এখন রূপকথার ওপর।

 

রূপকথা অরণ্যের চুলগুলো নিজের আঙুলে জড়িয়ে ধরে অরণ্যের মুখটা টেনে আনল নিজের মুখের কাছে। তাদের ঠোঁট দুটো এখন পরস্পরের থেকে কয়েক মিলিমিটার দূরে। অরণ্যের দীর্ঘশ্বাস রূপকথার ঠোঁটে এসে লাগছে।

 

"তুমি আমার ধৈর্য পরীক্ষা করছ," অরণ্য নিচু স্বরে বলল, তার চোখে এক হিংস্র আর প্রেমময় দৃষ্টি।

 

"আমি পরীক্ষা করছি না, অরণ্য... আমি নিজেকে আপনাকে সমর্পণ করছি," রূপকথা তোতলে উঠে বলল।

 

অরণ্য আর এক মুহূর্তও নষ্ট করল না। সে নিজের ঠোঁট দুটো চেপে ধরল রূপকথার রসালো, লাল ঠোঁটের ওপর। এক অধীর, তীব্র এবং গভীর চুমু। রূপকথাও ব্যাকুল হয়ে সাড়া দিল সেই চুমুতে। অরণ্য তার ভেজা ঠোঁট দিয়ে চুষে নিতে লাগল রূপকথার ঠোঁটের সমস্ত মিষ্টতা। তাদের শ্বাসের গতি দ্রুত থেকে দ্রুততর হতে লাগল। বাইরের ঝড়ের শব্দ আর ঘরের ভেতরের এই অনিয়ন্ত্রিত কামনার উত্তাপ যেন এক হয়ে মিশে যাচ্ছিল।

 

অরণ্যের হাত দুটো রূপকথার পিঠ বেয়ে নিচে নেমে এসে শাড়ির ফাঁক দিয়ে তার উন্মুক্ত কোমরে চেপে বসল। রূপকথা কামোত্তেজনায় ধনুকের মতো বেঁকে উঠল অরণ্যের ছোঁয়ায়। অরণ্যের প্রতিটি স্পর্শে ছিল এক অদ্ভুত মাতাল করা অনুভূতি, যা রূপকথাকে এক অজানা, তীব্র অনুভূতির গভীর থেকে গভীরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল।

 

বাইরে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ছে, আর ভেতরের কাঠের ঘরে দুজন অসমাপ্ত তৃষ্ণার্ত শরীর আর মন একে অপরকে হারিয়ে ফেলার চূড়ান্ত উন্মাদনায় মেতে উঠছে...

বাইরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব তখন চরমে। ঝোড়ো হাওয়ার ধাক্কায় শাল-পিয়ালের জঙ্গল যেন কোনো তাণ্ডবনৃত্য শুরু করেছে। আর বনের গভীরে নির্জন কাঠের ঘরটিতে তখন সময় যেন থেমে গিয়েছে। আবছা অন্ধকারে বিজলীর তীব্র আলো যখন মাঝে মাঝেই জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরে এসে পড়ছিল, তখন ভেসে উঠছিল দুটো পরস্পরের ব্যাকুল অবয়ব।

 

বিছানায় রূপকথাকে নিচে রেখে অরণ্য তার ওপর সম্পূর্ণ ঝুঁকে আছে। অরণ্যের ঠোঁটের গভীর এবং অধীর স্পর্শ রূপকথার ঠোঁট থেকে গড়িয়ে নামল তার চিবুকে, তারপর সুডৌল গলার নরম ত্বকে। প্রতিটি স্পর্শে অরণ্য যেন নিজের নাম খোদাই করে দিচ্ছিল রূপকথার শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে।

 

রূপকথা দুই হাতে অরণ্যের চওড়া, শক্ত পিঠ জড়িয়ে ধরেছিল। অরণ্যের পেশীবহুল শরীরটা রূপকথার নরম উষ্ণ শরীরকে একদম পিষে দিচ্ছিল, কিন্তু সেই নিখাদ চাপের ভেতরেও ছিল এক অনাস্বাদিত তৃপ্তি। রূপকথার শ্বাস ধুকপুক করে উঠছিল, বুকটা দ্রুত ওঠা-নামা করছিল অরণ্যের বুকের সাথে তাল মিলিয়ে।

