রাগী বউয়ের মিষ্টি শাস্তি

আদিল আর তৃষার বিয়ের পর মাত্র তিন মাস কেটেছে। ঢাকার উত্তরায় তাদের ছোট্ট ফ্ল্যাটটা এখনো নতুন বউয়ের ঘরের গন্ধে ভরা। রান্নাঘরে তৃষার হাতের ঝোলের সুবাস, বসার ঘরে আদিলের পছন্দের বইয়ের স্তূপ, আর শোবার ঘরে দুজনের একসাথে ঘুমানোর নরম চাদর—সবকিছু যেন এখনো বিয়ের মিষ্টি স্মৃতি বহন করছে।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

কিন্তু সেই মিষ্টির ভেতরে একটা অদ্ভুত খেলা শুরু হয়ে গেছে। কে কাকে বেশি জ্বালাতে পারে—এই প্রতিযোগিতাটা।

একদিন সকালে আদিল অফিসে যাওয়ার আগে রান্নাঘর থেকে ডাক দিল, “তৃষা, আমার সেই বিফ ভুনাটা কোথায়? কাল রাতে বানিয়েছিলে না?”

¦Ëk¢x/춺'ƒú

তৃষা বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে চুল শুকাতে শুকাতে বলল, “আচ্ছা? আমি তো রেখেছিলাম ফ্রিজে। তুমি কি ভুলে গেছো?”

আদিল ফ্রিজ খুলে তাকাল। বিফ ভুনা নেই। শুধু কিছু সবজি আর দুধের প্যাকেট। সে পেছন ফিরে তাকাল। তৃষা হাসছে। সেই দুষ্টু হাসি।

“তুমি লুকিয়েছো?” আদিল ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।

তৃষা পেছনে সরে গিয়ে দরজার কাছে দাঁড়াল। “আমি? আমি কেন লুকাবো? তোমার খাবার আমি কেন লুকাবো?”

আদিল তার কোমর ধরে টেনে নিল। “কারণ তুমি জানো আমি সকালে সেটা খেয়ে অফিসে যেতে চাই। আর তুমি চাও আমি ক্ষুধার্ত থেকে তোমার কথা ভাবি।”

তৃষা তার বুকের ওপর হাত রেখে বলল, “হয়তো। তুমি যদি আমার কথা না ভাবো, তাহলে আমি কী করে জানবো তুমি আমাকে মিস করছো?”

আদিল তার ঠোঁটের কাছে মুখ নিয়ে গেল। “আমি প্রতি মুহূর্তে মিস করি। কিন্তু তবুও...” সে হঠাৎ তৃষার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, “আজ রাতে তোমার প্রিয় সিরিজের রিমোট আমি নিয়ে যাবো। দেখি তুমি কী করো।”

তৃষার চোখ বড় হয়ে গেল। “তুমি সাহস করো না!”

আদিল হেসে উঠে তাকে চুমু খেল। গভীর, ধীর। তৃষার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেল। আদিলের হাত তার কোমর থেকে উঠে গেল পিঠে, তারপর চুলে। তৃষা তার জিভের স্বাদ নিল। আদিলের মুখে এখনো সকালের চায়ের স্বাদ।

“অফিসে যেতে হবে,” তৃষা শ্বাস ফেলে বলল।

“যাবো,” আদিল তার ঘাড়ে চুমু খেয়ে বলল। “কিন্তু রাতে দেখা হবে।”

সারাদিন আদিল অফিসে বসে তৃষার কথা ভেবেছে। তৃষাও বাড়িতে বসে পরিকল্পনা করেছে। সন্ধ্যায় আদিল বাড়ি ফিরলে দেখল টিভির সামনে তৃষা বসে আছে। কিন্তু রিমোট নেই।

“রিমোট কোথায়?” আদিল জিজ্ঞেস করল।

তৃষা কাঁধ ঝাঁকাল। “জানি না। হয়তো তুমিই রেখেছো কোথাও।”

আদিল হাঁটু গেড়ে বসল তার সামনে। “তৃষা।”

“কী?”

