প্রথম দেখার গোপন গল্প

বিয়ের মাত্র তিন মাস পরে নীলা আর আরশের নতুন ফ্ল্যাটে একটা শান্ত দুপুরের আলো ছড়িয়ে ছিল। ঢাকার একটা ব্যস্ত এলাকার ছোট্ট কিন্তু পরিপাটি ফ্ল্যাট। জানালার বাইরে রাস্তার গাড়ির শব্দ, দূরে কোনো দোকানের স্পিকার থেকে আজানের সুর ভেসে আসছে। নীলা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে বৈঠকখানায় এসে দাঁড়াল। আরশ অফিস থেকে এখনো ফেরেনি। তার ওয়ার্ডরোবের একটা পুরনো দেরাজ খুলতে গিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ল একটা ছোট চামড়ার বাঁধানো খাতা। কালো রঙের, কোণাগুলো ঘষা লেগে ফ্যাকাশে। নীলা কৌতূহলী হয়ে তুলে নিল।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

খাতাটা খুলতেই প্রথম পাতায় আরশের হাতের লেখা। তারিখ—অনেক পুরনো। নীলার চোখ থমকে গেল। পাতায় পাতায় একটা নাম বারবার লেখা। নীলা। নীলা। নীলা। কোনো কোনো জায়গায় শুধু নাম, কোনো জায়গায় ছোট ছোট বাক্য। “আজও তাকে দেখলাম। দূরে। হাসিটা মনে আছে।” “নীলার চোখের রং...” “কখনো কি দেখা হবে?”

নীলার হাত কাঁপছিল। তাদের বিয়ের আগে তো প্রায় অপরিচিতই ছিল দুজন। পরিবারের মাধ্যমে দেখা, দু-একটা কথা, তারপর বিয়ে। আরশ কখনো বলেনি যে সে আগে থেকে নীলাকে চেনে। নীলা খাতাটা বন্ধ করে বালিশের নিচে রেখে দিল। মনে মনে ভাবল, আরশকে জিজ্ঞেস করবে। কিন্তু কীভাবে?

¦Ëk¢x/춺'ƒú

সন্ধ্যেবেলা আরশ ফিরল। ক্লান্ত চেহারা, কিন্তু নীলাকে দেখেই হাসি ফুটল। নীলা চা বানিয়ে এনে টেবিলে রাখল। আরশ চায়ের কাপ হাতে নিয়ে নীলার দিকে তাকাল। নীলার চোখে একটা অদ্ভুত ঝিলিক।

“কী হয়েছে?” আরশ জিজ্ঞেস করল।

নীলা আস্তে আস্তে বলল, “তোমার একটা পুরনো খাতা পেয়েছি। ওয়ার্ডরোবে।”

আরশের হাত থেকে চায়ের কাপ প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। সে উঠে দাঁড়িয়ে নীলার দিকে এগিয়ে গেল। “কোন খাতা?”

“যেটাতে আমার নাম লেখা আছে বারবার।”

আরশের মুখটা একটু শুকিয়ে গেল। সে নীলার হাত ধরে টানতে চাইল, কিন্তু নীলা সরে গেল। “লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছ কেন?”

আরশ গভীর শ্বাস নিল। “ওটা পুরনো কথা। ভুলে যাও।”

নীলা হাসল। সেই হাসিটা আরশের বুকের ভিতরটা নাড়া দিল। নীলা কাছে এসে আরশের কলার ধরে টানল। “ভুলব না। তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করতে দাও না কেন?”

