স্ত্রীর বিদায়ে টনক নড়ল

আরিয়ানের জীবনে বিয়ের কথাটা একেবারেই খাপ খায়নি। সে ঢাকার একটা বেসরকারি ব্যাংকে কাজ করত। সকাল ন’টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত অফিস, তারপর বাসায় ফিরে ল্যাপটপ খুলে আরও কিছু কাজ। বন্ধুরা যখন বিয়ের গল্প করত, সে হাসত শুধু। “আমার দরকার নেই,” বলত। কিন্তু পরিবারের চাপ বাড়তে থাকল।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

তার বাবা বললেন, “তোমার বয়স হয়েছে। আমরা আর কতদিন দেখে রাখব?” মা চুপ করে কেঁদে ফেললেন একদিন। চাচা-ফুফুরা এসে বসলেন। অবশেষে এক সন্ধ্যায় আরিয়ান বলল, “ঠিক আছে। আপনারা যাকে ভালো মনে করেন।”

মেহরির সঙ্গে দেখা হলো একটা আত্মীয়ের বাসায়। মেহরি শান্ত, চোখে একটা স্থিরতা। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য পড়ছে। কথা কম, কিন্তু যখন বলে তখন পরিষ্কার। আরিয়ান কিছুই অনুভব করল না। শুধু ভাবল, এটাও একটা কাজ, শেষ করে ফেলতে হবে।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

বিয়ে হলো। সাদা শাড়ি, হালকা গয়না। মেহরির চোখে কোনো অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস ছিল না, শুধু একটা নীরব সম্মতি। বিয়ের রাতটা আরিয়ান বাইরে কাটাল। সকালে ফিরে এসে সোজা মেহরিকে বলল,

“শোনো। আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে। এর বেশি কিছু না। তুমি নিজের মতো থাকো, আমি নিজের মতো। কেউ কাউকে বাধ্য করবে না।”

মেহরি তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর মাথা নাড়ল। “ঠিক আছে।”

সেই থেকে তাদের জীবন শুরু হলো পাশাপাশি, কিন্তু আলাদা। আরিয়ান সকালে উঠে নাস্তা করে অফিস চলে যেত। মেহরি নিজে রান্না করত, কখনো বাইরে থেকে আনত। রাতে আরিয়ান ল্যাপটপ নিয়ে বসত, মেহরি বই পড়ত অথবা ল্যাপটপে নিজের অ্যাসাইনমেন্ট করত। তারা কথা বলত দরকারমতো। “চা লাগবে?” “না।” “আজ অফিস থেকে দেরি হবে।” “ঠিক আছে।”

একদিন রাতে আরিয়ান দেখল মেহরি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। শহরের আলো জ্বলছে দূরে। সে কাছে গেল না। শুধু জানালা দিয়ে দেখল। মেহরির চুল বাতাসে একটু নড়ছে। আরিয়ানের মনে হলো কিছু একটা, কিন্তু সে সরিয়ে দিল।

মাস দুয়েক পর মেহরির পরীক্ষা শুরু হলো। সে রাত জেগে পড়ত। আরিয়ান এক রাতে দেখল তার ঘরের আলো জ্বলছে। দরজা খোলা। মেহরি টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে। বই খোলা। আরিয়ান কাছে গেল। তার কাঁধে হাত রাখল। মেহরি চমকে উঠল।

“ঘুমাও,” আরিয়ান বলল। “কাল সকালে উঠে পড়বে।”

মেহরি তাকাল। চোখে ঘুম। “ধন্যবাদ।”

আরিয়ান চলে গেল। কিন্তু সেই রাতে তার ঘুম ভালো হলো না। মনে হচ্ছিল কেউ তার পাশে নেই, অথচ পাশেই কেউ আছে।

মেহরি ধীরে ধীরে নিজের ছন্দে চলতে লাগল। সে একটা ছোট্ট অনলাইন টিউশনি শুরু করল। সপ্তাহে তিনদিন। টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে জমা রাখত। আরিয়ান জানত, কিন্তু কিছু বলত না। একদিন সে দেখল মেহরি নতুন একটা সাদা শাড়ি কিনেছে। সাধারণ। কিন্তু গায়ে দিলে সুন্দর লাগছিল।

