বউয়ের টানে শহর বদল

রাফি আর ইরার বিয়ের পর মাত্র তিন মাস কেটেছে। ঢাকার একটা ছোট ফ্ল্যাটে তাদের নতুন জীবন শুরু। ফ্ল্যাটটা দুই বেডরুমের, বারান্দায় একটা ছোট গাছের টব আর নিচে রাস্তার আওয়াজ। রাফি অফিসে যায় সকাল নয়টায়, ইরাও একই অফিস এলাকায় অন্য একটা কোম্পানিতে কাজ করে।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

রাফি খুব অগোছালো। তার শার্টগুলো সবসময় চেয়ারের পিছনে ঝুলে থাকে, মোজা দুই জায়গায় পড়ে থাকে, মোবাইল চার্জার খুঁজতে খুঁজতে সকালের আধ ঘণ্টা চলে যায়। বিয়ের আগে সে একা থাকত। তখন কেউ কিছু বলত না। এখন ইরা আছে।

এক সকালে ইরা ঘুম থেকে উঠে দেখে রাফি এখনো বিছানায়। সময় সকাল সাড়ে সাতটা।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

 

“উঠো,” ইরা বলল নরম গলায়।

 

রাফি চোখ খুলল না। “আর পাঁচ মিনিট।”

 

ইরা তার কানের কাছে মুখ নিয়ে এল। “পাঁচ মিনিট মানে আধ ঘণ্টা। উঠো।”

রাফি চোখ খুলে ইরাকে দেখল। ইরার চুল এলোমেলো, নাইটির ফিতা একটু খোলা। রাফির বুকের ভিতর একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো। সে হাত বাড়িয়ে ইরার কোমর ধরল।

 

“তুমি আমার স্ত্রী নাকি বস?”

 

ইরা হাসল। “দুটোই।”

সেই দিন থেকেই শুরু। ইরা তার কাপড় গুছিয়ে দিত, অফিসের ফাইলগুলো এক জায়গায় রাখত, মোবাইলে রিমাইন্ডার সেট করে দিত। রাফি প্রথমে বিরক্ত হতো। “আমি বড় হয়েছি, আমাকে শেখানোর দরকার নেই।”

 

ইরা শুধু চোখ কুঁচকে বলত, “শেখানোর দরকার আছে। কারণ তুমি আমার।”

রাতে যখন দুজনে বিছানায় শুতে যেত, রাফি ইরাকে টানত কাছে। ইরার গায়ের গন্ধ, তার চুলের নরম স্পর্শ—সবকিছু রাফির মাথা ঘুরিয়ে দিত। এক রাত ইরা তার বুকের ওপর মাথা রেখে শুয়েছিল। রাফি আঙুল দিয়ে তার চুল সরিয়ে দিচ্ছিল।

 

“তুমি কেন এত গোছানো?” রাফি জিজ্ঞেস করল।

 

ইরা চোখ না খুলে বলল, “কারণ তোমাকে দেখে মনে হয় কেউ যদি না গোছায়, তুমি হারিয়ে যাবে।”

রাফি হাসল। তারপর ইরার ঠোঁটে চুমু দিল। ধীরে। তারপর আরও গভীর করে। ইরার হাত তার চুল আঁকড়ে ধরল। রাতটা লম্বা হয়ে গেল। দুজনের শ্বাস মিশে গেল। ইরার শরীরের উষ্ণতা রাফির সব অলসতা দূর করে দিল সেই মুহূর্তে। তারা একে অপরকে চিনতে লাগল নতুন করে—শুধু স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নয়, দুজন মানুষ হিসেবে যারা একে অপরের ছায়া হয়ে উঠছে।

সপ্তাহখানেক পর এক সকালে রাফি নিজেই উঠে গেল। ইরা অবাক হয়ে দেখল সে চা বানাচ্ছে।

 

“কী হলো?” ইরা জিজ্ঞেস করল।

 

রাফি ঘুরে তাকাল। “বসকে খুশি করতে হয়।”

 

ইরা হেসে ফেলল। রাফি কাছে এসে তার কপালে চুমু দিল। “তুমি আমার বস, আমার স্ত্রী, আমার সব।”

সেই দিন অফিস থেকে ফিরে রাফি দেখল ইরা রান্না করছে। সে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল। ইরার কোমরে হাত রেখে নাকে নাক ঘষল।

 

“আজকের কাজ শেষ?”

