জেদি দম্পতির অদ্ভুত খেলা

মায়া আর ইশানের বিয়ে হয়েছিল গত বছরের শীতের শেষে। ঢাকার একটা ভাড়া বাসায় তারা নতুন জীবন শুরু করেছিল। দুজনেই চাকরি করে। মায়া একটা প্রাইভেট ফার্মে অ্যাকাউন্টস দেখে, ইশান একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় দুজনের জুটি খুব মিষ্টি। কিন্তু ভেতরে ভেতরে দুজনেরই একটা জেদি স্বভাব আছে যেটা কেউ ছেড়ে দিতে চায় না।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

বিয়ের তিন মাস পরে একদিন রাতের খাবারের সময় ছোট একটা কথা নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়। মায়া বলেছিল ইশান বাজার থেকে পেঁয়াজ আনতে ভুলে গেছে। ইশান বলেছিল মায়া তাকে লিস্ট দিতে ভুলে গেছে। কথায় কথায় উঠে দাঁড়ায় দুজন। শেষে মায়া বলে, “তুমি আগে সরি বলো।” ইশান বলে, “না, তুমি আগে বলো।” সেই রাত থেকে তাদের মধ্যে একটা অলিখিত চুক্তি হয়ে যায়—কেউ আগে সরি বলবে না। যতক্ষণ না অন্যজন বলে, ততক্ষণ কেউ মাথা নোয়াবে না।

প্রথমে মনে হয়েছিল এটা মজা। কিন্তু দিন যত গড়ায়, ছোটখাটো বিষয়গুলো বড় হতে থাকে। একদিন মায়া ইশানের শার্টটা ভুল করে ওয়াশিং মেশিনে দিয়ে দেয় যেটা হাতে ধোয়ার কথা ছিল। ইশান রাগ করে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। মায়াও জেদ করে রান্নাঘরে বসে থাকে। রাতের খাবার টেবিলে রাখা থাকে, কেউ খায় না। পরের দিন সকালে ইশান চুপিচুপি উঠে যায় অফিসে। মায়া দেখে ফ্রিজে একটা খাবারের প্যাকেট রাখা আছে—ডিম ভেজে, রুটি গরম করে, আর একটা ছোট নোট। নোটে লেখা নেই সরি। শুধু লেখা আছে, “খাবে।”

¦Ëk¢x/춺'ƒú

মায়া সেদিন অফিসে গিয়েও সেই নোটটা বারবার পড়ে। বিকেলে সে ইশানের জন্য তার পছন্দের চিকেন স্যুপ বানিয়ে রাখে। ইশান বাসায় এসে দেখে টেবিলে গরম স্যুপ আর একটা নোট—“খাও।” কেউ মুখ খোলে না। কিন্তু সেই রাতে যখন দুজনে বিছানায় শোয়, তাদের হাত একে অপরের কাছে চলে যায়। আলো নিভিয়ে দেওয়ার পর ইশানের হাত মায়ার কোমরে এসে থেমে যায়। মায়া পেছন ফিরে তাকায়। অন্ধকারে তাদের চোখ মিলিত হয়। কোনো কথা হয় না। শুধু ইশানের আঙুল ধীরে ধীরে মায়ার কোমরের নিচের দিকে নামে। মায়া শ্বাস নিতে ভুলে যায়। ইশানের ঠোঁট তার ঘাড়ে এসে লাগে। গরম শ্বাস। তারপর চুমু। গভীর, ভিজে, জেদি চুমু। যেন দুজনেই বলতে চাইছে—আমি সরি বলব না, কিন্তু তোমাকে চাই।

সেই রাতে তারা প্রথমবারের মতো এতটা কাছাকাছি আসে যে পরের দিন সকালে মায়ার শরীরে ইশানের আঙুলের দাগ থেকে যায়। তবু কেউ সরি বলে না।

