তুলির জীবনে সেই দিনটা একেবারে অন্যরকমভাবে শুরু হয়েছিল। বাসায় মা-বাবার তীব্র ঝগড়া চলছিল। বড় ভাইয়ের বিয়ের বিষয় নিয়ে আত্মীয়স্বজনের চাপ, আর তুলিকেই মাঝখানে এনে দায় চাপানোর চেষ্টা। তুলি আর পারছিল না। সেদিন সকালেই সে সিদ্ধান্ত নিল—কয়েকদিনের জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে যাবে। কিন্তু কোথায় যাবে?
তখনই মনে পড়ল ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আদ্রিকের কথা। আদ্রিক একাকী থাকে উত্তরার এক ফ্ল্যাটে। ভাইয়ের সাথে তার সম্পর্ক ভালো, আর আদ্রিকও তুলিকে ছোট বোনের মতোই দেখে। তুলি ভাবল, যদি আদ্রিকের কাছে গিয়ে বলতে পারে যে সে তার স্ত্রী সেজে থাকবে কয়েকদিন—শুধু পরিবারের চোখ এড়াতে—তাহলে হয়তো আদ্রিক রাজি হয়ে যাবে।
সন্ধ্যার দিকে তুলি আদ্রিকের ফ্ল্যাটে পৌঁছাল। দরজায় কড়া নাড়তেই আদ্রিক খুলল। হাতে চায়ের কাপ, চোখে অবাক ভাব।
“তুলি? এ সময়?”
তুলি ভিতরে ঢুকে সরাসরি বলল, “আদ্রিক ভাইয়া, আমাকে সাহায্য করতে হবে। বাসায় ভয়ংকর ঝামেলা। আমি কয়েকদিন তোমার স্ত্রী সেজে থাকব। কেউ জানবে না। তুমি শুধু সম্মতি দাও।”
আদ্রিক প্রথমে হাসল। তারপর মুখ গম্ভীর করে বলল, “তুমি পাগল হয়েছ? এসব কী বলছ?”
তুলি জিদের সুরে বলল, “হ্যাঁ। আমি সত্যি বলছি। তোমার ফ্ল্যাটে কেউ আসে না প্রায়। আমি থাকব, রান্না করব, ঘর গোছাব। তুমি শুধু বাইরে বলবে আমি তোমার স্ত্রী। কয়েকদিনের জন্য।”
আদ্রিক অনেকক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর মাথা নেড়ে বলল, “ঠিক আছে। কিন্তু কেউ জানলে বিপদ।”
সেই রাত থেকেই তুলি আদ্রিকের ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করল। আদ্রিকের ঘুমানোর ঘরটা তুলিকে দিয়ে দিল, নিজে সোফায় শুতে লাগল। প্রথম রাতটা অস্বস্তিকর গেল। তুলি বিছানায় শুয়ে আদ্রিকের ঘরের দেয়ালের ছবিগুলো দেখছিল। আদ্রিকের একা থাকার ছবি। খালি ঘর, খালি অনুভূতি।
পরের দিন সকালে তুলি উঠে রান্নাঘরে ঢুকল। ডিম ভাজি, পরোটা বানাল। আদ্রিক ঘুম থেকে উঠে এসে টেবিলে বসল। তুলি তার সামনে প্লেট রাখল।
“খাও, স্বামী,” তুলি হেসে বলল।
আদ্রিক তাকিয়ে রইল। তুলির চোখে দুষ্টুমি। আদ্রিকের বুকে একটা অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করল। সে চুপচাপ খেতে লাগল। তুলি তার পাশে বসে নিজেও খেল। তাদের হাত দুটো কাছাকাছি এল। আদ্রিকের আঙুল তুলির হাত sparsh করল। তুলি সরে গেল না।
সেদিন থেকেই তুলি আদ্রিককে নানা কাজে ব্যস্ত রাখতে লাগল। সকালে চা বানিয়ে দিত, দুপুরে অফিস থেকে ফিরলে গরম খাবার তুলে দিত। সন্ধ্যায় আদ্রিক যখন ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করত, তুলি তার পাশে বসে গল্প করত। কখনো কখনো আদ্রিকের কাঁধে হাত রেখে বলত, “ক্লান্ত লাগছে? আমি ম্যাসাজ করে দিই?”
