প্রতিদিন তোমাকে নতুন করে

তানহা আর রিদওয়ানের বিয়ে হয়েছিল ঠিক এক বছর আগে। ঢাকার একটা ছোট ফ্ল্যাটে তাদের নতুন সংসার। রিদওয়ান প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করে, তানহা বাসায় থেকেই অনলাইনে কিছু ডিজাইনের কাজ করে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় সব ঠিক আছে। কিন্তু ভেতরে প্রতিদিন নতুন একটা ঝগড়া। ছোটখাটো বিষয় নিয়েই শুরু হয়। কেউ খাবার গরম করেনি, কেউ দেরি করে ফিরেছে, কেউ ফোন ধরেনি—এইসব নিয়ে কথা কাটাকাটি। রাতের বেলা বিছানায় শুয়েও নীরবতা থাকে। দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তেই থাকে।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

এক সন্ধ্যেবেলা রিদওয়ান অফিস থেকে এসে জামাকাপড় বদলাতে গিয়ে হাসতে হাসতে বলে, “জানো তানহা, যদি আবার তোমাকে বিয়ে করতে হতো তাহলে করতাম না।” কথাটা মজার ছলে বলা। কিন্তু তানহার মুখ শক্ত হয়ে যায়। সে চুপচাপ রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে দাঁড়ায়। “আমিও করতাম না,” বলে সে। গলার স্বর ঠান্ডা। রিদওয়ান হাসির চেষ্টা করে, কিন্তু তানহা আর কিছু না বলে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। সেই রাতটা নীরবে কাটে। দুজনেই আলাদা দিকে মুখ করে শোয়।

পরের দিন সকালে রিদওয়ান অফিস যায়। তানহা বাসায় একা। মনে মনে কথাগুলো ঘুরতে থাকে। দুপুরে রিদওয়ানের ফোন আসে না। বিকেলেও না। সন্ধ্যা নামার আগেই দরজায় নক। তানহা খুলে দেখে রিদওয়ান দাঁড়িয়ে। হাতে একটা বড় তোড়া গোলাপ। লাল, গোলাপি মেশানো। চোখে একটা নরম হাসি। “তাহলে আজ থেকে নতুন করে শুরু করি,” বলে সে। তানহা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। কথা বেরোয় না। রিদওয়ান ভেতরে ঢুকে ফুলগুলো টেবিলে রাখে। “গতকালের কথা ভুলে যাও। আজ থেকে আমরা নতুন করে শুরু করছি। প্রতিদিন আমাদের সম্পর্কের একটা নতুন দিন উদযাপন করব।”

¦Ëk¢x/춺'ƒú

তানহা ধীরে ধীরে কাছে যায়। রিদওয়ানের হাত ধরে। গরম অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে। সারাদিনের রাগটা কোথায় যেন মিলিয়ে যায়। তারা কাছাকাছি বসে। রিদওয়ান তানহার চুল সরিয়ে কপালে চুমু খায়। তারপর ঠোঁটে। চুমুটা গভীর হয়। তানহার শ্বাস দ্রুত হয়ে ওঠে। রিদওয়ানের হাত তার কোমরে চলে যায়। শরীরের উষ্ণতা মিশে যায়। তারা বিছানার দিকে এগোয়। জামা খুলে ফেলে। রিদওয়ানের আঙুল তানহার ত্বকে ঘষে যায়। ধীরে ধীরে, মমতায়। তানহা চোখ বন্ধ করে অনুভব করে। প্রতিটা স্পর্শ নতুন মনে হয়। রিদওয়ান তার গলায় চুমু খায়, কানের পাশে ফিসফিস করে বলে, “আজ থেকে প্রতিদিন তোমাকে নতুন করে ভালোবাসব।” তানহার শরীর কেঁপে ওঠে। তারা একসঙ্গে মিশে যায়। রাতটা দীর্ঘ হয়। ঘামে ভেজা শরীর, গভীর শ্বাস, আর অবিরাম স্পর্শ। শেষে দুজনেই ক্লান্ত হয়ে একে অপরের বুকে মাথা রেখে শোয়।

