সবার ধারণা ছিল নীল একজন কঠিন, জেদি আর একরোখা মানুষ। তার চোখে কোনো নরম ভাব নেই। অফিসের সহকর্মীরা বলত, নীলের জীবনে কেউ বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। সে যাকে কাছে আসতে দেয়, তাকেই একসময় দূরে ঠেলে দেয়। তার মুখে হাসি দেখা যায় না, কথা কম, কাজ বেশি। ঢাকার একটা বেসরকারি কোম্পানির মার্কেটিং ডিভিশনের হেড হিসেবে সে কাজ করত। অফিসে সবাই তাকে সম্মান করত, কিন্তু ভয়ও পেত। কেউ তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলত না।নীল থাকত গুলশানের একটা ফ্ল্যাটে। একা। বাবা-মা মারা গেছেন অনেক আগে। কোনো ভাইবোন নেই। তার জীবনটা ছিল নিয়মের মধ্যে বাঁধা। সকালে উঠে জিমে যাওয়া, অফিস, রাতে বাসায় ফিরে কাজ শেষ করা, তারপর ঘুম। কোনো বন্ধুবান্ধব নেই বললেই চলে। কেউ ডাকলেও সে যায় না।মায়া এসেছিল নতুন করে। কোম্পানির ক্রিয়েটিভ টিমে জয়েন করেছিল সে। প্রথম দিনই অফিসের করিডোরে নীলের সাথে দেখা হয় তার। নীল হাতে ফাইল নিয়ে হাঁটছিল, মায়া হঠাৎ করেই থেমে গিয়ে বলল, “স্যার, আপনি কি নীল ভাইয়া? আমি মায়া। নতুন জয়েন করেছি।”নীল তাকিয়ে দেখল। মায়ার চোখে একটা দুষ্টুমি ছিল। চুলটা খোলা, হালকা মেকআপ, সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট। সে মাথা নেড়ে শুধু বলল, “হুম।” তারপর হেঁটে চলে গেল।মায়া পিছু পিছু এসে বলল, “আপনার মুখে হাসি নেই কেন? অফিসে সবাই ভয় পায় আপনাকে।”নীল থেমে তাকাল। “কাজ আছে। বাধা দিবেন না।”মায়া হেসে বলল, “আমি বাধা দিচ্ছি না। শুধু জানতে চাইছি। আপনি কি সত্যিই এত কঠিন?”নীল কিছু না বলে চলে গেল। কিন্তু সেদিন থেকে মায়া তার নজরে পড়তে লাগল। অফিসের মিটিংয়ে মায়া কথা বলত সাহসের সাথে। নীল যখন কেউকে কড়া কথা বলত, মায়া হেসে উড়িয়ে দিত। একদিন মিটিং শেষে মায়া নীলের কেবিনে ঢুকে বলল, “আপনার কফির কাপে চিনি নেই দেখলাম। আমি নিয়ে এসেছি।”নীল অবাক হয়ে তাকাল। “কেন?”“কারণ আপনি নিজে নিবেন না। আর আমি চাই আপনি একটু মিষ্টি হোন।”নীল চুপ করে কফি নিয়ে নিল। মায়া কেবিনেই বসে পড়ল। “আপনার জীবনে কেউ নেই কেন?”“প্রয়োজন নেই।”“প্রয়োজন না থাকলেও মানুষ থাকে। আপনি মানুষকে দূরে রাখেন।”নীল রাগত করে বলল, “আপনার কাজ শেষ হয়েছে। বের হোন।”মায়া উঠে দাঁড়িয়ে হেসে বলল, “আমি যাচ্ছি। কিন্তু আবার আসব। আপনি আমাকে তাড়াতে পারবেন না।”