অন্ধকার ঘরে একাকীত্বের ছায়া

বৃষ্টির রিমঝিম শব্দে শহরের রাতটা যেন আরো বেশি ঘনীভূত হয়ে উঠছিল। নাভিদ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, হাতে অর্ধেক শেষ হওয়া ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ। বাইরে ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোয় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো যেন সোনালী বিন্দুর মতো ঝরে পড়ছিল। কিন্তু নাভিদের বুকের ভেতরে তখন চলছিল এক অন্যরকম ঝড়। তৃষা তার খুব কাছে দাঁড়িয়ে থেকেও কত দূরে, সেটা ভেবেই তার মন ভার হয়ে উঠছিল। তৃষার গায়ের চেনা ঘ্রাণ—সেই কস্তুরী আর তাজা জেসমিনের এক তীব্র মিশ্রণ—বাতাসে ভেসে এসে নাভিদের স্নায়ুগুলোকে অবশ করে দিচ্ছিল। তৃষা ভালোবাসতো আঁটসাঁট পোশাক পরতে। আজ রাতেও সে পরেছিল এক ঘন নীল রঙের সিল্কের নাইটি, যার সূক্ষ্ম ফিতেগুলো তার মসৃণ কাঁধের ওপর আলতো করে নেমে এসেছে। লাইটের হালকা আলোয় তার মেদহীন কোমর আর শরীরের বাঁকগুলো স্পষ্ট ফুটে উঠছিল।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

 

নাভিদ পেছন থেকে গিয়ে তৃষার একদম কাছে দাঁড়াল। তৃষার পিঠে নাভিদের বুকের উষ্ণ ছোঁয়া লাগতেই তৃষা মৃদু কেঁপে উঠল। নাভিদের তৃষ্ণার্ত ঠোঁট জোড়া তৃষার খোলা ঘাড়ে নেমে এলো। আলতো ছোঁয়া থেকে ধীরে ধীরে শুরু হলো গভীর, তীব্র ভালোবাসা। তৃষার সিল্কের পোশাকের ফাঁক গলে নাভিদের হাত চলে গেল তার উন্মুক্ত ত্বকের কোমলতায়। সে তৃষাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। তৃষার কাজল কালো চোখ দুটো তখন এক অদ্ভুত মায়া আর তীব্র কামনায় ভরা। নাভিদের ঠোঁট তৃষার ভেজা ঠোঁটের ওপর নেমে আসতেই এক অগ্নিকান্ড ঘটে গেল যেন দুজনের মাঝে। তৃষা নাভিদের চুলে হাত গলিয়ে দিয়ে আরো কাছে টেনে নিল তাকে। গভীর এক আবেগে তৃষার শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়ে আসছিল, বুকের ভেতর ওঠানামা করছিল এক উন্মাদনায়। নাভিদ তার শক্ত দুহাতে তৃষাকে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। রাত গভীর হতে থাকল, আর সেই রাতের প্রতিটি মুহূর্ত ভরে উঠল তাদের উদাম ভালোবাসার উত্তাপে। স্পর্শের গভীরে গিয়ে দুজন দুজনকে হারিয়ে ফেলতে চাইল, যেন এভাবে আঁকড়ে ধরে রেখে ভাঙনের হাত থেকে নিজেদের বাঁচানো যাবে।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

 

কিন্তু এই গভীর শারীরিক টান আর সীমাহীন ভালোবাসা সত্ত্বেও তাদের মাঝের দেয়ালটা অদৃশ্য কিন্তু ভীষণ শক্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। পরের দিন সকালেই সেই আলো-আঁধারির ঘোর কেটে গেল নিষ্ঠুর বাস্তবতায়।

 

সকালের এক চিলতে রোদ যখন বিছানায় এসে পড়ল, তৃষা তখন চুল বাঁধছিল। নাভিদ বিছানায় বসে তাকে লক্ষ্য করছিল। তৃষার ফোনের স্ক্রিনে একটা নোটিফিকেশন আসতেই নাভিদের কপাল কুঁচকে গেল। নাভিদের ভেতরের সেই পুরোনো ব্যাধি—অতিরিক্ত সন্দেহ—আবার জেগে উঠল।

