শ্রাবণের মেঘগুলো আজ যেন কোনো অদৃশ্যে বাঁধা না মেনে অঝোর ধারায় নেমে এসেছে ঢাকার বুকে। বিকেলের আলো তখনো পুরোপুরি নেভে নি, কিন্তু কালচে ছাইরঙা মেঘের ঘনঘটায় মনে হচ্ছে নিঝুম রাত নেমে এসেছে। ট্রাফিকের দীর্ঘ জটলা আর রিকশার হুডের ওপর বৃষ্টির একটানা শব্দে একটা বিষণ্ন সুর বাজছিল। আয়ান গাড়ির কাঁচ সামান্য নামিয়ে একটা সিগারেট ধরাল। নিকোটিনের ধোঁয়া বৃষ্টির ভেজা হাওয়ায় মিশে এক অন্যরকম আবহ তৈরি করছে।
আয়ান আহমেদের বয়স এখন বত্রিশ। সফল আর্কিটেক্ট, দেখতে আকর্ষণীয়, ব্যক্তিত্বে গম্ভীর এক আভিজাত্য। কিন্তু এই সফলতার চকচকে আস্তরণের নিচে লুকিয়ে আছে এক গভীর নীরবতা, এক তীব্র শূন্যতা। যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল আজ থেকে চার বছর আগে, ইশা তার জীবন থেকে হুট করে হারিয়ে যাওয়ার পর।
গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে আয়ান ধানমন্ডির সেই পুরোনো ক্যাফেটার সামনে গাড়ি পার্ক করল। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে দ্রুত পা চালিয়ে ক্যাফের কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই এক অদ্ভুত উষ্ণতা তাকে ঘিরে ধরল। কপি আর বেক করা পেস্ট্রির মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে আছে বাতাসে। ক্যাফের এক কোণে, কাঁচের দেয়ালের পাশে বসা এক তরুণীর দিকে চোখ পড়তেই আয়ানের হাতের সিগারেটের প্যাকেটটা প্রায় হাত থেকে পড়ে যাচ্ছিল।
হৃদস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
ইশা!
গাঢ় নীল রঙের সালোয়ার কামিজে তাকে ঠিক আগের মতোই মায়াবী লাগছে। কাঁধ ছুঁয়ে থাকা ভেজা চুলগুলো থেকে তখনও ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরছে। সে একমনে ক্যাফের বাইরের বৃষ্টি দেখছিল, হাতে ধরা ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ। আয়ান বিশ্বাস করতে পারছিল না তার নিজের চোখকে। চারটে বছর সে এই মুখটা দেখার জন্য ব্যাকুল হয়েছে, আবার এই মুখটার ওপর জমে থাকা অভিমানে নিজেকে তিল তিল করে শেষ করেছে। ইশা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই। শুধু একটা চিঠিতে লেখা ছিল, "আমাকে ভুলে যেও আয়ান, আমাদের আর এক হওয়া সম্ভব নয়।"
আয়ান ধীর পায়ে ইশার টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। বুকের ভেতর এক তাণ্ডব শুরু হয়েছে। কিসের এত রাগ? কিসের এত অভিমান? ইশাকে দেখলেই তো সব অভিমান গলে জল হয়ে যায়, সেখানে জেগে ওঠে এক আদিম, অবাধ্য তৃষ্ণা।
"এখানে বসতে পারি?" আয়ানের ভরাট গলার আওয়াজে ইশা চমকে উঠল।
কফির কাপটা কাঁপতে গিয়ে কিছুটা টেবিলে পড়ে গেল। ইশা চোখ তুলে তাকাল। সেই পরিচিত মায়াবী চোখ, কিন্তু তাতে এখন অতল বিষাদ।
"আয়ান..." ইশার গলার স্বর কেঁপে উঠল। সে যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।
আয়ান কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করেই ইশার মুখোমুখি চেয়ারটায় বসে পড়ল। তার তীক্ষ্ণ চোখ দুটো ইশার মুখে ওপর ঘুরে বেড়াচ্ছে। চার বছর পর একে অপরকে দেখছে তারা। ঘরের ভেতরের মৃদু হলুদ আলো আর বাইরে বৃষ্টির অঝোর ধারা তাদের চারপাশ থেকে এক অদ্ভুত আড়ালে ঢেকে দিল।
"কেমন আছ ইশা?" আয়ানের কণ্ঠে শীতল ব্যঙ্গ, কিন্তু চোখে এক অনির্বাণ আগুনের শিখা। "নাকি জিজ্ঞেস করা উচিত, আমায় ছেড়ে নতুন জীবনে কেমন আছ?"