এভাবেই শুরু হলো। মায়া প্রতিদিন কোনো না কোনো অজুহাতে নীলের কাছে আসত। কখনো রিপোর্ট নিয়ে, কখনো শুধু কথা বলতে। নীল যতই রূঢ় হতো, মায়া ততই হাসত। একদিন নীল রেগে গিয়ে বলল, “তুমি আমার সময় নষ্ট করছ। চলে যাও।”মায়া শান্ত গলায় বলল, “আমি জানি আপনি একা থাকতে চান। কিন্তু একা থাকা মানেই শক্ত হওয়া না। আপনি শক্ত দেখান, ভিতরে নরম।”নীল সেদিন রাতে ঘুমাতে পারেনি। মায়ার কথাগুলো মাথায় ঘুরছিল। পরের দিন অফিসে মায়া এসে বলল, “আজ সন্ধ্যেবেলা কফি খাবেন আমার সাথে?”নীল না বলতে গিয়েও বলে ফেলল, “একঘণ্টা।”তারা গুলশানের একটা ক্যাফেতে বসল। মায়া কথা বলতে লাগল তার ছোটবেলার কথা, গ্রামের কথা, ঢাকায় আসার কথা। নীল শুধু শুনছিল। মায়ার হাসি দেখে তার বুকের ভিতরটা অদ্ভুত লাগতছিল।রাত গড়িয়ে গেল। নীল মায়াকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে নিজে ফিরল। ফ্ল্যাটে ঢুকে সে আয়নায় নিজের মুখ দেখল। মুখে একটা হালকা হাসি ছিল। সে অবাক হয়ে গেল।পরের সপ্তাহগুলোতে মায়া আরও কাছে এল। নীল মায়াকে দূরে সরাতে চাইত, কিন্তু পারত না। মায়া তার জীবনের অংশ হয়ে যাচ্ছিল। একদিন অফিস থেকে বেরিয়ে বৃষ্টি না হলেও আকাশ মেঘলা ছিল। তারা একসাথে হেঁটে যাচ্ছিল। মায়া হঠাৎ নীলের হাত ধরে বলল, “আপনি কি আমাকে পছন্দ করেন?”নীল থেমে গেল। “তুমি পাগল।”মায়া হেসে বলল, “হ্যাঁ, আমি পাগল। আপনার জন্য।”নীল তার হাত ছেড়ে দিতে চাইল, কিন্তু পারল না। মায়ার হাতের উষ্ণতা তার শরীরে ছড়িয়ে পড়ছিল। তারা একটা ফুটপাতের পাশে দাঁড়াল। চারপাশে মানুষ যাচ্ছিল, কিন্তু নীলের চোখে শুধু মায়া। মায়া এগিয়ে এসে নীলের ঠোঁটে হালকা চুমু দিল। নীল প্রথমে থতমত খেল, তারপর মায়াকে জড়িয়ে ধরল। চুমুটা গভীর হলো। মায়ার শরীর তার বুকে চেপে গেল। নীলের হাত মায়ার কোমরে চলে গেল। তারা ভুলে গেল চারপাশের সবকিছু।সেই রাতে নীল মায়াকে তার ফ্ল্যাটে নিয়ে গেল। দরজা বন্ধ হতেই তারা আবার জড়িয়ে ধরল একে অপরকে। জামাকাপড় খুলে গেল একটার পর একটা। নীল মায়ার শরীরের প্রতিটা অংশ স্পর্শ করল। মায়ার ত্বক ছিল নরম, উষ্ণ। নীলের ঠোঁট মায়ার গলায়, বুকে, পেটে নেমে গেল। মায়া আর্তনাদ করে উঠল। তারা বিছানায় গড়িয়ে পড়ল। নীল মায়ার পায়ের মাঝখানে ঢুকে গেল। মায়ার নখ নীলের পিঠে বিঁধে গেল। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা একে অপরকে ভোগ করল। ঘামে ভিজে গেল শরীর। শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল, কিন্তু থামছিল না কেউ। মায়া নীলের কানে কানে বলল, “আমি তোমাকে ছাড়ব না।”