সেই রাত থেকে তাদের মধ্যে একটা নতুন রীতি শুরু হয়। প্রতিদিন সকালে রিদওয়ান কিছু একটা নিয়ে আসে। কখনো ফুল, কখনো তানহার পছন্দের খাবার, কখনো একটা ছোট চিরকুট। তানহাও সাড়া দেয়। সে রান্না করে বিশেষ কিছু, অথবা রিদওয়ানের অফিসের জামা ইস্ত্রি করে রাখে। সন্ধ্যায় তারা একসঙ্গে সময় কাটায়। কথা বলে, হাসে, আর রাতে ঘনিষ্ঠ হয়। প্রতিটা রাত যেন নতুন। রিদওয়ান তানহার শরীরের প্রতিটা অংশ আবিষ্কার করে। আঙুল দিয়ে রেখা এঁকে দেয়। তানহাও সাহস পায়। সে রিদওয়ানের বুকের ওপর হাত রাখে, চুমু খায়, আর নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করে। দুজনের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল, তা আস্তে আস্তে কমে আসতে থাকে।

একদিন রিদওয়ান বাসায় এসে বলে, “আজ আমাদের সম্পর্কের তৃতীয় নতুন দিন।” তানহা হেসে বলে, “তুমি হিসাব রাখছ?” রিদওয়ান মাথা নেড়ে বলে, “প্রতিদিন গুনছি। কারণ প্রতিদিন তোমাকে নতুন করে পাচ্ছি।” তানহার চোখে জল চলে আসে। সে রিদওয়ানের কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। চুমুটা লম্বা হয়। রিদওয়ান তাকে তুলে বিছানায় নিয়ে যায়। সেদিনের রাতটা আরও গভীর হয়। তানহার শরীর রিদওয়ানের হাতে নরম হয়ে যায়। প্রতিটা স্পর্শে উত্তাপ ছড়ায়। তারা কথা বলে না, শুধু অনুভব করে। শেষে তানহা রিদওয়ানের কানের কাছে ফিসফিস করে বলে, “আমিও চাই প্রতিদিন নতুন করে শুরু করতে।”

দিনগুলো এভাবেই চলতে থাকে। ঝগড়া কমে আসে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আর কথা কাটাকাটি হয় না। পরিবর্তে তারা একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করে। রিদওয়ান অফিস থেকে ফিরে প্রথমে তানহার খোঁজ নেয়। তানহাও রিদওয়ানের ক্লান্তি দেখে চা বানিয়ে দেয়। রাতে তারা একসঙ্গে বসে পুরনো গল্প করে। কীভাবে প্রথম দেখা হয়েছিল, কীভাবে পরিচয় হয়েছিল—এসব নিয়ে কথা হয়। কিন্তু তানহা লক্ষ করে, রিদওয়ান যখন প্রথম দেখার কথা বলে, তার চোখে একটা আলাদা আলো ফুটে ওঠে। যেন সেই স্মৃতি তার কাছে খুব গভীর।

এক সপ্তাহ পরে একদিন তানহা রিদওয়ানের পুরনো ফোনটা খুঁজতে গিয়ে একটা নোটবুক পায়। পুরনো, হলুদ পাতাওয়ালা। খুলে দেখে তার নাম লেখা আছে। তারপর তারিখ। তাদের প্রথম দেখা হওয়ার দিনের তারিখ। নিচে লেখা, “আজ তাকে দেখেছি। চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝেছি, একে হারাব না।” তানহার হাত কাঁপে। সে আরও পাতা উল্টায়। প্রতিটা পাতায় তার কথা। কখনো ছোট নোট, কখনো লম্বা। রিদওয়ান তাকে প্রথম দেখার পর থেকেই লিখে রেখেছে। কীভাবে সে তানহার হাসি দেখে মুগ্ধ হয়েছে, কীভাবে তার কথা শুনে মন ভরে গেছে। তানহা বুঝতে পারে, রিদওয়ান সেদিন মজা করে যা বলেছিল, তা সত্যি নয়। সে আসলে শুরু থেকেই তাকে ভালোবেসেছে।