এক সন্ধ্যায় আরিয়ান অফিস থেকে ফিরে দেখল মেহরি রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে। সে চা বানাচ্ছে। আরিয়ান কাছে গেল।

“আমার জন্যও এক কাপ,” বলল।

মেহরি তাকাল। হাসি নেই, শুধু একটা নরম দৃষ্টি। “বসো।”

তারা পাশাপাশি বসল। চায়ের ভাপ উঠছে। কথা হলো না। শুধু নীরবতা। আরিয়ানের হাতের পেয়ালাটা স্পর্শ করল মেহরির হাত। সে সরিয়ে নিল না। আরিয়ানও সরায়নি। কিছুক্ষণ পর মেহরি উঠে গেল।

সেই রাতে আরিয়ান বিছানায় শুয়ে ভাবল। মেহরি কখনো তার কাছে আসেনি। কখনো জিজ্ঞেস করেনি কেন সে এত দূরে। সে শুধু নিজের জায়গায় থেকেছে। আর সেটাই আরিয়ানের ভেতর একটা অদ্ভুত টান তৈরি করছিল।

পরের সপ্তাহে মেহরির একটা উপস্থাপনা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সে সকালে তৈরি হচ্ছিল। আরিয়ান দেখল তার চুল বাঁধতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। সে কাছে গেল।

“আমি করি?”

মেহরি থমকে গেল। তারপর পিছন ফিরে দাঁড়াল। আরিয়ান তার চুল তুলে ধরল। আঙুলগুলো চুলের ভেতর গেল। মেহরির ঘাড়ে একটু শিহরণ খেলল। আরিয়ান অনুভব করল। সে চুল বেঁধে দিল ধীরে। শেষে হাত নামিয়ে রাখল মেহরির কাঁধে এক মুহূর্ত।

মেহরি ফিরে তাকাল। চোখে চোখ। কোনো কথা হলো না। আরিয়ান সরে গেল।

সেই দিন অফিসে তার মন ছিল না। বারবার মনে পড়ছিল মেহরির ঘাড়ের নরম ত্বক, চুলের গন্ধ। সে নিজেকে বলল, এটা কিছু না। শুধু একটা মুহূর্ত।

সন্ধ্যায় ফিরে দেখল মেহরি বাসায় নেই। নোট লেখা—টিউশন আছে, দেরি হবে। আরিয়ান একা বসল। ঘরটা খালি লাগল। সে আগে কখনো এমন অনুভব করেনি।

রাত এগারোটার দিকে মেহরি ফিরল। দরজা খুলে আরিয়ানকে দেখে থমকে গেল।

“তুমি জেগে আছ?”

“হ্যাঁ।”

মেহরি ব্যাগ নামিয়ে রাখল। আরিয়ান উঠে দাঁড়াল। দূরত্ব কমে গেল। মেহরির চোখে ক্লান্তি। আরিয়ান তার কপালে হাত রাখল।

“জ্বর নেই তো?”

মেহরি মাথা নাড়ল। আরিয়ানের হাত সরল না। মেহরির শ্বাস একটু ভারী হলো। তারা একে অপরের কাছাকাছি। আরিয়ানের আঙুল মেহরির গালে নেমে এল। মেহরি চোখ বন্ধ করল এক মুহূর্ত। তারপর সরে গেল।

“আমি গোসল করে আসি,” বলল ধীরে।

আরিয়ান দাঁড়িয়ে রইল। তার বুকের ভেতর কিছু একটা জেগে উঠছিল, যেটা সে চেপে রাখতে চাইছিল। কিন্তু মেহরি যত নিজের মতো থাকছিল, ততই সে তার কাছে টান অনুভব করছিল।

সেই রাতে দুজনেই নিজ নিজ ঘরে শুয়ে রইল। কিন্তু দেয়ালের ওপার থেকে একে অপরের শ্বাস যেন শোনা যাচ্ছিল।

মাসগুলো কেটে গেল। আরিয়ান আর মেহরি পাশাপাশি থাকত, কিন্তু তাদের মধ্যে একটা অদৃশ্য রেখা ছিল। আরিয়ান সেই রেখাটা ধরে রাখতে চাইত। মেহরি সেটা মানত।