নীল জবাব দিল না। শুধু আরও জোরে জড়িয়ে ধরল। সে রাতে প্রথমবারের মতো নীলের ঘুম গভীর হলো। মায়া তার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিল।পরের দিন অফিসে সবাই লক্ষ্য করল নীলের মুখে হালকা হাসি। কেউ জিজ্ঞেস করলে নীল কিছু বলত না। কিন্তু মায়া এসে তার কেবিনে ঢুকে চুমু খেয়ে যেত। নীল মায়াকে থামাত না। মায়া তার জীবনে এমনভাবে ঢুকে পড়েছিল যে নীল আর দূরে সরাতে পারছিল না।একদিন মায়া বলল, “তুমি আমাকে ভালোবাসো?”নীল চুপ করে থাকল। মায়া হেসে বলল, “বলতে পারো না। কিন্তু তোমার চোখে আমি দেখি।”নীল মায়াকে টেনে এনে চুমু দিল। গভীর, গরম চুমু। মায়ার জিভ তার মুখে ঢুকে গেল। তারা অফিসের কেবিনেই প্রায় হারিয়ে গেল। জানালার পর্দা টেনে দিয়ে নীল মায়াকে টেবিলের ওপর তুলে নিল। মায়ার স্কার্ট উঠে গেল। নীল হাঁটু গেড়ে বসে মায়াকে চুমু দিল নিচের দিকে। মায়া মুখ চেপে ধরে আর্তনাদ চাপল। তারপর নীল উঠে দাঁড়িয়ে মায়ার ভিতরে ঢুকে গেল। টেবিল কেঁপে উঠল। মায়ার পা নীলের কোমরে জড়িয়ে গেল। তারা একসাথে শেষ করল। ঘামে ভিজে গেল জামা।এভাবেই দিন কেটে যেতে লাগল। নীল মায়াকে যত দূরে সরাতে চাইত, মায়া তত কাছে চলে আসত। নীলের জীবনের প্রতিটা নিয়ম ভেঙে যাচ্ছিল। মায়া তাকে হাসাত, রেগে যেত, আবার ভালোবাসত। নীল বুঝতে পারছিল না সে কী করছে। কিন্তু মায়াকে ছাড়া তার দিন কাটছিল না।এক সপ্তাহ পর নীল মায়াকে নিয়ে কক্সবাজারে গেল। সমুদ্রের পাশে হোটেলে উঠল তারা। রাতে সমুদ্রের শব্দ শুনতে শুনতে তারা একে অপরকে ভালোবাসল। নীল মায়ার শরীরের প্রতিটা ভাঁজ চিনে নিল। মায়া নীলের বুকের ওপর শুয়ে বলল, “তুমি আমাকে ভয় পাও। তাই না?”নীল মায়ার চুল আঁচড়ে দিয়ে বলল, “আমি কাউকে কাছে রাখতে পারি না।”মায়া উঠে বসে বলল, “আমাকে রাখো। আমি যাব না।”নীল মায়াকে জড়িয়ে ধরল। সে রাতে তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হলো। নীল মায়ার ভিতরে যতদূর সম্ভব ঢুকে গেল। মায়া কান্না জড়িয়ে আর্তনাদ করল। তারা একে অপরকে এমনভাবে ধরল যেন আর কখনো ছাড়বে না।ফিরে এসে অফিসে সবাই বুঝতে পারল নীল বদলে গেছে। মায়া তার পাশে থাকত সবসময়। নীল মায়াকে পাবলিকলি জড়িয়ে ধরত না, কিন্তু চোখে চোখে কথা হতো। রাতে ফ্ল্যাটে গিয়ে তারা সবকিছু ভুলে যেত। মায়ার শরীর নীলের জন্য আসক্তি হয়ে উঠেছিল। নীল মায়াকে ছুঁলেই উত্তেজিত হয়ে যেত। মায়াও তাই। তারা রাতে ঘুমাত কম, ভালোবাসত বেশি।নীল একদিন নিজে থেকেই মায়াকে বলল, “তুমি আমার জীবন বদলে দিয়েছ।”মায়া হেসে বলল, “আমি জানতাম তুমি একদিন বলবে।”তারা আবার জড়িয়ে ধরল। চুমু, স্পর্শ, আর গভীর মিলন। নীলের জীবনে মায়া এমনভাবে ঢুকে পড়েছিল যে সে আর পিছু হটতে পারছিল না।