ইশা চোখ নামিয়ে নিল। ইশার হাত দুটো টেবিলের ওপর কাঁপছিল। আয়ান হুট করে এগিয়ে এসে ইশার এক হাত নিজের শক্ত হাতের মুঠোয় বন্দী করল। আয়ানের হাতের স্পর্শ পাওয়া মাত্রই ইশার শরীরে যেন এক বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলে গেল। কত দিন, কত রাত এই স্পর্শের জন্য সে ছটফট করেছে!
"কন্ট্রোল করতে পারছ না নিজেকে, তাই না?" আয়ান ফিসফিস করে বলল, তার চোখের গভীরতা ইশাকে গ্রাস করতে চাইল। "আজও আমার স্পর্শে তোমার এই শিহরণ থামেনি ইশা। তবে কেন দূরে গিয়েছিলে? কোন সুখে আমাকে এই জাহান্নামে ফেলে রেখে গিয়েছিলে?"
ইশা কিছু বলতে চাইল, কিন্তু শব্দগুলো তার গলায় আটকে গেল। কীভাবে বলবে সে আয়ানকে, যে সত্যটা আয়ান জানে না, তা বললে আয়ানের পুরো অস্তিত্ব গুঁড়িয়ে যাবে? আয়ানের বাবা—যাকে আয়ান নিজের আদর্শ মনে করে—তিনিই যে ইশাকে বাধ্য করেছিলেন আয়ানের জীবন থেকে সরে যেতে! আয়ানের কেরিয়ার, তার বাবার সম্মান, আর আয়ানের হবু কনের জীবনের বিনিময়ে ইশা নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েছিল। আয়ান ভাবে ইশা তাকে ধোঁকা দিয়েছে, কিন্তু সত্যিটা হলো ইশা আয়ানকে বাঁচাতেই নিজের ভালোবাসাকে বিসর্জন দিয়েছিল।
"কথা বলছ না কেন?" আয়ানের কণ্ঠ গভীর আর গম্ভীর হয়ে উঠল। সে ইশার হাতটা ছেড়ে দিল না, বরং ধীরে ধীরে তার আঙুলগুলোর খাঁজে নিজের আঙুল গলিয়ে দিল।
ইশা চোখ তুলে তাকাল, চোখে জমানো জলের আস্তর। "সব কথা তো মুখে বলতে হয় না আয়ান। কিছু কথা না বলাতেই সৌন্দর্য থাকে।"
"সৌন্দর্য?" আয়ান শব্দ করে হেসে উঠল, যে হাসিতে কোনো আনন্দ ছিল না, ছিল তীব্র যন্ত্রণা। "আমার জীবনটাকে ছাই করে দিয়ে তুমি বলছ সৌন্দর্য? তোমাকে এত সহজে ছাড়ছি না আমি।"
আয়ান পকেট থেকে বিলের টাকা টেবিলে রেখে ইশার অন্য হাতটা ধরে টান দিল।
"কী করছ আয়ান? ছাড়ো আমাকে!" ইশা নিচু স্বরে প্রতিবাদ করল, চারপাশে কয়েকজন তাকাচ্ছিল।
"একদম চুপ। আমার সাথে এসো।"
আয়ানের অধিপত্য বিস্তারকারী মেজাজ ইশাকে কোনো কথা বলার সুযোগ দিল না। ইশাকে প্রায় টেনে বাইরে নিয়ে এলো সে। বৃষ্টি তখনও তেমনই তীব্র। আয়ান ইশাকে গাড়ির প্যাসেঞ্জার সিটে বসিয়ে দিয়ে নিজে ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসল। গাড়ি স্টার্ট দিল সে, গন্তব্য তার উত্তরার ফ্ল্যাট।
গাড়ির রুদ্ধদ্বার বাতাসে এক অন্যরকম উত্তাপ তৈরি হলো। ইশার ভেজা পোশাকের সুবাস, তার শরীরের উষ্ণতা আয়ানের ভেতরের এতদিন চেপে রাখা পশুকে জাগিয়ে তুলছিল। ইশা জানালার দিকে মুখ করে কাঁদছিল, কিন্তু আয়ানের তীব্র উপস্থিতি তাকে আচ্ছন্ন করে রাখছিল।
গাড়ি এসে থামল আয়ানের ফ্ল্যাটের আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ে। ইশা গাড়ি থেকে নামতে না চাইলেও আয়ান তাকে একপ্রকার জোর করেই লিফটে তুলল। ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে আয়ান দরজায় খিল তুলে দিল। পুরো ঘর অন্ধকার, শুধু বাইরের ব্যালকনি দিয়ে আসা শহরের আলোগুলো ঘরের মেঝেতে আবছা আলো-ছায়ার খেলা তৈরি করছে।
"আয়ান, ছেড়ে দাও আমাকে। প্লিজ, এটা ঠিক হচ্ছে না—" ইশা কথা শেষ করার আগেই আয়ান তাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল।
আয়ানের দুটো হাত ইশার মাথার দুপাশে দেয়ালে ঠেকানো। তাদের নিঃশ্বাসের উত্তাপ মিশে যাচ্ছে একে অপরের সাথে। আয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে ইশার বুক দুরুদুরু করে উঠল। চার বছর ধরে চেপে রাখা ভালোবাসা, আকুলতা আর কামনার বাঁধ যেন ভাঙতে বসেছে।
"কেন ঠিক হচ্ছে না ইশা?" আয়ান অত্যন্ত নিচু আর ভারী গলায় বলল, তার মুখ ইশার ঘাড়ের কাছে নেমে এলো। "তোমার এই শরীর, তোমার এই মন—সব তো আমারই ছিল। আজ চার বছর পরও কি তুমি অস্বীকার করতে পারবে তুমি আমাকে চাও না?"