আদ্রিক প্রথমে অস্বস্তি বোধ করত। কিন্তু ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। তুলির উপস্থিতি তার ফ্ল্যাটকে জীবন্ত করে তুলেছিল। আগে যে ঘরটা শুধু কাজ আর ঘুমের জন্য ব্যবহার হত, এখন সেখানে হাসি-ঠাট্টা, রান্নার গন্ধ, আর তুলির কণ্ঠস্বর ভরে উঠেছিল।
এক সন্ধ্যায় তুলি আদ্রিকের ঘরে ঢুকে বলল, “আজ রাতে আমি তোমার সাথেই ঘুমাব। সোফায় শুয়ে তোমার কোমর ব্যথা করছে।”
আদ্রিক আপত্তি জানাল। কিন্তু তুলি শুনল না। বিছানায় দুজনে শুয়ে গল্প করতে লাগল। অন্ধকারে তুলির হাত আদ্রিকের বুকে এসে পড়ল। আদ্রিক শ্বাস নিতে পারছিল না। তুলি কাছে সরে এল। তাদের ঠোঁট কাছাকাছি এল। আদ্রিক আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে তুলিকে চুমু দিল। গভীর, ক্ষুধার্ত চুমু। তুলিও সাড়া দিল। তাদের শরীর জড়িয়ে গেল। সেই রাতে প্রথমবার তারা একে অপরকে ছুঁয়ে দেখল। আদ্রিকের হাত তুলির কোমর ঘিরে ধরল, তুলির আঙুল আদ্রিকের চুলের ফাঁকে ঢুকে গেল। তারা কথা বলল না। শুধু নিঃশ্বাস আর স্পর্শের ভাষায় কথা বলল।
সেই রাতের পর আদ্রিকের মনে তুলি সত্যিই তার স্ত্রী হয়ে উঠতে শুরু করল। সে আর প্রশ্ন করত না। তুলি যখন তাকে “স্বামী” বলে ডাকত, আদ্রিকের চোখেমুখে একটা নরম হাসি ফুটত। তুলিও বুঝতে পারছিল যে খেলাটা গভীর হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে থামতে চাইছিল না। আদ্রিকের বাহুতে জড়িয়ে থাকার অনুভূতি তার ভালো লাগছিল। তার গরম শ্বাস, তার শক্ত বুক, তার চোখের গভীরতা—সবকিছু তুলিকে টানছিল।
কয়েকদিন এভাবেই কেটে গেল। তুলি আদ্রিককে ব্যস্ত রাখত নানা অজুহাতে। কখনো বলত ঘরের রং বদলাতে হবে, কখনো বলত নতুন পর্দা লাগাতে হবে। আদ্রিক সব মানত। কারণ তুলির হাসি দেখলে তার সব আপত্তি মিলিয়ে যেত। রাতে তারা একে অপরের কাছাকাছি আসত। চুমু, স্পর্শ, আর গভীর আলিঙ্গন। তুলির শরীর আদ্রিকের হাতে নরম হয়ে যেত। আদ্রিকের আঙুল তার ত্বকে আগুন জ্বালিয়ে দিত। তারা এখনও পুরোপুরি এগিয়ে যায়নি, কিন্তু প্রতি রাতই আরও গভীর হচ্ছিল।
আদ্রিক মনে মনে ভাবত—এই মেয়েটা সত্যিই তার হয়ে গেছে। তুলির হাসি, তুলির দুষ্টুমি, তুলির রান্নার গন্ধ—সবকিছু তার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। সে আর একা থাকার কথা ভাবতে পারত না।
সপ্তাহ পেরিয়ে গেল। তুলি এখন আদ্রিকের ফ্ল্যাটে পুরোপুরি মানিয়ে গেছে। সকালে আদ্রিক অফিসে যাওয়ার আগে তুলি তার শার্টের বোতাম লাগিয়ে দিত। আদ্রিকের চোখে চুমু দিয়ে বলত, “সাবধানে যেও, স্বামী।” আদ্রিক প্রতিবারই থেমে যেত। তার বুকে একটা উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ত।
অফিস থেকে ফিরে এসে আদ্রিক দেখত তুলি রান্নাঘরে ব্যস্ত। কখনো বিরিয়ানি, কখনো মাছের তরকারি। তুলি জানত আদ্রিক কী পছন্দ করে। টেবিলে বসে খাবার সময় তাদের পা একে অপরকে ছুঁত। আদ্রিকের চোখ তুলির ঠোঁটে আটকে থাকত। তুলিও লক্ষ্য করত। সে ইচ্ছে করে আস্তে আস্তে খেত, যাতে আদ্রিকের তাকানোর সময় পায়।
একদিন সন্ধ্যায় তুলি আদ্রিককে বলল, “আজ তোমাকে আমার সাথে বাজার করতে হবে। স্বামী-স্ত্রী হয়ে গেছি, একসাথে বাজার না করলে লোকে কী বলবে?”