মাসখানেক কেটে গেল। নীল আর মায়ার সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছিল। অফিসে সবাই জানত তারা একসাথে আছে। কেউ খোলাখুলি কিছু বলত না, কিন্তু চোখে চোখে বোঝা যেত। নীল আগের মতো কঠিন ছিল না। মিটিংয়ে সে হাসত, সহকর্মীদের সাথে কথা বলত। মায়া তার পাশে বসত। কখনো কখনো নীলের হাতের ওপর হাত রেখে দিত চুপিচুপি।রাতে তাদের ফ্ল্যাটটা ভালোবাসার ঘরে পরিণত হতো। নীল মায়াকে বিছানায় শুইয়ে তার পুরো শরীর চুমু দিত। মায়ার স্তন, পেট, উরু—সব জায়গায় নীলের ঠোঁট ঘুরত। মায়া নীলের চুল ধরে টানত। নীল মায়ার ভিতরে জিভ ঢুকিয়ে দিত। মায়া কেঁপে উঠত। তারপর নীল উঠে এসে মায়ার ওপর চেপে ধরত। ধীরে ধীরে ঢুকত। মায়া আর্তনাদ করে বলত, “আরও জোরে।” নীল জোরে ধাক্কা দিত। বিছানা কেঁপে উঠত। মায়ার নখ নীলের পিঠে রক্তের দাগ কেটে দিত। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলত। কখনো মায়া উপরে উঠে নীলকে চালাত। নীলের হাত মায়ার কোমরে চেপে ধরত। মায়া নীলের বুকে নখ বসাত। শেষে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ঘামে ভিজে পড়ে থাকত।একদিন নীল মায়াকে নিয়ে বান্দরবনে গেল। পাহাড়ের কুটিরে উঠল তারা। রাতে আগুন জ্বালিয়ে বসে কথা বলছিল। মায়া নীলের কোলে বসে বলল, “তুমি আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে না তো?”নীল মায়ার চিবুক ধরে বলল, “না।”মায়া চুমু দিল। চুমুটা ধীরে ধীরে গরম হয়ে উঠল। তারা কুটিরের ভিতরে ঢুকে গেল। কাপড় খুলে ফেলল। নীল মায়াকে দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড় করিয়ে ভিতরে ঢুকে গেল। মায়ার পা নীলের কোমরে জড়িয়ে গেল। নীল জোরে ধাক্কা দিচ্ছিল। মায়া আর্তনাদ করছিল। পাহাড়ের নীরবতা ভেঙে যাচ্ছিল তাদের শব্দে। তারা মেঝেতে গড়িয়ে পড়ল। নীল মায়াকে উপুড় করে শুইয়ে পিছন থেকে ঢুকল। মায়া বালিশ চেপে ধরে চিৎকার করল। নীল তার চুল ধরে টানল। তারা একসাথে শেষ করল। তারপরও থামল না। রাতভর চলল তাদের খেলা।