অর্ণব আর নীলার মধ্যে ঝগড়াটা এতটাই নিয়মিত ছিল যে দুই পরিবারের ব্যবসায়িক বৈঠকেও সেটা আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছিল। ঢাকার উত্তরায় দুই পরিবারের অফিস পাশাপাশি। একদিকে অর্ণবের বাবার নির্মাণ ব্যবসা, অন্যদিকে নীলার বাবার রিয়েল এস্টেট। দুই পরিবারের স্বার্থ এমনভাবে জড়িয়ে গিয়েছিল যে বিয়ে ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
নীলা প্রথমবার অর্ণবকে দেখেছিল অফিসের করিডোরে। সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, চুলগুলো এলোমেলো। অর্ণবও তাকে দেখেছিল—নীলা কালো সালোয়ার কামিজে, চুল বাঁধা, চোখে একরাশ অসহিষ্ণুতা। সেদিনই তারা প্রথম ঝগড়া করেছিল। নীলা বলেছিল, “আপনার গাড়িটা পার্কিংয়ে এমনভাবে রাখেন যেন পুরো রাস্তা আপনার!” অর্ণব জবাব দিয়েছিল, “আপনার গাড়িটাই তো মাঝখানে থাকে সবসময়।”
সেই থেকে শুরু। প্রতিটি মিটিংয়ে, প্রতিটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে তারা একে অপরকে কাঁটাত। অর্ণব নীলাকে বলত “মিস পারফেক্ট”, নীলা অর্ণবকে বলত “মিস্টার অহংকার”। দুজনেই জানত যে পরিবারগুলো তাদের বিয়ে দিতে চায়। ব্যবসার জন্য। সম্পত্তির জন্য। একটা শক্তিশালী জোটের জন্য।
একদিন দুই পরিবারের বৈঠক বসল অর্ণবের বাড়িতে। বড় হলরুমে সবাই বসে। অর্ণব আর নীলা পাশাপাশি চেয়ারে। দুজনের মুখই টানটান। অর্ণবের বাবা বললেন, “বিয়েটা হয়ে যাক। ব্যবসা আরও এগোবে।” নীলার বাবা সম্মতি দিলেন।
অর্ণব হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। “শর্ত আছে।” সবাই তাকাল। “এক বছর। এক বছর পর ডিভোর্স। কোনো প্রশ্ন নেই।” নীলাও উঠে দাঁড়াল। “আমিও একমত। এক বছর। তারপর সবাই নিজের পথে।”
দুই পরিবার চুপ করে গেল। কিন্তু ব্যবসার স্বার্থে তারা রাজি হয়ে গেল। বিয়ের দিন ঠিক হলো। ঢাকার একটা বড় হলে অনুষ্ঠান। নীলা লাল শাড়ি পরেছিল, অর্ণব সাদা পাঞ্জাবি। তারা একে অপরের দিকে তাকাল না। শুধু চুক্তির কাগজে সই করল—এক বছর পর ডিভোর্স।
বিয়ের পর তারা অর্ণবের বাড়ির তৃতীয় তলায় দুটো আলাদা ঘরে উঠল। মাঝখানে একটা বারান্দা। অর্ণব তার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। নীলাও তাই করল। রাত গভীর হলো। ঘুম এল না কারোর।
পরদিন সকালে অর্ণব উঠে দেখল তার টুথব্রাশটা গায়েব। নীলার ঘরের দরজায় নক করল। “আমার টুথব্রাশ কোথায়?” নীলা দরজা খুলে হাসি মুখে বলল, “হয়তো আপনার রুমেই আছে। ভালো করে খুঁজুন।” অর্ণব রেগে গিয়ে নীলার ঘরে ঢুকে তার মেকআপ বক্স উল্টে দিল। নীলা চিৎকার করে উঠল। “এটা কী করলেন?” অর্ণব বলল, “বিনিময়।”
এভাবে শুরু হলো ছোট ছোট দুষ্টুমি। অর্ণব নীলার কফি তেতো করে দিত। নীলা অর্ণবের শার্টের বোতাম খুলে রাখত। অর্ণব নীলার ফোনের অ্যালার্ম ভোরে বাজিয়ে দিত। নীলা অর্ণবের গাড়ির চাবি লুকিয়ে রাখত। দুজনেই জানত এগুলো শুধু জ্বালানোর জন্য। কিন্তু প্রতিবারই চোখে চোখ পড়লে একটা অদ্ভুত টান অনুভব করত।