 

"সকাল সকাল কার মেসেজ তৃষা?" নাভিদের গলায় এক ধরনের রুক্ষতা আর অবিশ্বাসের সুর।

 

তৃষা আয়নার সামনে থেকে ঘুরে তাকাল। তার চোখে তখন ভালোবাসার বদলে স্পষ্ট ক্ষোভ আর হতাশা। "আমার এক সহকর্মীর। কালকের মিটিংয়ের ফাইল চেয়েছেন। তোমার এই প্রশ্নটা কি খুব দরকার ছিল নাভিদ?"

 

"আমার কি তোমাকে জিজ্ঞেস করার অধিকারটুকুও নেই? তুমি আজকাল কার সাথে এত কথা বলো, কোথায় যাও, আমাকে কিছুই বলো না," নাভিদ উঠে দাঁড়িয়ে তীব্র স্বরে বলল।

 

তৃষা একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার অভিমানী মনটা এবার বিদ্রোহ করে উঠল। "অধিকার আর সন্দেহের মধ্যে ফারাক আছে নাভিদ। তুমি আমাকে ভালোবাসো, নাকি আমাকে খাঁচায় বন্দি করে রাখতে চাও? আমাদের এই উন্মাদ ভালোবাসার গভীরে কোনো জায়গা নেই যেখানে আমি একটু মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারি? তোমার এই অসুস্থ সন্দেহ আমার জীবনটা বিষিয়ে তুলেছে।"

 

"আমি তোমাকে সন্দেহ করি কারণ আমি তোমাকে হারানোর ভয় পাই!" নাভিদ চিৎকার করে বলল।

 

"না নাভিদ, তুমি আমাকে ভালোবাসো না, তুমি নিজের ভেতরের ভয়টাকে ভালোবাসো। যে ভালোবাসায় কোনো বিশ্বাস নেই, সেখানে থাকা আর নিজের অস্তিত্বকে অপমান করা একই কথা," তৃষা কেঁদে ফেলল। তার চোখের জল গড়িয়ে পড়ল গালে, যে গালে কয়েক ঘন্টা আগেই নাভিদের আদরের চিহ্ন ছিল।

 

তাদের মধ্যে শুরু হলো তীব্র বাকবিতণ্ডা। পুরোনো সব অভিমান, না বলা কষ্ট, আর ছোট ছোট না পাওয়াগুলো এক নিমেষে বিশাল পাহাড় হয়ে তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেল। নাভিদ বুঝতে পারছিল না কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবে, আর তৃষাও আর সহ্য করতে পারছিল না এই মানসিক যন্ত্রণা। তৃষা তার জামাকাপড় ব্যাগে গোছাতে শুরু করল।

 

নাভিদ তৃষার হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরল। "তৃষা, রাগ কোরো না। আমি তো শুধু জিজ্ঞেস করেছি। প্লিজ, এভাবে চলে যেও না।"

 

তৃষা নিজের হাতটা ঝটকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিল। তার চোখে তখন জল, কিন্তু কণ্ঠে দৃঢ়তা। "অনেক হয়েছে নাভিদ। আর না। আমরা একে অপরকে ভালোবেসে ধ্বংস করে দিচ্ছি। তোমার সন্দেহ আর আমার অভিমান আমাদের তিলে তিলে মেরে ফেলছে। এর চেয়ে আমাদের আলাদা হয়ে যাওয়া অনেক ভালো।"

 

"তৃষা, শোনো! আমি নিজেকে বদলে ফেলব," নাভিদ কাতর হয়ে বলল।

 

"তুমি এই কথা বহুবার বলেছ নাভিদ। কিন্তু কিচ্ছু বদলায়নি। আমাদের সম্পর্কে এখন শুধু শরীর আর মায়া পড়ে আছে, কোনো বিশ্বাস নেই। আমি আর পারছি না।"

