ভাড়াটিয়া যখন মনের মানুষ

নিশার বাড়িটা পুরান ঢাকার একটা গলিপথে। দুই তলা, নিচে তার নিজের ঘর, উপরে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সে একাই সব সামলায়। মা নেই অনেকদিন। ভাড়াটাই তার একমাত্র নির্ভরতা।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

সেদিন বিকেলে নতুন ভাড়াটিয়া এল। রাফি। লম্বা, কালো চুল, চোখে একটা অদ্ভুত শান্তি। হাতে একটা বড় ব্যাগ আর একটা গিটার কেস। নিশা দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল।

“আপনি নিশা আপা?” রাফি জিজ্ঞেস করল।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

“হ্যাঁ। আপনিই রাফি?”

“জি।”

চাবি দিয়ে উপরের ফ্ল্যাটে উঠিয়ে দিল নিশা। ঘর দেখিয়ে বলল, “পানি-বিদ্যুৎ বিল আলাদা। ছাদে কাপড় শুকাতে পারবেন, কিন্তু অন্যদের জায়গা দখল করবেন না।”

রাফি মাথা নাড়ল। “ঠিক আছে।”

সেদিন সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু। উপর থেকে গান বাজতে লাগল। জোরে। গিটারের সুর। নিশা নিচে বসে বই পড়ছিল। মাথায় চাপ লাগল। উঠে গিয়ে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে চিৎকার করল, “গান কমাইয়া বাজান! এখানে কেউ শান্তিতে থাকতে পারবে না।”

রাফি দরজা খুলে বেরিয়ে এল। “দুঃখিত। আমি জানতাম না এত জোরে শোনা যায়।”

“জানেন না? তাহলে এখন জানলেন। কমান।”

রাফি গান বন্ধ করল। কিন্তু পরের দিন সকালে ছাদে গিয়ে দেখে নিশার কাপড় শুকানোর জায়গায় রাফি তার জামাকাপড় ঝুলিয়ে রেখেছে। নিশা রেগে গিয়ে উপরে উঠল।

“এটা আমার জায়গা! আপনার কাপড় সরান।”

রাফি হাসিমুখে বলল, “আপনার জায়গা? ছাদ তো সবার।”

“না। আগে থেকেই আমি এখানে শুকাই। আপনি নতুন এসে দখল করবেন না।”

তর্ক বাড়ল। দুজন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। রাফির চোখে একটা মজার ভাব। নিশার গাল লাল। শেষে রাফি নিজের কাপড় সরিয়ে নিল। “ঠিক আছে, আপনার ইচ্ছেমতো।”

সারাদিন নিশা তার কথা ভেবেই কাটাল। সন্ধ্যায় আবার গান। এবার একটু কম জোরে। কিন্তু নিশা আবার গিয়ে বলল। রাফি দরজা খুলে হাসল। “আজ তো কমিয়েছি।”

“আরও কমান।”

এভাবেই প্রতিদিন। কাপড় নিয়ে ঝগড়া, গান নিয়ে ঝগড়া, ছাদে কে কতক্ষণ থাকবে নিয়ে ঝগড়া। কিন্তু ঝগড়ার মাঝেই একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটতে লাগল।

একদিন নিশা অফিস থেকে ফিরে দেখে তার নিচের বারান্দায় একটা প্যাকেট। ভেতরে তাজা ফল আর একটা ছোট নোট। “দুঃখিত গতকালের জন্য। –রাফি”

নিশা হাসল। তারপর মুখ গম্ভীর করে ফেলল। সে কিছু বলল না।

পরের দিন রাফি দেখে নিচের সিঁড়িতে তার গিটারের কেসটা সাজিয়ে রাখা। নিশা পরিষ্কার করে রেখেছে। সে উপরে গিয়ে বলল, “ধন্যবাদ।”

নিশা দরজায় দাঁড়িয়ে, “গান আবার জোরে বাজাবেন না।”

“বাজাব না।”

রাত গভীর হলেও নিশা ঘুমাতে পারছিল না। উপর থেকে হালকা গিটারের সুর ভেসে আসছিল। এবার মিষ্টি। সে জানালায় গিয়ে দাঁড়াল। ছাদে রাফি বসে আছে। চাঁদের আলোয় তার মুখ দেখা যাচ্ছে।

নিশা নিজেও ছাদে উঠল। রাফি তাকাল। “ঘুম হচ্ছে না?”

“না।”

দুজন পাশাপাশি বসল। কথা কম। শুধু নীরবতা। একসময় রাফি বলল, “আপনার বাবা কি গান শুনতেন?”

