রায়ানের নাম শুনলেই অফিসের সবাই চুপ হয়ে যেত। সে ছিল অফিসের সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষ। তার রেগে যাওয়ার ধরন এমন যে কেউ তার সামনে কথা বলতে সাহস পেত না। বস হিসেবে সে কঠোর, সিদ্ধান্তে দ্রুত এবং ভুল সহ্য করত না। অফিসের করিডোরে তার জুতোর শব্দ শুনলেই সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ত। কেউ তার চোখের দিকে তাকাতেও ভয় পেত।
রায়ান ছিলেন তেত্রিশ বছরের একজন সফল ব্যবসায়ী। ঢাকার গুলশানে তার নিজস্ব কোম্পানির হেড অফিস। কর্মচারীরা তাকে সম্মান করত, কিন্তু ভালোবাসত না। তারা ভয় পেত। রায়ান জানত এটা। সে চাইতও এটা। কারণ ভয় তাকে নিয়ন্ত্রণ দিত। কেউ তার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করত না। কেউ তার মেজাজ নিয়ে কথা বলত না।
কিন্তু ঘরে এসে সব বদলে গিয়েছিল।
বিয়ের পর থেকে মিষ্টি তার জীবনে এমন একটা পরিবর্তন এনেছিল যা রায়ান কখনো কল্পনাও করেনি। মিষ্টি ছিল তার থেকে পাঁচ বছরের ছোট। চব্বিশ বছর বয়স। চোখ দুটো বড়, কালো আর সবসময় যেন হাসির আলো জ্বলছে। কথা বলার ধরন সোজাসাপটা। কোনো ভয় নেই, কোনো দ্বিধা নেই।
প্রথম দিন যখন রায়ান অফিস থেকে রেগে বাড়ি ফিরেছিল, মিষ্টি রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে চা বানাচ্ছিল। রায়ান দরজা দিয়ে ঢুকে জোরে ব্যাগ ছুড়ে ফেলল।
“কেউ কাজ করে না এই অফিসে। সবাই অযোগ্য।”
মিষ্টি ঘুরে তাকাল। তার মুখে হাসি। “রেগে গেছো আবার? চা খাবে নাকি আগে?”
রায়ান তার দিকে তাকিয়ে রইল। কেউ তাকে এভাবে কথা বলেনি। কেউ তার রেগের সময় হাসতে সাহস করেনি।
“তুমি আমার কথা শুনছো?” রায়ান কঠিন গলায় বলল।
মিষ্টি কাছে এসে তার জ্যাকেট খুলে নিল। “শুনছি। কিন্তু তোমার রেগ দেখে আমার হাসতে ইচ্ছে করছে। এত রাগ করো কেন? শরীর খারাপ হবে।”
রায়ান হতবাক হয়ে গেল। সে কিছু বলতে পারল না। মিষ্টি তার হাত ধরে বসার ঘরে নিয়ে গেল। চা এনে দিল। তারপর তার পাশে বসে তার চুল আলতো করে সরিয়ে দিল।
“আজকের দিনটা খারাপ কেটেছে মনে হচ্ছে। বলো কী হয়েছে।”
রায়ান কথা বলতে চাইল না। কিন্তু মিষ্টির চোখের দিকে তাকিয়ে সে থেমে গেল। সেই চোখে কোনো ভয় নেই। শুধু কৌতূহল আর এক ধরনের নির্ভীকতা।
সেই রাতে প্রথমবার রায়ান মিষ্টিকে কাছে টানল। মিষ্টি তার হাতে নিজেকে ছেড়ে দিল। রায়ানের হাত তার কোমরে গিয়ে থামল। মিষ্টির শরীর গরম। তার শ্বাস গভীর। রায়ান তার গলায় চুমু খেল। মিষ্টির আঙুল তার চুলের মধ্যে ঢুকে গেল।
“রেগে থাকলে আরও ভালো লাগে তোমাকে,” মিষ্টি ফিসফিস করে বলল।
রায়ান থেমে গেল। তার চোখের দিকে তাকাল। মিষ্টি হাসছিল। সেই হাসি রায়ানের ভেতরের কিছু একটা গলিয়ে দিল। সে মিষ্টিকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তাদের চুমু গভীর হয়ে উঠল। মিষ্টির শরীর তার শরীরের সাথে লেগে গেল। রায়ানের হাত তার পিঠ বেয়ে নামল। মিষ্টির শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল।
সেই রাতে তারা দীর্ঘক্ষণ জেগে ছিল। রায়ান প্রথমবার কাউকে এত কাছে পেল যে সে তার রেগকে ভয় পায় না। মিষ্টি তার শরীরের প্রতিটি স্পর্শে সাড়া দিচ্ছিল। তার নখ রায়ানের পিঠে আঁচড় কেটেছিল। তাদের শ্বাস মিশে গিয়েছিল। ঘরের বাতাস গরম হয়ে উঠেছিল তাদের শরীরের তাপে।