দিনগুলো এভাবেই চলতে থাকে। ঝগড়া হয়। কখনো বাজারের হিসাব নিয়ে, কখনো বিছানায় চাদর টেনে নেওয়া নিয়ে, কখনো অফিস থেকে দেরি করে আসা নিয়ে। কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনোভাবে একজন অন্যজনের জন্য কিছু করে যায়। একদিন মায়া অফিস থেকে ফিরে দেখে ইশান তার ব্যথা করা পায়ের জন্য ব্যথানাশক কিনে রেখেছে। আরেকদিন ইশান দেখে মায়া তার ফেভারিট শার্টটা ইস্ত্রি করে রেখেছে। কেউ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। শুধু রাতে যখন আলো নিভে যায়, তাদের শরীর একে অপরকে খুঁজে নেয়।

মায়ার শরীর ইশানের হাতে গলে যায়। ইশানের আঙুল যখন তার বুকের নিচে নামে, মায়া দাঁত কামড়ে শব্দ চেপে রাখে। ইশান তার কানে বলে, “জেদি মেয়ে।” মায়া তার ঠোঁট কামড়ে ধরে জবাব দেয়, “তুমিও।” তারপর আর কোনো কথা থাকে না। শুধু শ্বাস, ঘাম, আর শরীরের উত্তাপ। বিছানার চাদর গুঁড়িয়ে যায়। মায়ার নখ ইশানের পিঠে দাগ কেটে দেয়। ইশান তার কোমর শক্ত করে ধরে উপরে তোলে। দুজনেরই চোখ বন্ধ। যেন জেদ আর ভালোবাসার মাঝখানে একটা অদৃশ্য রেখা আছে, আর তারা সেই রেখার দুপাশে দাঁড়িয়ে একে অপরকে টানছে।

একদিন সন্ধ্যায় মায়া বাসায় এসে দেখে ইশান রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে আছে। সে তার জন্য বিরিয়ানি বানিয়েছে। মায়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, “কেন?” ইশান শুধু বলে, “খেতে ইচ্ছে করছিল।” মায়া জানে ইশান বিরিয়ানি বানাতে পারে না ভালো করে। তবু সে চেষ্টা করেছে। সেদিন রাতে মায়া ইশানের কাঁধে মাথা রেখে শোয়। ইশানের হাত তার চুল আলতো করে আঁচড়ায়। কেউ সরি বলে না। কিন্তু মায়ার বুকের ভেতরটা গরম হয়ে ওঠে।

ঝগড়াগুলো কমছে না। বরং বাড়ছে। একদিন মায়া ইশানের অফিসের একটা মিটিংয়ের কথা ভুলে যায়। ইশান রেগে গিয়ে বলে, “তুমি কখনো কিছু মনে রাখো না।” মায়া জবাব দেয়, “তুমিও তো আমার কথা শোনো না।” সেদিন তারা আলাদা ঘরে ঘুমায়। কিন্তু মাঝরাতে মায়া উঠে গিয়ে ইশানের ঘরে ঢোকে। ইশান জেগে আছে। মায়া তার পাশে শুয়ে পড়ে। ইশানের হাত আবার তার কোমরে চলে যায়। এবার আর ধীরে নয়। ইশান তাকে সজোরে নিজের দিকে টানে। মায়ার জামা খুলে যায়। ইশানের ঠোঁট তার বুকে নেমে আসে। মায়া চোখ বন্ধ করে শরীরটা উঁচু করে দেয়। সেই রাতে তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হয়। আরও গরম। আরও জেদি।

মায়া বুঝতে পারে যে তাদের জেদ যত বাড়ছে, তাদের টানও তত বাড়ছে। ইশানও বোঝে। কিন্তু কেউ স্বীকার করতে চায় না। তারা দুজনেই জানে যে যদি একজন আগে সরি বলে, তাহলে অন্যজন জিতে যাবে। আর তারা কেউ হারতে চায় না। তাই তারা চুপচাপ একে অপরের জন্য ছোট ছোট কাজ করে যায়। একজন খাবার রেখে যায়। অন্যজন ওষুধ কিনে আনে। একজন চাদর টেনে দেয়। অন্যজন পানি এনে দেয়। কিন্তু মুখে সরি আসে না।