“তুমি জানো আমি কতটা অপেক্ষা করি রাতে তোমার সাথে সিরিজ দেখার জন্য। আর তুমি সেটা কেড়ে নিলে।”

তৃষা হাসল। “তাহলে এখন কী করবে?”

আদিল উঠে দাঁড়িয়ে তাকে তুলে নিয়ে শোবার ঘরে নিয়ে গেল। তৃষা চিৎকার করে হাসতে লাগল। “আদিল! না!”

কিন্তু আদিল তাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে তার ওপর ঝুঁকে পড়ল। “এখন আমরা সিরিজ দেখবো না। আমরা অন্য কিছু দেখবো।”

তৃষার চোখে হাসি ফুটে উঠল। আদিল তার কাপড় খুলতে শুরু করল। ধীরে ধীরে। প্রথমে ওড়না, তারপর কামিজের বোতাম। তৃষার ত্বক তার হাতের নিচে কাঁপছিল। আদিল তার বুকের মাঝখানে চুমু খেল। তারপর নিচে নামল। তৃষার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল।

“আদিল...” সে ফিসফিস করে বলল।

আদিল উঠে তার চোখের দিকে তাকাল। “বলো।”

“আরও...”

আদিল তার ঠোঁট চেপে ধরল। গভীরভাবে চুমু খেল। তাদের শরীর একে অপরের সাথে মিশে গেল। আদিলের হাত তৃষার রানের ভেতর দিয়ে উঠে গেল। তৃষা তার পিঠে নখ বসিয়ে দিল। ঘরের ভেতর শুধু তাদের শ্বাস আর চামড়ার শব্দ।

পরে, যখন তারা পাশাপাশি শুয়ে ছিল, আদিল তৃষার চুলে আঙুল বুলিয়ে বলল, “তুমি জানো তো, আমি তোমাকে জ্বালাতে ভালোবাসি। কিন্তু তোমাকে এভাবে দেখা আমার সবচেয়ে প্রিয়।”

তৃষা তার বুকে মাথা রেখে বলল, “আমিও। কিন্তু আমি থামবো না।”

আদিল হাসল। “তাহলে খেলা চলুক।”

পরের দিন তৃষা আদিলের অফিসের ব্যাগে একটা নোট রেখে দিল। “আজ রাতে তোমার প্রিয় খাবার থাকবে না। শুধু আমি থাকবো।”

আদিল অফিসে বসে নোটটা পড়ে হেসে উঠল। সহকর্মীরা অবাক হয়ে তাকাল। আদিল ফোন করল তৃষাকে। “তুমি কি জানো তুমি কী করছো?”

তৃষা অন্যপাশে হাসছিল। “জানি। আর তুমিও জানো তুমি কী করবে।”

সন্ধ্যায় আদিল বাড়ি ফিরে দেখল তৃষা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো রান্না নেই। শুধু সে। লাল রঙের একটা শাড়ি পরে। চুল খোলা।

আদিল দরজায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইল। “তুমি...”

তৃষা এগিয়ে এসে তার গলার কাছে হাত রেখে বলল, “আজ ক্ষুধা মেটাবে অন্যভাবে।”

আদিল তাকে তুলে নিয়ে টেবিলের ওপর বসাল। তৃষার শাড়ি সরে গেল। আদিল তার রানের ভেতর হাঁটু গেড়ে বসল। তৃষার হাত তার চুলে গিয়ে পড়ল। আদিল তার ভেতরের নরম জায়গায় মুখ রাখল। তৃষা মাথা পেছনে ফেলে আর্তনাদ করল।

“আদিল... আরও...”

আদিল থামল না। তার জিভ আর ঠোঁট তৃষাকে পাগল করে তুলল। তৃষার শরীর কাঁপতে লাগল। সে আদিলের চুল শক্ত করে ধরে রাখল। যখন সে শেষ পর্যন্ত পৌঁছাল, তার চোখ থেকে জল বেরিয়ে এল।

