গম্ভীর স্বামীর দুষ্টু রূপ

শুভ্র আর মেহরার বিয়ে হয়েছিল পরিবারের পছন্দে। দুই পরিবারই ঢাকার মিরপুরের পুরনো বাসিন্দা। শুভ্রের বাবা ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী, মেহরার বাবা একই এলাকার একটা ছোট ফার্মেসির মালিক। দুই পরিবারের পরিচয় ছিল বহুদিনের। বিয়ের আগে মেহরা শুভ্রকে দেখেছিল মাত্র দুবার। প্রথমবার বিয়ের প্রস্তাবের সময়, দ্বিতীয়বার কাবিনের দিন। দুবারই শুভ্র ছিলেন একদম গম্ভীর। কালো পাঞ্জাবি পরে, চুপচাপ বসে, কথাবার্তা খুব কম। চোখের দৃষ্টি গভীর, যেন কোনো গুরুতর চিন্তায় ডুবে আছে। মেহরা তখনই ভাবতে শুরু করেছিল, তার জীবনটা এবার শুকনো হয়ে যাবে। কোনো হাসি নেই, কোনো মজা নেই, শুধু দায়িত্ব আর নীরবতা।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

বিয়ের রাতটা ছিল শীতের শেষের দিকের একটা রাত। ঢাকার আকাশে তারা জ্বলছিল। শুভ্রের বাবার নতুন ফ্ল্যাটে তাদের জন্য আলাদা একটা ঘর সাজানো হয়েছিল। সাদা চাদর, নরম বালিশ, এক কোণায় ফুলের তোড়া। মেহরা যখন ঘরে ঢুকল, শুভ্র ইতিমধ্যে বসে ছিলেন বিছানার ধারে। তার চোখে এখনো সেই গম্ভীর ভাব। মেহরা ধীরে ধীরে কাছে গেল। শুভ্র উঠে দাঁড়ালেন। দুজনের চোখাচোখি হলো। মেহরা প্রথমে চোখ নামিয়ে নিল।

শুভ্র হঠাৎ কাছে এসে তার কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন, “মেহরা... তুমি কি জানো, এই ঘরে রাতের বেলা কেউ কেউ অদ্ভুত শব্দ শোনে?”

¦Ëk¢x/춺'ƒú

মেহরা চমকে উঠল। “কী শব্দ?”

শুভ্রের গলাটা আরও নিচু হলো। “কেউ কেউ বলে, এখানে একটা পুরনো আত্মা থাকে। রাত দুটোর সময় সে জানালার পাশে দাঁড়ায়...”

মেহরা এক পা পিছিয়ে গেল। শুভ্রের মুখে এখনো কোনো হাসি নেই। কিন্তু চোখে একটুখানি চকচক করছিল। মেহরা বুঝতে পারছিল না এটা সত্যি নাকি কোনো মজা। সে আস্তে করে বলল, “তুমি কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছ?”

শুভ্র হঠাৎ তার হাত ধরে টেনে নিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিলেন। তারপর নিজেও পাশে বসলেন। এবার তার মুখে একটা হালকা হাসি ফুটল। “ভয় পেয়েছ? দেখি তোমার হাত কেমন ঠান্ডা হয়ে গেছে।”

মেহরা অবাক হয়ে তাকাল। এই মানুষটা কি সত্যিই সেই গম্ভীর শুভ্র? শুভ্র তার হাত দুটো নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে মুঠো করে ধরলেন। তারপর আস্তে আস্তে তার আঙুলগুলোতে চুমু খেলেন। মেহরার শরীরটা কেঁপে উঠল। শুভ্র তার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমি জানতাম তুমি ভয় পাবে। তাই বলেছি। তোমার মুখ দেখে মজা লাগছে।”

মেহরা প্রথমে রাগ দেখাতে চেয়েছিল, কিন্তু শুভ্রের চোখে যে দুষ্টুমি দেখল, তাতে রাগ গলে গেল। সে আস্তে করে বলল, “তুমি এতদিন এত গম্ভীর ছিলে কেন?”