 

"অরণ্য... আর পারছি না..." রূপকথা একপ্রকার অস্ফুট ফিসফিস করে উঠল। তার কণ্ঠস্বরে ছিল অনুনয় আর তীব্র কামোত্তেজনার মিশ্রণ।

 

অরণ্য থামল না। সে রূপকথার চোখে চোখ রাখল। অরণ্যের সেই কালো চোখ দুটোতে তখন শুধুই অধিকার আর এক অদম্য তৃষ্ণা। অরণ্য তার ডান হাতটা ধীরে ধীরে নামিয়ে আনল রূপকথার শাড়ির কুঁচির দিকে। শাড়ির বাঁধন আলগা করে সে লাল রঙের শাড়িটা একপাশে সরিয়ে দিল। এবার রূপকথার সুগঠিত, ফর্সা শরীরটা প্রায় উন্মুক্ত অরণ্যের সামনে—শুধু পাতলা লাল ব্লাউজ আর ভেতরের আঁটসাঁট কাপড়ের আবরণে ঢাকা।

 

বিদ্যুতের আলোয় অরণ্য এক মুহূর্ত রূপকথার শরীরের অনবদ্য রূপ দেখল। তার মেদহীন মসৃণ পেট, গভীর নাভি আর উন্মুক্ত ঊরুর প্রতিটি বাঁকে আলো-ছায়ার খেলা। অরণ্য নিজের একটা হাত চেপে ধরল রূপকথার নাভির ঠিক ওপর। অরণ্যের হাতের তপ্ত ছোঁয়া লাগতেই রূপকথা তীব্র এক সুড়সুড়িতে শরীরটা মুচড়ে উঠল, তার পা দুটো কেঁপে উঠল ব্যাকুলতায়।

 

"তুমি সত্যি সুন্দর, রূপকথা," অরণ্য ভারী আর গভীর গলায় বলল। "কিন্তু আজ রাতে এই রূপের ওপর শুধুই আমার অধিকার।"

 

অরণ্যের এই একচ্ছত্র অধিকারের ঘোষণা রূপকথার রক্তের গতি আরও বাড়িয়ে দিল। সে অরণ্যের ঘাড়ে নিজের মুখটা গুঁজে দিল, আর অরণ্যের তপ্ত ত্বকে নিজের ঠোঁটের আলতো ছোঁয়া দিতে লাগল। অরণ্য সহ্য করতে না পেরে এবার রূপকথার ব্লাউজের ফিতেগুলো আলগা করে দিল। উন্মুক্ত হয়ে পড়ল রূপকথার বুক।

 

অরণ্যের বড়, গরম হাত দুটো চেপে বসল রূপকথার উন্মাদের মতো কাঁপতে থাকা বুকে। আলতোভাবে অথচ তীব্র আকর্ষণে সে পেষণ করতে শুরু করল রূপকথার নরম সৌন্দর্যকে। রূপকথার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো এক অদ্ভুত তৃপ্তির শব্দ। সে নিজের দু হাত দিয়ে অরণ্যের চুলগুলো খামচে ধরল। অরণ্য নিজের ঠোঁট নামিয়ে আনল সেখানে—তার ভেজা ঠোঁট আর জিবের স্পর্শে রূপকথার শরীরটা বিদ্যুতের বেগে কেঁপে উঠল। রূপকথার শরীরের প্রতিটা শিরায় শিরায় তখন কামনার চরম আগুন জ্বলছে।

 

অরণ্যের পুরুষালী রূপ আর শারীরিক ক্ষমতা রূপকথাকে পুরোপুরি মাতাল করে দিয়েছিল। সে এতদিন ধরে শুধু এই লোকটাকে দূর থেকে দেখে কল্পনা করত, আজ সেই পাহাড়ের মতো বলিষ্ঠ লোকটা তার ওপরে, তার শরীরের প্রতি ইঞ্চি অংশ নিজের করে নিচ্ছে।

 

অরণ্য এবার নিজের পরনের কালচে ট্রাউজারটা পুরোপুরি খুলে ফেলে দিল বিছানার নিচে। তার সুগঠিত, নগ্ন অনাবৃত শরীর রূপকথার ভেজা উর্বর শরীরের ওপর চেপে বসল। রূপকথা অরণ্যের সেই সম্পূর্ণ পুরুষালী সত্তাকে নিজের দুই উরুর মাঝে অনুভব করতে পেরে এক অদ্ভুত কামাকুল আশঙ্কায় শিউরে উঠল।