একদিন মায়ার সর্দি হয়। ইশান চুপিচুপি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে আনে। মায়া জেদ করে বলে, “আমার কিছু হয়নি।” ইশান কিছু বলে না। শুধু রাতে তার কপালে হাত দিয়ে জ্বর মাপে। তারপর মায়ার গলায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দেয়। মায়া চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে। ইশানের হাত যখন তার গলার নিচে নামে, মায়ার শরীর কেঁপে ওঠে। সর্দি থাকলেও সে রাতে তাদের ভালোবাসা থেমে থাকে না। ইশান খুব সাবধানে তাকে ছুঁয়ে যায়। মায়া তার হাত চেপে ধরে। দুজনেরই শ্বাস গরম। ঘামে ভিজে যায় চাদর। শেষে মায়া ইশানের বুকে মুখ গুঁজে শুয়ে থাকে। ইশানের হাত তার চুলে। কেউ সরি বলে না। কিন্তু সেই রাতে মায়ার চোখ থেকে দুটো জল গড়িয়ে পড়ে। ইশান সেটা দেখেও কিছু বলে না। শুধু তাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।

তাদের জীবন এভাবেই চলতে থাকে। জেদ আর ভালোবাসার একটা অদ্ভুত মিশ্রণ। বাইরে থেকে কেউ বুঝতে পারে না। কিন্তু রাতে যখন দরজা বন্ধ হয়, তখন তাদের শরীর সব বলে দেয়। মায়ার শরীর ইশানের জন্য তৈরি হয়ে আছে। ইশানের হাত মায়ার শরীরের প্রতিটা ভাঁজ চেনে। তারা একে অপরকে এতটা চেনে যে কথা বলার দরকার হয় না। শুধু একটা স্পর্শই যথেষ্ট।

আর এভাবেই কেটে যায় মাসখানেক। তাদের জেদ যত বাড়ছে, তাদের ভেতরের টানও তত শক্ত হচ্ছে। কেউ জানে না কবে এই জেদের দেয়াল ভেঙে পড়বে। কিন্তু দুজনেই অপেক্ষা করছে সেই মুহূর্তের জন্য। যে মুহূর্তে কেউ একজন আগে সরি বলবে। অথবা দুজনেই একসাথে।

মায়ার সর্দি সারার পর ইশানের গলা ব্যাথা শুরু হয়। মায়া চুপিচুপি দেখে যে ইশান রাতে কাশছে। সে পরের দিন অফিস থেকে ফেরার পথে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে আনে। বাসায় এসে টেবিলে রেখে দেয়। ইশান দেখেও কিছু বলে না। শুধু রাতে ওষুধ খেয়ে নেয়। মায়া জেদ করে জিজ্ঞেস করে না যে কেমন আছে। ইশানও বলে না। কিন্তু সেই রাতে ইশান মায়ার কাছে এসে শুয়ে পড়ে। তার গলায় হাত দিয়ে মায়া আলতো করে চেপে ধরে। ইশান শ্বাস নেয় গভীর করে। মায়ার হাত তার বুকে নেমে আসে। তারপর আরও নিচে। ইশানের শরীর শক্ত হয়ে ওঠে। মায়া তার কানে বলে, “আজকে তোমার গলা খারাপ। সাবধানে।” ইশান জবাব দেয় না। শুধু মায়ার ঠোঁট চেপে ধরে। গভীর চুমু। যেন গলার ব্যাথা ভুলে যেতে চাইছে।