নিশা চমকে তাকাল। “কেন?”

“কিছু না। শুধু মনে হলো।”

নিশা উঠে পড়ল। “আমি ঘুমাতে যাচ্ছি।”

কিন্তু সে রাতেও ঘুম এল না। রাফির চোখের কথা মনে পড়ছিল। তার হাসির কথা। ঝগড়ার মাঝেও যেন একটা টান তৈরি হয়েছে।

পরের সপ্তাহে আরও ঘন ঘন দেখা। কাপড় শুকাতে গিয়ে দুজন একসঙ্গে। রাফি নিশার কাপড় তুলে দিত। নিশা রাফির জামা ভাঁজ করে দিত। কথা কাটাকাটি কমতে লাগল। তার জায়গায় এল নীরব যত্ন।

একদিন নিশা অসুস্থ হয়ে পড়ল। জ্বর। উপরে কেউ নেই দেখে রাফি নিচে এল। দরজায় কড়া নাড়ল। নিশা দুর্বল গলায় খুলল।

“কী হয়েছে?”

“জ্বর।”

রাফি চলে গেল। এক ঘণ্টা পর ফিরে এল ওষুধ আর স্যুপ নিয়ে। “খান।”

নিশা প্রতিবাদ করল। “দরকার নেই।”

“দরকার আছে। খান।”

সেদিন রাফি তার পাশে বসেছিল অনেকক্ষণ। কপালে হাত রেখে জ্বর মাপল। নিশার শরীর কেঁপে উঠল। রাফির হাতের স্পর্শ গরম। চোখে চোখ পড়ল। দুজনেই সরিয়ে নিল দৃষ্টি।

রাত্রে নিশা বিছানায় শুয়ে ভাবছিল। এই ছেলেটা কে? কেন এত যত্ন? ঝগড়া করেও কেন মনটা টানছে?

ছাদে আবার গান বাজছিল। এবার নিশা রাগ করল না। শুধু শুনল। সুরটা যেন তার বুকের ভেতর ঢুকে যাচ্ছিল।

সকালে উঠে দেখে ছাদে রাফি তার জন্য চা বানিয়ে রেখেছে। দুটো কাপ। নিশা গিয়ে বসল। কথা হলো কম। কিন্তু চোখে চোখে কথা হচ্ছিল অনেক।

রাফি হঠাৎ বলল, “আপনি কি কখনো একা থাকতে ভয় পান?”

নিশা চুপ করে রইল। তারপর বলল, “অভ্যস্ত হয়ে গেছি।”

“আমিও।”

দুজনের হাত কাছাকাছি ছিল। আঙুল সামান্য ছুঁয়ে গেল। নিশা সরিয়ে নিল না। রাফিও না।

সেই মুহূর্তে নিশার মনে হলো, এই ঝগড়াগুলো আর ঝগড়া নেই। এগুলো যেন একটা খেলা। আর খেলার আড়ালে কিছু গভীর জন্ম নিচ্ছে।

বিকেলের দিকে আবার কাপড় নিয়ে ছোটখাটো তর্ক। কিন্তু তর্কের শেষে দুজনেই হাসছিল। রাফি নিশার চুলের একটা সুতো সরিয়ে দিল। নিশার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল।

রাত্রে নিশা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখল। গালে লাল ভাব। চোখে একটা নতুন আলো। সে জানে না কী হচ্ছে। কিন্তু রাফির উপস্থিতি তার দিনগুলোকে বদলে দিচ্ছে।

গান আবার বাজল। এবার নিশা জানালা খুলে রাখল। সুরটা ঘরে ঢুকতে দিল। মনে মনে বলল, “আজ আর বলব না কমাতে।”

রাফি যেন শুনতে পেল। গানটা আরও নরম করে দিল।

প্রথম পর্বের শেষে নিশা বিছানায় শুয়ে ভাবছিল। এই ছেলেটা শুধু ভাড়াটিয়া নয়। কিছু একটা আছে। কিছু একটা লুকানো। আর সেটা জানার জন্য তার মন ব্যাকুল হয়ে উঠছে।

ঝগড়া এখন আর আগের মতো নয়। এখন ঝগড়ার পর হাসি আসে। যত্ন আসে।

একদিন সকালে নিশা অফিসে যাওয়ার আগে দেখে রাফি ছাদে তার জন্য নাস্তা সাজিয়ে রেখেছে। রুটি, ডিম, চা। নোট লেখা, “তাড়াহুড়ো করবেন না।”