 

"ভয় পাচ্ছো?" অরণ্য রূপকথার কানে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, তার জিব দিয়ে রূপকথার কানের লতি চুষে নিতে নিতে।

 

"না... আমাকে আপনার করে নিন, অরণ্য। পুরোপুরি আপনার..." রূপকথা অরণ্যের কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে আরও নিজের কাছে টেনে নিল।

 

অরণ্য রূপকথার উরু দুটো ধরে আলতো করে দুই পাশে ছড়িয়ে দিল। তাদের শরীর এখন এক বিন্দুতে এসে মিলে যাওয়ার জন্য চরম ব্যাকুল। অরণ্য ধীর গতিতে, অত্যন্ত যত্নে কিন্তু অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নিজেকে প্রবেশ করাল রূপকথার চরম উষ্ণ গহীনে।

 

একমুহূর্তের জন্য রূপকথা চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল, তার মুখ থেকে মৃদু এক কান্নার মতো শব্দ বেরিয়ে এলো। শরীরটা যেন এক মুহূর্তের জন্য অবশ হয়ে গেল তার। অরণ্য থেমে গেল, সে রূপকথার কপালে আলতো করে চুমু খেল, তার চোখের কোণের পানির ফোঁটাটা চুষে নিল।

 

"ধীরে..." অরণ্য ফিসফিস করে বলল।

 

কিন্তু অল্প কিছুক্ষণ পরেই সেই অস্বস্তি কেটে গিয়ে রূপকথার শরীরে ছড়িয়ে পড়ল এক অবর্ণনীয় সুখের জোয়ার। রূপকথা নিজেই অরণ্যের কোমর আঁকড়ে ধরে ছন্দ মেলাতে শুরু করল। অরণ্য এবার নিজের গতির বাড়াল। তার প্রতিটা ধাক্কায় ঘরের কাঠের বিছানাটা মড়মড় করে কেঁপে উঠতে লাগল। রূপকথার উন্মাদের মতো সুখানুভূতির শব্দ আর অরণ্যের ভারী নিঃশ্বাসের শব্দে ভরে গেল পুরো কাঠের ঘর।

 

বাইরের ঝড়ের তাণ্ডব আর ভেতরের এই শারীরিক সংঘাত—দুটো যেন একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠল। অরণ্যের শরীরের প্রতিটি পেশী টানটান, তার কপাল থেকে ঘাম ঝরে পড়ছিল রূপকথার ফর্সা বুকে। আর রূপকথা অরণ্যের প্রতিটি আঘাতকে নিজের গভীরে টেনে নিচ্ছিল এক অসীম তৃপ্তি নিয়ে। তাদের ব্যাকুল শরীর দুটো মিলনের চরম শিখরে পৌঁছানোর জন্য এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছিল।

 

ঘরের বাতাস তখন গরম, নিঃশ্বাসে ভরপুর। অরণ্য রূপকথার দুটো হাত নিজের শক্ত মুঠোর মধ্যে চেপে ধরে বিছানার সাথে পিষে দিল, আর তার গতির ঝরনাধারা আরও তীব্র করে তুলল। রূপকথা নিজের মাথাটা পেছনের দিকে হেলে দিল, তার লাল ঠোঁট দুটো ফাঁক হয়ে ঝরে পড়ছিল অবিরাম তৃপ্তির আক্ষেপ।

 

ঘন জঙ্গলের মাঝে এই অন্ধকারের রাতে, প্রকৃতির রূপ আর মানবদেহের চরম কামনার সংমিশ্রণে এক চরম অবিশ্বাস্য ইতিহাস তৈরি হচ্ছিল। অরণ্য আর রূপকথা—দুটো শরীর যেন আর আলাদা কোনো সত্তা ছিল না, তারা মিলেমিশে এক হয়ে যাচ্ছিল সেই অরণ্যের বুকে।

 