সেই রাতে তাদের ভালোবাসা আরও ধীর হয়। আরও গভীর। ইশান মায়ার শরীরের প্রতিটা অংশ আস্তে আস্তে চুমু দেয়। মায়ার পেটের নিচে তার জিভ যখন নামে, মায়া চাদর চেপে ধরে। শব্দ বেরোতে চায় কিন্তু সে চেপে রাখে। ইশান তার রান দুটো আলাদা করে দেয়। মায়ার শরীর কেঁপে ওঠে। ইশানের জিভ তার ভেতরে ঢোকে। মায়া চোখ বন্ধ করে শরীরটা উপরে তোলে। ঘামে ভিজে যায় তার কপাল। ইশান থেমে যায় না। যতক্ষণ না মায়ার শরীর কেঁপে কেঁপে শেষ হয়, ততক্ষণ সে চালিয়ে যায়। তারপর নিজে উপরে উঠে আসে। মায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে ঢুকে পড়ে। ধীরে। গভীরে। মায়া তার পিঠে নখ বসায়। ইশানের শ্বাস তার কানে গরম হয়ে আসে। তারা দুজনেই জেদি। কেউ আগে শেষ হতে চায় না। শেষ পর্যন্ত দুজনেই একসাথে শেষ হয়। চাদর ভিজে যায়। শরীর একে অপরের সঙ্গে লেগে থাকে।

পরের দিন সকালে মায়া উঠে দেখে ইশান ইতিমধ্যে চলে গেছে। টেবিলে একটা নোট আর গরম চা। নোটে লেখা আছে, “ওষুধ খেয়ো।” মায়া হাসতে হাসতে চা খায়। তার শরীরে এখনো ইশানের স্পর্শের অনুভূতি আছে। সে অফিসে গিয়েও বারবার সেই রাতের কথা মনে করে। ইশানের জিভ। ইশানের হাত। ইশানের শ্বাস। তার শরীর গরম হয়ে ওঠে।

ঝগড়া কিন্তু থেমে নেই। একদিন ইশান বাসায় দেরি করে আসে। মায়া রেগে গিয়ে খাবার ফেলে দেয়। ইশান এসে দেখে খালি প্লেট। সে কিছু বলে না। শুধু রান্নাঘরে গিয়ে নিজে ডিম ভেজে খায়। মায়া ঘরে বসে থাকে। রাতে যখন ইশান বিছানায় আসে, মায়া পেছন ফিরে শুয়ে থাকে। ইশান তার কোমরে হাত রাখে। মায়া সরিয়ে দেয়। ইশান আবার রাখে। এবার শক্ত করে। মায়া পেছন ফিরে তাকায়। ইশানের চোখে রাগ আর চাওয়া দুটোই আছে। সে মায়ার জামা টেনে খুলে দেয়। মায়া বাধা দেয় না। ইশান তার বুকে মুখ রাখে। দাঁত দিয়ে আলতো করে কামড়ায়। মায়া শব্দ করে। ইশান তার হাত দুটো মাথার উপরে তুলে ধরে। তারপর ঢুকে পড়ে। এবার আর ধীরে নয়। জোরে। গভীরে। মায়ার শরীর বিছানায় আছড়ে পড়ে। ইশান তার কানে বলে, “জেদি।” মায়া জবাব দেয়, “তুমিও।” তারপর আর কথা নেই। শুধু শব্দ। শ্বাস। আর শরীরের ধাক্কা। সেই রাতে তারা এতটা কাছাকাছি আসে যে পরের দিন মায়ার শরীরে নীল দাগ থেকে যায়।

মায়া সেই দাগগুলো দেখে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। তার বুকে, কোমরে, রানে—সবখানে ইশানের দাগ। সে হাত বুলিয়ে দেয়। শরীর কেঁপে ওঠে। সে জানে ইশানও একই রকম অনুভব করে। তাদের জেদ যত বাড়ছে, তাদের শরীরের টানও তত বাড়ছে। তারা একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারছে না। কিন্তু মুখে স্বীকার করতে পারছে না।