আদিল উঠে এসে তাকে চুমু খেল। তৃষা তার স্বাদ নিল নিজের শরীরের।

“এবার আমার পালা,” তৃষা ফিসফিস করে বলল।

সে হাঁটু গেড়ে বসল। আদিলের প্যান্ট খুলে দিল। আদিলের হাত তার চুলে গিয়ে পড়ল। তৃষা তাকে মুখে নিল। ধীরে, গভীরভাবে। আদিলের শ্বাস ভারী হয়ে উঠল। সে দেয়ালে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রইল। তৃষা থামল না। যতক্ষণ না আদিল তার নাম ধরে ডাকল।

পরে তারা মেঝেতে শুয়ে রইল। ঘামে ভেজা শরীর। আদিল তৃষার পিঠে হাত বুলিয়ে বলল, “তুমি জানো, এই খেলাটা আমাকে তোমার আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে।”

তৃষা তার বুকে চুমু খেয়ে বলল, “তাই তো চাই।”

দিনগুলো এভাবেই কেটে যেতে লাগল। সকালে লুকানো খাবার, সন্ধ্যায় লুকানো রিমোট, রাতে লুকানো শরীর। প্রতিবারই তারা একে অপরকে আরও গভীরে চিনতে লাগল। আদিল বুঝতে পারল তৃষা যখন রেগে যায় তখন তার চোখ কেমন হয়। তৃষা বুঝতে পারল আদিল যখন হারে যায় তখন তার হাসি কেমন হয়।

একদিন আদিল তৃষার প্রিয় বইয়ের পাতায় একটা চিরকুট রেখে দিল। “আজ রাতে তুমি জিতবে না।”

তৃষা সেটা পড়ে হেসে উঠল। সে আদিলের অফিসের ড্রয়ারে একটা ছবি রেখে দিল—নিজের। শুধু একটা ওড়নায় মোড়া।

আদিল অফিসে বসে সেটা দেখে ফোন করল। “তুমি কি পাগল?”

তৃষা হাসছিল। “হয়তো। কিন্তু তুমিও তো।”

রাতে তারা একে অপরকে জ্বালানোর খেলা খেলল। কিন্তু শেষে সবসময় এক জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল—একে অপরের বাহুতে। গভীর চুমুতে। গরম শরীরে।

আদিল তৃষার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, “আমি তোমাকে জ্বালাতে চাই। কিন্তু আমি তোমাকে হারাতে চাই না।”

তৃষা তার ঠোঁট চেপে ধরে বলল, “তাহলে খেলা চলুক। যতদিন না কেউ সত্যি হারে।”

সেই রাতে তারা ঘুমাল না। শুধু একে অপরকে ছুঁয়ে, চুমু খেয়ে, ভালোবেসে কাটাল। বাইরে ঢাকার রাত নীরব। ভেতরে দুজনের শ্বাস মিলেমিশে এক হয়ে গেল।

প্রতিযোগিতাটা এখন আরও গভীর হয়েছে। আদিল আর তৃষা একে অপরকে জ্বালানোর নতুন নতুন উপায় বের করছে। কিন্তু সেই জ্বালানোর ভেতরে একটা গরম টান তৈরি হয়েছে যেটা দুজনকেই টানছে।

এক সপ্তাহ পর আদিল একদিন সকালে উঠে দেখল তার প্রিয় শার্টটা নেই। তৃষা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে চা বানাচ্ছে।

“আমার নীল শার্টটা কোথায়?” আদিল জিজ্ঞেস করল।

তৃষা পেছন ফিরে তাকাল। “কোনটা? যেটা তুমি পরলে আমার বিয়ের দিন?”

“হ্যাঁ।”

তৃষা হাসল। “সেটা আমি নিয়ে নিয়েছি। আজ তুমি অন্য শার্ট পরে যাবে। আর আমি সেটা পরে থাকবো বাড়িতে।”

আদিল এগিয়ে গিয়ে তার কোমর ধরল। “তুমি আমার শার্ট পরে থাকবে?”