নিশা খেয়ে নিল। মনটা গরম হয়ে উঠল।

অফিস থেকে ফিরে দেখে উপরের দরজা খোলা। রাফি নেই। নিশা উপরে উঠে দেখল ঘর পরিষ্কার। তার গিটার একপাশে রাখা। টেবিলে একটা ছবির ফ্রেম। পুরোনো ছবি। দুই বন্ধু। একজন তার বাবা। অন্যজন এক অচেনা মানুষ।

নিশা ছবিটা হাতে নিল। বুকে ধড়ফড়ানি। এই ছবি সে আগে দেখেছে বাবার অ্যালবামে। বাবার পুরোনো বন্ধু। নাম মনে নেই।

রাফি তখন ফিরল। নিশা ছবি হাতে দাঁড়িয়ে। “এটা কোথায় পেলেন?”

রাফি চুপ করে রইল একটু। তারপর বলল, “আমার বাবার। আপনার বাবার সঙ্গে তার গভীর বন্ধুত্ব ছিল।”

নিশা হতবাক। “আপনি...?”

“আমি রাফি। আমার বাবা আপনার বাবার বন্ধু ছিলেন।”

নিশা বসল। পা কাঁপছে। “তাহলে আপনি এখানে কেন?”

রাফি তার সামনে বসল। চোখে চোখ রেখে বলল, “ভাড়া থাকতে আসিনি শুধু। আপনার কাছাকাছি থাকতে এসেছি।”

নিশার শ্বাস বন্ধ হয়ে এল। “কেন?”

“বাবা মারা যাওয়ার আগে বলেছিলেন আপনার কথা। বলেছিলেন নিশা একা। যদি পারো, তার খেয়াল রেখো। আমি এসেছি সেই কথা রাখতে। কিন্তু...” রাফি থামল। “এসে দেখলাম শুধু খেয়াল রাখা নয়। আরও কিছু হয়ে যাচ্ছে।”

নিশা উঠে দাঁড়াল। “আপনি মিথ্যে বলছেন।”

“না।”

সে রাতে দুজন ছাদে বসল অনেকক্ষণ। চাঁদ নেই। শুধু তারার আলো। রাফি নিশার হাত ধরল। নিশা সরায়নি।

“আমি প্রথম দিন থেকেই আপনাকে চিনতাম,” রাফি বলল। “বাবার দেওয়া ঠিকানায় এসেছিলাম। কিন্তু দেখে মনে হলো আপনি রাগী। তাই ঝগড়া করে কাছে আসার চেষ্টা করলাম।”

নিশা হাসল। “খুব স্মার্ট।”

“কাজ দিয়েছে তো?”

দুজনের দূরত্ব কমে এল। রাফির হাত নিশার গালে উঠল। নিশা চোখ বন্ধ করল। চুমুটা এল ধীরে। গভীর। গরম। নিশার ঠোঁট কেঁপে উঠল। রাফির শ্বাস তার গালে লাগল।

চুমু ভাঙার পর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। নিশার বুক রাফির বুকের সঙ্গে লেগে আছে। হৃদস্পন্দন মিলছে।

“আমি ভয় পাচ্ছি,” নিশা ফিসফিস করল।

“আমিও। কিন্তু থামতে পারছি না।”

পরের দিনগুলো বদলে গেল। সকালে একসঙ্গে চা। বিকেলে ছাদে বসে কথা। রাতে গান। এখন আর ঝগড়া নেই। শুধু স্পর্শ। চোখের আড়ালে চাওয়া।

একদিন বৃষ্টির কোনো চিহ্ন নেই। শুধু গরম হাওয়া। দুজন ঘরে। দরজা বন্ধ। রাফি নিশাকে দেয়ালে হেলান দিয়ে চুমু খেল। নিশার হাত তার চুলে উঠল। রাফির হাত তার কোমরে। কাপড়ের নিচে ত্বকের উষ্ণতা।

নিশা ফিসফিস করল, “আরও কাছে।”

রাফি তার শরীর টেনে নিল। দুজনের শরীর এক হয়ে গেল। চুমু গভীর থেকে গভীরতর। নিশার শ্বাস দ্রুত। রাফির হাত তার পিঠ বেয়ে নামল। কাপড় সরল ধীরে। ত্বক ত্বকে লেগে গেল।

রাতভর তারা একে অপরকে চিনল। প্রতিটা স্পর্শে আগুন। প্রতিটা চুমুতে বন্যা। নিশা রাফির বুকে মাথা রেখে শুয়ে রইল। রাফি তার চুলে আঙুল বুলোচ্ছিল।