 

“না,” ইরা বলল। “তোমার কাপড়গুলো এখনো মেঝেতে।”

 

রাফি হাঁটু গেড়ে বসল। ইরার পায়ে মাথা রেখে বলল, “ক্ষমা করো, বস।”

 

ইরা তার চুল ধরে তুলল। চোখে চোখ রেখে বলল, “ক্ষমা নেই। শাস্তি আছে।”

রাতের শাস্তি ছিল লম্বা চুমু আর আরও লম্বা আলিঙ্গন। ইরা রাফির শার্ট খুলে ফেলল ধীরে ধীরে। রাফি ইরার নাইটির ফিতা খুলল। দুজনের শরীর মিশে গেল। ইরার নখ তার পিঠে লাগল। রাফি তার কানে ফিসফিস করে বলল, “তুমি ছাড়া আমি কিছুই না।”

 

ইরা তার ঠোঁট চেপে ধরল। কথা বলার দরকার ছিল না। শরীরই সব বলে দিচ্ছিল।

দিনগুলো এমনই কেটে যেতে লাগল। হাসি, ঠাট্টা, ছোটখাটো ঝগড়া আর রাতে গভীর ভালোবাসা। রাফি আস্তে আস্তে বদলাতে শুরু করল। কাপড় গুছাতে শিখল, সময়মতো উঠতে শিখল। কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—সে ইরাকে ছাড়া এক মুহূর্তও ভাবতে পারছিল না।

এক সন্ধ্যায় তারা বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিল। শহরের আলো জ্বলছিল।

 

রাফি ইরার হাত ধরে বলল, “তুমি যদি একদিন চলে যাও, আমি কী করব?”

 

ইরা হাসল। “চলে যাব না। আমি তো তোমার বস।”

 

রাফি তার হাত চুমু খেল। “বসও যদি চলে যায়?”

 

ইরা চুপ করে রইল। তার চোখে একটা অদ্ভুত ছায়া পড়ল। রাফি লক্ষ্য করল না সেদিন।

মাসখানেক পর তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হলো। রাফি এখন সকালে নিজেই উঠে যায়। ইরার জন্য চা বানায়। কখনো কখনো ইরাকে জাগিয়ে চুমু দেয়। ইরা ঘুমন্ত অবস্থায়ও তার হাত ধরে রাখে।

এক শুক্রবার সন্ধ্যায় দুজনেই অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরল। রাফি দরজা খুলেই ইরাকে জড়িয়ে ধরল।

 

“আজ কোনো কাজ নেই,” সে বলল।

 

ইরা তার গলায় হাত রেখে বলল, “তাহলে কী করবে?”

 

রাফি তাকে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। ধীরে ধীরে কাপড় খুলতে লাগল। ইরার চোখে তাকিয়ে বলল, “তোমাকে ভালোবাসব। পুরো রাত।”

রাতটা ছিল গরম। ফ্যানের বাতাসে তাদের ঘাম শুকছিল না। রাফি ইরার গলায় চুমু দিল, তারপর বুকে, তারপর আরও নিচে। ইরা তার চুল আঁকড়ে ধরেছিল। শ্বাস ফেলতে কষ্ট হচ্ছিল। রাফি থামল না। ইরার শরীর কেঁপে উঠল। পরে ইরাও তাকে টানল কাছে। দুজনের শরীর এক হয়ে গেল। সময় থেমে গেল। শুধু তাদের হৃদয়ের স্পন্দন আর শ্বাসের শব্দ।

পরে তারা পাশাপাশি শুয়েছিল। ইরা রাফির বুকে মাথা রেখে বলল, “তুমি বদলে গেছ।”

 

রাফি তার চুলে হাত বুলিয়ে দিল। “তুমি বদলে দিয়েছ।”

 

“আমি শুধু গুছিয়েছি,” ইরা বলল।

 

