ছলনার খেলায় সত্যের জয়

অভি রহমানের মুখে একটা শান্ত হাসি ছিল। সে হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখত আগুন। তার পরিবারের সঙ্গে যা হয়েছিল, সেটা ভুলে যাওয়ার মতো ঘটনা ছিল না। ছয় বছর আগে তার বাবার ব্যবসা ধ্বংস হয়েছিল। জমি-জমা, দোকান, সব চলে গিয়েছিল। লোকে বলেছিল বাজারের লোকসান। কিন্তু অভি জানত সত্যিটা। তূর্ণার বাবা, সেই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, একটা চুক্তিতে ফাঁকি দিয়েছিল। সাক্ষীদের কিনে নিয়েছিল। আদালতেও হেরে গিয়েছিল তারা। অভির বাবা সেই ধাক্কা সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মা চোখের জল মুছতে মুছতে রাত জাগতেন। ছোট বোনের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

এখন অভি ফিরে এসেছে। ঢাকার একটা বড় কোম্পানিতে চাকরি করে কিছু টাকা জমিয়েছে। আর এখন সে এসেছে নিজের শহরে—কুমিল্লায়। তূর্ণার পরিবার এখনো ওই এলাকার বড় লোক। তাদের বাড়ি নদীর ধারে, বড় বাগানঘেরা। অভি ঠিক করেছিল, সে তূর্ণার কাছে ভালো মানুষ সেজে যাবে। আস্তে আস্তে তার পরিবারের ভেতরে ঢুকবে। তারপর সময় বুঝে শিক্ষা দেবে।

তূর্ণাকে সে প্রথম দেখেছিল কলেজের একটা অনুষ্ঠানে। লম্বা চুল, তীক্ষ্ণ চোখ, কথা কম বলে। তার হাঁটার ভঙ্গিতে একটা গর্ব ছিল। অভি ইচ্ছা করেই তার কাছে গিয়েছিল। নিজেকে পরিচয় দিয়েছিল একজন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে, যারা একই এলাকার। তূর্ণা প্রথমে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু অভি ধৈর্য ধরেছিল। প্রতিদিন একটু একটু করে কাছে এসেছিল। কফি অফার করেছিল। বই নিয়ে আলোচনা করেছিল। তূর্ণার পছন্দের গান শুনে মুখস্থ করে এসেছিল।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

এক সন্ধ্যায় তূর্ণার বাড়ির বাগানে তারা বসেছিল। গাছের ছায়ায়। অভি ইচ্ছা করেই নিজের পরিবারের কথা বলেছিল—কীভাবে তারা সংগ্রাম করেছে। তূর্ণা শুনছিল। তার চোখে একটু সহানুভূতি ফুটে উঠেছিল। অভি ভেতরে হেসেছিল। কাজ হচ্ছে।

কিন্তু তূর্ণা এত সহজ ছিল না। একদিন অভি ইচ্ছা করেই তূর্ণার ফোন নম্বর চেয়ে নিয়েছিল একটা অজুহাতে। তারপর রাতে মেসেজ পাঠিয়েছিল। তূর্ণা উত্তর দিয়েছিল, কিন্তু সকালে এসে সরাসরি বলেছিল, “তুমি কাল রাতে আমার বাবার ব্যবসায়িক পার্টনারের নাম উল্লেখ করেছিলে। সেই নাম তুমি কীভাবে জানলে?”

অভি হকচকিয়ে গিয়েছিল। সে ভেবেছিল সে সাবধানে কথা বলেছে। কিন্তু তূর্ণা সব শুনে রেখেছিল। তার চোখে একটা ধারালো হাসি ছিল। “তুমি ভালো মানুষ সেজে এসেছ। কিন্তু তোমার চোখে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে। আমি দেখতে পাই।”

অভি চেষ্টা করেছিল অস্বীকার করার। কিন্তু তূর্ণা আরও কাছে এসেছিল। তার গলায় হালকা সুগন্ধ। “তুমি আমার পরিবারকে শিক্ষা দিতে এসেছ। ঠিক? তাহলে খেলা শুরু হোক।”