শুভ্র তার কপালে চুমু দিয়ে বললেন, “সবাইকে গম্ভীর দেখাতে হয়। কিন্তু তোমার সামনে আর গম্ভীর থাকতে ইচ্ছে করছে না।”

সেই রাতেই শুভ্র মেহরাকে আস্তে আস্তে কাছে টানলেন। তার হাত মেহরার কোমর ঘিরে ধরল। ঠোঁটের স্পর্শ প্রথমে হালকা, তারপর গভীর। মেহরা প্রথমে একটু সংকোচ বোধ করছিল, কিন্তু শুভ্রের স্পর্শ এত নরম আর উষ্ণ ছিল যে সে নিজে থেকেই কাছে সরে এল। শুভ্র তার গলার কাছে চুমু খেতে খেতে ফিসফিস করে বলছিলেন, “তুমি কত সুন্দর... আমি এতদিন দূর থেকে তোমাকে দেখেছি।”

মেহরা তখনো বুঝতে পারেনি কথাটার মানে। সে শুধু শুভ্রের বুকের ওপর মাথা রেখে চোখ বন্ধ করেছিল। শুভ্রের হাত তার পিঠে আলতো করে ঘুরছিল। দুজনের শ্বাস এক হয়ে যাচ্ছিল। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরও আরও কাছে এসেছিল। শুভ্র মেহরার প্রতিটা স্পর্শে যত্ন নিচ্ছিলেন। কোনো তাড়া ছিল না। শুধু গভীর আবেগ আর নতুন সম্পর্কের উষ্ণতা।

ভোরের আলো আসার আগে মেহরা শুভ্রের বুকে মাথা রেখে শুয়ে ছিল। শুভ্র তার চুল আলতো করে সরিয়ে বললেন, “এখনো ভয় পাচ্ছ?”

মেহরা হাসল। “না। কিন্তু তুমি আমাকে আর ভয় দেখাবে না।”

শুভ্র তার কানে চুমু দিয়ে বললেন, “প্রতিশ্রুতি দিতে পারি না। আমি দুষ্টু মানুষ।”

মেহরা তখন বুঝতে পেরেছিল, তার স্বামীর গম্ভীর মুখের আড়ালে লুকিয়ে আছে একজন সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ। একজন যে মজা করে, ভয় দেখায়, আর তারপর গভীর ভালোবাসায় ডুবিয়ে দেয়।

বিয়ের পরের দিনগুলো মেহরার জীবনে নতুন রং এনে দিয়েছিল। শুভ্র সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই তাকে জাগাতেন নানা রকম মজার কথা বলে। কখনো কখনো তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলতেন, “আজ রাতে আবার সেই আত্মা আসবে...” মেহরা প্রথমে রাগ দেখাত, পরে হাসত। শুভ্রের দুষ্টুমি এত স্বাভাবিক ছিল যে মেহরা আস্তে আস্তে তার সঙ্গে মিশে যেত।

একদিন সন্ধ্যায় শুভ্র বাসায় এসে মেহরাকে বললেন, “চল, বের হই। তোমাকে একটা জায়গা দেখাব।” তারা মিরপুরের একটা পুরনো পার্কে গেল। সেখানে শুভ্র মেহরাকে একটা বেঞ্চে বসিয়ে তার পাশে বসলেন। তারপর হঠাৎ তার চোখের ওপর হাত রেখে বললেন, “চোখ খুলো না।” মেহরা হাসতে হাসতে চোখ বন্ধ রাখল। শুভ্র তার কানের কাছে এসে ফিসফিস করলেন, “এখন কেউ তোমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে...”

মেহরা চমকে চোখ খুলল। পেছনে কেউ নেই। শুভ্র জোরে হাসতে লাগলেন। মেহরা তার বুকে মুষ্টি দিয়ে আঘাত করতে করতে বলল, “তুমি আর পারবে না!” শুভ্র তার হাত ধরে টেনে নিয়ে নিজের কোলে বসিয়ে দিলেন। পার্কের আলো মৃদু জ্বলছিল। দুজনের চোখাচোখি হলো। শুভ্র মেহরার ঠোঁটে চুমু দিলেন। এবার আর হালকা নয়। গভীর, দীর্ঘ। মেহরার হাত শুভ্রের ঘাড়ে গিয়ে পড়ল। শুভ্র তার কোমর শক্ত করে ধরলেন। দুজনের শ্বাস গরম হয়ে উঠছিল।

বাসায় ফিরে সেই রাতে তারা আরও কাছে এসেছিল। শুভ্র মেহরার শরীরের প্রতিটা অংশকে যত্ন করে স্পর্শ করছিলেন। তার ঠোঁট মেহরার গলা থেকে কাঁধে, কাঁধ থেকে আরও নিচে নেমে যাচ্ছিল। মেহরা তার আঙুলগুলো শুভ্রের চুলে গুঁজে দিয়ে চোখ বন্ধ করেছিল। আবেগ এত গভীর ছিল যে কথা বলার প্রয়োজন হচ্ছিল না। শুভ্র মাঝে মাঝে তার কানে ফিসফিস করে বলছিলেন, “তুমি আমার... পুরোপুরি আমার।”

দিন যত গড়াচ্ছিল, মেহরা একটা জিনিস লক্ষ করছিল। শুভ্র অনেক কিছু জানতেন তার সম্পর্কে। একদিন সে তার পুরনো স্কুলের কথা বলছিল। শুভ্র হঠাৎ বলে উঠলেন, “তুমি তো সেই স্কুলে লাল রঙের স্কার্ফ পরতে ভালোবাসতে।” মেহরা অবাক হয়ে তাকাল। “তুমি কীভাবে জানো?”