“হ্যাঁ। আর কিছু না।”

আদিলের চোখ অন্ধকার হয়ে গেল। সে তৃষাকে চুমু খেল। গভীরভাবে। তৃষার হাত তার চুলে গিয়ে পড়ল। চায়ের কেটলি সিটি দিচ্ছিল, কিন্তু তারা থামল না।

“অফিসে যেতে হবে,” তৃষা শ্বাস ফেলে বলল।

“যাবো,” আদিল তার ঘাড়ে কামড় দিয়ে বলল। “কিন্তু তুমি সেই শার্টটা পরে থাকো। আমি ফিরে এসে দেখবো।”

সারাদিন আদিল অফিসে বসে তৃষার কথা ভেবেছে। তৃষা বাড়িতে আদিলের শার্ট পরে ঘুরে বেড়িয়েছে। শার্টটা তার হাঁটু পর্যন্ত। নিচে কিছু নেই। সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখেছে। আদিলের গন্ধ তার শরীরে লেগে আছে।

সন্ধ্যায় আদিল বাড়ি ফিরে দরজা খুলে দেখল তৃষা সোফায় বসে আছে। তার শার্ট পরে। পা ভাঁজ করে। চুল খোলা।

আদিল দরজা বন্ধ করে চাবি ঘোরাল। “তুমি...”

তৃষা উঠে দাঁড়াল। শার্টটা সরে গিয়ে তার রানের উপরের অংশ দেখা গেল। “কেমন লাগছে?”

আদিল কথা বলল না। সে এগিয়ে গিয়ে তাকে তুলে নিয়ে দেয়ালে ঠেস দিয়ে রাখল। তৃষার পা তার কোমরে জড়িয়ে গেল। আদিলের হাত শার্টের নিচে ঢুকে গেল। তৃষা গরম। ভিজে।

“তুমি সারাদিন এভাবেই ছিলে?” আদিল তার কানের কাছে জিজ্ঞেস করল।

“হ্যাঁ,” তৃষা শ্বাস ফেলে বলল। “আর আমি তোমার কথা ভেবেছি। তুমি কীভাবে আমাকে ছুঁবে। কীভাবে...”

আদিল তার কথা শেষ করতে দিল না। সে তাকে চুমু খেল। তারপর শার্টটা তুলে তার বুকে মুখ রাখল। তৃষার স্তন তার মুখে। আদিল চুষতে লাগল। তৃষা তার চুল শক্ত করে ধরে রাখল।

আদিল তাকে নিয়ে শোবার ঘরে গেল। বিছানায় শুইয়ে শার্টটা খুলে ফেলল। তৃষা সম্পূর্ণ খালি। আদিল তার শরীরের প্রতি ইঞ্চি চুমু খেল। ঘাড় থেকে শুরু করে পেট, তারপর আরও নিচে। তৃষার রান দুপাশে খুলে গেল। আদিল তার মাঝখানে মুখ রাখল।

তৃষা আর্তনাদ করল। “আদিল... দয়া করে...”

আদিল থামল না। তার জিভ তৃষাকে পাগল করে তুলল। তৃষার শরীর কেঁপে উঠল। সে আদিলের মাথা চেপে ধরল। যখন সে শেষ পর্যন্ত পৌঁছাল, তার চোখ বন্ধ হয়ে গেল। শরীর শিথিল হয়ে গেল।

আদিল উঠে এসে নিজের কাপড় খুলল। তৃষা তাকে দেখল। তার শরীর শক্ত। প্রস্তুত। তৃষা হাত বাড়িয়ে তাকে টেনে নিল। আদিল তার ভেতরে ঢুকে গেল একটানা। তৃষা আর্তনাদ করল। আদিল নড়তে শুরু করল। ধীরে প্রথমে, তারপর দ্রুত। তৃষার নখ তার পিঠে বসে গেল। ঘর ভরে গেল তাদের শব্দে।

পরে তারা পাশাপাশি শুয়ে রইল। আদিল তৃষার পেটে হাত বুলিয়ে বলল, “তুমি আমাকে পাগল করে দিচ্ছো।”

তৃষা হাসল। “তাই তো চাই। কিন্তু আজ তুমি জিতেছো।”

আদিল তার চোখের দিকে তাকাল। “না। আমরা দুজনেই জিতেছি।”

পরের দিন তৃষা প্রতিশোধ নিল। আদিল যখন অফিসে, তৃষা তার ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড বদলে দিল। আর একটা নোট রেখে দিল। “পাসওয়ার্ড চাইলে আমার কাছে এসো। কিন্তু সহজ হবে না।”

আদিল বাড়ি ফিরে ল্যাপটপ খুলে দেখল লক। সে তৃষার দিকে তাকাল। তৃষা বিছানায় শুয়ে বই পড়ছে।

“পাসওয়ার্ড কী?” আদিল জিজ্ঞেস করল।

তৃষা পাতা উল্টে বলল, “অনুমান করো।”

আদিল এগিয়ে গিয়ে তার ওপর ঝুঁকে পড়ল। “তুমি যদি না বলো, তাহলে আমি অন্যভাবে জানবো।”

তৃষা হাসল। “কীভাবে?”