তানহা নোটবুকটা বন্ধ করে রাখে। মনে মনে ঠিক করে, এখনই কিছু বলবে না। সে রিদওয়ানের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকে। সন্ধ্যায় রিদওয়ান এলে তানহা তার দিকে তাকিয়ে হাসে। রিদওয়ান কাছে এসে জিজ্ঞেস করে, “কী হয়েছে?” তানহা মাথা নেড়ে বলে, “কিছু না। শুধু তোমাকে দেখে ভালো লাগছে।” রিদওয়ান তাকে জড়িয়ে ধরে। চুমু খায়। সেই রাতে তাদের ঘনিষ্ঠতা আরও গভীর হয়। তানহা রিদওয়ানের শরীরের প্রতিটা অংশ আদর করে। সে জানে, এই মানুষটা তাকে অনেকদিন ধরে ভালোবেসেছে। আর এখন সেও সেই ভালোবাসাকে পুরোপুরি গ্রহণ করতে চায়।

পরের দিনগুলোতে তানহা আরও মনোযোগী হয়ে ওঠে। সে রিদওয়ানের ছোটখাটো পছন্দগুলো খেয়াল রাখে। রান্নায় তার প্রিয় মসলা বাড়ায়। অফিসের চাপ কমাতে সন্ধ্যায় তাকে বিশ্রাম দিতে চায়। রিদওয়ানও লক্ষ করে। সে তানহাকে আরও কাছে টানে। রাতে তারা দীর্ঘক্ষণ কথা বলে। শরীরের উষ্ণতায় মিশে যায়। প্রতিটা স্পর্শ যেন পুরনো ভালোবাসার নতুন প্রকাশ। তানহার মনে হয়, তাদের সম্পর্ক এখন সত্যিই নতুন করে শুরু হয়েছে। আর এই শুরুর পেছনে আছে রিদওয়ানের অনেকদিনের চুপচাপ ভালোবাসা।

একদিন রাতে তানহা রিদওয়ানের বুকের ওপর মাথা রেখে শুয়ে থাকে। রিদওয়ানের হাত তার চুলে আলতো করে ঘষে। তানহা ফিসফিস করে বলে, “তুমি কি সবসময় এভাবেই আমাকে ভালোবেসেছ?” রিদওয়ান চুপ থাকে কিছুক্ষণ। তারপর বলে, “হ্যাঁ। প্রথম দিন থেকে।” তানহার চোখ ভিজে যায়। সে আর কিছু না বলে রিদওয়ানের ঠোঁটে চুমু দেয়। চুমুটা গভীর হয়। তাদের শরীর আবার কাছাকাছি আসে। সেই রাতটা তাদের জন্য আরও একটা নতুন দিনের শুরু হয়ে ওঠে। গভীর ভালোবাসায়, উষ্ণ স্পর্শে, আর অবিরাম কাছাকাছি থাকার ইচ্ছায়।