এক সপ্তাহ পর অর্ণব অফিস থেকে ফিরে দেখল নীলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে। রাতের আলোতে তার চুল এলোমেলো। অর্ণব কাছে গিয়ে বলল, “আজ আর কোনো দুষ্টুমি নেই তো?” নীলা ঘুরে তাকাল। “নেই। ক্লান্ত।” অর্ণব হঠাৎ তার হাত ধরে ফেলল। নীলা সরতে চাইল না। দুজনের শরীর কাছাকাছি। অর্ণবের আঙুল নীলার কবজিতে ঘষা খেল। নীলার শ্বাস ভারী হয়ে উঠল। অর্ণব তার ঠোঁটের দিকে তাকাল। নীলাও। কিন্তু তারা আলাদা হয়ে গেল। অর্ণব বলল, “এক বছর। মনে রেখো।” নীলা জবাব দিল, “মনে আছে।”
রাত গভীর হলো। অর্ণব তার ঘরে শুয়ে ভাবল নীলার হাতের উষ্ণতা। নীলাও তার ঘরে শুয়ে ভাবল অর্ণবের চোখ। দুজনেই জানত এই খেলাটা আরও গভীর হতে চলেছে। কিন্তু কেউ স্বীকার করতে চাইল না।
পরের দিন অর্ণব নীলার ঘরে ঢুকে তার বালিশের নিচে একটা চকলেট রেখে গেল। নীলা খুঁজে পেয়ে হাসল। তারপর অর্ণবের ঘরে গিয়ে তার ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড বদলে দিল। অর্ণব রেগে গিয়ে নীলাকে ধরে ফেলল করিডোরে। দুজনের শরীর জড়িয়ে গেল। অর্ণবের হাত নীলার কোমরে। নীলার হাত অর্ণবের বুকে। তারা একে অপরের ঠোঁটের কাছাকাছি চলে গেল। কিন্তু আবার আলাদা। অর্ণব ফিসফিস করে বলল, “তুমি আমাকে পাগল করছ।” নীলা বলল, “তুমিও।”
সেই রাতে অর্ণব নীলার দরজায় নক করল। নীলা খুলে দিল। অর্ণব ঢুকে তাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। দুজনের শ্বাস মিশে গেল। অর্ণবের হাত নীলার চুলে। নীলার হাত অর্ণবের গলায়। তারা চুমু খেল। গভীর। উত্তপ্ত। নীলার শরীর কেঁপে উঠল। অর্ণব তার কানে ফিসফিস করল, “এক বছর পরও যদি এমন থাকে…” নীলা তার ঠোঁট চেপে ধরল। কথা শেষ হতে দিল না।
তারা সেই রাতে আর আলাদা হয়নি। কিন্তু সকালে উঠে আবার নিজেদের মনে করিয়ে দিল—এটা শুধু এক বছরের চুক্তি। আর কিছু নয়।
বিয়ের এক মাস পেরিয়ে গেল। অর্ণব আর নীলার দুষ্টুমি আরও বেড়ে গেল। কিন্তু এখন সেগুলোর মধ্যে একটা নতুন স্তর যোগ হয়েছিল। অর্ণব নীলার ঘরে ঢুকে তার গায়ের কাপড় সরিয়ে দিত। নীলা অর্ণবের গোসলখানায় ঢুকে তার তোয়ালে নিয়ে চলে যেত। একদিন অর্ণব নীলাকে বাথরুমে দেখে ফেলল। নীলা তোয়ালে জড়িয়ে দাঁড়িয়েছিল। অর্ণব দরজায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইল। নীলা সরল না। অর্ণব এগিয়ে গিয়ে তোয়ালে সরিয়ে দিল। দুজনের শরীর মিলল। অর্ণবের হাত নীলার পিঠে ঘষা খেল। নীলার নখ অর্ণবের পিঠে বিঁধল। তারা মেঝেতে নেমে গেল। গরম। ভিজে। অর্ণব নীলার গলায় চুমু খেল। নীলা তার কানে দাঁত দিয়ে কামড় দিল। তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁপতে কাঁপতে শেষ করল।
কিন্তু সকালে আবার আলাদা ঘরে। আবার ঝগড়া। অর্ণব বলল, “এটা কিছু মানে রাখে না।” নীলা বলল, “জানি।”