“আমি তোমাকে চাই,” রাফি বলল।

“আমিও।”

সকালে উঠে দেখে দুজন একে অপরের বাহুতে। নিশা হাসিমুখে বলল, “এখন আর কাপড় নিয়ে ঝগড়া হবে না।”

রাফি হাসল। “গানও জোরে বাজাব না। শুধু তোমার জন্য।”

দিনগুলো কেটে যেতে লাগল গভীর ভালোবাসায়। প্রতিটা রাত নতুন করে শরীর চেনা। প্রতিটা সকাল নতুন করে চোখে চোখ রাখা। নিশা আর একা নেই। রাফি তার পাশে।

কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকে গেল। রাফি কেন এতদিন লুকিয়ে রেখেছিল? নিশা জানতে চাইল।

রাফি বলল, “কারণ আমি জানতাম যদি প্রথম দিনেই বলি, তুমি আমাকে দূরে সরিয়ে দেবে। আগে কাছে আসতে চেয়েছিলাম।”

নিশা তার ঠোঁটে চুমু দিল। “এখন আর দূরে সরাবে না।”

সেদিন ছাদে বসে দুজন সারা বিকেল কাটাল। হাত ধরে। কথা বলে। নীরবে। রাফি নিশার কপালে চুমু দিল। নিশা তার বুকে মুখ গুঁজল।

রাত এল। আবার সেই গভীর রাত। দুজনের শরীর আবার মিলল। এবার আরও গভীর। আরও উত্তপ্ত। নিশার নখ রাফির পিঠে দাগ কাটল। রাফির দাঁত তার কাঁধে। শ্বাস আর আর্তনাদ মিলেমিশে এক হয়ে গেল।

ভোরের আলোয় নিশা জেগে দেখল রাফি তাকিয়ে আছে। “কী দেখছ?”

“তোমাকে। সারাজীবন দেখতে চাই।”

নিশা হাসিমুখে তার ঠোঁটে চুমু দিল। “দেখো।”

সত্যটা জানার পর সবকিছু বদলে গেল। এখন আর কোনো লুকোচুরি নেই। রাফি নিশার বাবার বন্ধুর ছেলে। আর সে এসেছে শুধু ভাড়া থাকতে নয়—নিশার কাছে থাকতে।

নিশা প্রথমে রাগ করেছিল। “তুমি আমাকে ঠকিয়েছ।”

রাফি মাথা নিচু করেছিল। “ঠকাইনি। শুধু সময় নিয়েছি।”

পরে নিশা বুঝেছিল। রাফির যত্ন, তার উপস্থিতি, তার ভালোবাসা—সব সত্যি।

এখন তারা একসঙ্গে থাকে। উপরের ফ্ল্যাট আর নিচের ঘরের দেয়াল ভেঙে গেছে মানে মানে। সকালে একসঙ্গে ঘুম থেকে ওঠা। একসঙ্গে নাস্তা। একসঙ্গে ছাদে বসা।

একদিন নিশা অফিস থেকে ফিরে দেখে রাফি রান্না করছে। “আজ আমি বানাব,” সে বলেছিল।

টেবিলে দুটো প্লেট। মোমবাতি। নিশা হাসল। “কী ব্যাপার?”

রাফি হাঁটু গেড়ে বসল। “আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।”

নিশার চোখে জল এল। “তুমি পাগল।”

“হ্যাঁ। তোমার জন্য।”

সে রাতে তারা বিছানায় শুয়ে গভীরভাবে একে অপরকে ভালোবাসল। কাপড়হীন শরীর। ঘামে ভেজা ত্বক। নিশার পা রাফির কোমরে জড়ানো। রাফির হাত তার স্তনে। চুমু থেকে শুরু করে শরীরের প্রতিটা অংশ চিনে নেওয়া। নিশা আর্তনাদ করে উঠল যখন রাফি তার ভেতরে ঢুকল। ধীর গভীর গতি। তারপর দ্রুত। দুজনের শরীর এক ছন্দে দুলছে। শেষে নিশা কেঁপে উঠল। রাফিও। দুজন জড়িয়ে রইল অনেকক্ষণ।

পরের দিন সকালে নিশা রাফির বুকে মাথা রেখে বলল, “আমি রাজি।”

রাফি তার কপালে চুমু দিল। “সত্যি?”