আয়ানের ঠোঁট ইশার ঘাড়ের ভেজা ত্বকে স্পর্শ করতেই ইশা কেঁপে উঠল। তার চোখ বন্ধ হয়ে এলো এক তীব্র অনুভূতির আবেশে। সে আয়ানের বুকে হাত দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইল, কিন্তু সে ঠেলা ছিল বড্ড দুর্বল। আয়ান ইশার চিবুক ধরে তার মুখটা নিজের দিকে তুলল।
"তোমার চোখ মিথ্যে বলতে পারে না ইশা। তুমি আজও আমাকে ততটাই চাও," আয়ান তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে বলল।
পরমুহূর্তেই আয়ানের ঠোঁট দখল করে নিল ইশার নরম ও অতৃপ্ত ঠোঁট। এক তীব্র, উদগ্র আর ব্যাকুল চুম্বনে ভেসে গেল দুজনে। চার বছরের বিরহ, জমে থাকা রাগ, অভিমান আর না-পাওয়ার তীব্র যন্ত্রণা যেন সেই চুম্বনের আড়ালে বিস্ফোরিত হলো। ইশা প্রথম কয়েক মুহূর্ত বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, আয়ানের ভেজা চুল আঁকড়ে ধরে নিজেকে সঁপে দিল সেই গভীর অনুভূতির সাগরে।
আয়ানের হাত ইশার পিঠ ধরে তাকে আরও শক্ত করে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। বৃষ্টিধারার মতো তীব্র সেই অনুভূতির আদান-প্রদান। তাদের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছিল, হৃদস্পন্দনের শব্দ অন্ধকারের নীরবতাকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছিল। ইশার ঠোঁটের স্বাদে আয়ান যেন হারিয়ে যাচ্ছিল এক অন্য জগতে, যেখানে কোনো অভিমান নেই, আছে শুধু তীব্র পাওয়ার তৃষ্ণা।
ইশার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল দু-ফোঁটা জল। সে আয়ানের এই তীব্র ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরতে চায়, কিন্তু অতীতের সেই ভয়াবহ সত্যিটা তার মাথায় চাবুক মারছে। সে যদি আজ আয়ানকে সব বলে দেয়, আয়ান কি সইতে পারবে তার নিজের বাবার এই রূপ? সে কি পারবে আয়ানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে?
আয়ান ইশার ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে তার কপালে কপাল ঠেকাল। দুজনেরই হাঁপ ধরে গেছে।
"বল ইশা, কেন করেছিলে এমন?" আয়ান ফিসফিস করে ইশার কানে বলল, তার হাত এখনও ইশার কোমর পেঁচিয়ে ধরে রাখা। "আজ রাতে তোমাকে সব বলতে হবে। নয়তো আজ রাতে এই আগুন আমাদের দুজনকেই জ্বালিয়ে ছাই করে দেবে।"
ইশা অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল—‘তোমাকে বাঁচাতেই যে আমি নিজেকে জ্বালিয়েছি আয়ান, তুমি কীভাবে বুঝবে সেই ত্যাগের মূল্য?’