আরশ নীলার কোমর ধরে নিজের দিকে টেনে নিল। দুজনের শরীর একে অপরের কাছে। আরশের গলা একটু ভারী হয়ে গেল। “তুমি জানলে বিশ্বাস করবে না।”

নীলা আরশের ঠোঁটের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তাহলে আমাকে বিশ্বাস করার মতো করে বলো।” তারপর হঠাৎ সরে গেল। “আজ রাতে বলবে। না বললে আমি তোমার সব জায়গা খুঁজে বের করব।”

রাতের খাবারের পর নীলা আরশকে বিছানায় টেনে নিল। আলো নিভিয়ে দিল। অন্ধকারে শুধু দুজনের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ। নীলা আরশের বুকের ওপর মাথা রেখে আঙুল দিয়ে তার বুক আঁচড়াতে লাগল। আস্তে আস্তে নিচে নামল। আরশের শরীর টানটান হয়ে উঠল।

“বলো,” নীলা ফিসফিস করে বলল। “কেন আমার নাম লেখো?”

আরশ নীলার চুলের গোছা আঙুলে পেঁচিয়ে নিল। “তুমি জানো না তুমি কী করেছ আমার সাথে।”

নীলা উঠে বসল। অন্ধকারে আরশের চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিজে থেকে আরশের ওপর ঝুঁকে পড়ল। চুমু খেল—গভীর, গরম, জিহ্বা দিয়ে জিহ্বা স্পর্শ করে। আরশের হাত নীলার পিঠ বেয়ে নেমে গেল, কাপড়ের ভিতর ঢুকে গেল। নীলার শরীর কাঁপল। দুজনের শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। আরশ নীলাকে উল্টে নিজের নিচে নিল। ঠোঁট নীলার গলায়, কানে, কাঁধে। নীলা আরশের চুল আঁকড়ে ধরল।

কিন্তু মাঝপথে নীলা থেমে গেল। “আগে বলো।”

আরশ হাসল। সেই হাসিটা অন্ধকারেও নীলা বুঝতে পারল। “তুমি আমাকে পাগল করে দিচ্ছ।”

নীলা আরশের কানে ফুঁ দিয়ে বলল, “আরও পাগল করব যদি না বলো।” তারপর নিজে থেকে আরশের শার্ট খুলে ফেলল। আঙুল দিয়ে তার বুকের রেখাগুলো অনুসরণ করতে লাগল। আরশের শরীর উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। নীলা নিচে নামল, আরশের পেটের ওপর চুমু খেল। আরশের হাত নীলার মাথায়।

“নীলা...” আরশের গলা কেঁপে উঠল।

নীলা উঠে এসে আরশের ঠোঁটে চুমু খেল। “বলো।”

আরশ নীলাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। দুজনের শরীর একে অপরের সাথে মিশে গেল। কাপড়গুলো একটু একটু করে সরে গেল। আরশের হাত নীলার শরীরের প্রতিটা বাঁক চিনে নিল। নীলার নিঃশ্বাস আরশের কানে এসে লাগল। দুজনের মাঝে গরম বাতাস ঘুরপাক খাচ্ছিল। আরশ নীলার কানে ফিসফিস করে বলল, “আমি তোমাকে অনেক আগে দেখেছিলাম।”

নীলা থমকে গেল। কিন্তু আরশ তাকে আর সময় দিল না। ঠোঁট দিয়ে নীলার ঠোঁট চাপ দিল, হাত দিয়ে তার শরীরকে আরও কাছে টানল। রাত গভীর হতে লাগল। দুজনের শরীর একসাথে দোল খেতে লাগল। নীলার নখ আরশের পিঠে দাগ কেটে দিল। আরশের শ্বাস নীলার গলায় এসে মিলিয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত দুজনই একসাথে শিখরে পৌঁছাল। ঘামে ভেজা শরীর জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল।

নীলা আরশের বুকের ওপর মাথা রেখে বলল, “আরো বলো।”

আরশ চুল আঁচড়ে দিতে দিতে বলল, “কাল বলব। আজ রাতটা তোমার।”

নীলা হাসল। কিন্তু মনে মনে জানত, সে থামবে না। পরের দিন সকালে আরশ যখন অফিসে যাবে, নীলা আবার সেই খাতাটা খুলবে। আর আরশকে জেরা করতে থাকবে—দুষ্টুমি করে, চুমু দিয়ে, শরীর দিয়ে।