তানহা নোটবুকের কথা মনে রেখেও চুপ থাকে। সে চায় রিদওয়ান নিজে থেকে সব খুলে বলুক। দিনগুলো কেটে যায় নতুন উদযাপনে। প্রতিদিন সকালে রিদওয়ান কিছু না কিছু নিয়ে আসে। একদিন একটা ছোট গলার হার। তানহার গলায় পরিয়ে দিয়ে বলে, “আজ আমাদের সম্পর্কের দশম নতুন দিন।” তানহা হেসে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। হারটা তার গলায় সুন্দর লাগে। রিদওয়ান পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে। গলায় চুমু খায়। তানহার শরীর শিহরিত হয়ে ওঠে। সে পেছন ফিরে রিদওয়ানের ঠোঁটে চুমু দেয়। চুমুটা ধীরে ধীরে গভীর হয়। রিদওয়ানের হাত তার কোমর ঘিরে ধরে। তারা বিছানার দিকে এগোয়। সকালের আলো ঘরে ঢুকছে। তানহার শরীর রিদওয়ানের হাতে নরম হয়ে যায়। প্রতিটা স্পর্শ আগের চেয়েও গভীর মনে হয়। রিদওয়ান তার ত্বকে আঙুল বোলায়। তানহা চোখ বন্ধ করে অনুভব করে। তাদের শ্বাস মিশে যায়। উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে সারা শরীরে। শেষে তারা ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে কাছাকাছি শুয়ে থাকে।

সেদিন দুপুরে তানহা রিদওয়ানের অফিসে গিয়ে অবাক করে। রিদওয়ান ডেস্কে বসে কাজ করছিল। তানহাকে দেখে উঠে দাঁড়ায়। চোখে খুশির ছাপ। তানহা একটা ছোট বক্স এগিয়ে দেয়। ভেতরে রিদওয়ানের প্রিয় মিষ্টি। “আজকের উদযাপন,” বলে সে। রিদওয়ান হেসে তানহার হাত ধরে। সহকর্মীদের সামনে একটু সংকুচিত হয়, কিন্তু চোখে ভালোবাসা ফুটে ওঠে। বাসায় ফিরে সেদিনের রাতটা আরও বিশেষ হয়। তারা একসঙ্গে রান্না করে। হাসিঠাট্টা করে। তারপর বিছানায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাছাকাছি থাকে। রিদওয়ান তানহার প্রতিটা ইচ্ছা পূরণ করে। তানহাও সাহস করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে। তাদের শরীর একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। ঘনিষ্ঠতা এত গভীর হয় যে তানহার মনে হয়, তারা আগে কখনো এত কাছাকাছি ছিল না।

দিন যত যায়, তাদের মধ্যে কথাবার্তাও বাড়ে। তানহা জানতে চায় রিদওয়ানের পুরনো দিনগুলোর কথা। রিদওয়ান বলে, “প্রথম দেখা হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে। তুমি বই খুঁজছিলে। আমি পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। তোমার চোখের দিকে তাকিয়েই মন কেঁপে উঠেছিল।” তানহা শুনে চুপ করে থাকে। সে জানে নোটবুকেও একই কথা লেখা আছে। রিদওয়ান আরও বলে, “সেদিন থেকেই তোমাকে দেখতাম। ক্লাসে, ক্যান্টিনে। কথা বলার সাহস পাইনি অনেকদিন। পরে একদিন সাহস করে কথা বলেছিলাম।” তানহার চোখে জল আসে। সে রিদওয়ানের হাত চেপে ধরে। “তুমি কেন আমাকে বলোনি?” রিদওয়ান হাসে, “বললে তুমি বিশ্বাস করতে?” তানহা মাথা নেড়ে বলে, “এখন বিশ্বাস করি।”

সেই রাতে তাদের ঘনিষ্ঠতা নতুন মাত্রা পায়। রিদওয়ান তানহার শরীর আদর করে। ধীরে ধীরে, মমতায়। তানহাও সাড়া দেয়। সে রিদওয়ানের বুকের ওপর উঠে বসে। চোখে চোখ রেখে। তাদের শ্বাস দ্রুত হয়ে ওঠে। উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। তানহার শরীর কেঁপে ওঠে প্রতিটা স্পর্শে। রিদওয়ান তার কোমর ধরে রাখে। তারা একসঙ্গে ছন্দে মিশে যায়। রাতটা দীর্ঘ হয়। শেষে তানহা রিদওয়ানের বুকে মাথা রেখে শোয়। রিদওয়ানের হাত তার পিঠে আলতো করে ঘষে। “প্রতিদিন নতুন করে তোমাকে পাচ্ছি,” বলে রিদওয়ান। তানহা ফিসফিস করে বলে, “আমিও।”