“না। তুমি আমাকে শিখিয়েছ কীভাবে বাঁচতে হয়। তোমাকে ছাড়া আমার দিনগুলো অর্থহীন ছিল।”

ইরা উঠে বসল। তার চুল কাঁধে এসে পড়ল। রাফি তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ইরার চোখে ভালোবাসা ছিল, কিন্তু একটা লুকানো উদ্বেগও।

 

“কী হয়েছে?” রাফি জিজ্ঞেস করল।

 

ইরা মাথা নাড়ল। “কিছু না। শুধু... আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।”

সেই রাতের পর প্রতি রাতই যেন নতুন করে শুরু হতো। কখনো তারা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে চুমু খেত, কখনো বারান্দায় জড়িয়ে দাঁড়াত। একদিন ইরা অফিস থেকে ফিরে দেখে রাফি পুরো ফ্ল্যাট গুছিয়ে রেখেছে। কাপড় আলমারিতে, জুতা জায়গায়, টেবিল পরিষ্কার।

 

ইরা অবাক হয়ে বলল, “এ কী?”

 

রাফি হাসল। “বসের নির্দেশ পালন করছি।”

 

ইরা তার কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরল। “আমি গর্বিত।”

 

রাফি তার কানে বলল, “আরও গর্বিত হতে চাও?”

 

ইরা মাথা নেড়ে উত্তর দিল। তারা সেই বিকেলটা বিছানায় কাটাল। ধীরে, গভীরভাবে, একে অপরকে অনুভব করে।

একদিন রাফি অফিসে দেরি করে ফিরল। ইরা রেগে গিয়েছিল।

 

“ফোনও করোনি!”

 

রাফি দরজায় দাঁড়িয়ে বলল, “মাফ করো। মিটিং লম্বা হয়ে গিয়েছিল।”

 

ইরা পিছন ফিরে দাঁড়াল। রাফি পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল। “রাগ কোরো না।”

 

ইরা ঘুরে তার ঠোঁটে চুমু দিল জোরে। “রাগ করি না। শুধু ভয় পাই।”

 

“কীসের ভয়?”

 

“তোমাকে হারানোর ভয়।”

রাফি তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। “হারবে না। কখনো না।”

তাদের ভালোবাসা এখন শুধু শরীরের নয়। মানসিকও। রাফি ইরার সব কথা শোনে, ইরা রাফির সব অভ্যাস মেনে নেয়। রাতে তারা একে অপরের স্বপ্নের কথা বলে। সকালে একে অপরের চোখে তাকিয়ে হাসে।

এক রাত ইরা হঠাৎ জেগে উঠল। রাফি ঘুমাচ্ছিল। ইরা তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল অনেকক্ষণ। তারপর ফিসফিস করে বলল, “আমি যদি চলে যাই, তুমি কি পারবে?”

 

রাফি ঘুমের মধ্যেই তার হাত চেপে ধরল। ইরা চোখ বন্ধ করল।

সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। হঠাৎ একদিন ইরা অফিস থেকে ফিরে এল বিষণ্ণ মুখে। রাফি চা বানিয়ে বসেছিল।

 

“কী হয়েছে?” সে জিজ্ঞেস করল।

 

ইরা ব্যাগ নামিয়ে বসল। “আমার প্রমোশনের অফার এসেছে। অন্য শহরে। চট্টগ্রাম। ভালো পদ, ভালো বেতন।”

রাফির হাত থেমে গেল। “চট্টগ্রাম?”

 

ইরা মাথা নেড়ে বলল। “হ্যাঁ। দুই বছরের কন্ট্রাক্ট।”

রাফি চুপ করে রইল। ইরা তার দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি।”

 

রাফি উঠে গিয়ে জানালার কাছে দাঁড়াল। শহরের আলো জ্বলছিল। তার বুকের ভিতর একটা ভারী অনুভূতি। সে বুঝতে পারছিল—ইরা শুধু তার স্ত্রী নয়। সে তার প্রতিদিনের রুটিন, তার হাসি, তার গোছানো জীবন, তার রাতের উষ্ণতা। ইরা চলে গেলে সে আবার সেই অগোছালো, একা মানুষ হয়ে যাবে।

রাতের খাবার টেবিলে বসে তারা কথা বলল কম। পরে বিছানায় শুতে গিয়ে রাফি ইরাকে জড়িয়ে ধরল শক্ত করে।

 

“যাবে?” সে জিজ্ঞেস করল।

 

ইরা তার বুকে মাথা রেখে বলল, “আমি জানি না। সুযোগটা ভালো। কিন্তু...”