দুই মাস পরে অর্ণব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল। জ্বর। শরীর কাঁপছে। অফিস থেকে ফিরে ঘরে ঢুকে বিছানায় লুটিয়ে পড়ল। নীলা খবর পেয়ে এল। অর্ণবের ঘরে ঢুকে তার কপালে হাত দিল। গরম। নীলা ওষুধ আনল। পানি আনল। সারারাত তার পাশে বসে রইল। অর্ণব ঘুমিয়ে পড়ল। নীলা তার হাত ধরে বসে রইল। মাঝরাতে অর্ণব চোখ খুলল। নীলাকে দেখতে পেল। “তুমি কেন এখানে?” নীলা বলল, “কেউ না থাকলে কে দেখবে?” অর্ণব তার হাত চেপে ধরল। “থাকো।” নীলা মাথা নাড়ল।
সারারাত নীলা তার পাশেই ছিল। অর্ণবের শরীর থেকে ঘাম ঝরছিল। নীলা তোয়ালে দিয়ে মুছে দিচ্ছিল। একসময় অর্ণব তার হাত ধরে টেনে নিল বিছানায়। নীলা প্রতিবাদ করল না। অর্ণব তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিল। নীলার শরীর কেঁপে উঠল। অর্ণব তার ঠোঁটে চুমু খেল। দুর্বল হয়েও উত্তপ্ত। নীলা তার বুকে মাথা রাখল। দুজনেই জানত এই রাতটা আলাদা।
সকালে অর্ণবের জ্বর কমল। নীলা উঠে দাঁড়াল। “এখন ভালো?” অর্ণব তার হাত ধরে রাখল। “থাকো আর একটু।” নীলা বসল। অর্ণব তার চুলে হাত বুলিয়ে দিল। “তুমি সারারাত জেগেছিলে।” নীলা চুপ করে রইল। অর্ণব তার গালে হাত রাখল। “আমি তোমাকে জ্বালাতাম। তুমি কেন…” নীলা তার কথা কেটে দিল। “চুপ করো।” তারপর তাকে চুমু খেল। গভীর। অর্ণব তাকে জড়িয়ে ধরল। দুজনের শরীর আবার মিলল। এবার আর কোনো তাড়াহুড়ো নেই। শুধু ধীরে ধীরে। অর্ণব নীলার প্রতিটা অংশ স্পর্শ করল। নীলা তার প্রতিটা শ্বাস অনুভব করল। তারা একে অপরকে এমনভাবে নিল যেন সময় থেমে আছে।
সেই দিনের পর থেকে তাদের দুষ্টুমি বদলে গেল। এখন আর শুধু জ্বালানো নয়। এখন স্পর্শ। এখন চোখে চোখ রাখা। এখন রাতে একে অপরের ঘরে যাওয়া। অর্ণব নীলাকে তার বিছানায় টানত। নীলা অর্ণবের গায়ে শুয়ে থাকত। তারা কথা কম বলত। শরীর দিয়ে সব বলত। অর্ণব নীলার কোমরে হাত রাখত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। নীলা তার বুকে কান পেতে তার হৃদস্পন্দন শুনত।
একদিন অর্ণব নীলাকে অফিসে নিয়ে গেল। মিটিংয়ের পর খালি রুমে তারা দরজা বন্ধ করে চুমু খেল। অর্ণব নীলাকে টেবিলের ওপর তুলে ধরল। নীলার পা জড়িয়ে গেল তার কোমরে। তারা সেখানেই শেষ করল। পরে হেসে উঠল দুজনেই। অর্ণব বলল, “এক বছর শেষ হয়ে গেলে কী হবে?” নীলা তার ঠোঁটে আঙুল রাখল। “এখন কথা বোলো না।”
রাতগুলো লম্বা হতে লাগল। অর্ণব নীলার গায়ে শুয়ে তার গলার গর্তে চুমু খেত। নীলা তার কানে ফিসফিস করে বলত জিনিসপত্র যা সে কখনো কাউকে বলেনি। অর্ণব তার চোখে তাকিয়ে বলত, “তুমি আমাকে বদলে দিচ্ছ।” নীলা হাসত। “তুমিও।”
কিন্তু চুক্তির কথাটা মাঝে মাঝে এসে যেত। অর্ণব একদিন বলল, “ছয় মাস পেরিয়ে গেল।” নীলা চুপ করে রইল। অর্ণব তার হাত ধরে বলল, “আমি জানি না কী করতে চাই।” নীলা তার বুকে মাথা রাখল। “আমিও জানি না।”
আট মাস পেরিয়ে গেল। অর্ণব আর নীলা এখন প্রায় প্রতি রাত একসাথে কাটাত। আলাদা ঘরের দরজা খোলা থাকত। তারা একে অপরের বিছানায় শুত। সকালে উঠে একসাথে নাস্তা করত। অফিসে গিয়েও একে অপরকে মেসেজ করত। অর্ণব নীলাকে লিখত, “আজ রাত কী করবে?” নীলা উত্তর দিত, “তোমাকে।”