বাইরের বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। কাঁচের জানালায় আছড়ে পড়া জলবিন্দুগুলোর মতো ঘরের ভেতরে আয়ান আর ইশার হৃদস্পন্দনও এক অস্থির তালে বাজছিল। আয়ানের ফ্ল্যাটের ঘরটা অন্ধকার, কেবল বাইরের আবছা আলোয় ইশার চোখের কোণে জমে থাকা জল চকচক করছে।
আয়ান ইশার কোমর ধরে তাকে আরও একটু কাছে টেনে নিল। তাদের শরীরের মধ্যবর্তী কোনো দূরত্বই আর অবশিষ্ট ছিল না। আয়ানের গায়ের চেনা পুরুষালী পারফিউম আর সিগারেটের মৃদু ঘ্রাণে ইশার মাথা ঝিমঝিম করে উঠল। চারটে বছর সে নিজের মনকে হাজারো বোঝা বুঝিয়েছে, কিন্তু এই একটা মানুষের উপস্থিতি তার সব বাঁধ ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
"বলছো না কেন ইশা?" আয়ান চিবুকে আঙুল দিয়ে ইশার মুখটা ওপরে তুলল। তার কণ্ঠস্বর কাঁপছিল এক অচেনা আবেশে। "কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল সেই প্রেম? কেন আমার এত ভালোবাসাকে এক নিমেষে তুচ্ছ করে দিলে? কার জন্য?"
ইশা আয়ানের চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে যন্ত্রণার মহাসমুদ্র। ইশার খুব ইচ্ছে করছিল আয়ানের গলে গিয়ে বলতে—‘আমি তোমাকেই ভালোবেসেছি আয়ান, আজও বাসি। তোমার প্রতিটা নিঃশ্বাসে শুধু আমারই অধিকার ছিল!’ কিন্তু পরমুহূর্তেই মনে পড়ে গেল চার বছর আগের সেই অভিশপ্ত রাতের কথা।
আয়ানের বাবা, বিশিষ্ট শিল্পপতি আহমেদ সাহেব সেদিন ইশার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। কোনো রাগ বা চিৎকার নয়, অত্যন্ত শান্ত অথচ নিষ্ঠুর গলায় তিনি বলেছিলেন, "আমার ছেলের ভবিষ্যৎ আর কেরিয়ার ধ্বংস হতে দেব না আমি। তোমার মতো একটা সাধারণ ঘরের মেয়ের সাথে আয়ানের বিয়ে হলে আমার দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্য আর সম্মান সব ধূলোয় মিশে যাবে। আমি ওকে অন্য জায়গায় ঠিক করেছি। তুমি যদি ওর জীবন থেকে চিরতরে সরে না দাঁড়াও, তবে আয়ানকে আমি এমন এক কেলেঙ্কারিতে ফাঁসাব, যার থেকে সে কোনোদিন বের হতে পারবে না। আর ওর কেরিয়ার? এক নিমেষে শেষ করে দেব।"
সেদিন আয়ানের কেরিয়ার আর তার জীবন বাঁচাতেই ইশা নিজের ভালোবাসাকে বলি দিয়েছিল। নিজেকে আয়ানের চোখে অপরাধী বানিয়ে দূরে সরে গিয়েছিল, যাতে আয়ান তাকে ঘৃণা করে হলেও নিজের জীবনে এগিয়ে যেতে পারে। কিন্তু আজ আয়ানের চোখের এই গভীর ভালোবাসা আর ক্ষোভ দেখে ইশার বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছিল।
"সব প্রশ্নের উত্তর ব্যাকুলতায় পাওয়া যায় না, আয়ান," ইশা কাঁপানো কণ্ঠে বলল। "যে অতীত শেষ হয়ে গেছে, তাকে কবর দেওয়াই ভালো।"
"কবর দেওয়া এত সহজ নয় ইশা!" আয়ানের কণ্ঠে গর্জে উঠল অতৃপ্ত কামনার এক বুনো আগুন।
আয়ান ঝড়ের বেগে ইশাকে ঘাড়ের কাছে নিজের দিকে চেপে ধরল। তার উত্তপ্ত ঠোঁট নেমে এলো ইশার উন্মুক্ত কাঁধ আর গলার ভাঁজে। ইশা চমকে উঠে আয়ানের কাঁধ চেপে ধরল, কিন্তু তাকে সরানোর কোনো শক্তি যেন ইশার শরীরে অবশিষ্ট ছিল না। আয়ানের প্রতিটি স্পর্শে ছিল চার বছরের বিরহ আর এক উন্মাদ অধিকারবোধ। ইশার ভেজা কাপড় বেয়ে আয়ানের হাত গড়িয়ে গেল তার পিঠের দিকে। ইশা এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল, তার পিঠের চামড়ায় এক অনাস্বাদিত শিহরণ খেলে গেল।