সেদিন থেকে তূর্ণা শুরু করেছিল। অভির প্রতিটি পদক্ষেপ সে ধরে ফেলত। অভি যখন তূর্ণার বাবার অফিসে একটা চাকরির প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিল, তূর্ণা আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছিল। অফিসের লোকজন অভিকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছিল। অভি যখন তূর্ণার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিল, তূর্ণা তার ভাইকে বলে দিয়েছিল সাবধান থাকতে।

একদিন অভি তূর্ণাকে কফি পার্লারে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে সে ইচ্ছা করেই তূর্ণার হাত স্পর্শ করেছিল। তূর্ণা হাত সরিয়ে নিয়েছিল। তারপর টেবিলের ওপর ঝুঁকে বলেছিল, “তোমার হাত গরম। কিন্তু তোমার মন ঠান্ডা। তুমি হিসাব করছ। আমিও হিসাব করি।”

অভি রাতে ঘুমাতে পারত না। তূর্ণার কথাগুলো মাথায় ঘুরত। সে ভাবত, মেয়েটা কীভাবে এত তীক্ষ্ণ। প্রতিশোধের পরিকল্পনা ধীরে ধীরে জটিল হয়ে উঠছিল। কারণ তূর্ণা শুধু প্রতিরোধ করছিল না। সে অভিকে জ্বালাচ্ছিল। একদিন অভির গাড়ির চাবি নিয়ে লুকিয়ে রেখেছিল। আরেকদিন অভির ফোনে একটা ফেক মেসেজ পাঠিয়েছিল তার নিজের নম্বর থেকে, যেন অভি অন্য মেয়ের সঙ্গে কথা বলছে। অভি যখন ক্ষিপ্ত হয়ে তূর্ণার বাড়িতে গিয়েছিল, তূর্ণা হেসে বলেছিল, “দেখলে? তুমি কত সহজে উত্তেজিত হও।”

সেই রাতে অভি তূর্ণার মুখের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তার শ্বাস গরম। তূর্ণার চোখেও একই আগুন। “তুমি আমাকে জ্বালাচ্ছ,” অভি বলেছিল।

তূর্ণা হেসেছিল। “আর তুমি আমার পরিবারকে ধ্বংস করতে চাও। আমরা দুজনেই খেলছি।”

অভি সেদিন প্রথমবার তূর্ণার ঠোঁটের দিকে তাকিয়েছিল অনেকক্ষণ। তার ভেতরের প্রতিশোধের আগুনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল অন্য একটা অনুভূতি। সে নিজেকে থামিয়ে রেখেছিল। কিন্তু রাতে ঘুমের মধ্যে তূর্ণার গলার সুগন্ধ, তার চোখের তীক্ষ্ণতা—সব মিশে একটা গভীর আকর্ষণ তৈরি করছিল।

পরের সপ্তাহে অভি তূর্ণার বাবার একটা ব্যবসায়িক মিটিংয়ে গিয়েছিল। সেখানে সে ইচ্ছা করেই কিছু তথ্য ফাঁস করেছিল। কিন্তু তূর্ণা আগে থেকেই জানত। মিটিং শেষে সে অভিকে একপাশে ডেকে বলেছিল, “তোমার পরিকল্পনা আমি জানি। তুমি আমার বাবাকে ফাঁসিয়ে দিতে চাও। কিন্তু আমি তোমাকে ফাঁসিয়ে দেব।”

অভি তার হাত চেপে ধরেছিল। “তুমি কেন এত লড়ছ?”