আদ্রিক হাসল। তারা একসাথে বেরোল। উত্তরার বাজারে হাত ধরে হাঁটল। তুলি আদ্রিকের হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিল। আদ্রিকের আঙুল তুলির আঙুলের ফাঁকে ঢুকে গেল। তাদের শরীর কাছাকাছি চলছিল। বাজার থেকে ফিরে এসে তুলি আদ্রিকের ঘাড়ে হাত রেখে বলল, “তোমার গলায় ঘাম। আমি মুছে দিই।”
সেই রাতে তারা আর আলাদা হয়নি। আদ্রিক তুলিকে বিছানায় নিয়ে গেল। তাদের চুমু এবার আরও গভীর হল। আদ্রিকের হাত তুলির জামায় ঢুকে গেল। তুলির শরীর কেঁপে উঠল। আদ্রিক তার কানে ফিসফিসিয়ে বলল, “তুমি আমার। সত্যিই আমার।”
তুলি উত্তর দিল না। শুধু আদ্রিকের ঠোঁট চেপে ধরল। সেই রাতে তারা প্রথমবার পুরোপুরি কাছাকাছি এল। আদ্রিকের শরীর তুলির শরীরের ওপর চেপে বসল। তাদের নিঃশ্বাস মিশে গেল। তুলির নখ আদ্রিকের পিঠে আঁচড় কাটল। আদ্রিক তুলির নাম ধরে ডাকল। তুলিও সাড়া দিল। ঘরের ভিতর শুধু তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ আর ত্বকের সংঘর্ষের শব্দ ভেসে বেড়াচ্ছিল। তারা একে অপরকে আঁকড়ে ধরেছিল যেন কেউ কাউকে ছাড়বে না। আদ্রিকের চোখে তুলির চোখ। তুলির ঠোঁটে আদ্রিকের নাম। সেই রাত দীর্ঘ ছিল। তারা বারবার একে অপরের কাছে ফিরে এসেছিল।
পরের দিনগুলো আরও গভীর হয়ে উঠল। তুলি আদ্রিককে নানা কাজে ব্যস্ত রাখত। কখনো বলত, “আজ ঘরের সব জানালা পরিষ্কার করতে হবে।” কখনো বলত, “তোমার পুরনো কাপড়গুলো সাজাতে হবে।” আদ্রিক সব মানত। কারণ কাজ শেষে তুলি তার কাছে এসে জড়িয়ে ধরত। আদ্রিকের বুকে মুখ রেখে বলত, “ক্লান্ত হয়ে গেছ? আমি তোমাকে বিশ্রাম দিই।”
তাদের রাতগুলো এখন আর শুধু চুমুতে সীমাবদ্ধ থাকত না। আদ্রিক তুলির শরীরের প্রতিটি অংশ চিনে নিয়েছিল। তুলির কোমরের রেখা, তার ঘাড়ের নরম অংশ, তার উরু—সবকিছু আদ্রিকের হাতের নিচে এসে যেত। তুলিও আদ্রিকের শরীর আবিষ্কার করছিল। তার শক্ত বুক, তার হাতের শিরা, তার চোখের গভীরতা। তারা কথা কম বলত। শুধু স্পর্শ আর চাহনিতে সব বলে দিত।
একদিন তুলি আদ্রিককে বলল, “আজ রাতে আমি তোমাকে রান্না করে খাওয়াব। তারপর তুমি আমাকে শুধু আলিঙ্গন করবে। আর কিছু না।”
আদ্রিক হেসে বলল, “তুমি আমাকে পাগল করে দিচ্ছ।”
তুলি তার কানে ফিসফিসিয়ে বলল, “পাগল হও। আমি চাই।”