সকালে আরশ চলে যাওয়ার পর নীলা খাতাটা আবার বের করল। পাতা উল্টাতে উল্টাতে দেখল, কোনো কোনো জায়গায় আরশ লিখেছে—“আজ বাজারে দেখেছিলাম। নীল শাড়ি পরেছিল।” “বৃষ্টি হচ্ছিল না, কিন্তু আমার বুক ভিজে যাচ্ছিল।” নীলা হাসল। আরশ তো বলেছিল বৃষ্টির কথা লিখবে না, কিন্তু খাতায় আছে। না, খাতায় বৃষ্টির কথা নেই। নীলা নিজেই ভেবে নিয়েছে। সে পাতা বন্ধ করল। আজ সন্ধ্যায় আরশকে আবার জেরা করবে। আরও গভীরে। আরও গরমে।

সন্ধ্যায় আরশ ফিরলে নীলা দরজার কাছেই অপেক্ষা করছিল। আরশকে দেখেই তার গলা জড়িয়ে ধরল। চুমু খেল—লম্বা, গভীর। আরশের ব্যাগ হাত থেকে পড়ে গেল। নীলা আরশের কানে ফিসফিস করে বলল, “আজ রাতে পুরো খাতা পড়ব। তুমি আমাকে থামাতে পারবে না।”

আরশ নীলার কোমর চেপে ধরল। “থামাব না। কিন্তু তুমি জানলে...”

নীলা আরশের ঠোঁট আঙুল দিয়ে চেপে ধরে বলল, “জানি। এখন আমাকে নিয়ে যাও।”

দুজন বিছানায় গড়িয়ে পড়ল। কাপড়গুলো দ্রুত সরে গেল। আরশের হাত নীলার শরীরের প্রতিটা জায়গায়। নীলার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। আরশ নীলার কানে বলল, “তুমি আমার সব।” নীলা আরশের পিঠে নখ বসাল। দুজনের শরীর আবার একসাথে দোল খেল। রাতভর সেই দোল চলতে থাকল। নীলা জানত, আরশ কিছু লুকাচ্ছে। আর সে সেটা বের করে ছাড়বে—প্রেম দিয়ে, দুষ্টুমি দিয়ে, শরীরের তাপ দিয়ে।

পরের দিনগুলোতে নীলা আরও জোরালো হয়ে উঠল। আরশকে চুমু দিয়ে, জড়িয়ে ধরে, রাতে বিছানায় এনে জেরা করতে লাগল। আরশ প্রতিবারই এড়িয়ে যেতে চাইত, কিন্তু নীলার শরীরের কাছে এসে সে হেরে যেত। নীলা বুঝতে পারছিল, আরশের ভিতরে একটা গভীর গল্প লুকিয়ে আছে। আর সেই গল্পটা শুধু তার নামে লেখা।

এক রাত আরশ নীলাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “তুমি যদি জানতে আমি কতদিন ধরে তোমাকে মনে রেখেছি...”

নীলা আরশের চোখে চোখ রেখে বলল, “তাহলে বলো। আমি শুনব।”

আরশ নীলার কপালে চুমু খেল। “আরেকদিন।”

নীলা হাসল। সে জানত, আরেকদিন আর বেশি দূর নয়। কারণ তার কৌতূহল এখন আগুনের মতো জ্বলছে। আর আরশের শরীর সেই আগুনে পুড়ছে প্রতি রাতে।

পরের সপ্তাহটা নীলার জন্য একটা খেলার মতো হয়ে উঠল। আরশ অফিস থেকে ফিরলেই নীলা তাকে কোনো না কোনোভাবে জেরা করত। কখনো রান্নাঘরে চা বানানোর সময় পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে, কখনো বিছানায় শুয়ে আরশের বুকের ওপর মাথা রেখে। আরশ প্রতিবারই হাসে, চুমু খায়, কিন্তু পুরো কথা বলে না। নীলা বুঝতে পারছিল, আরশ ইচ্ছে করেই টানিয়ে রাখছে। কারণ প্রতিবার জেরা করার সময় দুজনের শরীর একে অপরের কাছে চলে আসে, আর সেখানে গল্প থেমে যায়, শুরু হয় অন্য কিছু।