তূর্ণা তার হাত ছাড়িয়ে নিয়েছিল। “কারণ আমি জানি তুমি কে। আর আমিও সহজ নই।”

সেই রাতে অভি একা বসে ভেবেছিল। তূর্ণার প্রতি তার রাগ মিশে যাচ্ছিল অন্য কিছুতে। তার শরীর তূর্ণার কাছাকাছি থাকলে গরম হয়ে উঠত। তার চোখ তূর্ণার ঠোঁটের দিকে চলে যেত। প্রতিশোধের পরিকল্পনা এখনো আছে। কিন্তু মাঝখানে তূর্ণা এসে দাঁড়িয়েছে। আর তূর্ণা তাকে জ্বালাচ্ছে এমনভাবে যে অভি আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

একদিন তূর্ণা অভিকে তার বাড়ির ছাদে ডেকেছিল। রাতের আকাশ। নদীর বাতাস। তূর্ণা দাঁড়িয়েছিল রেলিংয়ে হেলান দিয়ে। অভি তার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। তূর্ণা হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তাদের মুখ খুব কাছে। “তুমি যদি সত্যিই প্রতিশোধ নিতে চাও,” তূর্ণা ফিসফিস করে বলেছিল, “তাহলে আমাকে ভেঙে দাও। দেখি কতদূর যেতে পারো।”

অভি তার কোমর ধরে টেনে নিয়েছিল। তাদের শরীর লেগেছিল। তূর্ণার শ্বাস তার গলায় পড়ছিল। অভি তার ঠোঁটের কাছাকাছি এসে থেমে গিয়েছিল। “তুমি খেলছ,” সে বলেছিল।

তূর্ণা হেসেছিল। “আর তুমি হেরে যাচ্ছ।”

সেই রাতে অভি প্রথমবার তূর্ণাকে চুমু দিয়েছিল। গভীর, গরম, ক্ষুধার্ত। তূর্ণা প্রতিরোধ করেনি। বরং তার হাত অভির চুলের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল। তাদের শরীর একে অপরের বিরুদ্ধে চেপে ধরেছিল। অভি তূর্ণার গলায় চুমু দিয়েছিল। তূর্ণার নখ তার পিঠে ফেঁসেছিল। রাতের বাতাসে তাদের শ্বাস মিশে গিয়েছিল।

কিন্তু চুমু ভাঙার পর তূর্ণা সরে গিয়েছিল। তার চোখে এখনো সেই তীক্ষ্ণ হাসি। “এটাও খেলার অংশ,” সে বলেছিল। “তুমি ভাবছ আমি নরম হয়ে গেছি। আমি নরম হই না।”

অভি দাঁড়িয়েছিল। তার শরীর এখনো গরম। প্রতিশোধের পরিকল্পনা মাথায় ঘুরছিল। কিন্তু এখন তার ভেতরে অন্য একটা আগুন জ্বলছিল। তূর্ণাকে সে চায়। শুধু প্রতিশোধ নয়। তূর্ণার শরীর, তার কণ্ঠস্বর, তার সেই জ্বালানোর ক্ষমতা—সব কিছু তাকে পাগল করে দিচ্ছে।

সে জানত, খেলা এখনো শেষ হয়নি। তূর্ণা তাকে জ্বালাবে। আর সেও থামবে না। কিন্তু সেই রাতে অভি প্রথমবার ভাবল—হয়তো প্রতিশোধের চেয়ে তূর্ণাই বড় হয়ে উঠছে তার জীবনে।

অভির প্রতিশোধের পরিকল্পনা এখন আর আগের মতো পরিষ্কার ছিল না। তূর্ণার সঙ্গে প্রতিটি দেখায় তার শরীর সাড়া দিত। তূর্ণা জানত এটা। সে ইচ্ছা করেই অভিকে কাছে টানত, তারপর হঠাৎ সরিয়ে দিত। একদিন অভি তূর্ণার অফিসে গিয়েছিল। তূর্ণা সেখানে তার বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করে। অভি ইচ্ছা করেই কিছু কাগজপত্র চেয়েছিল। তূর্ণা তাকে একটা ঘরে নিয়ে গিয়েছিল। দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল।

“এখানে কেউ আসবে না,” তূর্ণা বলেছিল। তার গলায় সেই পরিচিত তীক্ষ্ণ সুর। অভি তার দিকে এগোতে গিয়েছিল। তূর্ণা হাত তুলে থামিয়ে দিয়েছিল। “আগে বলো। তুমি আমার বাবার কী ক্ষতি করতে চাও?”