তবুও ছোট ছোট মুহূর্তগুলো জমে উঠছিল। একদিন আরিয়ানের অফিসে প্রজেক্ট শেষ হলো দেরিতে। বাসায় ফিরে দেখল মেহরি রান্না করে রেখেছে। টেবিলে দুটো প্লেট। সে বসল। মেহরি তার সামনে বসল।

“কেমন লাগল?” জিজ্ঞেস করল মেহরি।

আরিয়ান খেতে খেতে বলল, “ভালো।” তারপর চুপ। কিছুক্ষণ পর যোগ করল, “তুমি রান্না ভালো করো।”

মেহরি হাসল প্রথমবার সেদিন। ছোট্ট একটা হাসি। আরিয়ানের বুক কেঁপে উঠল।

রাতের পর রাত তারা একসঙ্গে বসত কখনো কখনো। টিভি চালু থাকত, কিন্তু কেউ দেখত না। আরিয়ান ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করত, মেহরি বই পড়ত। মাঝে মাঝে তাদের হাত একে অপরের কাছে চলে আসত। কেউ সরায়নি।

এক শুক্রবার সন্ধ্যায় আরিয়ান বাসায় এল তাড়াতাড়ি। মেহরি বারান্দায় বসে আছে। সে কাছে গেল। পাশে বসল।

“কী ভাবছ?”

মেহরি তাকাল। “কিছু না। শুধু শহর দেখছি।”

আরিয়ান তার দিকে তাকিয়ে রইল। মেহরির চোখের নিচে হালকা ছায়া। সে ক্লান্ত। আরিয়ান হাত বাড়িয়ে তার চুল সরিয়ে দিল কপাল থেকে। মেহরি নড়ল না। আরিয়ানের আঙুল তার গালে থেমে গেল।

মেহরি ফিসফিস করে বলল, “তুমি তো বলেছিলে শুধু বন্ধুত্ব।”

আরিয়ান উত্তর দিল না। তার হাত নামল মেহরির ঘাড়ে। ত্বক গরম। মেহরির শ্বাস দ্রুত হলো। আরিয়ান এগিয়ে গেল। তাদের ঠোঁট কাছাকাছি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আরিয়ান সরে গেল।

“দুঃখিত,” বলল সে।

মেহরি চোখ খুলল। কোনো অভিযোগ নেই। শুধু একটা নীরব গ্রহণ। সে উঠে গেল ভেতরে।

আরিয়ান বারান্দায় বসে রইল। তার শরীর গরম। মনে হচ্ছিল সে নিজেকে আটকে রাখছে একটা দেয়ালের পেছনে, আর দেয়ালটা ভাঙতে চাইছে।

পরের দিনগুলোতে দূরত্ব বাড়ল। মেহরি আরও ব্যস্ত হয়ে উঠল। টিউশন বাড়ল। সে বাইরে সময় কাটাত বেশি। আরিয়ান লক্ষ করল। একদিন রাতে সে জিজ্ঞেস করল,

“তুমি এত ব্যস্ত কেন?”

মেহরি বলল, “নিজের কাজ। তুমি তো বলেছ নিজের মতো থাকতে।”

আরিয়ান চুপ হয়ে গেল। কথাটা তারই।

এক রাতে আরিয়ানের জ্বর এল। শরীর কাঁপছে। মেহরি জানল সকালে। সে এসে বসল বিছানার পাশে। কপালে হাত রাখল।

“জ্বর আছে। ওষুধ খাও।”

আরিয়ান চোখ খুলল। মেহরির মুখ কাছে। সে ওষুধ এনে দিল, পানি ধরিয়ে দিল। তারপর ভিজে কাপড় দিয়ে কপাল মুছল। আরিয়ানের হাত উঠে মেহরির হাত ধরল।

“থাকো,” বলল সে দুর্বল গলায়।

মেহরি বসল। সারাদিন পাশে। দুপুরে খাবার এনে দিল। রাতে জ্বর কমল। আরিয়ান ঘুমিয়ে পড়ল মেহরির হাত ধরে।