"আয়ান... না... ছেড়ে দাও..." ইশা অস্ফুট স্বরে রোদ করা স্বরে বলল, কিন্তু তার নিজের শরীরই আয়ানের এই আক্রমণাত্মক ভালোবাসায় সাড়া দিচ্ছিল।
"না, আজ ছাড়ার জন্য তোমাকে আনিনি ইশা," আয়ান ইশার কানে ফিসফিস করে বলল, তার তপ্ত নিঃশ্বাস ইশার কান স্পর্শ করতেই ইশা চোখ বুজে ফেলল। "আজ রাতে আমি আমার সব পাওনা কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নেব। তুমি আমাকে যন্ত্রণায় পুড়িয়েছ, আজ সেই যন্ত্রণার আগুনে তোমাকেও পুড়তে হবে।"
আয়ান ইশাকে এক ঝটকায় পাঁজকোলা করে তুলে নিল। ইশা আতঙ্কে আয়ানের গলা জড়িয়ে ধরল। আয়ান তাকে নিয়ে শয়নকক্ষের নরম বিছানায় শুইয়ে দিল। ঘরের ভেতরের শীতল আবহাওয়া মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল। আয়ান ইশার ওপর ঝুঁকি পড়ল, তার চওড়া বুক ইশার নরম বুকে চেপে বসল।
ইশার সালোয়ারের ওড়নাটা ততক্ষণে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে। আয়ানের তীক্ষ্ণ নজর ইশার ভেজা কামিজের ওপর দিয়ে তার শরীরের বাঁকে বাঁকে ছড়িয়ে পড়ল। চার বছরে ইশা আরও কত বেশি রূপসী হয়ে উঠেছে, তা যেন আজ আয়ানের তৃষ্ণার্ত চোখ নতুন করে আবিষ্কার করছে। আয়ানের হাত ধীর গতিতে ইশার পেটের ওপর ভিজে থাকা কাপড়ের ওপর দিয়ে ওপরের দিকে উঠে এলো। ইশার শরীরের প্রতিটা শিরা-উপশিরায় এক বুনো রোমাঞ্চ জেগে উঠল।
"তুমি আজও শুধু আমার, ইশা," আয়ান তার ভারি গলায় বলল, আর ইশার ঠোঁটে আবার নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল।
এবারের চুম্বন শান্ত ছিল না। এটা ছিল এক আদিম তৃষ্ণা, যা চার বছরের অনাহারী আত্মাগুলোকে গ্রাস করে নিচ্ছিল। ইশা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে আয়ানের পিঠের ওপর নিজের হাত দুটো শক্ত করে বাঁধল, তার নখ আয়ানের শার্ট ফুঁড়ে পিঠে বসে গেল। আয়ান ইশার নিচের ঠোঁটটা নিজের ঠোঁটে চেপে ধরে এক আবেশময় কামড় দিল, ইশার মুখ থেকে বের হয়ে এলো এক হালকা অস্ফুট শব্দ।
আয়ানের হাত ইশার পোশাকের বাঁধন আলগা করে দিল। অন্ধকারের সুবাদে তারা দুজন হারিয়ে যাচ্ছিল এক শারীরিক ও মানসিক অনুভূতির অতল গভীরে। আয়ানের ঠোঁট ইশার গাল, কান, গলা বেয়ে নেমে এলো তার বুকের ওপর। ইশা মাথা পেছনের দিকে হেলে দিল, তার শ্বাসের গতি দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছিল। ঘরজুড়ে কেবল তাদের ভারী নিঃশ্বাস আর বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ।
ইশা অনুভব করছিল আয়ানের হৃদস্পন্দন, যা তার নিজের বুকের সাথে প্রবলভাবে ধাক্কা খাচ্ছে। আয়ান তাকে যত তীব্রভাবে নিজের করে নিচ্ছিল, ইশার চোখের জল তত বেশি ঝরছিল। এই উত্তপ্ত ভালোবাসার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই নিষ্ঠুর সত্যের কথা ভেবে ইশার মন কেঁদে উঠছিল। আয়ান তাকে ভুল বুঝছে, তাকে একটা স্বার্থপর মেয়ে ভাবছে, অথচ ইশা তার জন্যই নিজের জীবনটাকে ধ্বংস করেছে।
আয়ান ইশার চোখের জল স্পর্শ করল তার ঠোঁট দিয়ে। নোনা জলের স্বাদে আয়ানের গতি কিছুটা শ্লথ হলো। সে ইশার মুখের ওপর নিজের মুখ এনে থমকে দাঁড়াল।
"তুমি কাঁদছ কেন ইশা?" আয়ান হাপাতে হাপাতে জিজ্ঞেস করল, তার চোখে এখনও ঘোর লেগে আছে। "আমাকে ছেড়ে যাওয়ার সময় কি তোমার চোখে জল এসেছিল? তবে আজ কেন?"