সময়ের হিসেব হারিয়ে গিয়েছিল দুজনেরই। অরণ্যের ধাক্কার গতি যখন চরম মাত্রায় পৌঁছাল, রূপকথা অরণ্যের পিঠের চামড়া নখ দিয়ে প্রায় ছিঁড়ে ফেলার মতো চেপে ধরল। সে চরম তৃপ্তির শেষ সীমানায় পৌঁছে গিয়ে চিৎকার করে অরণ্যের নাম উচ্চারণ করল। আর তার ঠিক পরপরই, অরণ্য এক গভীর উফ্‌ শব্দ করে রূপকথার সুগভীর উষ্ণতার ভেতরে নিজের সমস্ত উত্তাপ ঢেলে দিয়ে তার ওপর ধসে পড়ল।

 

দুটি শরীর শান্ত হলো। দুজনেরই বুক উঠছিল আর নামছিল তীব্র গতিতে। ঘরের ভেতরে তখন শুধুই দুজনের হাঁপানোর শব্দ আর বাইরের ঝরঝর বৃষ্টির আওয়াজ। অরণ্য রূপকথাকে জড়িয়ে ধরে তার বুকের ওপর মাথা রেখে শুয়ে রইল। রূপকথা অরণ্যের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে চোখ দুটো বুজে এক স্বর্গীয় অনুভূতিতে হারিয়ে গেল।

 

কিন্তু তারা কেউ জানত না, এই পরম সুখের আবহের আড়ালেই বনের বাইরে থেকে এক বড় বিপদ তাদের দিকে ধেয়ে আসছিল, যা তাদের এই গোপন রূপকথাকে চিরতরে বদলে দেবে...

বুকের ওপর থেকে অরণ্যের ভারী নিশ্বাস আর বৃষ্টির টানা শব্দ ছাড়া ঘরে আর কোনো শব্দ ছিল না। মিলনের চরম উত্তাপ শান্ত হয়ে এক স্বর্গীয় প্রশান্তিতে রূপ নিয়েছে। রূপকথা অরণ্যের চুলে আঙুল চালিয়ে দিচ্ছিল, আর অরণ্য রূপকথার বুকে মুখ গুঁজে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। দুটো শরীর এখনও নগ্ন, একে অপরের উষ্ণতায় জড়িয়ে।

 

হঠাৎ অরণ্য চমকে উঠে বসল। তার তীক্ষ্ণ কান বাইরের বৃষ্টির শব্দের মাঝেই এক অচেনা বিপদ টের পেল। বনের দিক থেকে বেশ কয়েকজন মানুষের বুটের শব্দ আর টর্চের আলোর রেখা কাঠের ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে এসে পড়ল।

 

"অরণ্য... কী হয়েছে?" রূপকথা ভয় পেয়ে গায়ে শাড়ির আঁচলটা জড়িয়ে জড়সড় হয়ে বসে জিজ্ঞেস করল।

 

অরণ্য ঝটপট উঠে নিজের ট্রাউজারটা পরে নিল। তার গলায় কোনো ভয় ছিল না, ছিল এক ভয়ঙ্কর গাম্ভীর্য। সে রূপকথাকে শান্ত গলায় বলল, "তুমি এখানেই থাকো। জামাকাপড় ঠিক করে নাও। আমি দেখছি।"

 

অরণ্য দরজার ভারী কবাট খুলে বাইরে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে গ্রামের মাতব্বর মতিন মিয়া আর তার সাথে পাঁচ-ছয়জন সশস্ত্র লোক টর্চ হাতে দাঁড়িয়ে আছে। মতিন মিয়া বেশ কয়েকদিন ধরেই রূপকথাকে গ্রামে দেখে তার ওপর নজর রাখছিল এবং আজ রাতে তাকে অনুসরণ করেই এই গহীন বনে এসেছে।

 

"অরণ্য! শহরের মেয়েকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে এনে রেখেছিস? আজ তোর বিচার হবে!" মতিন মিয়া ধমকে উঠল।

 

অরণ্য একপা এগিয়ে এল। বিজলীর আলোয় তার বলিষ্ঠ নগ্ন বুক আর হিংস্র চোখের চাওয়া দেখে লোকগুলো একপা পিছিয়ে গেল। অরণ্যের কন্ঠস্বর জঙ্গল কাঁপিয়ে কেঁপে উঠল, "আমার সীমানায় পা দেওয়ার সাহস কীভাবে হলো মতিন? রূপকথা নিজের ইচ্ছায় এখানে এসেছে। তাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করলে এই বন থেকে আর কেউ জীবন্ত ফিরবি না।"