একদিন মায়া অফিস থেকে ফিরে দেখে ইশান বাসায় নেই। সে ফোন করে। ইশান বলে সে একটু দেরি করবে। মায়া রেগে গিয়ে ফোন কেটে দেয়। রাতের খাবার বানিয়ে রাখে। ইশান এগারোটার সময় বাসায় আসে। মায়া ঘুমিয়ে পড়েছে বলে ভান করে। ইশান পাশে শুয়ে পড়ে। তার হাত মায়ার কোমরে যায়। মায়া সরে যায়। ইশান আবার টানে। এবার মায়া পেছন ফিরে ইশানের ঠোঁট কামড়ে ধরে। ইশান হেসে ওঠে। তারপর মায়াকে নিজের নিচে নিয়ে নেয়। সেই রাতে তাদের ভালোবাসা আরও গরম হয়। মায়ার চুল ইশানের মুঠোয়। ইশানের হাত মায়ার কোমরে। তারা একে অপরকে এমনভাবে নেয় যেন আগামীকাল আর কিছু নেই। শেষে দুজনেই ঘামে ভিজে শুয়ে থাকে। ইশান মায়ার কপালে চুমু দেয়। মায়া তার বুকে মুখ রাখে। কেউ সরি বলে না। কিন্তু সেই মুহূর্তে তাদের জেদ যেন একটু নরম হয়ে আসে।

দিনগুলো কেটে যায়। তাদের মধ্যে কথা কম। কিন্তু স্পর্শ বেশি। একদিন মায়া দেখে ইশান তার জন্য নতুন একটা জামা কিনে এনেছে। সে জেদ করে বলে, “আমার দরকার নেই।” কিন্তু রাতে সেই জামা পরে ইশানের সামনে দাঁড়ায়। ইশান তাকে দেখে শুধু তাকিয়ে থাকে। তারপর এগিয়ে এসে জামাটা খুলে দেয়। মায়ার শরীর তার সামনে উন্মুক্ত হয়ে যায়। ইশান হাঁটু গেড়ে বসে মায়ার পেটে চুমু দেয়। তারপর আরও নিচে। মায়া দেয়ালে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকে। তার পা দুটো কেঁপে ওঠে। ইশান তাকে তুলে বিছানায় নিয়ে যায়। সেই রাতে তারা এতক্ষণ ধরে একে অপরকে নেয় যে সকালে উঠতে ইচ্ছে করে না।

মায়া বুঝতে পারে যে তাদের এই জেদ আসলে ভালোবাসার একটা অদ্ভুত রূপ। তারা একে অপরকে এতটা চায় যে হারতে চায় না। কিন্তু প্রতিদিন রাতে যখন তাদের শরীর মিশে যায়, তখন মনে হয় যেন তারা ইতিমধ্যেই হেরে গেছে। একে অপরের কাছে।

একদিন সন্ধ্যায় মায়ার জ্বর আসে। ইশান বাসায় এসে দেখে মায়া বিছানায় শুয়ে আছে। সে চুপিচুপি ওষুধ কিনে আনে। কপালে কাপড় দিয়ে দেয়। মায়া জেদ করে বলে, “আমার কিছু হয়নি। তুমি দূরে যাও।” ইশান দূরে যায় না। সে পাশে বসে থাকে। রাতে যখন মায়ার জ্বর বাড়ে, ইশান তার গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়। মায়া ঘুমের ঘোরে ইশানের হাত চেপে ধরে। ইশান তার কানে বলে, “আমি আছি।” মায়া শোনে কিন্তু জবাব দেয় না। সেই রাতে তারা শুধু কাছাকাছি শুয়ে থাকে। কোনো গরম স্পর্শ নেই। শুধু একটা নীরব যত্ন।

পরের দিন মায়ার জ্বর একটু কমলে ইশান অফিসে যায়। কিন্তু দুপুরে ফিরে আসে। মায়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, “কেন এলে?” ইশান বলে, “কাজ শেষ।” মায়া জানে সে মিথ্যা বলছে। তবু কিছু বলে না। ইশান তার জন্য স্যুপ বানিয়ে দেয়। মায়া খায়। তারপর ইশানের হাত ধরে নিজের কপালে রাখে। ইশানের হাত ঠান্ডা। মায়ার কপাল গরম। দুজনের চোখ মিলিত হয়। সেই মুহূর্তে মায়ার ইচ্ছে করে সরি বলে দিক। কিন্তু সে বলে না। ইশানও বলে না। শুধু মায়ার হাত চেপে ধরে।