 

তৃষা ব্যাগটা নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো ঘুরে তাকাল। নাভিদ কাঠের মতো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে রইল। তৃষা দরজার বাইরে পা রাখল, আর ভারী এক শব্দে দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল।

 

দরজা বন্ধ হওয়ার সেই শব্দটা নাভিদের বুকে এসে যেন কুঠারের মতো আঘাত করল। ঘরের ভেতরের নীরবতা তাকে গ্রাস করতে লাগল। কিছুক্ষণ আগেই যে ঘরে তৃষার শরীর আর ভালোবাসার সুবাস ছড়িয়ে ছিল, সেখানে এখন শুধুই এক অন্ধকার আর একাকীত্ব। নাভিদ হাঁটু মুড়ে মেঝেতে বসে পড়ল। সে বুঝতে পারছিল না কীভাবে সে নিজের ভালোবাসাকেই নিজের হাতে ধ্বংস করে দিল। তৃষার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাদের সম্পর্কের প্রথম অধ্যায়, কিন্তু নাভিদের হৃদয়ে রেখে গেল এক গভীর ক্ষত আর ভাঙনের বিষণ্ণ সুর।

তৃষা চলে যাওয়ার পর ঘড়ির কাঁটা যেন থমকে গিয়েছিল। নাভিদের একলা ফ্ল্যাটটা প্রতিদিন তাকে গিলে খেতে আসতো। ঘরের কোণে কোণে ছড়িয়ে ছিল তৃষার স্মৃতি। সোফায় পড়ে থাকা তার ওড়না, ড্রেসিংটেবিলে ফেলে যাওয়া লিপস্টিক, আর সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিত বিছানার সেই কোলবালিশটা—যেখানে তৃষা নাভিদের বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে ভালোবাসতো।

 

প্রথম কয়েকটা সপ্তাহ নাভিদের কেটেছে সম্পূর্ণ এক উন্মাদনার মধ্য দিয়ে। সে অনবরত তৃষাকে ফোন করে গেছে, শত শত বার্তা পাঠিয়েছে।

 

"তৃষা, একটা সুযোগ দাও। আমি মরে যাব তোমাকে ছাড়া,"

"তৃষা, প্লিজ একবার ফোনটা তোলো, আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি।"

 

কিন্তু তৃষার দিক থেকে ছিল শুধুই নীরবতা। সে ফোন রিসিভ করেনি, কোনো বার্তার জবাব দেয়নি। নাভিদ তৃষার অফিসের বাইরে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেছে। দূর থেকে তাকে দেখেছে—তৃষার ফ্যাকাশে মুখ, চোখের নিচে স্পষ্ট কালচে দাগ। তৃষাকে দূর থেকে দেখে নাভিদের বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠতো। একদিন নাভিদ জোর করে তৃষার পথ আটকে দাঁড়িয়েছিল।

 

বৃষ্টি নামছিল গুড়ি গুড়ি। রাস্তার একপাশে গাড়ি থামিয়ে নাভিদ তৃষার হাত ধরেছিল। "তৃষা, শুধু পাঁচটা মিনিট শোনো। আমি তোমায় ছাড়া থাকতে পারছি না।"

 

তৃষা নাভিদের দিকে তাকিয়েছিল। তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক অগাধ ক্লান্তি আর শূন্যতা। "নাভিদ, তুমি কি দেখছ না আমরা দুজন দুজনকে কতটা কষ্ট দিচ্ছি? তুমি আমাকে আটকে রেখে ভালোবাসতে চাও, কিন্তু ভালোবাসা কখনো বন্দিদশা হতে পারে না। আমাকে আমার মতো বাঁচতে দাও।"

 