ইশা দু-হাতে আয়ানের মুখটা চেপে ধরল। সে আয়ানের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ঘষে বলল, "আজ আমায় কোনো প্রশ্ন কোরো না আয়ান। আজ শুধু আমাকে তোমার করে নাও। কাল কী হবে আমি জানি না, কিন্তু আজ রাতটা শুধুই আমাদের।"
ইশার এই আকুলতায় আয়ান যেন তার সমস্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল। সে আরও গভীরভাবে ইশার ওপর চেপে বসল। তাদের শরীর একীভূত হয়ে গেল এক অনির্বাণ ভালোবাসার উত্তাপে। সারা রাত ধরে চলল প্রেম ও যন্ত্রণার এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব। প্রতিটি স্পর্শে যেমন ছিল ভালোবাসার তীব্রতা, তেমনই ছিল চার বছরের না-পাওয়ার বেদনা।
শেষ রাতে, যখন বাইরের বৃষ্টি কিছুটা কমে এসেছে, তখন ইশা শুয়ে ছিল আয়ানের চওড়া বুকের ওপর। আয়ান গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তার এক হাত এখনও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে ইশার কোমর। ইশা আয়ানের শান্ত মুখের দিকে তাকাল। আয়ানের চুলে আঙুল চালিয়ে ইশা ফিসফিস করে বলল, "তুমি আমাকে ভুল বুঝেছ আয়ান। তুমি ভেবেছ আমি টাকার জন্য বা অন্য কিছুর জন্য তোমাকে ছেড়েছি। কিন্তু সত্যিটা হলো, তোমার বাবার সম্মান আর তোমার জীবন বাঁচাতেই আমি সেদিন বলি হয়েছিলাম। যদি তুমি সত্যটা জানতে, তবে নিজের বাবাকে ক্ষমা করতে পারতে না, আর নিজেকেও না।"
ইশা ধীরে ধীরে আয়ানের আঁকড়ে ধরে থাকা হাতটা সরাল। বিছানা থেকে উঠে নিজের পোশাক ঠিক করে নিল সে। তার শরীর জুড়ে এখনো আয়ানের ভালোবাসার দাগ, তার মন জুড়ে আয়ানের স্পর্শের উত্তাপ।
টেবিলের ওপর রাখা আয়ানের ডায়েরিটার দিকে চোখ গেল ইশার। সে জানে, এই ঘুম ভেঙে গেলে আয়ান হয়তো আবার তাকে আটকে রাখবে। কিন্তু ইশা চায় না আয়ানের জীবনে আর কোনো ঝড় আসুক। ইশা পেন দিয়ে আয়ানের ডায়েরির একটা পাতায় ছোট করে লিখল—
"আয়ান, তোমার বাবার ডেস্কেও একটা গোপন ফাইল রাখা আছে, 'প্রজেক্ট প্রমিস' নামে। যদি সত্যিটা সহ্য করার ক্ষমতা থাকে, তবে সেটা পড়ে নিয়ো। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়ো কে কাকে ভুল বুঝেছিল।"
ইশা চিরকুটটা ডায়েরির ওপর রেখে আয়ানের কপালে এক শেষ নিঃশব্দ চুম্বন একে দিল। তারপর পা টিপে টিপে ঘর থেকে বের হয়ে গেল, রেখে গেল কেবল তার ভেজা পারফিউমের সুবাস আর এক চরম সত্যি প্রকাশের সম্ভাবনা।
বাইরে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। রাতের প্রলয়ঙ্করী বৃষ্টি থেমে গিয়ে পুরো শহরজুড়ে এক অদ্ভুত, ভেজা নীরবতা ছেয়ে আছে।
আয়ানের ঘুম ভাঙল ইশার ঘ্রাণ না পেয়ে। বিছানার পাশে হাত বাড়াতেই ফাঁকা জায়গাটা তাকে এক অশুভ বার্তা দিল। ধড়ফড় করে উঠে বসল আয়ান। বুকটা খালি খালি লাগছে, ঠিক চার বছর আগে যেমন লেগেছিল। তবে কি কাল রাতের পুরো বিষয়টাই একটা স্বপ্ন ছিল? কাল রাতে ইশার ওই তীব্র সমর্পণ, সেই উন্মাদের মতো ব্যাকুলতা, তাদের শরীরের অখণ্ড এক হয়ে যাওয়া—সব কি তবে মিথ্যে?