সকালে জেগে দেখল মেহরি চেয়ারে ঘুমাচ্ছে। মাথা একপাশে হেলে। আরিয়ান উঠে বসল। মেহরির কাছে গেল। তার চুল সরিয়ে দিল। ঠোঁট দিয়ে কপালে হালকা ছুঁয়ে নিল। মেহরি জেগে উঠল।

চোখে চোখ। আরিয়ান সরে গেল না। মেহরির হাত উঠে তার গালে রাখল। তারা কাছাকাছি। আরিয়ান মেহরির ঠোঁটে চুমু খেল। ধীরে। গভীর। মেহরি সাড়া দিল। তার হাত আরিয়ানের ঘাড়ে উঠল।

চুমুটা লম্বা হলো। আরিয়ানের হাত মেহরির কোমরে গেল। শরীর গরম হয়ে উঠল। মেহরির শ্বাস ভারী। আরিয়ান তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। নিজেও শুয়ে পড়ল পাশে। হাত বুলোতে লাগল মেহরির পিঠে, কোমরে। কাপড়ের নিচে ত্বক।

মেহরি ফিসফিস করল, “তুমি তো চেয়েছিলে না।”

আরিয়ান বলল, “এখন চাই।”

তারা একে অপরকে ছুঁল। আরিয়ানের হাত মেহরির বুকের ওপর দিয়ে গেল। মেহরির শরীর কেঁপে উঠল। তারা কাপড় খুলল ধীরে। শরীর জুড়ল। আরিয়ান মেহরির ভেতর প্রবেশ করল। ধীর গতিতে। মেহরির নখ তার পিঠে বিঁধল। তারা একসঙ্গে নড়ল। ঘাম, শ্বাস, গভীর চাপ। মেহরির চোখ বন্ধ। আরিয়ান তার ঠোঁটে চুমু খেতে খেতে শেষ পর্যন্ত গেল।

পরে তারা পাশাপাশি শুয়ে রইল। আরিয়ানের হাত মেহরির পেটে। কথা হলো না। শুধু শরীরের উষ্ণতা।

কিন্তু সকালে আরিয়ান আবার দূরে সরে গেল। অফিসে চলে গেল তাড়াতাড়ি। মেহরি বুঝল। সে আর জিজ্ঞেস করল না।

সেই থেকে মেহরি আবার নিজের জায়গায় ফিরে গেল। আরও দূরে। আরিয়ান দেখত তাকে, কিন্তু কাছে যেত না। রাতে শুধু শরীরের ক্ষুধা মেটাত মাঝে মাঝে, কিন্তু সকালে আবার দেয়াল তুলে দিত।

মেহরি একদিন বলল, “তুমি যদি শুধু শরীর চাও, তাহলে বলো। আমি জানি।”

আরিয়ান চুপ রইল।

মেহরির চোখে একটা সিদ্ধান্ত জেগে উঠছিল।

মেহরি সিদ্ধান্ত নিল। সে আর থাকবে না এভাবে। আরিয়ানের জীবনে সে একটা ছায়া হয়ে আছে, কখনো কাছে, কখনো দূরে। সে চায় না।

এক সন্ধ্যায় সে আরিয়ানকে বলল, “আমি চলে যাচ্ছি। কয়েকদিনের মধ্যে।”

আরিয়ান তাকাল। “কোথায়?”

“খালার বাসায়। তারপর নিজের ব্যবস্থা করব। তোমার সঙ্গে এভাবে থাকার দরকার নেই।”

আরিয়ান কিছু বলল না প্রথমে। তারপর বলল, “যেমন খুশি।”

মেহরি মাথা নাড়ল। সে ঘরে গিয়ে জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করল। আরিয়ান দেখল। বুকের ভেতর একটা চাপ বাড়তে লাগল। সে ল্যাপটপ খুলল, কিন্তু কাজ হলো না।

রাতটা কাটল নীরবে। সকালে মেহরি নাস্তা করল একা। আরিয়ান অফিস গেল। সারাদিন তার মন ছিল না। মেহরির কথা ঘুরপাক খাচ্ছিল। যাকে সে দূরে রাখতে চেয়েছিল, সেই মানুষটা চলে যাচ্ছে। আর সেটা সহ্য হচ্ছিল না।

সন্ধ্যায় ফিরে দেখল মেহরির ব্যাগ গোছানো। সে দাঁড়িয়ে আছে বারান্দায়। আরিয়ান কাছে গেল।

“তুমি সত্যি যাচ্ছ?”