 

“কিন্তু আমি,” রাফি সম্পূর্ণ করল।

 

ইরা উঠে বসল। তার চোখে জল। “তুমি আমার সবকিছু। কিন্তু আমি নিজের জন্যও কিছু করতে চাই।”

রাফি তার মুখ দুহাতে ধরল। “তাহলে যাও। আমি আটকাব না।”

 

ইরা কেঁদে ফেলল। রাফি তাকে বুকে জড়িয়ে ধরল। সেই রাতটা তারা কাঁদতে কাঁদতে কাটাল। পরে আলিঙ্গন আরও গভীর হলো। রাফি ইরাকে চুমু দিল যেন শেষবারের মতো। ইরার শরীর কেঁপে উঠল। তারা একে অপরকে ধরে রাখল যেন সময় থামিয়ে দিতে চায়।

পরের কয়েকদিন ধরে রাফি লক্ষ্য করল—ইরা ছাড়া তার সকাল অর্থহীন। চায়ের স্বাদ নেই, অফিসের কাজ মনে থাকে না, রাতে ঘুম আসে না। একদিন সে অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে এল। ইরাকে দেখে জড়িয়ে ধরল।

 

“আমি বুঝতে পেরেছি,” সে বলল। “তুমি শুধু আমার স্ত্রী নও। তুমি আমার প্রতিদিনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। তোমাকে হারালে আমি নিজেকে হারাব।”

ইরা তার দিকে তাকাল। “তাহলে কী করবে?”

 

রাফি হাঁটু গেড়ে বসল। ইরার হাত দুটো নিজের হাতে নিয়ে বলল, “আমি তোমার সাথে যাব। চট্টগ্রামে। আমার অফিসে ট্রান্সফারের আবেদন করব। না হলে নতুন চাকরি খুঁজব। কিন্তু তোমাকে একা ছাড়ব না।”

ইরার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সে রাফিকে তুলে নিয়ে জড়িয়ে ধরল। “তুমি পাগল।”

 

“তোমার জন্য,” রাফি বলল। তারপর তার ঠোঁটে চুমু দিল। গভীর, দীর্ঘ, ভালোবাসায় ভরা।

সেই রাতে তারা আবার এক হলো। আরও গভীরভাবে। রাফি ইরার প্রতিটি অংশ চুমু দিল, যেন মুখস্থ করতে চায়। ইরা তার নাম ধরে ডাকল বারবার। শরীরের উত্তাপ ঘর ভরে দিল। শেষে তারা একে অপরের বুকে শুয়ে রইল।

 

ইরা বলল, “তুমি আমার বসও, আমার স্বামীও, আমার সব।”

 

রাফি হাসল। “আর তুমি আমার সবকিছু।”

পরের দিন ইরা অফারটা গ্রহণের কথা জানাল, কিন্তু শর্ত দিয়ে—রাফিও সাথে যাবে। রাফির অফিস ট্রান্সফারের প্রক্রিয়া শুরু হলো। দুজনে একসাথে নতুন শহরের স্বপ্ন দেখতে লাগল।

এক সন্ধ্যায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাফি ইরার কোমরে হাত রেখে বলল, “জানো, আগে আমি ভাবতাম গোছানো মানে শুধু কাপড় ভাঁজ করা। এখন বুঝি—গোছানো মানে তোমাকে পাশে রাখা।”

 

ইরা ঘুরে তার ঠোঁটে চুমু দিল। “আর আমি বুঝেছি—বস হওয়া মানে শুধু নির্দেশ দেওয়া নয়। সাথে থাকা।”

শহরের আলো জ্বলছিল। দুজনের ছায়া এক হয়ে মিশে গিয়েছিল। তাদের গল্পের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছিল—একসাথে, গোছানো, আর অনেক গভীর ভালোবাসায়।

....
👁 6