ফিরে এসে নীল বুঝতে পারল মায়া তার জীবনের কেন্দ্র হয়ে গেছে। সে মায়াকে ছাড়া একদিনও কাটাতে পারত না। অফিসে মায়া না থাকলে নীল অস্থির হয়ে যেত। মায়া ছুটি নিলে নীল বাসায় বসে থাকত। মায়া ফিরে এলে তারা আবার জড়িয়ে ধরত।কিন্তু মায়ার মধ্যে একটা অভিমান জন্মাচ্ছিল। নীল তাকে ভালোবাসত, কিন্তু কখনো মুখে বলত না। মায়া বারবার জিজ্ঞেস করত, “তুমি আমাকে ভালোবাসো?” নীল চুপ করে থাকত বা চুমু দিয়ে উত্তর দিত। মায়া ধীরে ধীরে বিরক্ত হতে লাগল।একদিন অফিসে একটা বড় মিটিং ছিল। ক্লায়েন্ট এসেছিল। নীল প্রেজেন্টেশন দিচ্ছিল। মায়া পাশে বসে সাহায্য করছিল। মিটিং শেষে ক্লায়েন্ট চলে গেল। অফিসের সবাই হাততালি দিল। নীল মায়ার দিকে তাকিয়ে হাসল। মায়া হাসল না।সন্ধ্যাবেলা ফ্ল্যাটে গিয়ে মায়া বলল, “তুমি আমাকে কখনো বলবে না যে তুমি আমাকে ভালোবাসো?”নীল বলল, “তুমি জানো।”মায়া রেগে গিয়ে বলল, “আমি জানতে চাই না। শুনতে চাই। তুমি আমাকে শুধু শরীর দিয়ে ভালোবাসো। মন দিয়ে না।”নীল এগিয়ে গিয়ে মায়াকে জড়িয়ে ধরতে চাইল। মায়া সরিয়ে দিল। “আজ না। আমি ক্লান্ত।”নীল থতমত খেল। মায়া কখনো এমন করেনি। সে রাতে তারা আলাদা বিছানায় ঘুমাল। নীল ঘুমাতে পারেনি। মায়ার কথাগুলো মাথায় ঘুরছিল।পরের দিন মায়া অফিসে এল, কিন্তু নীলের সাথে কথা বলল না। নীল কেবিনে ডাকল। মায়া এল। নীল বলল, “কী হয়েছে?”মায়া বলল, “কিছু না। কাজ করি।”নীল মায়াকে টেনে এনে চুমু দিতে চাইল। মায়া মুখ ঘুরিয়ে নিল। “অফিসে না।”নীল রাগ করে বলল, “তুমি কী চাও?”মায়া তাকিয়ে বলল, “আমি চাই তুমি আমাকে স্বীকার করো। সবার সামনে। যে তুমি আমাকে ভালোবাসো। যে আমি তোমার জীবনের অংশ।”নীল চুপ করে গেল। সে পারছিল না। তার জীবনের অভ্যাস তাকে আটকে রাখছিল। মায়া অপেক্ষা করল কিছুক্ষণ। তারপর বেরিয়ে গেল।সেই রাতে মায়া ফ্ল্যাটে এল না। নীল ফোন করল। মায়া ধরল না। নীল অস্থির হয়ে পড়ল। সে মায়ার বাসায় গেল। মায়া দরজা খুলল। চোখ লাল।নীল বলল, “চলো বাসায়।”মায়া বলল, “না। আমি আজ একা থাকব।”নীল জোরে বলল, “মায়া, আমাকে পাগল কোরো না।”মায়া হেসে বলল, “তুমি তো আগেই পাগল। শুধু আমাকে নিয়ে না।”নীল মায়াকে জোর করে জড়িয়ে ধরল। মায়া বাধা দিল না। তারা চুমু খেল। গরম, গভীর চুমু। মায়া নীলের জামা ছিঁড়ে ফেলল। নীল মায়াকে তুলে বিছানায় নিয়ে গেল। তারা পাগলের মতো একে অপরকে ভোগ করল। নীল মায়ার ভিতরে এত জোরে ঢুকল যে মায়া কেঁদে ফেলল। কিন্তু থামল না। তারা রাতভর চলল। শেষে মায়া নীলের বুকে মাথা রেখে বলল, “আমি তোমাকে ছাড়তে পারি না। কিন্তু তুমি যদি আমাকে স্বীকার না করো, আমি থাকতে পারব না।”