একদিন অর্ণব হঠাৎ নীলাকে নিয়ে গেল কক্সবাজারে। ব্যবসার কাজের নাম করে। হোটেলের রুমে ঢুকেই তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। জানালার বাইরে সমুদ্র। ভিতরে দুজনের শরীর। অর্ণব নীলাকে বিছানায় শুইয়ে তার পুরো শরীর চুমুতে ভরিয়ে দিল। নীলা কেঁপে উঠল। অর্ণব তার কানে বলল, “আমি তোমাকে চাই। শুধু এক বছরের জন্য নয়।” নীলা তার পিঠে নখ বুলিয়ে দিল। “বোলো না। শুধু নাও।” তারা সেই রাত পুরোটাই একে অপরকে দিল। সকালে সমুদ্রের ধারে হেঁটে বেড়াল। অর্ণব নীলার হাত ধরে রাখল। নীলা তার কাঁধে মাথা রাখল।
ঢাকায় ফিরে এসে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হলো। অর্ণব নীলার জন্য উপহার আনত। নীলা অর্ণবের জন্য রান্না করত। তারা একে অপরের পরিবারের সাথেও সময় কাটাত। কিন্তু চুক্তির কথাটা এখনও মাথায় ঘুরত।
দশ মাস পেরিয়ে গেল। এক রাতে অর্ণব নীলাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “আমি আর ডিভোর্স চাই না।” নীলা চুপ করে রইল। অর্ণব তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি?” নীলা তার চোখে তাকাল। “আমিও চাই না। কিন্তু…” অর্ণব তার ঠোঁট চেপে ধরল। “কোনো কিন্তু নেই।” তারা সেই রাতে এমনভাবে মিলিত হলো যেন সব সন্দেহ মুছে যাচ্ছে। অর্ণব নীলার প্রতিটা শ্বাস নিজের করে নিল। নীলা তার প্রতিটা স্পর্শ অনুভব করল গভীরভাবে।
এগারো মাস পেরিয়ে গেল। দুই পরিবার জানত না যে তারা আসলে একে অপরকে চেয়ে ফেলেছে। ব্যবসার মিটিংয়ে তারা এখন পাশাপাশি বসত। অর্ণব নীলার হাত চেপে ধরত টেবিলের নিচে। নীলা তার পাশে পা রেখে দিত।
একদিন অর্ণব নীলাকে নিয়ে গেল তাদের প্রথম ঝগড়ার জায়গায়—অফিসের করিডোরে। সেখানে দাঁড়িয়ে অর্ণব বলল, “মনে আছে?” নীলা হাসল। “মনে আছে।” অর্ণব তার হাত ধরে বলল, “আজ আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। আবার। কোনো চুক্তি ছাড়া।” নীলা তার গলায় হাত রাখল। “আমিও।”
শেষ মাসে তারা একে অপরকে আরও কাছে টেনে নিল। প্রতি রাত। প্রতি সকাল। অর্ণব নীলার গায়ে শুয়ে তার চুল আঙুলে জড়াত। নীলা তার বুকে আঙুল বুলিয়ে দিত। তারা কথা বলত ভবিষ্যতের কথা। বাচ্চার কথা। একসাথে থাকা বাড়ির কথা।
এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগের রাতে অর্ণব নীলাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “কাল কাগজে সই করব না।” নীলা তার ঠোঁটে চুমু খেল। “করব না।” তারা সেই রাতে এমনভাবে এক হলো যেন আর কোনো দূরত্ব নেই। অর্ণব নীলার শরীরের প্রতিটা অংশ চিনে নিল। নীলা তার প্রতিটা শ্বাস নিজের করে নিল। তারা একে অপরকে বলে দিল যা আগে কখনো বলেনি। ভালোবাসা। প্রয়োজন। চিরকাল।
সকালে দুই পরিবার এল। চুক্তির কাগজ নিয়ে। অর্ণব আর নীলা পাশাপাশি দাঁড়াল। অর্ণব কাগজটা নিয়ে ছিঁড়ে ফেলল। নীলা হাসল। দুই পরিবার অবাক হয়ে তাকাল। অর্ণব বলল, “আমরা থাকব। একসাথে।” নীলা তার হাত ধরে বলল, “হ্যাঁ।”
সেইদিন থেকে আর কোনো আলাদা ঘর নেই। আর কোনো চুক্তি নেই। শুধু অর্ণব আর নীলা। এবং তাদের গভীর, উত্তপ্ত, অবিচ্ছেদ্য ভালোবাসা।
....