আদিল তার হাত দুটো ধরে মাথার ওপরে চেপে ধরল। “এভাবে।” সে তার ঘাড়ে চুমু খেল। তারপর কানে। তারপর ঠোঁটে। তৃষা নড়তে চাইল, কিন্তু আদিল ছাড়ল না।

“বলো,” আদিল ফিসফিস করে বলল।

তৃষা মাথা নাড়ল। আদিল তার কামিজের বোতাম খুলতে শুরু করল। একটা একটা করে। প্রতিটা বোতামের সাথে একটা চুমু। তৃষার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল।

“আদিল...”

“বলো।”

তৃষা চোখ বন্ধ করে বলল, “তোমার নাম আর আমার জন্মদিন।”

আদিল হাসল। “সহজ ছিল।”

কিন্তু সে থামল না। সে তৃষার কাপড় পুরো খুলে ফেলল। তারপর নিজেরও। তারা একে অপরের সাথে মিশে গেল। এইবার আরও ধীর। আরও গভীর। আদিল তৃষার চোখের দিকে তাকিয়ে নড়ল। তৃষা তার পিঠে হাত বুলিয়ে বলল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।”

আদিল থেমে তার ঠোঁট চেপে ধরল। “আমিও। খুব।”

সেই রাতে তারা কথা বলল অনেকক্ষণ। বিয়ের আগের কথা। প্রথম দেখা। প্রথম চুমু। প্রথম রাত। আদিল তৃষার চুলে আঙুল বুলিয়ে বলল, “আমি ভয় পাই কখনো তুমি রাগ করে সত্যি চলে যাবে।”

তৃষা তার বুকে মাথা রেখে বলল, “যাবো না। কিন্তু তোমাকে জ্বালাতে থাকবো।”

আদিল হাসল। “তাহলে আমিও।”

দিনগুলো কেটে যেতে লাগল এইভাবে। কখনো তৃষা আদিলের মোবাইল লুকিয়ে রাখে। কখনো আদিল তৃষার প্রিয় চকলেট শেষ করে দেয়। কিন্তু প্রতিবার শেষে তারা একে অপরের কাছে ফিরে আসে। গরম শরীরে। গভীর চুমুতে।

একদিন আদিল তৃষাকে নিয়ে বেড়াতে গেল ঢাকার বাইরে। একটা রিসোর্টে। রাতের খাবারের পর তারা ছাদে উঠল। আকাশ ভরা তারা। আদিল তৃষার পেছনে দাঁড়িয়ে তার কোমর জড়িয়ে ধরল।

“তুমি কি জানো,” আদিল ফিসফিস করে বলল, “আমি তোমাকে জ্বালাতে জ্বালাতে এতটা ভালোবেসে ফেলেছি যে এখন আর পারছি না।”

তৃষা পেছন ফিরে তাকাল। “তাহলে থামো।”

আদিল মাথা নাড়ল। “না। কারণ তোমাকে হাসাতে পারা আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ। আর তুমি যখন রাগ করে হাসো, তখন তোমার চোখ...”