একদিন রিদওয়ান তানহাকে নিয়ে ঢাকার বাইরে যায়। একটা ছোট রিসোর্টে। সন্ধ্যায় তারা নদীর পাশে হাঁটে। কথা বলে। রিদওয়ান তানহার হাত ধরে রাখে। তানহা অনুভব করে, এই মানুষটা তাকে কতটা গভীরভাবে ভালোবাসে। রাতে রিসোর্টের ঘরে তারা কাছাকাছি থাকে। জানালা দিয়ে চাঁদের আলো ঢোকে। রিদওয়ান তানহার শরীর উন্মোচন করে। চুমু খায় প্রতিটা অংশে। তানহার শরীর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সে রিদওয়ানের ঘাড়ে হাত রাখে। টানে। তাদের মিলন গভীর হয়। প্রতিটা মুহূর্ত যেন পুরনো ভালোবাসার নতুন প্রকাশ। তানহার মনে হয়, এই সম্পর্ক এখন আর শুধু বিয়ের বন্ধন নয়। এটা অনেক গভীর কিছু।

বাসায় ফিরে তানহা নোটবুকটা আবার খুলে দেখে। পাতায় পাতায় রিদওয়ানের লেখা। এক জায়গায় লেখা, “আজ তানহা হেসেছে আমার দিকে। মনে হয়েছে পৃথিবী থেমে গেছে।” আরেক জায়গায়, “কখনো যদি তাকে পাই, প্রতিদিন নতুন করে ভালোবাসব।” তানহার চোখ ভিজে যায়। সে নোটবুকটা বন্ধ করে রাখে। রিদওয়ান এলে সে আর চুপ থাকে না। “আমি পেয়েছি তোমার নোটবুক,” বলে সে। রিদওয়ানের মুখ শক্ত হয়ে যায় কিছুক্ষণ। তারপর সে কাছে এসে বসে। “পড়েছ?” তানহা মাথা নেড়ে বলে। রিদওয়ান তানহার হাত ধরে। “প্রথম দিন থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছি। বিয়ের পরও। ঝগড়া হলেও ভালোবাসা কমেনি। সেদিন মজা করে যা বলেছিলাম, তা সত্যি নয়। আমি তোমাকে আবার বিয়ে করতে চাই প্রতিদিন।”

তানহার চোখ দিয়ে জল গড়ায়। সে রিদওয়ানের বুকে মুখ লুকায়। রিদওয়ান তাকে জড়িয়ে ধরে। চুমু খায় কপালে, তারপর ঠোঁটে। চুমুটা গভীর হয়। তারা বিছানায় চলে যায়। সেই রাতটা তাদের জীবনের অন্যতম গভীর রাত হয়ে ওঠে। রিদওয়ান তানহার শরীর আদর করে যেন প্রথমবারের মতো। তানহাও সাড়া দেয় পুরোপুরি। তাদের শরীর একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। উত্তাপ, ঘাম, আর গভীর শ্বাস। প্রতিটা মুহূর্তে ভালোবাসার প্রকাশ। শেষে তারা কাছাকাছি শুয়ে থাকে। রিদওয়ান তানহার চুলে হাত বোলায়। “এখন থেকে আর কোনো লুকানো কথা থাকবে না,” বলে সে। তানহা মাথা নেড়ে বলে, “না। এখন শুধু নতুন দিনগুলো উদযাপন করব।”

দিনগুলো এভাবেই চলতে থাকে। তাদের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আর ঝগড়া হয় না। পরিবর্তে তারা একে অপরকে বোঝে। রাতে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। প্রতিটা স্পর্শ গভীর হয়। তানহা অনুভব করে, রিদওয়ানের ভালোবাসা কতটা পুরনো আর কতটা সত্যি। আর সেই ভালোবাসাকে সে এখন পুরোপুরি গ্রহণ করেছে। তাদের সংসারে এখন শুধু উষ্ণতা আর কাছাকাছি থাকার ইচ্ছা। প্রতিদিন নতুন করে শুরু করার প্রতিজ্ঞা।