শুভ্র হাসলেন। “জানতাম।”

আরেকদিন মেহরা তার ছোটবেলার একটা ঘটনা বলছিল। শুভ্র বলে উঠলেন, “সেদিন তুমি কাঁদছিলে, তাই না? তোমার হাতে একটা ছোট আঁচড় ছিল।” মেহরার চোখ বড় হয়ে গেল। সে শুভ্রকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি আমাকে আগে থেকে চিনতে?”

শুভ্র চুপ করে গেলেন। তার চোখে একটা গভীর ভাব এসেছিল। তিনি শুধু বললেন, “একদিন সব বলব।”

মেহরার মনে প্রশ্ন জমতে লাগল। শুভ্র কেন এতদিন তাকে দূর থেকে চিনতেন? তিনি কি কোনোদিন তাকে দেখেছিলেন? নাকি কোনোভাবে তার খবর রাখতেন? মেহরা জিজ্ঞেস করতে চাইত, কিন্তু শুভ্র যখন তার দিকে তাকাতেন সেই গম্ভীর অথচ দুষ্টু চোখে, তখন সব প্রশ্ন গলে যেত। শুভ্র তাকে কাছে টেনে নিতেন, চুমু দিতেন, আর রাতভর তার শরীরকে ভালোবাসতেন এমনভাবে যে মেহরা সব ভুলে যেত।

এক রাতে শুভ্র মেহরাকে বিছানায় শুইয়ে তার ওপর ঝুঁকে পড়লেন। তার হাত মেহরার গালে রেখে বললেন, “তুমি জানো, আমি তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম কবে?”

মেহরা তার দিকে তাকিয়ে রইল। শুভ্র আর কিছু বললেন না। শুধু তার ঠোঁটে চুমু দিলেন। চুমুটা এত গভীর ছিল যে মেহরার শরীর কেঁপে উঠল। শুভ্র তার পোশাক আস্তে আস্তে সরিয়ে দিচ্ছিলেন। প্রতিটা স্পর্শে আবেগ আরও তীব্র হচ্ছিল। দুজনের শরীর এক হয়ে যাচ্ছিল। শুভ্র মেহরার কানে ফিসফিস করে বলছিলেন, “আমি তোমাকে অনেকদিন ধরে চেয়েছি... এখন তুমি আমার।”

মেহরা তার গলা জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করেছিল। সে রাতে তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছিল। শুধু শরীরের মিলন নয়, মনেরও। কিন্তু রহস্যটা এখনো থেকে গিয়েছিল। শুভ্র কেন এতদিন তাকে দূর থেকে চিনতেন?

বিয়ের এক মাস পর এক শুক্রবারের সন্ধ্যায় শুভ্র মেহরাকে নিয়ে বের হলেন। তারা গেলেন উত্তরার একটা নিরিবিলি জায়গায়। সেখানে একটা ছোট ক্যাফে ছিল। শুভ্র মেহরাকে একটা টেবিলে বসিয়ে নিজে তার পাশে বসলেন। তারপর হাতের তালু মেহরার হাতের ওপর রেখে বললেন, “আজ সব বলব।”

মেহরা তার দিকে তাকাল। শুভ্রের চোখে এবার আর দুষ্টুমি নেই। শুধু গভীর একটা আবেগ। তিনি বলতে শুরু করলেন, “তিন বছর আগে আমি তোমার এলাকায় একটা কাজের সূত্রে গিয়েছিলাম। তোমার বাবার ফার্মেসির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন তুমি বেরিয়ে এসেছিলে। লাল স্কার্ফ পরা, হাতে একটা বই। তোমার হাসি দেখে আমার মনটা থমকে গিয়েছিল। আমি তখনো জানতাম না তোমার নাম। কিন্তু সেই মুহূর্ত থেকেই আমি তোমাকে মনে রেখেছিলাম।”