তৃষা তাকে চুমু খেল। ছাদে। তারার নিচে। তাদের শরীর একে অপরের সাথে মিশে গেল। আদিল তৃষাকে দেয়ালে ঠেস দিয়ে তুলে নিল। তৃষার পা তার কোমরে। আদিল তার ভেতরে ঢুকে গেল। ধীর গতিতে। গভীরভাবে। তৃষা তার কাঁধে মুখ লুকিয়ে আর্তনাদ করল।

পরে তারা ছাদে শুয়ে রইল। আদিল তৃষার মাথা বুকে নিয়ে বলল, “এই খেলাটা যদি কখনো শেষ হয়ে যায়, তাহলে আমি হারিয়ে যাবো।”

তৃষা চুপ করে রইল। তার হাত আদিলের বুকে উঠানামা করছিল।

সবকিছু বদলে গেল এক সকালে।

আদিল উঠে দেখল তৃষা রান্নাঘরে নেই। সে শোবার ঘরেই আছে। বিছানায় শুয়ে। মুখ অন্যদিকে।

“তৃষা?” আদিল ডাকল।

কোনো সাড়া নেই।

আদিল এগিয়ে গিয়ে তার কাঁধে হাত রাখল। “কী হয়েছে?”

তৃষা সরে গেল। কথা বলল না।

আদিলের বুকটা শক্ত হয়ে গেল। “তুমি কি রাগ করেছো? আমি কী করেছি?”

তৃষা চুপ।

সারাদিন তৃষা কথা বলল না। না সকালের নাস্তায়। না দুপুরের খাবারে। না সন্ধ্যায়। আদিল যতবার জিজ্ঞেস করল, তৃষা শুধু মাথা নাড়ল বা সরে গেল।

আদিলের সব দুষ্টুমি থেমে গেল। সে আর রিমোট লুকাল না। আর খাবার নিয়ে মজা করল না। সে শুধু তৃষার পাশে বসে রইল। চুপচাপ।

রাতে যখন তারা বিছানায় শুলে, আদিল তৃষার দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি বুঝতে পারছি না। তুমি যদি রাগ করে থাকো, তাহলে বলো। আমি যা খুশি করবো। কিন্তু চুপ করে থেকো না।”

তৃষা পেছন ফিরে শুয়ে রইল।

আদিলের চোখ জ্বলে উঠল। সে উঠে বসল। “তৃষা, আমি তোমাকে জ্বালাতাম কারণ আমি তোমাকে হাসাতে চাইতাম। কারণ তোমার হাসি আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস। কিন্তু তুমি যদি সত্যি কথা বলা বন্ধ করে দাও, তাহলে আমি...” সে থেমে গেল। তার গলা ভেঙে গেল।

তৃষা ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল। তার চোখে জল।

“তুমি বুঝতে পারোনি,” সে ফিসফিস করে বলল। “আমি রাগ করিনি। আমি শুধু দেখতে চেয়েছিলাম তুমি কী করো যখন আমি থেমে যাই।”

আদিল অবাক হয়ে তাকাল। “কী?”

তৃষা উঠে বসল। “প্রতিদিন তুমি আমাকে জ্বালাও। আমিও তোমাকে জ্বালাই। কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছিলাম। ভয় পাচ্ছিলাম যে এই খেলাটাই আমাদের ভালোবাসা। যে যদি খেলা না থাকে, তাহলে আর কিছু থাকবে না।”

আদিল তার হাত ধরল। “তৃষা...”

“তাই আমি থেমে গেলাম। দেখতে চেয়েছিলাম তুমি কী করো।” তৃষার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ল। “আর তুমি থেমে গেলে। তুমি আর জ্বালালে না। তুমি শুধু আমার পাশে বসে রইলে। আর আমি বুঝতে পারলাম...”

আদিল তাকে টেনে জড়িয়ে ধরল। “কী বুঝলে?”

“যে তোমাকে হাসানোই তোমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ না,” তৃষা তার বুকে মুখ রেখে বলল। “আমাকে হাসানোই তোমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ। আর আমারও।”

আদিল তার চুলে চুমু খেল। “আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ভয় পেয়েছিলাম তুমি আমাকে ছেড়ে দিয়েছো।”

তৃষা উঠে তার চোখের দিকে তাকাল। “কখনো না। কখনোই না।”

সে আদিলকে চুমু খেল। ধীর। গভীর। লবণাক্ত চুমু। তাদের জল মিশে গেল। আদিল তৃষাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। এবার কোনো খেলা নেই। কোনো জ্বালানো নেই। শুধু ভালোবাসা।