পরের দিন অফিসে রায়ান আগের মতোই কঠোর ছিল। কিন্তু বাড়ি ফিরে সে অন্য মানুষ হয়ে যেত। মিষ্টি তাকে বকা দিত যদি সে দেরি করত। রায়ান রেগে গেলে মিষ্টি হাসত। কখনো কখনো সে রায়ানের কথা না শুনে উল্টো তাকে নির্দেশ দিত।
“আজ রাতে বাইরে খাব না। আমি রান্না করব। তুমি সাহায্য করবে।”
রায়ান অবাক হয়ে তাকাত। কিন্তু মিষ্টির চোখের দিকে তাকিয়ে সে কিছু বলত না। ধীরে ধীরে সেই সাহস তার ভালো লাগতে শুরু করেছিল। কেউ তাকে এভাবে চ্যালেঞ্জ করেনি। কেউ তার সামনে এত নির্ভীক হয়নি।
এক সপ্তাহ পরের এক সন্ধ্যায় রায়ান অফিস থেকে খুব রেগে ফিরেছিল। একজন কর্মচারীর ভুলে বড়সড় লোকসান হয়েছিল। সে বাড়ি ঢুকেই চিৎকার করে উঠল। মিষ্টি রান্নাঘরে ছিল। সে বেরিয়ে এসে রায়ানের সামনে দাঁড়াল।
“চিৎকার করছো কেন? আমাকে বলো কী হয়েছে।”
রায়ান তার দিকে এগিয়ে গেল। “তুমি জানো না কিছু। আমার মেজাজ খারাপ। সরে যাও।”
মিষ্টি সরে গেল না। বরং আরও কাছে এসে তার শার্টের কলার ধরে টানল। “আমি সরাব না। তুমি আমার স্বামী। তোমার রেগ আমাকে ভয় পায় না। বলো কী হয়েছে।”
রায়ান তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। মিষ্টির চোখে কোনো ভয় নেই। শুধু দৃঢ়তা। সে হঠাৎ মিষ্টিকে জড়িয়ে ধরল। শক্ত করে। মিষ্টির শরীর তার বুকে চেপে গেল। রায়ানের হাত তার কোমরে চেপে ধরল।
“তুমি পাগল,” রায়ান গলায় গলায় বলল।
মিষ্টি হাসল। “হ্যাঁ। তোমার জন্য।”
রায়ান তার ঠোঁট চেপে ধরল। চুমুটা ক্ষুধার্ত ছিল। মিষ্টি সাড়া দিল একই তীব্রতায়। তাদের শরীর একে অপরের সাথে মিশে গেল। রায়ান মিষ্টিকে তুলে বসার ঘরের সোফায় শুইয়ে দিল। মিষ্টির জামা তার হাতে ছিঁড়ে গেল। তাদের শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। রায়ানের হাত মিষ্টির শরীরের প্রতিটি বাঁকে স্পর্শ করছিল। মিষ্টির কণ্ঠস্বর কাঁপছিল।
সেই রাতে তারা একে অপরকে এমনভাবে চেনেছিল যা আগে কখনো হয়নি। রায়ানের রেগ মিষ্টির স্পর্শে গলে গিয়েছিল। মিষ্টির সাহস রায়ানের ভেতরের একটা দেয়াল ভেঙে দিয়েছিল। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জড়িয়ে ছিল। শরীরের তাপ, ঘামের গন্ধ, চুমুর শব্দ—সব মিশে একটা গভীর আবেগে পরিণত হয়েছিল।
রায়ান প্রথমবার বুঝতে পারল যে এই মেয়েটা তাকে ভয় পায় না বলেই সে এত কাছে আসতে পেরেছে। আর সেই কাছাকাছি থাকাটা তার ভালো লাগছে। খুব ভালো লাগছে।
বিয়ের এক মাস পরে রায়ান বুঝতে পারল যে মিষ্টি তার জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। অফিসে সে এখনও ভয়ংকর। কিন্তু বাড়িতে সে মিষ্টির সামনে নরম হয়ে যায়। মিষ্টি যখন তাকে বকা দেয়, সে চুপ করে থাকে। মিষ্টি যখন হাসতে হাসতে তার রেগের মজা নেয়, রায়ানের ভেতরে একটা অদ্ভুত আনন্দ হয়।
একদিন অফিসে বড় মিটিং ছিল। রায়ান সবাইকে ধমক দিয়েছিল। মিটিং শেষে সে বাড়ি ফিরে এসে দেখল মিষ্টি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। সাদা রঙের একটা লম্বা জামা পরে আছে। চুল খোলা। হাওয়ায় তার চুল উড়ছে।
রায়ান কাছে গিয়ে তার কোমরে হাত রাখল। “অফিসে সবাই আমাকে ভয় পায়। তুমি পাও না কেন?”