সেই রাতে তারা আবার কাছাকাছি এল। আদ্রিক তুলিকে ধীরে ধীরে খুলে দিল। তুলির শরীর আলোর নিচে উন্মোচিত হল। আদ্রিক তার ঠোঁট দিয়ে তুলির ত্বক চুমুতে লাগল। তুলির শরীর কেঁপে উঠছিল। আদ্রিকের হাত তার উরুর ভিতর দিয়ে উঠে এল। তুলি আদ্রিকের চুল ধরে টানল। তাদের শরীর একে অপরের সাথে মিশে গেল। আদ্রিক তুলির চোখের দিকে তাকিয়ে রইল যখন সে ভিতরে ঢুকল। তুলির ঠোঁট ফাঁক হয়ে গেল। আদ্রিক ধীরে ধীরে নড়তে লাগল। তুলি তার পিঠে নখ বসাল। ঘরের ভিতর তাদের শ্বাসের শব্দ আর ত্বকের শব্দ মিশে একটা ছন্দ তৈরি করছিল। তারা একে অপরকে শেষ পর্যন্ত আঁকড়ে ধরেছিল। শেষে তুলি আদ্রিকের বুকে মুখ রেখে শুয়ে রইল। আদ্রিক তার চুলে হাত বুলোচ্ছিল।
তুলি জানত খেলাটা এখন আর খেলা নেই। আদ্রিকও জানত। কিন্তু কেউই থামতে চাইছিল না। আদ্রিকের ফ্ল্যাট এখন আর ফাঁকা লাগত না। তুলির হাসি, তুলির গন্ধ, তুলির শরীর—সবকিছু আদ্রিকের জীবন ভরে দিয়েছিল।
সত্যিটা প্রকাশ পেল হঠাৎ করেই। তুলির বড় ভাই একদিন আদ্রিকের অফিসে চলে এল। সে আদ্রিককে জিজ্ঞেস করল তুলি কোথায়। আদ্রিক প্রথমে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু ভাইয়ের চোখে সন্দেহ দেখে আর পারল না। সে সব খুলে বলল।
ভাই রেগে আগুন হয়ে গেল। সে সোজা আদ্রিকের ফ্ল্যাটে এসে তুলিকে ধমক দিল। তুলি মাথা নিচু করে সব স্বীকার করল। আদ্রিক পাশে দাঁড়িয়ে শুধু শুনছিল। তার মুখ পাথরের মতো শক্ত হয়ে গিয়েছিল।
তুলি যখন চলে যাওয়ার কথা বলল, আদ্রিক কিছু বলল না। শুধু দরজা খুলে দিল। তুলি তার জিনিসপত্র গুছিয়ে নিল। যাওয়ার আগে একবার ফিরে তাকাল। আদ্রিকের চোখে রাগ আর ব্যথা মেশানো তাকানো। তুলি কিছু বলতে চাইল, কিন্তু পারল না। সে চলে গেল।
ফ্ল্যাটটা হঠাৎ ফাঁকা হয়ে গেল। আদ্রিক সোফায় বসে রইল। রান্নাঘরের দিকে তাকাল। তুলির রান্নার গন্ধ আর নেই। বিছানায় তুলির চুলের গন্ধ আর নেই। রাতে যখন শুতে গেল, পাশের জায়গাটা খালি লাগল। আদ্রিক চোখ বন্ধ করে তুলির শরীর মনে করার চেষ্টা করল। তার নরম ত্বক, তার গরম নিঃশ্বাস, তার নখের আঁচড়। সবকিছু মনে পড়ল। বুকের ভিতর একটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হল।