অভি চুপ করেছিল। তূর্ণা কাছে এসে তার শার্টের বোতাম খুলে দিয়েছিল একটা। তার আঙুল অভির বুক স্পর্শ করেছিল। “বলো। নাহলে আমি থামব না।”

অভি তার কোমর ধরে টেনে নিয়েছিল। “তুমি জানো আমি কী চাই।”

তূর্ণা হেসেছিল। তারপর অভির ঠোঁটে চুমু দিয়েছিল—গরম, গভীর। অভির হাত তার পিঠে চলে গিয়েছিল। তূর্ণার শরীর তার বিরুদ্ধে চেপে ধরেছিল। তাদের শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠেছিল। অভি তূর্ণার গলায় চুমু দিয়েছিল। তূর্ণার হাত তার চুল টেনে ধরেছিল। ঘরের ভেতর বাতাস গরম হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু হঠাৎ তূর্ণা সরে গিয়েছিল। তার চোখে সেই হাসি। “এখনো খেলা চলছে। তুমি যদি সত্যিই প্রতিশোধ নিতে চাও, তাহলে আমাকে ভেঙে ফেলো। দেখি পারো কি না।”

অভি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল। সে তূর্ণাকে আবার টেনে নিয়েছিল। এবার চুমু আরও গভীর ছিল। তাদের জিভ মিশে গিয়েছিল। অভির হাত তূর্ণার কোমরের নিচে চলে গিয়েছিল। তূর্ণা প্রতিরোধ করেনি। বরং তার শরীর আরও কাছে এসেছিল। অভি তূর্ণার কানের পাশে ফিসফিস করে বলেছিল, “তুমি আমাকে পাগল করে দিচ্ছ।”

তূর্ণা তার কানে বলেছিল, “আর তুমি আমার পরিবারকে ধ্বংস করতে চাও। আমরা দুজনেই পাগল।”

সেই দিন থেকে তাদের দেখা আরও ঘন ঘন হয়ে উঠেছিল। তূর্ণা অভিকে তার বাড়ির পুরনো গুদামে নিয়ে যেত। সেখানে কেউ আসত না। অভি তূর্ণাকে দেয়ালে চেপে ধরত। তাদের শরীর একে অপরের বিরুদ্ধে ঘষা খেত। তূর্ণার হাত অভির শার্টের ভেতর ঢুকে যেত। অভির হাত তূর্ণার চুল টেনে ধরত। তারা কথা কম বলত। শুধু শ্বাস আর চুমু আর হাতের স্পর্শ।

এক রাতে তূর্ণা অভির ফ্ল্যাটে এসেছিল। দরজা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভি তাকে তুলে নিয়ে বিছানায় ফেলে দিয়েছিল। তূর্ণার চোখে আগুন। অভি তার শরীরের ওপর ঝুঁকে পড়েছিল। তাদের কাপড় আস্তে আস্তে খুলে যাচ্ছিল। অভির হাত তূর্ণার বুক স্পর্শ করেছিল। তূর্ণার নখ তার পিঠে দাগ কেটে দিয়েছিল। তারা একে অপরকে চেপে ধরেছিল। ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল তাদের শ্বাসে।

অভি তূর্ণার কানে বলেছিল, “আমি তোমাকে চাই। শুধু প্রতিশোধ নয়।”

তূর্ণা তার ঠোঁট চেপে ধরেছিল। “তাহলে নাও। কিন্তু জেনে রেখো—আমি সহজে হার মানব না।”

সেই রাতে তাদের শরীর মিশে গিয়েছিল। গভীর, গরম, ক্ষুধার্ত। অভি তূর্ণার প্রতিটি অঙ্গ স্পর্শ করেছিল। তূর্ণা তার প্রতিটি স্পর্শে সাড়া দিয়েছিল। তাদের শ্বাস এক হয়ে গিয়েছিল। রাত গভীর হয়েছিল। তারা একে অপরের বাহুতে শুয়েছিল। কিন্তু সকালে তূর্ণা উঠে দাঁড়িয়েছিল। তার চোখে আবার সেই তীক্ষ্ণতা। “এটাও খেলার অংশ। তুমি এখনো আমার পরিবারকে শিক্ষা দিতে চাও। আমি জানি।”