নীল কিছু বলল না। শুধু মায়াকে জড়িয়ে ধরে থাকল।পরের কয়েকদিন মায়া আগের মতোই থাকল। কিন্তু নীল বুঝতে পারছিল মায়ার মধ্যে একটা দেয়াল তৈরি হচ্ছে। মায়া হাসত, কথা বলত, ভালোবাসত, কিন্তু চোখে একটা দূরত্ব ছিল। নীল আরও বেশি করে মায়াকে চাইত। রাতে সে মায়াকে এমনভাবে ভালোবাসত যেন মায়াকে বেঁধে রাখতে চায়। মায়াও সাড়া দিত। তাদের শরীরের মিলন ছিল আগুনের মতো। কিন্তু মনের মিলনটা আটকে যাচ্ছিল।একদিন অফিসের পার্টিতে সবাই জড়ো হলো। নীল আর মায়া পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিল। কেউ একজন জোক করে বলল, “নীল ভাইয়া এখন আর কঠিন নেই। মায়া আপু তাকে নরম করে দিয়েছে।”সবাই হাসল। নীল হাসল। মায়া হাসল না। সে নীলের দিকে তাকিয়ে বলল, “বলো না কিছু?”নীল চুপ করে থাকল। মায়া গ্লাস রেখে দিয়ে বেরিয়ে গেল। নীল পিছু পিছু গেল। বাইরে দাঁড়িয়ে মায়া বলল, “আমি আর পারছি না। তুমি আমাকে ভালোবাসো কিন্তু স্বীকার করতে পারো না। আমি অভিমান করে চলে যাব।”নীল মায়ার হাত ধরল। “যাবে না।”মায়া হাত ছাড়িয়ে নিল। “যাব। তুমি যদি সবার সামনে না বলো, আমি যাব।”নীল কিছু বলতে পারল না। মায়া ট্যাক্সি করে চলে গেল। নীল দাঁড়িয়ে থাকল। বুকের ভিতরটা খালি লাগছিল।সেই রাতে নীল একা ফ্ল্যাটে ফিরল। মায়ার জিনিসপত্র পড়ে ছিল। নীল মায়ার স্কার্ফ হাতে নিয়ে বসল। তার চোখে জল এল প্রথমবারের মতো। সে বুঝতে পারল মায়াকে হারালে সে বাঁচবে না।
মায়া চলে গেল। ফোন ধরল না। মেসেজের জবাব দিল না। নীল অফিসে গেল, কিন্তু মন ছিল না। সহকর্মীরা জিজ্ঞেস করল মায়া কোথায়। নীল বলল, “জানি না।”
দুই দিন কেটে গেল। নীল রাতে ঘুমাতে পারেনি। মায়ার শরীরের গন্ধ তার বিছানায় লেগে ছিল। সে মায়ার ছবি দেখত ফোনে। মায়ার সাথে কাটানো রাতগুলো মনে পড়ত। মায়ার আর্তনাদ, মায়ার নখের দাগ, মায়ার চুমু—সবকিছু তাকে পাগল করে দিচ্ছিল।
তৃতীয় দিন নীল মায়ার বাসায় গেল। মায়ার রুমমেট দরজা খুলল। বলল, “মায়া বাসায় নেই। গ্রামের বাড়ি গেছে।”
নীল জিজ্ঞেস করল ঠিকানা। রুমমেট দিল। নীল সেদিনই চলে গেল মায়ার গ্রামে। সিলেটের একটা ছোট গ্রাম। মায়ার বাড়ি খুঁজে পেল। মায়ার মা দরজায় এসে দাঁড়াল। নীল সালাম দিয়ে বলল, “আমি নীল। মায়ার সহকর্মী।”
মায়ার মা ভিতরে ডাকল। মায়া বেরিয়ে এল। চোখে অবাক ভাব। “তুমি এখানে কেন?”