তৃষা তার হাতটা আস্তে করে ছাড়িয়ে নিয়ে রিকশায় উঠে বসেছিল। সেই রিকশার পেছনে দাঁড়িয়ে ভিজেছিল নাভিদ। ওই দিনই নাভিদের ভেতরের আঁধারটা ঘন হয়ে আসে। সে বুঝতে পারে, তার এই জোরাজুরি তৃষাকে আরও দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

 

মাসখানেক পার হয়ে যাওয়ার পর নাভিদের উন্মাদনা আস্তে আস্তে শান্ত হয়ে এক গভীর অনুশোচনায় রূপ নিল। সে আর তৃষাকে ফোন করল না। ঘরের বারান্দায় বসে দীর্ঘ রাত জেগে সে ভাবতে লাগল তাদের অতীতের কথা।

 

সে মনে করার চেষ্টা করল, কখন তাদের সম্পর্কের মিষ্টি নদীটা হঠাৎ এমন পলি পড়ে বুজে গেল? তৃষা তো তাকে উজাড় করে ভালোবেসেছিল। তৃষার সেই উন্মাদ ভালোবাসার দিনগুলোর কথা মনে পড়ল নাভিদের। এক মেঘলা দুপুরে, যখন বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল, তৃষা তার পরনের লাল শাড়িটা আলতো করে খুলে ফেলে নাভিদের বুকে এসে শুয়ে পড়েছিল। তৃষার উরু আর কোমরের চেনা স্পর্শ, তার ঠোঁটের তীব্র কামড়, আর কানে কানে বলা—"আমি শুধু তোমার নাভিদ, শুধুই তোমার"—এসব স্মৃতি নাভিদের বুকে শূলের মতো বিঁধতে লাগল।

 

তৃষা তো সত্যি শুধুই তার ছিল। তবে কেন সে তৃষাকে এত অবিশ্বাস করল? কেন তৃষার স্বাধীনতাকে সে ভয় পেল? নাভিদ অনুধাবন করতে পারল, তার নিজের ভেতরের নিরাপত্তাহীনতাই এই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শত্রু ছিল। ভালোবাসার অর্থ এই নয় যে সামনের মানুষটিকে নিজের মনের মতো করে চালানো। সত্যিকারের ভালোবাসা মানে তাকে তার নিজস্ব সত্তাসহ গ্রহণ করা, তাকে বিশ্বাস করা এবং তার ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান জানানো।

 

নাভিদ নিজেকে বদলাতে শুরু করল। সে কাজে মনোযোগ দিল, নিজের পুরোনো বন্ধুদের সাথে আবার যোগাযোগ শুরু করল, বই পড়তে লাগল। সে অনুধাবন করল, নিজের ভেতরের শূন্যতা দূর না করলে সে কাউকে সুখী করতে পারবে না। তৃষাকে সে এখনো পাগলের মতো ভালোবাসে, কিন্তু সেই ভালোবাসায় এখন আর দখলের লোভ নেই, আছে শুধু তৃষার ভালো থাকার প্রার্থনা।

 

কয়েক মাস কেটে গেল। নাভিদ এখন এক সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। সে নিজেকে সামলে নিয়ে নিজের লাইফস্টাইল বদলে ফেলেছে। তার মেজাজ এখন শান্ত, চিন্তাভাবনা পরিপক্ক।

 

ঠিক এমনই একদিন, চার মাস পর, নাভিদের ঘরের বেল বেজে উঠল। ছুটির দিনের বিকেলে নাভিদ বই পড়ছিল। দরজা খুলে সে যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।

 

দরজায় দাঁড়িয়ে আছে তৃষা।

 

তৃষা কিছুটা রোগা হয়ে গেছে, পরনে সাধারণ একটা সুতির পোশাক, মুখে হালকা মেকআপ। কিন্তু তার চোখে সেই আগের অভিমানের ঝড় নেই, সেখানে এক অদ্ভুত দ্বিধা আর কৌতূহল।

 

"ভেতরে আসতে পারি?" তৃষার কণ্ঠস্বর কিছুটা কাঁপা।

 