 

কথার মাঝেই মতিন মিয়ার লোকজন অরণ্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে গেল। কিন্তু অরণ্য বনের হিংস্র বাঘের মতোই ক্ষিপ্র। প্রথমজন এগোতেই অরণ্য তার শক্ত হাত দিয়ে লোকটার কলার ধরে এক ঝটকায় বারান্দা থেকে নিচে ছুঁড়ে ফেলল। দ্বিতীয়জন লাঠি তুলতে গেলে অরণ্য তার বুকে এক প্রচণ্ড লাথি বসাল। অরণ্যের বিশাল শরীর আর অপরিসীম শক্তি দেখে মতিন মিয়া ভয়ে কাঁপতে লাগল।

 

ঠিক তখনই ঘরের ভেতর থেকে শাড়ি সামলে বেরিয়ে এল রূপকথা। সে অরণ্যের পাশে এসে শক্ত করে অরণ্যের হাত চেপে ধরল। লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে গর্জে উঠল রূপকথা, "খবরদার! আমি কোনো বাচ্চা মেয়ে নই। আমি অরণ্যকে ভালোবাসি, আর আমি স্বেচ্ছায় এখানে এসেছি। এখনই এখান থেকে দূর হও, নাহলে শহরের পুলিশ দিয়ে তোমাদের সবাইকে জেল খাটাব!"

 

অরণ্যের চোখের সেই হিংস্রতা আর রূপকথার নির্ভীক রূপ দেখে মতিন মিয়া বুঝতে পারল এখানে আর দাঁড়ানো নিরাপদ নয়। তারা আহত সঙ্গীদের তুলে নিয়ে অন্ধকারের দিকে পালিয়ে গেল।

 

ঝড় তখন অনেকটাই শান্ত হয়ে এসেছে। মেঘের ফাঁক দিয়ে আকাশের চাঁদ উঁকি দিতে শুরু করেছে। বনের নীরবতা আবার ফিরে এল।

 

অরণ্য রূপকথার দিকে তাকাল। রূপকথার চোখে তখন ভয়ের বদলে ছিল গভীর ভালোবাসা আর গর্ব। রূপকথা অরণ্যের চওড়া বুকে নিজের মাথাটা রাখল। অরণ্য তার দুই বাহু দিয়ে রূপকথাকে শক্ত করে চেপে ধরল নিজের সাথে।

 

"তুমি ভয় পাওনি?" অরণ্য আলতো করে রূপকথার কপালে চুমু খেয়ে জিজ্ঞেস করল।

 

"আপনার সাথে থাকলে আমি কখনো ভয় পাব না," রূপকথা মুখ তুলে অরণ্যের চোখে চোখ রেখে বলল। "আমাকে আর কখনো নিজের থেকে দূরে পাঠাবেন না, অরণ্য।"

 

অরণ্য আর কোনো কথা বলল না। সে রূপকথাকে পাঁজা কোল তুলে নিয়ে আবার ঘরের ভেতরে নিয়ে এল। বিছানায় নামিয়ে দিয়ে সে রূপকথার ঠোঁটে আবার এক গভীর, আকুল চুমু আঁকল। সেই চুমুতে কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না, ছিল চিরকালের জন্য একে অপরকে আপন করে নেওয়ার এক পবিত্র অঙ্গীকার।

 

রাতের শেষ প্রহরে, অরণ্য আর রূপকথা আবার একে অপরের উষ্ণতায় তলিয়ে গেল। এবার আর কোনো ভয় বা দ্বিধা ছিল না। নির্জন অরণ্যের বুক চিরে যখন ভোরের প্রথম আলো এসে সেই কাঠের ঘরে পড়ল, তখন দুটো ক্লান্ত কিন্তু চরম তৃপ্ত শরীর একে অপরকে জড়িয়ে ধরে গভীর ঘুমে মগ্ন। বনের গহীন গভীরে তাদের এই গোপন রূপকথা রূপ নিল এক চিরন্তন ভালোবাসার গল্পে।

....
👁 54