এক শুক্রবার সন্ধ্যায় নীলা সিদ্ধান্ত নিল, আজ আর ছাড়বে না। আরশ ফিরলে নীলা তাকে সরাসরি বিছানায় টেনে নিল। আলো জ্বালিয়ে রাখল। আরশ অবাক হয়ে তাকাল। নীলা আরশের শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে বলল, “আজ পুরো রাত। তুমি কিছু লুকাবে না।”

আরশ নীলার হাত ধরে থামিয়ে দিল। “নীলা, তুমি জানো না...”

নীলা আরশের হাত সরিয়ে দিয়ে শার্টটা পুরো খুলে ফেলল। তারপর নিজের কাপড়ও আস্তে আস্তে খুলতে লাগল। আরশের চোখ নীলার শরীরের ওপর আটকে গেল। নীলা কাছে এসে আরশের ওপর বসল। দুজনের শরীরের ছোঁয়ায় বাতাস গরম হয়ে উঠল। নীলা আরশের কানে ফিসফিস করে বলল, “বলো। না বললে আমি থামব না।”

আরশ নীলার কোমর ধরে টানল। তাদের ঠোঁট মিলল। চুমুটা দীর্ঘ হয়ে গেল। জিহ্বা একে অপরকে খুঁজল। নীলার হাত আরশের চুলে ঢুকে গেল। আরশের হাত নীলার পিঠ বেয়ে নেমে গেল, আরও নিচে। নীলার শ্বাস ভারী হয়ে উঠল। সে আরশের বুকে চুমু খেল, নিচে নামল, আরশের পেটের রেখাগুলো জিহ্বা দিয়ে অনুসরণ করল। আরশের শরীর কেঁপে উঠল।

“নীলা... থামো...” আরশের গলা ভাঙল।

নীলা উঠে এসে আরশের ঠোঁটে চুমু খেল। “থামব না। বলো।”

আরশ নীলাকে উল্টে নিজের নিচে নিল। এবার সে নিজে থেকে নীলার শরীর চুম্বন করতে লাগল। গলায়, কাঁধে, বুকে। নীলার শরীর আগুনের মতো জ্বলে উঠল। আরশের হাত নীলার উরু স্পর্শ করল, আস্তে আস্তে উপরে উঠল। নীলা আরশের পিঠে নখ বসাল। দুজনের মাঝে শুধু শ্বাস আর ছোঁয়ার শব্দ।

মাঝপথে আরশ থেমে গেল। নীলার চোখে চোখ রেখে বলল, “আমি তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম প্রায় সাত বছর আগে।”

নীলার চোখ বড় হয়ে গেল। “কোথায়?”

আরশ নীলার কপালে চুমু খেল। “একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে। তুমি তখন কলেজে পড়ো। সাদা শাড়ি পরেছিলে। চুলে ফুল ছিল। তুমি হাসছিলে। আমি দূরে দাঁড়িয়ে তোমাকে দেখছিলাম। সেই হাসিটা আমার মনে গেঁথে গেল।”

নীলা আরশের বুকে মাথা রেখে শুনছিল। আরশের হাত নীলার চুল আঁচড়াচ্ছিল। “তারপর?”

“তারপর আমি তোমাকে আর দেখিনি। কিন্তু মনে রেখেছিলাম। ডায়েরিতে লিখতাম। কখনো কখনো ভাবতাম, তোমাকে যদি আবার দেখি... কিন্তু দেখিনি। বছরের পর বছর চলে গেল। তারপর পরিবারের মাধ্যমে তোমার কথা শুনলাম। ছবি দেখলাম। তখন বুঝলাম, ওই মেয়েটা তুমিই।”

নীলা উঠে বসল। তার চোখে জল এসে গিয়েছিল। “তুমি কেন বলোনি?”