মেহরা চুপচাপ শুনছিল। শুভ্র বলে চললেন, “তারপর আমি জেনেছিলাম তোমার নাম। তোমার স্কুল, তোমার পথচলা। আমি কখনো তোমার কাছে যাইনি। শুধু দূর থেকে দেখেছি। কখনো কখনো তোমার বাবার দোকানের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে বসে থেকেছি। তুমি যখন কাঁদতে, আমি দূর থেকে দেখেছি। তুমি যখন হাসতে, আমার মন ভরে যেত। আমি চেয়েছিলাম তোমাকে কাছে পেতে। কিন্তু সরাসরি প্রস্তাব দিতে পারিনি। তাই পরিবারের মাধ্যমে বিয়ের কথা এগিয়েছি।”

মেহরার চোখে জল এসে গেল। সে আস্তে করে বলল, “তুমি এতদিন আমাকে দেখেছ... আর আমি কিছুই জানতাম না।”

শুভ্র তার হাত শক্ত করে ধরলেন। “আমি ভয় পেয়েছিলাম। যদি তুমি না চাও? যদি তোমার পছন্দ না হই? তাই গম্ভীর সেজেছিলাম। যাতে তুমি আমাকে সহজে চিনতে না পারো। কিন্তু বিয়ের রাতে আর থাকতে পারিনি। তোমাকে ভয় দেখিয়ে মজা করতে ইচ্ছে করেছে। কারণ আমি জানতাম, তুমি হাসলে কত সুন্দর লাগে।”

মেহরা উঠে এসে শুভ্রের কোলে বসল। দুজনের কপাল মিলে গেল। শুভ্র তার ঠোঁটে চুমু দিলেন। এবার চুমুটায় শুধু আবেগ নয়, তিন বছরের অপেক্ষাও মিশে ছিল। মেহরা তার ঘাড় জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে ফেলল। শুভ্র তার কোমর শক্ত করে ধরেছিলেন। দুজনের শ্বাস এক হয়ে যাচ্ছিল।

বাসায় ফিরে সেই রাতে শুভ্র মেহরাকে বিছানায় শুইয়ে তার ওপর ঝুঁকে পড়লেন। তার হাত মেহরার শরীরের ওপর আলতো করে ঘুরছিল। তিনি তার কানে ফিসফিস করে বলছিলেন, “এখন আর দূর থেকে নয়। এখন তুমি আমার কাছে। পুরোপুরি।”

মেহরা তার ঠোঁটে আঙুল রেখে বলল, “আর কখনো গম্ভীর হয়ো না আমার সামনে।”

শুভ্র হাসলেন। তারপর তার ঠোঁট মেহরার গলায় নেমে গেল। চুমুগুলো আস্তে আস্তে আরও গভীর হচ্ছিল। শুভ্র মেহরার পোশাক সরিয়ে দিচ্ছিলেন। প্রতিটা স্পর্শে আবেগ আরও তীব্র হয়ে উঠছিল। মেহরার শরীর কেঁপে উঠছিল শুভ্রের হাতের উষ্ণতায়। দুজনের শরীর এক হয়ে গেল। শুভ্র মেহরার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমি তোমাকে ভালোবাসি... তিন বছর ধরে।”

মেহরা তার গলা জড়িয়ে ধরে উত্তর দিল, “আমিও... এখন আরও বেশি।”

সেই রাতে তাদের ভালোবাসা আর কোনো সীমা মানল না। শুধু শরীরের মিলন নয়, মনেরও সম্পূর্ণ মিলন। শুভ্র মেহরাকে এমনভাবে ভালোবাসলেন যেন তিনি তাকে হারাতে চান না। মেহরাও নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দিয়েছিল। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শ্বাস, স্পর্শ, আর আবেগ এক হয়ে গিয়েছিল।

ভোরের আলো আসার আগে মেহরা শুভ্রের বুকে মাথা রেখে শুয়েছিল। শুভ্র তার চুল আলতো করে সরিয়ে বললেন, “এখনো কোনো রহস্য বাকি আছে?”

মেহরা হাসল। “না। এখন শুধু তুমি আর আমি।”

শুভ্র তার কপালে চুমু দিয়ে বললেন, “আর আমার দুষ্টুমি।”

মেহরা তার বুকে মুষ্টি দিয়ে আঘাত করতে করতে হাসল। দুজনের হাসি ঘর ভরিয়ে দিল। বাইরে ঢাকার শহর জেগে উঠছিল। আর তাদের ঘরে জেগে উঠেছিল এক গভীর, উষ্ণ, আর চিরস্থায়ী ভালোবাসা।

....
👁 16