আয়ান দ্রুত পোশাক পরে খাট থেকে নামতেই সাইড টেবিলে চোখ পড়ল। ডায়েরির ওপর খোলা পাতাটায় ইশার হাতের মিষ্টি অক্ষরে লেখা চিরকুটটা জ্বলজ্বল করছে—
"আয়ান, তোমার বাবার ডেস্কেও একটা গোপন ফাইল রাখা আছে, 'প্রজেক্ট প্রমিস' নামে। যদি সত্যিটা সহ্য করার ক্ষমতা থাকে, তবে সেটা পড়ে নিয়ো। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়ো কে কাকে ভুল বুঝেছিল।"
চিঠিটা পড়ার সাথে সাথে আয়ানের মাথায় যেন বজ্রপাত হলো। ইশা আবার চলে গেছে! কিন্তু এবার সে এক বিষাক্ত সত্যের ইশারা দিয়ে গেছে।
আয়ান আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। সে গাড়ি নিয়ে ছুটল তার বাবার গুলশানের বিশাল বাংলোর উদ্দেশ্যে। বুকে এক অজানা আতঙ্ক। সাড়ে আটটার দিকে যখন সে বাবার পড়ার ঘরে পৌঁছাল, তখনো সেখানে কেউ ছিল না। আয়ান দ্রুত ড্রয়ারগুলো খুঁজতে লাগল। ডেস্কের একদম ভেতরের একটা গুপ্ত ড্রয়ারে সত্যিই পাওয়া গেল একখানা কালচে কভারের ফাইল—'প্রজেক্ট প্রমিস'।
ফাইলটা খুলতেই আয়ানের চোখের সামনে থেকে যেন এক এক করে চার বছরের মিথ্যের দেয়ালগুলো ভেঙে পড়তে লাগল।
সেখানে ইশার সই করা এক বন্ড পেপার, আর কিছু আইনি নথি। নথিপত্রগুলো স্পষ্ট সাক্ষ্য দিচ্ছে—চার বছর আগে আয়ানের যে আর্কিটেকচারাল প্রজেক্টে এক বিশাল জালিয়াতির ছক কষা হয়েছিল, তার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন আয়ানের নিজের বাবা আহমেদ সাহেব নিজে! নিজের ব্যবসা ও মান-সম্মান বাঁচাতে আহমেদ সাহেব পুরো দোষটা আয়ানের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করেছিলেন। কিন্তু ইশা তা কোনোভাবে জেনে ফেলেছিল।
ইশাকে আহমেদ সাহেব শর্ত দিয়েছিলেন—ইশা যদি আয়ানের জীবন থেকে চিরতরে সরে যায় এবং এই ব্ল্যাকমেইলের সত্যিটা গোপন রাখে, তবেই আহমেদ সাহেব নিজের ছেলেকে বাঁচাতে সেই জালিয়াতির কেস নিজে টেনে নেবেন। আর ইশা তা-ই করেছিল! আয়ানের কেরিয়ার, তার জীবন, তার স্বাধীনতাকে বাঁচাতে ইশা নিজেকে আয়ানের চোখে এক স্বার্থপর, হৃদয়হীন নারী বানিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিল!
ফাইলটা আয়ানের হাত থেকে মেঝেতে পড়ে গেল।
"ইশা..." আয়ানের কণ্ঠ দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হলো না, কেবল এক তীব্র আর্তনাদ ভেসে এলো।
যাকে সে চার বছর ধরে ধোঁকাবাজ ভেবে ঘৃণা করেছে, রাতে ভালোবাসার ছলে যন্ত্রণায় পুড়িয়েছে, সে আসলে আয়ানের জন্য নিজের পুরো জীবনটা কুরবান করে দিয়েছে! কাল রাতে আয়ান যখন ইশার ওপর নিজের রাগ আর অধিকার ফলাচ্ছিল, ইশা তখন আয়ানের কপালে হাত রেখে নীরবে সয়ে যাচ্ছিল কেবল ভালোবাসার টানে!