আরশ নীলার হাত ধরল। “কারণ আমি ভয় পেয়েছিলাম। তুমি ভাববে আমি পাগল। বা তুমি বিশ্বাস করবে না।”

নীলা আরশের কাছে ঝুঁকে পড়ল। তাদের ঠোঁট আবার মিলল। এবার চুমুটা আরও গভীর, আরও আবেগপূর্ণ। নীলা আরশের ওপর চেপে বসল। দুজনের শরীর আবার একসাথে দোল খেলতে লাগল। আরশের হাত নীলার কোমর চেপে ধরল, নীলার হাত আরশের বুকে। ঘামে ভেজা শরীর একে অপরের সাথে মিশে গেল। নীলার নিঃশ্বাস আরশের কানে এসে লাগল—“আমি বিশ্বাস করি।”

রাতভর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে থাকল। কখনো কথা বলল, কখনো শুধু চুমু খেল, কখনো শরীর দিয়ে সব বলল। নীলা আরশের বুকের ওপর শুয়ে বলল, “ডায়েরিতে আরও কী লেখা আছে?”

আরশ হাসল। “অনেক কিছু। তোমার হাসি, তোমার চোখ, তোমার হাঁটার ভঙ্গি। আমি সব মনে রেখেছিলাম।”

নীলা আরশের ঠোঁটে আঙুল ছুঁইয়ে বলল, “কাল পুরো পড়ব। তুমি পাশে থাকবে।”

আরশ নীলাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। “থাকব। সবসময়।”

পরের দিন সকালে দুজন একসাথে ডায়েরি খুলল। নীলা পাতা উল্টাতে উল্টাতে পড়ল। আরশ পাশে বসে নীলার চুল আঁচড়াচ্ছিল। কোনো কোনো পাতায় আরশ লিখেছে ছোট ছোট কবিতার মতো লাইন। “নীলার হাসি দেখলে মনে হয় পৃথিবী থেমে গেছে।” “আজও তাকে মনে পড়ে। দূরে। কিন্তু কাছে।”

নীলা পড়তে পড়তে আরশের কাঁধে মাথা রেখে বলল, “তুমি আমাকে ভালোবাসতে শুরু করেছিলে তখনই?”

আরশ নীলার চোখে চোখ রেখে বলল, “হ্যাঁ। সেই দিন থেকে।”

নীলা আরশের গলা জড়িয়ে ধরল। দুজন আবার বিছানায় গড়িয়ে পড়ল। এবার আর কোনো জেরা নেই। শুধু প্রেম। গভীর, গরম, আবেগের। আরশ নীলার শরীরের প্রতিটা অংশ চুম্বন করল। নীলা আরশের নাম ধরে ডাকল। দুজনের শরীর একসাথে তালে তালে নড়ল। শেষে ঘামে ভেজা শরীর জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল।

নীলা আরশের কানে ফিসফিস করে বলল, “আর লুকাবে না কিছু।”

আরশ নীলার কপালে চুমু খেল। “লুকাব না। তুমি আমার সব গল্প।”

সেই দিন থেকে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে উঠল। নীলা জানত, আরশের ভিতরে থাকা সেই পুরনো অনুভূতি এখন তাদের দুজনের। আর প্রতি রাতে সেই অনুভূতি শরীরে মিশে যেত। নীলা আরশকে জেরা করা বন্ধ করে দিল। এখন শুধু শোনে, আর ভালোবাসে। আরশও আর লুকায় না। ডায়েরির পাতাগুলো দুজনে একসাথে পড়ে। কোনো কোনো রাতে আরশ নীলাকে বলে, সেই দিনের কথা—সাদা শাড়ি, হাসি, দূর থেকে দেখা। নীলা শোনে, আর আরশের বুকে মুখ গুঁজে থাকে।

এক রাত নীলা আরশকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি যদি আমাকে না পেতে?”