মিষ্টি ঘুরে তার দিকে তাকাল। “কারণ আমি তোমাকে চিনি। তুমি রেগে গেলেও আমার। আর আমি জানি তুমি আমাকে কখনো কিছু বলবে না।”
রায়ান তার থুতনিতে আঙুল দিয়ে তুলে চুমু খেল। মিষ্টির ঠোঁট নরম। সে চুমুটাকে গভীর করে দিল। রায়ানের জিভ তার মুখে ঢুকে গেল। মিষ্টি তার শার্টের বোতাম খুলতে লাগল। তাদের শরীর একে অপরের সাথে লেগে গেল। রায়ান মিষ্টিকে তুলে ঘরে নিয়ে গেল।
বিছানায় শুইয়ে সে মিষ্টির জামা খুলে ফেলল। মিষ্টির শরীর তার চোখের সামনে উন্মোচিত হল। রায়ানের হাত তার বুকের ওপর দিয়ে নামল। মিষ্টির শ্বাস কাঁপল। রায়ান তার গলায়, তার কানে, তার কাঁধে চুমু খেল। মিষ্টির আঙুল তার চুল শক্ত করে ধরল।
“আরও,” মিষ্টি ফিসফিসিয়ে বলল।
রায়ান থামল না। তার হাত মিষ্টির উরু বেয়ে উঠল। মিষ্টির শরীর কেঁপে উঠল। তারা একে অপরের শরীর আবিষ্কার করতে লাগল। রায়ানের ঠোঁট মিষ্টির ত্বকে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছিল। মিষ্টির নখ তার পিঠে দাগ কেটে দিচ্ছিল। তাদের শ্বাস একে অপরের সাথে মিশে একটা ছন্দ তৈরি করছিল।
সেই রাতে রায়ান মিষ্টিকে এমনভাবে ভালোবাসল যা আগে কখনো করেনি। প্রতিটি স্পর্শ গভীর ছিল। প্রতিটি চুমু ক্ষুধার্ত ছিল। মিষ্টি তার নিচে শুয়ে তার চোখের দিকে তাকিয়েছিল। সেই তাকানোতে ভয় ছিল না। শুধু আত্মসমর্পণ আর সাহস।
পরের কয়েকদিন তারা প্রায় প্রতিদিনই একে অপরের কাছে আসত। কখনো রান্নাঘরে, কখনো বসার ঘরে, কখনো রাতের অন্ধকারে। রায়ানের রেগ যখন বাড়ত, মিষ্টি তাকে জড়িয়ে ধরত। তার হাত রায়ানের বুকে রেখে বলত, “রেগে যেও না। আমাকে নাও।”
রায়ান বুঝতে পারছিল যে এই মেয়েটা তাকে পাল্টে দিচ্ছে। অফিসে সে এখনও কঠোর। কিন্তু বাড়িতে সে মিষ্টির সামনে হাঁটু গেড়ে বসতে রাজি। মিষ্টি যখন তাকে নির্দেশ দেয়, সে মানে। মিষ্টি যখন তার কথা না শোনে, সে হাসতে হাসতে তাকে শাস্তি দেয়—চুমু দিয়ে, স্পর্শ দিয়ে।
এক সন্ধ্যায় রায়ান বাড়ি ফিরে দেখল মিষ্টি বিছানায় শুয়ে আছে। লাল রঙের একটা নাইট ড্রেস পরে। রায়ান দরজায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইল। মিষ্টি তার দিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দিল।
“এসো।”
রায়ান কাছে গেল। মিষ্টি তার শার্ট খুলে দিল। তারপর তার বেল্ট। রায়ানের শরীর টানটান হয়ে উঠল। মিষ্টি তার হাঁটু গেড়ে বসে তার সাথে খেলতে লাগল। রায়ানের হাত তার চুলে গিয়ে থামল। মিষ্টির মুখের উষ্ণতা তার শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দিল।