“হ্যাঁ।”

বিয়ের আয়োজন শুরু হলো। ছোটখাটো। শুধু দুজন আর কয়েকজন কাছের মানুষ। নিশার বাবার স্মৃতি নিয়ে। রাফির বাবার স্মৃতি নিয়ে।

বিয়ের আগের রাতে দুজন আবার ছাদে বসল। রাফি নিশার হাত ধরে বলল, “আমি প্রথম দিন থেকেই তোমাকে চেয়েছি। ঝগড়া করেও। গান বাজিয়েও। কাপড় নিয়ে তর্ক করেও।”

নিশা হাসল। “আমিও। রাগ করেও মনটা তোমার দিকেই যেত।”

সে রাতে তারা শেষবারের মতো ভাড়াটিয়া আর বাড়িওয়ালার মতো নয়—প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে একে অপরকে নিয়েছিল। ঘরের বিছানায়। জানালা খোলা। রাতের হাওয়া শরীরে লাগছে। রাফি নিশাকে উপরে তুলে নিল। নিশা তার উপর বসল। ধীর গতিতে নড়ল। চোখে চোখ। হাতে হাত। শরীরে শরীর। নিশার চুল রাফির বুকে ছড়িয়ে পড়ল। রাফি তার কোমর চেপে ধরল। গতি বাড়ল। নিশা মাথা পেছনে ফেলল। আনন্দে চোখ বন্ধ। রাফিও হার মানল শেষে।

ভোরে দুজন একসঙ্গে স্নান করল। জলের ধারায় শরীর ধুয়ে। আবার চুমু। আবার স্পর্শ।

বিয়ের দিন এল। সাদা পোশাক। হাতে ফুল। রাফি নিশার হাত ধরে বলল, “এখন থেকে আর কোনো ঝগড়া নয়।”

নিশা হাসল। “ঝগড়া তো থাকবে। কিন্তু এখন ভালোবেসে।”

রাত্রে নতুন ঘরে তারা প্রবেশ করল। দরজা বন্ধ। বাইরের পৃথিবী মুছে গেল। শুধু দুজন। রাফি নিশার পোশাক খুলল একটু একটু করে। নিশাও তার। নগ্ন শরীর আলোয় জ্বলজ্বল করছে। রাফি নিশাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। পা থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত চুমু খেল। নিশা কেঁপে উঠছে। রাফির জিভ তার ত্বকে আগুন ধরাচ্ছে। তারপর সে নিশার পা ছড়িয়ে দিল। মুখ গুঁজে দিল। নিশা বিছানা চেপে ধরল। আর্তনাদ চাপা দিতে পারল না।

রাফি উঠে এসে তার উপর এল। ঢুকে গেল একটানে। নিশা তার পিঠে নখ বসাল। দুজনের শরীর এক হয়ে দুলতে লাগল। ঘাম ঝরছে। শ্বাস মিলছে। নিশা রাফির কানে ফিসফিস করল, “আরও জোরে।”

রাফি জোরে করল। বিছানা নড়ছে। দেয়ালে ছায়া নাচছে। শেষ পর্যন্ত দুজন একসঙ্গে শিখরে পৌঁছাল। নিশা রাফির বুকে মুখ গুঁজে কাঁদল আনন্দে। রাফি তার চুলে চুমু দিল।

ভোর পর্যন্ত তারা এভাবেই কাটাল। বিরতি নিয়ে আবার শুরু। শরীরের প্রতিটা কোণ চিনে। প্রতিটা শ্বাস অনুভব করে।

সকালে উঠে রাফি চা বানাল। দুজন ছাদে গিয়ে বসল। হাতে হাত। চোখে চোখ।

নিশা বলল, “মনে আছে প্রথম দিনের ঝগড়া?”

রাফি হাসল। “মনে আছে। সেদিন থেকেই জানতাম তুমি আমার।”

নিশা তার কাঁধে মাথা রাখল। “আর এখন সত্যিই তোমার।”

গান বাজল। এবার দুজনেই একসঙ্গে। রাফি গিটার বাজায়। নিশা গলা মিলায়। সুর ভেসে বেড়ায় পুরো বাড়িতে। আর কোনো অভিযোগ নেই। শুধু ভালোবাসা। গভীর। উত্তপ্ত। চিরকালের।

এভাবেই তাদের গল্প চলতে থাকল। ঝগড়া থেকে শুরু হওয়া ভালোবাসা। লুকোনো সত্য থেকে জন্ম নেওয়া সম্পর্ক। আর প্রতিটা রাতে নতুন করে শরীর আর মন মিলিয়ে নেওয়া গভীর রোম্যান্স।

....
👁 112