আরশ নীলার হাত চেপে ধরে বলল, “পেতামই। আমি জানতাম।”

নীলা হাসল। দুজনের শরীর আবার কাছে এল। চুমু, ছোঁয়া, শ্বাস—সব মিশে গেল। রাত গভীর হয়ে উঠল। বাইরে শহরের আওয়াজ, ভিতরে দুজনের গভীর প্রেম। নীলা জানত, এই গল্প এখন তাদের দুজনের। আর শেষ হওয়ার নয়।

ডায়েরির সব পাতা পড়া শেষ হয়ে গেল এক মাসের মধ্যে। নীলা আর আরশ এখন সেই পুরনো স্মৃতিকে তাদের নতুন জীবনের অংশ করে নিয়েছে। কিন্তু নীলার মনে এখনো একটা প্রশ্ন ছিল। এক রাত সে আরশকে বিছানায় টেনে নিয়ে জিজ্ঞেস করল, “তুমি আমাকে প্রথম দেখার পর কী অনুভব করেছিলে?”

আরশ নীলার চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে বলল, “মনে হয়েছিল, আমি তোমাকে চিনতাম অনেক আগে থেকে। হাসিটা দেখে আমার বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠেছিল। আমি সেদিন বাড়ি ফিরে ডায়েরিতে লিখেছিলাম প্রথম লাইনটা।”

নীলা আরশের বুকে মাথা রেখে শুনছিল। আরশের হাত নীলার পিঠে ঘুরছিল। “তারপর প্রতিবার যখন তোমাকে মনে পড়ত, আমি লিখতাম। কখনো কখনো ভাবতাম, তুমি কি বাস্তব? নাকি আমার কল্পনা?”

নীলা উঠে বসল। তার চোখে আলো। “এখন আমি বাস্তব।”

আরশ নীলাকে টেনে নিল। দুজনের ঠোঁট মিলল। চুমুটা এবার অন্য রকম—গভীর, আবেগের, যেন বছরের পর বছরের অপেক্ষা মিশে আছে। নীলা আরশের শার্ট খুলে ফেলল। আরশ নীলার কাপড় সরিয়ে দিল। দুজনের শরীর একে অপরের সাথে মিশে গেল। আরশের হাত নীলার শরীরের প্রতিটা বাঁক চিনে নিল—যেন প্রথমবারের মতো। নীলার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। সে আরশের নাম ধরে ডাকল।

আরশ নীলার কানে ফিসফিস করে বলল, “আমি তোমাকে সেই দিন থেকে চেয়েছি। প্রতিটা রাত। প্রতিটা দিন।”

নীলা আরশের পিঠে নখ বসাল। দুজনের শরীর তালে তালে নড়তে লাগল। ঘামে ভেজা শরীর, গরম নিঃশ্বাস, ছোঁয়ার শব্দ—সব মিশে একটা গভীর সুর তৈরি করল। নীলা আরশের বুকে মুখ গুঁজে বলল, “আমিও তোমাকে চাই। সবসময়।”

রাতভর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে থাকল। কখনো কথা বলল সেই পুরনো দিনের, কখনো শুধু চুমু খেল, কখনো শরীর দিয়ে সব অনুভূতি প্রকাশ করল। ভোরের আলো জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ার আগে নীলা আরশের কানে বলল, “ডায়েরিটা এখন আমাদের।”

আরশ নীলার কপালে চুমু খেল। “হ্যাঁ। তোমার নামে লেখা আমার জীবন।”

পরের দিনগুলোতে তাদের জীবন আরও মধুর হয়ে উঠল। নীলা কখনো কখনো ডায়েরিটা খুলে পুরনো লাইনগুলো পড়ে। আরশ পাশে বসে হাসে। কোনো কোনো রাতে আরশ নীলাকে বলে, সেই বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা—কীভাবে সে দূরে দাঁড়িয়ে নীলাকে দেখেছিল, কীভাবে হাসিটা মনে গেঁথে গিয়েছিল। নীলা শোনে, আর আরশের হাত ধরে থাকে।

একদিন নীলা আরশকে নিয়ে বাইরে গেল। শহরের একটা শান্ত পার্কে। গাছের ছায়ায় বসে দুজন কথা বলছিল। নীলা আরশের হাত ধরে বলল, “তুমি যদি সেদিন আমাকে কথা বলতে...”