অভি উঠে বসেছিল। “তুমি কেন এত লড়ছ? তুমি জানো আমি তোমাকে চাই।”

তূর্ণা হেসেছিল। “কারণ আমি জানি তোমার আসল উদ্দেশ্য। আর আমিও আমার পরিবারকে রক্ষা করব।”

সেদিন অভি প্রথমবার ভাবল—হয়তো তূর্ণা সত্যিই কিছু জানে। সে তদন্ত শুরু করেছিল। পুরনো কাগজপত্র ঘাঁটতে শুরু করেছিল। তার বাবার ব্যবসার নথি। তূর্ণার বাবার নাম অনেক জায়গায়। কিন্তু একটা জায়গায় অন্য একটা নামও ছিল—তূর্ণার চাচা। সেই চাচাই আসলে চুক্তিতে ফাঁকি দিয়েছিল। সাক্ষীদের কিনেছিল। তূর্ণার বাবা হয়তো জানত না সবকিছু।

অভি এখনো নিশ্চিত ছিল না। সে তূর্ণাকে জিজ্ঞেস করতে চায়নি। কারণ তূর্ণা হয়তো আবার তাকে জ্বালাবে। কিন্তু প্রতিশোধের আগুন এখন আর আগের মতো জ্বলছিল না। তূর্ণার শরীর, তার চোখ, তার সেই জ্বালানোর ক্ষমতা—সব কিছু তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল অন্য জায়গায়।

একদিন তূর্ণা অভিকে নদীর ধারে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে তারা বসেছিল। তূর্ণা হঠাৎ অভির হাত ধরেছিল। “তুমি এখনো ভাবছ আমি দায়ী। তাই না?”

অভি চুপ করেছিল। তূর্ণা তার মুখের দিকে তাকিয়েছিল। “আমি জানি তোমার পরিবারের সঙ্গে কী হয়েছিল। কিন্তু আমি সেখানে ছিলাম না। আমি তখন ছোটো।”

অভি তার হাত চেপে ধরেছিল। “তাহলে কেন তুমি আমাকে জ্বালাচ্ছ?”

তূর্ণা হেসেছিল। “কারণ তুমি আমার কাছে ভালো মানুষ সেজে এসেছিলে। আমি চাইনি তুমি সহজে জয়ী হও। আর...” সে থেমে গিয়েছিল। তার চোখে অন্য একটা আলো। “আর আমিও তোমাকে চাই। কিন্তু আমি সহজে হার মানব না।”

অভি তাকে টেনে নিয়েছিল। তাদের চুমু এবার আরও গভীর ছিল। নদীর বাতাসে তাদের শরীর কাছাকাছি। অভির হাত তূর্ণার কোমরে। তূর্ণার হাত তার গলায়। তারা একে অপরকে চেপে ধরেছিল। সেই মুহূর্তে প্রতিশোধের কথা ভুলে গিয়েছিল অভি। শুধু তূর্ণা। তার গরম শরীর। তার শ্বাস। তার সেই তীক্ষ্ণ হাসি যা এখন নরম হয়ে আসছে।

কিন্তু খেলা এখনো শেষ হয়নি। তূর্ণা আবার সরে গিয়েছিল। “আগে সত্যিটা জানো। তারপর এসো।”

অভি জানত, সে এখন আর শুধু প্রতিশোধ নিতে চায় না। সে তূর্ণাকে চায়। পুরোপুরি। গভীরভাবে। আর তূর্ণাও তাকে জ্বালাচ্ছে এমনভাবে যে সে আর ফিরে যেতে পারছে না।