নোটবুকের কথা খুলে বলার পর তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। তানহা এখন রিদওয়ানের প্রতিটা ছোটখাটো ইঙ্গিত বুঝতে পারে। রিদওয়ানও তানহার মনের কথা অনুমান করে। প্রতিদিন সকালে তারা একসঙ্গে ঘুম থেকে ওঠে। চা বানিয়ে বসে কথা বলে। রিদওয়ান অফিসে যাওয়ার আগে তানহাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায়। তানহাও তাকে বিদায় জানায় নতুন করে। সন্ধ্যায় ফিরে এলে প্রথমেই তানহার খোঁজ নেয়। তারা একসঙ্গে সময় কাটায়। কখনো রান্না করে, কখনো বসে গল্প করে। রাতে ঘনিষ্ঠ হয়।

একদিন রিদওয়ান তানহাকে নিয়ে পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। লাইব্রেরির সামনে দাঁড়ায়। “এখানেই প্রথম দেখেছিলাম তোমাকে,” বলে সে। তানহা চারপাশে তাকায়। মনে মনে সেই দিনটা কল্পনা করে। রিদওয়ান তার হাত ধরে। “সেদিন থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তোমাকে হারাব না।” তানহা রিদওয়ানের দিকে তাকায়। চোখে ভালোবাসা। তারা কাছাকাছি এসে চুমু খায়। চারপাশে মানুষজন থাকলেও তারা পরোয়া করে না। চুমুটা গভীর হয়। তানহার শরীর শিহরিত হয়ে ওঠে। রিদওয়ান ফিসফিস করে বলে, “বাসায় গিয়ে নতুন করে উদযাপন করব।”

বাসায় ফিরে তারা দরজা বন্ধ করে। রিদওয়ান তানহাকে তুলে বিছানায় নিয়ে যায়। জামা খুলে ফেলে ধীরে ধীরে। প্রতিটা অংশ আদর করে। তানহার ত্বকে চুমু খায়। তানহা চোখ বন্ধ করে অনুভব করে। রিদওয়ানের হাত তার শরীরে ঘষে যায়। উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। তানহা রিদওয়ানের ঘাড়ে হাত রাখে। টানে। তাদের মিলন শুরু হয়। গভীর, উষ্ণ, আর অবিরাম। তানহার শরীর কেঁপে ওঠে। রিদওয়ান তার কোমর ধরে রাখে। ছন্দে মিশে যায়। রাতটা দীর্ঘ হয়। তারা কয়েকবার কাছাকাছি আসে। প্রতিবার নতুন অনুভূতি। শেষে ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে একে অপরের বুকে মাথা রেখে শোয়।

তানহা রিদওয়ানের বুকের ওপর হাত রাখে। “তুমি কতদিন ধরে আমাকে ভালোবেসেছ,” বলে সে। রিদওয়ান হেসে বলে, “গুণে শেষ করা যাবে না। প্রতিদিন নতুন করে বেড়েছে।” তানহা উঠে বসে। রিদওয়ানের দিকে তাকায়। “আমিও এখন তোমাকে সেভাবেই ভালোবাসি। প্রথম দিন থেকে না হলেও, এখন থেকে প্রতিদিন।” রিদওয়ান তাকে টানে। আবার চুমু খায়। চুমুটা লম্বা হয়। তাদের শরীর আবার কাছাকাছি আসে। এবার আরও ধীরে, আরও মমতায়। তানহা রিদওয়ানের শরীর আদর করে। প্রতিটা রেখা অনুভব করে। তাদের ঘনিষ্ঠতা এত গভীর হয় যে তানহার মনে হয়, তারা একদেহ হয়ে গেছে।