আরশ হাসল। “তাহলে গল্পটা অন্যরকম হত। কিন্তু এখন যে গল্পটা আছে, সেটাই সেরা।”

নীলা আরশের কাঁধে মাথা রেখে বলল, “আমিও তাই ভাবি।”

সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দুজন আবার একে অপরের কাছে চলে এল। রাতের খাবারের পর নীলা আরশকে বিছানায় টেনে নিল। এবার কোনো জেরা নেই, কোনো লুকানোর চেষ্টা নেই। শুধু প্রেম। আরশ নীলার শরীর চুম্বন করতে লাগল—আস্তে আস্তে, গভীরভাবে। নীলার শরীর কেঁপে উঠল। সে আরশের চুল আঁকড়ে ধরল। দুজনের শ্বাস একসাথে মিশে গেল। আরশ নীলার চোখে চোখ রেখে বলল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি। সেই দিন থেকে। আজও। সবসময়।”

নীলা আরশের ঠোঁটে চুমু খেল। “আমিও।”

তাদের শরীর আবার একসাথে দোল খেল। এবার আরও গভীর, আরও কাছাকাছি। নীলার নখ আরশের পিঠে দাগ কেটে দিল। আরশের হাত নীলার কোমর চেপে ধরল। দুজন একসাথে শিখরে পৌঁছাল। ঘামে ভেজা শরীর জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল। বাইরে শহরের আওয়াজ, ভিতরে দুজনের শান্ত নিঃশ্বাস।

নীলা আরশের বুকের ওপর মাথা রেখে বলল, “ডায়েরিতে আরও কিছু লিখবে?”

আরশ নীলার চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে বলল, “লিখব। কিন্তু এবার তোমার সাথে।”

নীলা হাসল। দুজনের চোখে চোখ। সেই হাসিটা—যে হাসি আরশ সাত বছর আগে দেখেছিল—এখন আরশের বুকে এসে মিশে গেছে। নীলা জানত, তাদের গল্প এখন শুধু পুরনো স্মৃতি নয়। এটা তাদের বর্তমান, তাদের ভবিষ্যৎ। আর প্রতি রাতে সেই গল্প নতুন করে লেখা হয়—চুমুতে, ছোঁয়ায়, শরীরের তাপে।

কয়েক মাস পরে নীলা আরশের সাথে ডায়েরির শেষ পাতায় একটা নতুন লাইন লিখল। “আজ আমরা একসাথে। আর কখনো আলাদা নয়।” আরশ পাশে বসে নীলার হাত ধরেছিল। দুজন একে অপরের চোখে তাকিয়ে হাসল। বাইরে আকাশ পরিষ্কার, কোনো মেঘ নেই। ভিতরে তাদের প্রেম গভীর, গরম, অনন্ত।

নীলা আরশকে জড়িয়ে ধরে বলল, “ধন্যবাদ যে তুমি আমাকে মনে রেখেছিলে।”

আরশ নীলার কপালে চুমু খেল। “ধন্যবাদ যে তুমি এসেছিলে।”

রাত গভীর হয়ে উঠল। দুজন একে অপরের কাছে শুয়ে রইল। শরীর একে অপরের সাথে মিশে। নিঃশ্বাস একসাথে। তাদের গল্প এখন সম্পূর্ণ। কোনো লুকানো নেই, কোনো প্রশ্ন নেই। শুধু ভালোবাসা—যে ভালোবাসা একদিন দূর থেকে শুরু হয়েছিল, আর এখন কাছে এসে চিরকালের জন্য থেকে গেছে।

....
👁 10