নীল বলল, “তোমাকে নিয়ে যেতে।”
মায়া মাথা নাড়ল। “না। আমি থাকব এখানে। তুমি ফিরে যাও।”
নীল জোরে বলল, “মায়া, আমি তোমাকে হারাতে চাই না।”
মায়া হেসে বলল, “হারাতে চাও না মানে কী? তুমি তো কখনো বলোনি যে তুমি আমাকে ভালোবাসো।”
নীল এগিয়ে গিয়ে মায়ার হাত ধরল। “চলো ঢাকায়। সবার সামনে বলব।”
মায়া হাত ছাড়িয়ে নিল। “এখন না। তুমি গিয়ে সবার সামনে বলো। তারপর আমি ভাবব।”
নীল ফিরে এল ঢাকায়। পরের দিন অফিসে সবাইকে মিটিংয়ে ডাকল। পুরো ডিভিশনের লোকজন জড়ো হলো। নীল দাঁড়িয়ে বলল, “আমি কিছু বলতে চাই।”
সবাই চুপ করে গেল। নীল গলা পরিষ্কার করে বলল, “তোমরা সবাই জানো আমি কঠিন মানুষ। কেউ আমার জীবনে বেশিদিন থাকে না। কিন্তু মায়া এসেছে আমার জীবনে। সে আমাকে ভয় পায়নি। সে আমাকে নিয়ে মজা করেছে। আমি তাকে দূরে সরাতে চেয়েছি বারবার। কিন্তু সে আমার জীবনের অংশ হয়ে গেছে।”
সবাই অবাক হয়ে তাকিয়েছিল। নীল চালিয়ে গেল, “মায়া অভিমান করে চলে গেছে। কারণ আমি তাকে সবার সামনে স্বীকার করিনি। আজ আমি স্বীকার করছি। আমি ওকে হারাতে চাই না। কারণ এতদিন ও আমাকে জ্বালিয়েছে, আর আমি সেই জ্বালাতেই বাঁচতে শিখেছি।”
অফিসে নিস্তব্ধতা নেমে এল। তারপর কেউ একজন হাততালি দিল। সবাই হাততালি দিতে লাগল। নীলের চোখে জল এল। সে মায়াকে ফোন করল। মায়া ধরল। নীল বলল, “আমি বলেছি। সবার সামনে। এখন আসবে?”
মায়া চুপ করে থাকল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, “আসছি।”
মায়া ফিরে এল সন্ধ্যাবেলা। নীল তাকে এয়ারপোর্টে নিতে গেল। মায়াকে দেখেই নীল জড়িয়ে ধরল। চুমু দিল। লোকজন তাকিয়ে থাকল। নীল পাত্তা দিল না। তারা ফ্ল্যাটে ফিরল। দরজা বন্ধ হতেই নীল মায়াকে তুলে বিছানায় নিয়ে গেল। কাপড় ছিঁড়ে ফেলল। মায়ার শরীর আবার তার হাতে এল। নীল মায়াকে এমনভাবে ভালোবাসল যেন কখনো ছাড়বে না। মায়াও পাগলের মতো সাড়া দিল। তারা রাতভর চলল। নীল মায়ার কানে কানে বলল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে হারাব না কখনো।”
মায়া কেঁদে ফেলল। তারা আবার জড়িয়ে ধরল। নীল মায়ার ভিতরে ঢুকে গেল। ধীরে ধীরে, গভীরভাবে। মায়া নীলের পিঠে নখ বসাল। তারা একসাথে শেষ করল। তারপরও থামল না। সকাল পর্যন্ত চলল তাদের ভালোবাসা।
পরের দিন অফিসে মায়া এল নীলের সাথে। সবাই হাসল। কেউ কেউ অভিনন্দন জানাল। নীল মায়ার হাত ধরে হাঁটল করিডোরে। মায়া তার কাঁধে মাথা রাখল।
তাদের জীবন আবার শুরু হলো। কিন্তু এবার নীল আর লুকোতো না। সে মায়াকে সবার সামনে জড়িয়ে ধরত। চুমু দিত। রাতে তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হলো। নীল মায়াকে বলত, “তুমি আমার আগুন। আমি এই আগুনেই বাঁচি।”
মায়া হেসে বলত, “তাহলে আমাকে জ্বালিয়ে রাখো সবসময়।”
তারা একে অপরকে এমনভাবে ভালোবাসত যেন সময় থেমে গেছে। নীলের কঠিন মুখটা নরম হয়ে গিয়েছিল চিরতরে। মায়া তার জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছিল এমনভাবে যে আর কেউ আলাদা করতে পারত না।
একদিন নীল মায়াকে নিয়ে বসে বলল, “আমরা একসাথে থাকব। চিরকাল।”
মায়া নীলের কোলে বসে চুমু দিয়ে বলল, “হ্যাঁ। চিরকাল।”
তাদের গল্প এভাবেই চলতে থাকল। নীল আর মায়া। দুইজন মানুষ, যারা একে অপরকে জ্বালিয়ে বাঁচত। আর সেই জ্বালায় তারা পেয়েছিল তাদের জীবনের আসল অর্থ।
....