পরের দিনগুলোতে তারা আরও কাছাকাছি হয়। তানহা রিদওয়ানের অফিসের চাপ বোঝে। সন্ধ্যায় তাকে বিশ্রাম দিতে চায়। রিদওয়ান তানহার কাজের প্রশংসা করে। তারা একসঙ্গে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করে। সংসার নিয়ে, স্বপ্ন নিয়ে। রাতে তারা দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকে। কথা বলে, হাসে, আর ঘনিষ্ঠ হয়। প্রতিটা রাত নতুন উদযাপন হয়ে ওঠে। রিদওয়ান কখনো ফুল আনে, কখনো তানহার পছন্দের কিছু। তানহাও সাড়া দেয় নিজের মতো করে। সে রিদওয়ানের জন্য বিশেষ রান্না করে। অথবা একটা ছোট চিরকুট লিখে রাখে।

একদিন রাতে তানহা রিদওয়ানকে বলে, “আমাদের বিয়ের বার্ষিকী আসছে। কী করবে?” রিদওয়ান হাসে, “প্রতিদিনই তো বার্ষিকী উদযাপন করছি। তারপরও বিশেষ কিছু করব।” তানহা কাছে এসে জড়িয়ে ধরে। “আমি চাই শুধু তোমার কাছে থাকতে।” রিদওয়ান তাকে চুমু খায়। চুমুটা গভীর হয়। তারা বিছানায় চলে যায়। সেই রাতটা তাদের জন্য আরও একটা মাইলফলক হয়ে ওঠে। রিদওয়ান তানহার শরীর উন্মোচন করে যেন প্রথমবার। তানহাও সাড়া দেয় পুরোপুরি। তাদের শ্বাস মিশে যায়। উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে সারা ঘরে। প্রতিটা স্পর্শ গভীর ভালোবাসার প্রকাশ। শেষে তারা কাছাকাছি শুয়ে থাকে। রিদওয়ান তানহার কানের কাছে ফিসফিস করে বলে, “প্রথম দিন থেকেই তোমাকে চেয়েছি। এখন প্রতিদিন পাচ্ছি। আর হারাব না।”

তানহার চোখ ভিজে যায়। সে রিদওয়ানের বুকে মুখ লুকায়। “আমিও হারাব না,” বলে সে। তাদের হাত জড়িয়ে যায়। শরীরের উষ্ণতা মিশে থাকে। বাইরে রাতের নীরবতা। ভেতরে দুজনের গভীর ভালোবাসা। তানহা অনুভব করে, তাদের সম্পর্ক এখন আর শুধু এক বছরের বিয়ে নয়। এটা অনেক পুরনো একটা ভালোবাসার নতুন অধ্যায়। প্রতিদিন নতুন করে শুরু করার প্রতিজ্ঞা। আর সেই প্রতিজ্ঞা তারা প্রতিদিন রক্ষা করে চলেছে।

দিন যত যায়, তাদের সংসারে শুধুই উষ্ণতা বাড়ে। ঝগড়ার ছায়া আর থাকে না। পরিবর্তে থাকে হাসি, কথা, আর অবিরাম কাছাকাছি থাকার ইচ্ছা। রাতে তারা একে অপরের শরীর আবিষ্কার করে নতুন করে। প্রতিটা স্পর্শ, প্রতিটা চুমু, প্রতিটা মিলন যেন পুরনো ভালোবাসার নতুন প্রকাশ। তানহা জানে, রিদওয়ান তাকে প্রথম দেখার দিন থেকেই ভালোবেসেছে। আর এখন সেও সেই ভালোবাসাকে পুরোপুরি নিজের করে নিয়েছে। তাদের গল্প এখন শুধুই এগিয়ে চলেছে। প্রতিদিন নতুন একটা দিন উদযাপনের মধ্য দিয়ে। গভীর ভালোবাসায়, উষ্ণ স্পর্শে, আর অবিরাম একসঙ্গে থাকার স্বপ্নে।

....
👁 8