তারা সেই রাতে অনেকক্ষণ জেগে ছিল। রায়ান মিষ্টিকে বিভিন্নভাবে নিয়েছিল। মিষ্টি প্রতিবারই সাড়া দিয়েছিল আরও তীব্রভাবে। তাদের শরীর ঘামে ভিজে গিয়েছিল। বিছানার চাদর এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। শেষে তারা একে অপরকে জড়িয়ে শুয়েছিল। রায়ানের হাত মিষ্টির পেটে ছিল। মিষ্টির মাথা তার বুকে।
“তুমি আমাকে ভয় পাও না কেন?” রায়ান জিজ্ঞেস করল।
মিষ্টি হাসল। “কারণ তোমার রেগের নিচে আমি অন্য কিছু দেখি। কিছু নরম। কিছু যেটা শুধু আমার জন্য।”
রায়ান চুপ করে রইল। সে জানত মিষ্টি ঠিক বলেছে। সেই নরম জায়গাটা শুধু মিষ্টির জন্যই খুলেছে।
পরের দিন অফিসে রায়ান একটু কম রেগেছিল। কর্মচারীরা অবাক হয়ে তাকিয়েছিল। কিন্তু কেউ কিছু বলেনি। বাড়ি ফিরে রায়ান মিষ্টিকে জড়িয়ে ধরেছিল লম্বা সময় ধরে। মিষ্টি তার গলায় চুমু খেয়েছিল। তাদের শরীর আবার একে অপরের কাছে চলে গিয়েছিল।
মিষ্টির সাহস রায়ানের ভালো লাগছিল। খুব ভালো লাগছিল। সে বুঝতে পারছিল যে এই মেয়েটা তাকে ভয় পায় না বলেই সে এতটা নির্ভার হতে পারছে। আর সেই নির্ভারতা তাকে আরও কাছে টানছে।
একদিন সকালে মিষ্টি রায়ানের পুরনো ল্যাপটপ খুঁজছিল। একটা ফাইল দরকার ছিল। ল্যাপটপ চালু করে সে একটা ফোল্ডারে ঢুকল। হঠাৎ তার চোখে পড়ল একটা ফোল্ডার—নাম ‘মিষ্টি’। সে ক্লিক করল। ভেতরে অনেকগুলো ছবি। পুরনো ছবি। বিয়ের অনেক আগের।
মিষ্টির হাত কেঁপে উঠল। ছবিগুলোতে সে নিজেই আছে। অফিসের একটা অনুষ্ঠানে। অন্য একটা পার্টিতে। এমনকি রাস্তায় হাঁটার সময়ের ছবিও আছে। কিছু ছবিতে সে হাসছে। কিছুতে সে অন্যদের সাথে কথা বলছে। প্রতিটা ছবির নিচে তারিখ। সবকয়টা বিয়ের অন্তত দুই বছর আগের।
মিষ্টির বুক ধড়ফড় করতে লাগল। সে আরও খুঁজতে লাগল। একটা নোটপ্যাড ফাইল পেল। খুলে দেখল রায়ানের লেখা।
“আজ আবার তাকে দেখেছি। সে হাসছিল। আমার মনে হয় সে আমাকে চেনে না। কিন্তু আমি তাকে চিনি। অনেকদিন ধরে।”
আরেকটা এন্ট্রি। “আমি তাকে পছন্দ করি। কিন্তু বলতে পারি না। সে অন্য কারো সাথে কথা বলছে। আমার ভয় করে।”
মিষ্টির চোখ ছলছল করে উঠল। সে বুঝতে পারল রায়ান তাকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করত। বিয়ের অনেক আগে থেকে। সে তাকে দেখত, ছবি তুলত, কিন্তু কখনো কাছে আসেনি।
সেই মুহূর্তে রায়ান বাড়ি ঢুকল। মিষ্টি ল্যাপটপ নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। রায়ান তার মুখের অভিব্যক্তি দেখে বুঝতে পারল।
“তুমি দেখে ফেলেছ,” সে শান্ত গলায় বলল।
মিষ্টি উঠে দাঁড়াল। “তুমি আমাকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করতে। কেন বলোনি?”