আয়ান নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না। এক উন্মাদের মতো ঘর থেকে বের হয়ে সে গাড়িতে গিয়ে বসল। ইশার পুরোনো ঢাকার মেসবাড়ির ঠিকানা তার জানা ছিল। আজ তাকে ইশাকে ফিরিয়ে আনতেই হবে, নতুবা এই অপরাধবোধ তাকে তিল তিল করে মেরে ফেলবে।
গাড়ি যখন পুরোনো ঢাকার সেই সরু গলির সামনে থামল, আয়ান গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে ওপরে উঠে গেল। তিনতলার দরজায় একের পর এক সজোরে আঘাত করতে লাগল সে।
"ইশা! দরজা খোল ইশা! ইশা, আমি জানি সব... প্লিজ দরজা খোল!" আয়ানের চিৎকার গলিজুড়ে প্রতিধ্বনি ছড়াল।
কয়েক মুহূর্ত পর দরজাটা ধীর গতিতে খুলে গেল। পেছনে ইশা দাঁড়িয়ে। তার চোখে ঘুম নেই, কাল রাতের সেই নীল সালোয়ারটা বদলানো হলেও তার শরীরজুড়ে কাল রাতের ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।
আয়ান কিছু না বলেই এক টানে ইশাকে নিজের বুকের মধ্যে আঁকড়ে ধরল। ইশার চুলে, মুখে, ঘাড়ে ব্যাকুল হয়ে অজস্র চুম্বন আঁকতে লাগল সে। আয়ানের শক্ত বুকের ভেতরে ইশা শুনতে পাচ্ছিল এক তীব্র ভাঙচুরের শব্দ।
"আমাকে ক্ষমা করে দাও ইশা... আমাকে ক্ষমা করে দাও!" আয়ানের ভরাট গলাটা আজ ডুকরে কেঁদে উঠল। বত্রিশ বছরের একজন দাপুটে পুরুষ ইশার কাঁধে মুখ লুকিয়ে শিশুর মতো কাঁদছে। "আমি এত অন্ধ ছিলাম? আমি তোমাকে এত কষ্ট দিলাম? কাল রাতেও আমি তোমাকে শাস্তি দিতে চেয়েছিলাম, আর তুমি... তুমি আমায় বাঁচাতে নিজেকে শেষ করে দিলে?"
ইশা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছু সময়। তারপর ধীর হাতে সে আয়ানের পিঠ পেঁচিয়ে ধরল। ইশার চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল বহু বছরের জমে থাকা নোনা জল।
"তুমি সত্যিটা জেনে গেলে আয়ান?" ইশার ফিসফিসানি স্বর।
"হ্যাঁ, জেনেছি। আর এই সত্যিটা জানার পর আমি এক মুহূর্তও তোমাকে ছাড়া বাঁচব না।"
আয়ান ইশার মুখটা দু-হাতে তুলে ধরল। ইশার ভেজা চোখে চোখ রেখে বলল, "আমার বাবা যা করেছেন, তার জন্য আমি লজ্জিত। কিন্তু আমি আমার অতীত ফিরিয়ে আনতে চাই ইশা। আমি তোমাকে আবার আমার করে পেতে চাই—কোনো শর্ত ছাড়া, কোনো প্রতিশোধ ছাড়া, কেবল ভালোবাসায়।"
আয়ান ইশাকে দেয়ালে চেপে ধরে আবার তার ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিল। কিন্তু এবারের স্পর্শে কোনো রাগ বা প্রতিহিংসা ছিল না। ছিল কেবল করুণ আকুতি, অনুশোচনা আর গভীর সমর্পণ। ইশা নিজের সব অভিমান, সব কষ্ট ভুলে গিয়ে আয়ানের চুলে হাত রেখে সেই উষ্ণতায় নিজেকে সঁপে দিল। আয়ানের ঠোঁট ইশার গাল বেয়ে গলার নিচে নেমে এলো, তার শক্ত হাত দুটো ইশার কোমর পেঁচিয়ে তাকে নিজের শরীরের সাথে এক করে নিল।
ঘাম আর আশার এক অদ্ভুত মিশ্র সুবাসে ভরে উঠল ছোট ঘরটা। কাল রাতের যে আগুন তাদের জ্বালিয়েছিল, আজকের আলোয় সে আগুন পরিণত হলো এক পবিত্র বাঁধনে। আয়ান ইশাকে পাঁজর ছোঁয়া ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরে অনুভব করল, এই নারী ছাড়া তার অস্তিত্বের কোনো অর্থ নেই।
"তুমি আর কোথাও যাবে না ইশা," ইশার কাঁপতে থাকা ঠোঁটের ওপর নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে আয়ান প্রতিশ্রুতি দিল, "আজকের পর থেকে তোমাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমার। আর কোনো ত্যাগ নয়, এবার শুধু একসাথে থাকা।"
ইশা আয়ানের বুকের ওপর মাথা রেখে চোখ বুজল। চার বছরের দীর্ঘ ঝড় শেষে তার নৌকা অবশেষে খুঁজে পেল তার আসল ঠিকানা।
....