আদিল তৃষার কাপড় খুলল ধীরে ধীরে। প্রতিটা স্পর্শে একটা করে চুমু। তৃষাও তার কাপড় খুলল। তাদের শরীর একে অপরের সাথে মিলল। আদিল তৃষার ভেতরে ঢুকল। চোখের দিকে তাকিয়ে।

“আমি তোমাকে ভালোবাসি,” আদিল ফিসফিস করে বলল।

“আমিও,” তৃষা উত্তর দিল। “খুব।”

তারা নড়ল একসাথে। ধীরে। গভীরভাবে। যেন সময় থেমে গেছে। তৃষার হাত আদিলের পিঠে উঠানামা করছিল। আদিলের হাত তৃষার চুলে। তাদের শ্বাস মিলেমিশে এক হয়ে গেল।

যখন তারা শেষ পর্যন্ত পৌঁছাল, তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে রইল। ঘামে ভেজা। হৃদয় ধড়ফড় করছে।

আদিল তৃষার কপালে চুমু খেয়ে বলল, “এখন থেকে খেলা চলবে। কিন্তু যদি কখনো তুমি থেমে যাও, আমিও থেমে যাবো। কারণ তোমাকে হারানোর চেয়ে বড় কিছু নেই আমার কাছে।”

তৃষা হাসল। সেই পুরনো দুষ্টু হাসি। “তাহলে আজ থেকে নতুন খেলা। কে কাকে বেশি ভালোবাসতে পারে।”

আদিল হেসে উঠল। “সেই খেলায় আমি সবসময় হারবো। কারণ তোমাকে আমি যতটা ভালোবাসি, ততটা কোনো মাপকাঠিতে মাপা যায় না।”

তৃষা তার বুকে মাথা রেখে বলল, “তাহলে হারো। আমিও হারবো।”

সেই রাতে তারা আর ঘুমাল না। শুধু কথা বলল। হাসল। চুমু খেল। ভালোবাসল। বাইরে ঢাকার রাত যেমন ছিল তেমনই রইল। ভেতরে দুজনের পৃথিবী নতুন করে গড়ে উঠল।

সকালে আদিল যখন অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল, তৃষা এসে তার গলার কাছে একটা চিরকুট সেঁটে দিল।

আদিল খুলে দেখল। “আজ রাতে তোমার প্রিয় বিফ ভুনা থাকবে। আর আমিও থাকবো। শুধু আমি।”

আদিল হেসে তাকে চুমু খেল। “আমি অপেক্ষা করবো।”

তৃষা দরজায় দাঁড়িয়ে তাকে বিদায় জানাল। আদিল সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে পেছন ফিরে তাকাল। তৃষা হাসছিল।

আদিল বুঝতে পারল—এই হাসিই তার সব। এই মেয়েটাই তার সব। আর এই খেলাটা যতই চলুক, শেষে তারা দুজনেই জিতবে। কারণ তাদের ভালোবাসা কোনো প্রতিযোগিতার উপরে।

রাত নামলে আদিল বাড়ি ফিরল। দরজা খুলে দেখল তৃষা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে। টেবিলে বিফ ভুনা। আর সে নিজে—শুধু একটা ওড়নায় মোড়া।

আদিল দরজা বন্ধ করল। চাবি ঘোরাল।

“খেলা শুরু?” তৃষা জিজ্ঞেস করল।

আদিল এগিয়ে গিয়ে তাকে তুলে নিল। “খেলা শুরু। কিন্তু এবার আমি হারতে রাজি।”

তৃষা হেসে তার গলা জড়িয়ে ধরল। “তাহলে হারো। আজ রাতটা পুরোটাই আমার।”

আদিল তাকে শোবার ঘরে নিয়ে গেল। বিফ ভুনা টেবিলেই থেকে গেল। রাতটা তাদের হয়ে উঠল। গভীর। গরম। আর অন্তহীন ভালোবাসায় ভরা।

শেষ পর্যন্ত আদিল বুঝল—তৃষাকে জ্বালানো তার শখ হতে পারে, কিন্তু তৃষাকে হাসানো তার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য। আর সেই সত্যটাকে সে কোনোদিন হারাতে চায় না

....
👁 37