তাদের জেদ এখন আরও শক্ত। কিন্তু তাদের টানও আরও গভীর। মায়া জানে একদিন না একদিন এই দেয়াল ভেঙে পড়বে। আর সেই দিনটা হয়তো খুব কাছেই।

মায়ার জ্বর সম্পূর্ণ সারার আগেই ইশানের গলা ব্যাথা আবার শুরু হয়। এবার আরও খারাপ। সে কাশতে কাশতে রাতে ঘুমাতে পারে না। মায়া চুপিচুপি উঠে তাকে ওষুধ দেয়। ইশান জেদ করে বলে, “আমার দরকার নেই।” মায়া কিছু বলে না। শুধু পাশে বসে থাকে। তার হাত ইশানের বুকে। ইশানের শ্বাস ভারী। মায়া তার কপালে চুমু দেয়। ইশান চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে। সেই রাতে তারা কাছাকাছি শুয়ে থাকে কিন্তু আর এগোয় না। শরীর দুজনেরই দুর্বল।

পরের দিন সকালে মায়া উঠে দেখে ইশান উঠতে পারছে না। তার জ্বর এসেছে। মায়া নিজেও দুর্বল। তার গলায়ও ব্যথা শুরু হয়েছে। তারা দুজনেই অসুস্থ। মায়া ফার্মেসিতে ফোন করে ওষুধ আনায়। তারপর ইশানের পাশে শুয়ে পড়ে। দুজনেরই শরীর গরম। ঘামে ভিজে যায় চাদর। মায়া ইশানের হাত ধরে। ইশান তার হাত চেপে ধরে। কেউ কথা বলে না।

দুপুরের দিকে মায়ার জ্বর বাড়ে। ইশান দুর্বল শরীর নিয়ে উঠে তাকে ওষুধ দেয়। মায়া তার হাত ধরে বলে, “শুয়ে পড়ো।” ইশান শুয়ে পড়ে। তাদের কপাল একে অপরের কাছে। শ্বাস মিশে যায়। মায়ার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে। ইশান সেটা দেখে তার গালে হাত রাখে। মায়া বলে উঠে, “আমি...” কিন্তু শেষ করে না। ইশানও বলে, “আমি...” দুজনেই থেমে যায়। তারপর একই সময়ে দুজনেই বলে ওঠে, “সরি।”

মুহূর্তটা থেমে যায়। মায়া অবাক হয়ে ইশানের দিকে তাকায়। ইশানও তাকায়। তারপর দুজনেই হেসে ওঠে। দুর্বল হাসি। কিন্তু আসল। মায়া বলে, “তুমি আগে বলেছ।” ইশান বলে, “না, তুমি।” মায়া তার ঠোঁট চেপে ধরে। ইশান জবাব দেয়। গভীর চুমু। জ্বরের মধ্যেও তাদের শরীর গরম হয়ে ওঠে। মায়া ইশানের উপরে উঠে বসে। তার জামা খুলে যায়। ইশানের হাত তার কোমরে। মায়া ধীরে ধীরে নিচে নামে। ইশান ভেতরে ঢোকে। দুজনেরই শ্বাস ভারী। জ্বরের গরম আর ভালোবাসার গরম মিশে যায়। মায়া ইশানের বুকে হাত রেখে উপরে নিচে ওঠানামা করে। ইশান তার কোমর শক্ত করে ধরে। তারা একে অপরকে নেয় আস্তে আস্তে। যেন তাড়া নেই। যেন পুরো সময়টা তাদের। মায়ার চোখ বন্ধ। ইশানের চোখ খোলা। সে মায়াকে দেখতে থাকে। তার ঘামে ভেজা চুল। তার কেঁপে ওঠা শরীর। তার ঠোঁট থেকে বেরোনো শব্দ। শেষে দুজনেই একসাথে শেষ হয়। মায়া ইশানের বুকে লুটিয়ে পড়ে। ইশান তার চুলে হাত বুলিয়ে দেয়।