নাভিদ এক মুহূর্ত থমকে রইল। হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে উঠেছিল তার, কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিল। মুখে এক চিলতে শান্ত হাসি ফুটিয়ে সে দরজার একপাশ থেকে সরে দাঁড়াল।

 

"হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। এসো তৃষা।"

 

তৃষা ঘরের ভেতর পা রাখল। ঘরটা আগের চেয়ে অনেক পরিপাটি, শান্ত। তৃষা চারপাশটা ভালো করে দেখল, তারপর নাভিদের দিকে ফিরে তাকাল। দুজনের চোখাচোখি হলো। বাতাস যেন মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। যে ভালোবাসার আগুনে তারা একদিন পুড়েছিল, সেই আগুনের ভস্ম ভেদ করে আবার যেন এক নতুন উষ্ণতার জন্ম নিচ্ছিল ওই ছোট্ট ঘরটিতে।

তৃষা আস্তে আস্তে সোফায় গিয়ে বসল। ঘরটার নীরবতা এখন আর দমবন্ধ করা নয়, বরং এক গভীর প্রশান্তিতে ভরা। নাভিদ রান্নাঘর থেকে এক কাপ গরম চা নিয়ে এসে তৃষার সামনে রাখল। তৃষা কাপটা হাতে নিয়ে মৃদু হাসল—ঠিক যেভাবে নাভিদ আদা আর এলাচ দিয়ে চা বানাতো, ঘ্রাণটা এখনো একই রকম আছে।

 

"তুমি অনেক বদলে গেছ নাভিদ," চায়ে এক চুমুক দিয়ে তৃষা বলল। তার দৃষ্টি নাভিদের শান্ত চোখের দিকে নিবন্ধিত।

 

নাভিদ তৃষার মুখোমুখি বসে মৃদু হেসে বলল, "বদলাতে হয়েছে তৃষা। তোমার চলে যাওয়াটা আমাকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। আমি বুঝতে পেরেছি, ভালোবাসার নামে আমি কীভাবে তোমাকে শাসন আর সন্দেহ করছিলাম। বিশ্বাস আর সম্মান ছাড়া যে শুধু আবেগ দিয়ে সম্পর্ক টেকে না, সেটা আমি অনেক কঠিনভাবে শিখেছি।"

 

তৃষা নাভিদের কথাগুলো শুনছিল। যে মানুষটির কন্ঠে সবসময় এক ধরণের আধিপত্য আর অনিশ্চয়তা ছিল, সেখানে আজ শুধুই গভীর প্রজ্ঞা আর স্পষ্টতা। তৃষার চোখের কোণে একফোঁটা জল জমে উঠল।

 

"আমিও তোমায় খুব মিস করেছি নাভিদ," আবেগঘন গলায় বলল তৃষা। "কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছিলাম। আবার যদি সেই পুরোনো নরকে ফিরে যাই?"

 

নাভিদ তৃষার দিকে এগোলো। কিন্তু এবার কোনো জোর বা অধিকারের টানে নয়, বরং এক পরম ভালোবাসায়। সে তৃষার হাত দুটো নিজের হাতের তালুতে নিল। "আমি তোমাকে আর কখনো বাঁধতে চাই না তৃষা। তুমি তোমার মতো থাকবে, আমি আমার মতো। আমরা দুজন দুটি স্বাধীন মানুষ হিসেবে একে অপরের পাশে হাঁটব।"

 

তৃষা নাভিদের চোখের দিকে তাকাল। সেখানে সে কোনো ছলনা বা অস্থিরতা দেখতে পেল না, দেখল এক প্রকাণ্ড বিশ্বাসের সমুদ্র। তৃষার ভেতরের জমে থাকা চার মাসের সব অভিমান আর দীর্ঘশ্বাস এক নিমেষে গলে জল

হয়ে গেল। সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সোফা থেকে উঠে সে নাভিদের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

....
👁 55