রায়ান কাছে এল। তার চোখে একটা অদ্ভুত নরম ভাব। “কারণ আমি ভয় পেতাম। আমি জানতাম সবাই আমাকে ভয় পায়। তুমিও হয়তো পাবে। আমি চাইনি তুমি ভয় পেয়ে দূরে সরে যাও।”
মিষ্টি তার সামনে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখে জল। কিন্তু সে কাঁদছিল না। “তুমি আমাকে দেখতে। ছবি তুলতে। আর আমি কিছুই জানতাম না।”
রায়ান তার হাত ধরল। “আমি তোমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। তাই যখন প্রস্তাব এল, আমি রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম হয়তো সময় পেলে তুমি আমাকে চিনবে। আর তুমি চিনেছ। তুমি আমাকে ভয় পাওনি।”
মিষ্টি তার দিকে এগিয়ে গেল। তার হাত রায়ানের গালে রাখল। “আমি এখনো ভয় পাই না। আর জেনে খুব ভালো লাগছে যে তুমি আমাকে এতদিন ধরে চেয়েছিলে।”
রায়ান তাকে জড়িয়ে ধরল। শক্ত করে। মিষ্টির শরীর তার বুকে চেপে গেল। তাদের চুমু এবার আরও গভীর হল। আরও আবেগময়। রায়ানের হাত মিষ্টির পিঠ বেয়ে নামল। মিষ্টি তার শার্ট খুলে ফেলল। তাদের শরীর আবার একে অপরের কাছে চলে গেল।
সেই দুপুরে তারা বিছানায় শুয়ে একে অপরকে আবিষ্কার করল নতুন করে। রায়ান মিষ্টিকে এমনভাবে স্পর্শ করল যেন সে তাকে হারাতে চায় না। মিষ্টি তার প্রতিটি স্পর্শে সাড়া দিল আরও তীব্রভাবে। তাদের শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। ঘরের বাতাস তাদের শরীরের তাপে গরম হয়ে উঠল। রায়ানের ঠোঁট মিষ্টির ত্বকে বিলিয়ে দিচ্ছিল এতদিনের জমানো আকাঙ্ক্ষা। মিষ্টির কণ্ঠস্বর তার কানে বাজছিল।
তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জড়িয়ে ছিল। কখনো দ্রুত, কখনো ধীর। প্রতিটি মুহূর্তে গভীর রোমান্স আর উত্তাপ। রায়ান মিষ্টির চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি তোমাকে অনেকদিন ধরে চেয়েছি। এখন তুমি আমার। আর আমি চাই না তুমি কখনো ভয় পাও।”
মিষ্টি হাসল। তার চোখে জল আর আনন্দ মিশে আছে। “আমি ভয় পাই না। আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমার রেগসহ।”
রায়ান তাকে আবার চুমু খেল। তাদের শরীর আবার একে অপরের সাথে মিশে গেল। সেই দিনটা তাদের জন্য নতুন শুরুর দিন হয়ে উঠল। রায়ান আর মিষ্টি একে অপরকে আরও গভীরভাবে পেল। অফিসে রায়ান এখনো কঠোর। কিন্তু বাড়িতে সে মিষ্টির সামনে সম্পূর্ণ খুলে যায়। মিষ্টি তার রেগ দেখে হাসে। তাকে বকা দেয়। আর রাতে তারা একে অপরকে এমনভাবে ভালোবাসে যে পৃথিবীর সবকিছু ভুলে যায়।
রায়ান বুঝতে পেরেছে যে মিষ্টির সাহসই তাকে বাঁচিয়েছে। আর মিষ্টি জেনেছে যে তার স্বামী তাকে অনেক আগে থেকেই চেয়েছিল—চুপচাপ, দূর থেকে, ভয় পেয়ে। কিন্তু এখন আর কোনো দূরত্ব নেই। শুধু গভীর ভালোবাসা আর উত্তপ্ত রাতগুলো।
....