মায়া বলে, “আমাদের জেদ যতটা, টান তার চেয়েও বেশি।” ইশান বলে, “জানি।” মায়া তার বুকে মুখ রাখে। “আর কখনো এমন জেদ করব না।” ইশান হেসে বলে, “করবে। আমিও করব। কিন্তু সরি বলতে দেরি করব না।” মায়া মাথা তুলে তার চোখের দিকে তাকায়। তারপর আবার চুমু দেয়। এবার আরও গভীর। আরও লম্বা।

সেই দিনটা কেটে যায় ওষুধ খেয়ে আর কাছাকাছি শুয়ে থেকে। সন্ধ্যায় মায়ার জ্বর একটু কমে। ইশানেরও। তারা দুজনেই একটু শক্তি ফিরে পায়। রাতে আবার কাছাকাছি আসে। এবার আরও গরম। মায়া ইশানের নিচে শুয়ে থাকে। ইশান তার রান দুটো কাঁধে তুলে নেয়। গভীরে ঢোকে। মায়া শব্দ করে। ইশান তার মুখ চেপে ধরে চুমু দেয়। তারা একে অপরকে এমনভাবে নেয় যেন এতদিনের জেদ সব গলে যাচ্ছে। মায়ার নখ ইশানের পিঠে দাগ কেটে দেয়। ইশানের দাঁত মায়ার কাঁধে দাগ রেখে যায়। শেষে দুজনেই ঘামে ভিজে একে অপরের বুকে শুয়ে থাকে।

মায়া বলে, “আমি তোমাকে খুব চাই।” ইশান বলে, “আমিও।” মায়া তার হাত ধরে। “জেদ করব। কিন্তু তোমাকে ছাড়ব না।” ইশান তার কপালে চুমু দেয়। “ছাড়ব না।”

পরের কয়েকদিন তারা দুজনেই সুস্থ হয়ে ওঠে। জেদ আবার আসে। কিন্তু এবার ভিন্ন। যখনই ঝগড়া হয়, কেউ না কেউ তাড়াতাড়ি সরি বলে দেয়। কখনো মায়া। কখনো ইশান। আর রাতে তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হয়। আরও খোলা। মায়া আর লুকোয় না। ইশানও না। তারা একে অপরকে বলে কী চায়। কীভাবে চায়। মায়ার শরীর ইশানের হাতে গলে যায়। ইশানের শরীর মায়ার নিচে কাঁপে। তারা একে অপরকে চেনে পুরোপুরি।

একদিন রাতে মায়া ইশানের বুকে শুয়ে বলে, “সেদিন যদি আমরা একসাথে সরি না বলতাম?” ইশান তার চুলে হাত বুলিয়ে বলে, “তাহলে আরও কয়েকদিন জেদ করতাম। কিন্তু শেষে বলতামই।” মায়া হেসে ওঠে। ইশান তাকে নিজের দিকে টানে। আবার চুমু। আবার স্পর্শ। আবার সেই গরম। যেটা তাদের জেদের চেয়েও শক্ত। যেটা তাদের সবকিছুর উপরে।

তাদের জীবন এখন আগের মতোই চলে। ছোটখাটো ঝগড়া হয়। কিন্তু সরি আসতে দেরি হয় না। আর রাতে যখন দরজা বন্ধ হয়, তখন তাদের শরীর বলে দেয় যে টানটাই আসল। জেদ শুধু একটা খেলা। আর তারা দুজনেই জানে—এই খেলায় আসলে কেউ হারে না। দুজনেই জিতে যায়। একে অপরের কাছে।

....
👁 13