পরের দিনগুলো আরও কঠিন গেল। অফিস থেকে ফিরে এসে আদ্রিক দেখত ঘরটা নিস্তব্ধ। কেউ চা বানায় না, কেউ তার কাঁধে হাত রাখে না, কেউ “স্বামী” বলে ডাকে না। রাতে বিছানায় শুয়ে আদ্রিক তুলির কথা ভাবত। তুলির হাসি, তুলির দুষ্টুমি, তুলির শরীর তার নিচে কেঁপে ওঠার অনুভূতি। সবকিছু তাকে পাগল করে দিচ্ছিল।
এক সপ্তাহ পর আদ্রিক আর থাকতে পারল না। সে তুলির বাসায় গেল। তুলি দরজা খুলল। চোখে অবাক ভাব। আদ্রিক সোজা ভিতরে ঢুকে বলল, “তুমি চলে যাওয়ার পর আমি বুঝতে পেরেছি। তোমার দুষ্টুমি ছাড়া আমার বাড়িটা কতটা ফাঁকা লাগে। তুমি শুধু খেলছিলে, কিন্তু আমি তোমাকে সত্যিই আমার স্ত্রী ভেবে নিয়েছিলাম।”
তুলি চুপ করে রইল। আদ্রিক তার হাত ধরল। “আমি রেগে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আর রাগ নেই। শুধু তোমাকে চাই। ফিরে এসো।”
তুলির চোখে জল এল। সে আদ্রিকের বুকে মুখ লুকাল। আদ্রিক তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তাদের হৃদস্পন্দন মিশে গেল। আদ্রিক তুলির চিবুক তুলে চুমু দিল। গভীর, ক্ষুধার্ত, আর ভালোবাসার চুমু। তুলিও সাড়া দিল। তাদের শরীর আবার কাছাকাছি এল।
সেই রাতে তারা আবার একসাথে হল। আদ্রিক তুলিকে ধীরে ধীরে খুলল। তুলির শরীর আবার তার হাতের নিচে এল। আদ্রিক তার প্রতিটি অংশ চুমুতে লাগল। তুলির ঘাড়, তার বুক, তার পেট, তার উরু। তুলি কেঁপে উঠছিল। আদ্রিক তার কানে ফিসফিসিয়ে বলল, “এবার আর কোনো খেলা নয়। তুমি আমার।”
তুলি মাথা নাড়ল। আদ্রিক তার ভিতরে ঢুকল। তারা একে অপরকে আঁকড়ে ধরল। আদ্রিকের প্রতিটি ধাক্কায় তুলির শরীর কেঁপে উঠছিল। তুলির নখ আদ্রিকের পিঠে গভীর দাগ কাটছিল। তাদের নিঃশ্বাস একসাথে মিলছিল। আদ্রিক তুলির চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। তুলির চোখেও একই আগুন। তারা শেষ পর্যন্ত একে অপরকে ধরে রাখল। শেষে তুলি আদ্রিকের বুকে শুয়ে ফিসফিসিয়ে বলল, “আমিও তোমাকে চাই। সত্যিই চাই।”
আদ্রিক তার চুলে হাত বুলিয়ে বলল, “তাহলে আর কখনো চলে যেও না। আমার বাড়ি তোমার ছাড়া ফাঁকা।”
তুলি হাসল। আদ্রিকের বুকে মুখ রেখে চোখ বুজে রইল। বাইরে রাত গভীর হচ্ছিল। ফ্ল্যাটটা আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। তুলির গন্ধ, তুলির উষ্ণতা, তুলির শরীর—সবকিছু আবার আদ্রিকের জীবন ভরে দিয়েছিল। এবার আর কোনো ভান নেই। এবার সত্যি।
....