মেহরি তাকাল। “হ্যাঁ।”

আরিয়ান তার হাত ধরল। “যাবে না।”

মেহরি সরিয়ে নিল হাত। “কেন? তুমি তো চেয়েছিলে শুধু বন্ধুত্ব। আমি দিয়েছি। এখন আমি যাচ্ছি।”

আরিয়ান এগিয়ে গেল। মেহরিকে দেয়ালের দিকে ঠেলে দিল আলতো করে। তার মুখ কাছে।

“আমি মিথ্যা বলেছিলাম,” বলল সে। “আমি চেয়েছিলাম দূরে রাখতে। কিন্তু তুমি আমার সবচেয়ে কাছের হয়ে গেছ। আমি বুঝতে পারিনি।”

মেহরির চোখে জল এল। “এখন বুঝলে?”

আরিয়ান তার ঠোঁটে চুমু খেল। গভীর, ক্ষুধার্ত। মেহরি সাড়া দিল। তাদের শরীর জুড়ল। আরিয়ান মেহরিকে তুলে নিয়ে বিছানায় নিয়ে গেল। কাপড় খুলল তাড়াহুড়ো করে। মেহরির শরীর তার হাতের নিচে কাঁপছিল।

আরিয়ান মেহরির বুকে চুমু খেল। নামল নিচে। মেহরির পা খুলে দিল। জিভ দিয়ে ছুঁল। মেহরির কোমর উঠে এল। আরিয়ান আরও গভীরে গেল। মেহরির হাত তার চুলে। শ্বাস ভেঙে যাচ্ছিল।

তারপর আরিয়ান উঠে এল। মেহরির ওপর এসে শুয়ে পড়ল। প্রবেশ করল এক দমকে। মেহরি চিৎকার চাপা দিল। তারা জোরে নড়ল। বিছানা কাঁপছিল। আরিয়ানের হাত মেহরির কোমর চেপে ধরল। মেহরির নখ তার পিঠে রক্তের রেখা কেটে দিল। তারা একসঙ্গে শেষ পর্যন্ত গেল। ঘামে ভেজা শরীর।

পরে আরিয়ান মেহরিকে জড়িয়ে ধরল।

“যাবে না,” বলল সে। “আমি চাই তোমাকে। পুরোটা।”

মেহরি তার বুকে মাথা রাখল। “তাহলে আর দূরে সরাবে না।”

আরিয়ান তার কপালে চুমু খেল। “না।”

সেই রাত থেকে তাদের মধ্যে কোনো দেয়াল রইল না। আরিয়ান সকালে উঠে মেহরিকে চুমু খেয়ে অফিস যেত। রাতে ফিরে তাকে জড়িয়ে ধরত। তারা একসঙ্গে রান্না করত, একসঙ্গে বসত, একসঙ্গে ঘুমাত।

একদিন রাতে আরিয়ান মেহরিকে বলল, “তুমি যখন যাওয়ার কথা বলেছিলে, তখন বুঝেছি। যাকে দূরে রাখতে চেয়েছিলাম, সেই তুমিই আমার সব।”

মেহরি হাসিমুখে তার ঠোঁটে চুমু খেল। তাদের শরীর আবার জুড়ল। এবার আরও ধীর, আরও গভীর। আরিয়ানের হাত মেহরির প্রতিটি অংশ ছুঁল। মেহরি তার কানে ফিসফিস করল ভালোবাসার কথা। তারা একসঙ্গে শেষ করল, জড়িয়ে রইল সারারাত।

সকালে আলো এল জানালা দিয়ে। আরিয়ান মেহরির চুল সরিয়ে দিল। তারা একে অপরের চোখে তাকিয়ে রইল। কোনো কথা লাগল না। সব বলা হয়ে গেছে শরীরে, শ্বাসে, স্পর্শে।

আরিয়ান আর মেহরি পাশাপাশি থাকল। এবার সত্যি কাছাকাছি।

....
👁 10