অভি পুরনো নথিপত্র নিয়ে বসেছিল সারারাত। তূর্ণার চাচার নাম স্পষ্ট। সেই চাচাই ব্যবসায়িক চুক্তিতে ফাঁকি দিয়েছিল। তূর্ণার বাবা হয়তো পরে জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু তূর্ণা তখন স্কুলে পড়ত। সে দায়ী ছিল না। অভি সেই সত্যি জানার পর প্রথমবার নিজেকে দুর্বল মনে করেছিল। সে তূর্ণাকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। আর তূর্ণা তাকে জ্বালিয়েছিল। কিন্তু এখন সে জানে—তূর্ণা নির্দোষ।

সে তূর্ণার বাড়িতে গিয়েছিল। তূর্ণা ছাদে দাঁড়িয়েছিল। অভি তার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। “আমি জানি,” সে বলেছিল। “তুমি দায়ী নও। তোমার চাচা...”

তূর্ণা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তার চোখে কোনো বিস্ময় ছিল না। “আমি জানতাম তুমি একদিন জানবে। তাই আমি তোমাকে জ্বালিয়েছি। যাতে তুমি সহজে আমাকে ব্যবহার করতে না পারো।”

অভি তার হাত ধরেছিল। “আমি তোমাকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম। ক্ষমা চাই।”

তূর্ণা হেসেছিল। সেই তীক্ষ্ণ হাসি এখন নরম। “আমিও তোমাকে জ্বালিয়েছি। আমরা দুজনেই খেলেছি।”

অভি তাকে টেনে নিয়েছিল। তাদের চুমু এবার আর কোনো খেলার অংশ ছিল না। গভীর, সত্যি, গরম। অভির হাত তূর্ণার চুলে। তূর্ণার হাত তার পিঠে। তারা একে অপরকে চেপে ধরেছিল যেন আর ছাড়তে চায় না। ছাদের বাতাসে তাদের শ্বাস মিশে গিয়েছিল।

তূর্ণা অভির কানে বলেছিল, “এবার খেলা শেষ। এখন শুধু আমরা।”

অভি তাকে তুলে নিয়েছিল। তূর্ণার বাড়ির একটা খালি ঘরে নিয়ে গিয়েছিল। দরজা বন্ধ। অভি তূর্ণাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়েছিল। তাদের কাপড় খুলে গিয়েছিল আস্তে আস্তে। অভির হাত তূর্ণার প্রতিটি অঙ্গ স্পর্শ করেছিল। তূর্ণার শরীর তার স্পর্শে কাঁপছিল। অভি তূর্ণার গলায়, বুকে, কোমরে চুমু দিয়েছিল। তূর্ণার নখ তার পিঠে দাগ কেটে দিয়েছিল। তাদের শরীর মিশে গিয়েছিল। গভীর, ধীর, গরম। অভি তূর্ণার চোখের দিকে তাকিয়েছিল। তূর্ণার চোখে এখন আর সেই তীক্ষ্ণতা নেই। শুধু আগুন। শুধু চাওয়া।

তারা একে অপরকে চেপে ধরেছিল। শ্বাস এক হয়ে গিয়েছিল। রাত গভীর হয়েছিল। তারা একে অপরের বাহুতে শুয়েছিল। অভি তূর্ণার চুলে হাত বুলিয়েছিল। “আমি তোমাকে চাই। শুধু এখন নয়। সবসময়।”

তূর্ণা তার বুকে মাথা রেখেছিল। “আমিও। কিন্তু মনে রেখো—আমি এখনো তোমাকে জ্বালাতে পারি।”

অভি হেসেছিল। “তাহলে জ্বালাও। আমি থামব না।”

পরের দিনগুলোতে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে উঠেছিল। অভি তূর্ণার বাবার সঙ্গে কথা বলেছিল। পুরনো বিষয় নিয়ে। তূর্ণার বাবা স্বীকার করেছিল—চাচার কাজের জন্য তারাও লজ্জিত। অভি ক্ষমা চেয়েছিল। তূর্ণার পরিবারও। প্রতিশোধের আগুন নিভে গিয়েছিল। তার জায়গায় জ্বলে উঠেছিল অন্য আগুন—তূর্ণার জন্য।

এক রাতে তূর্ণা অভির ফ্ল্যাটে এসেছিল। তারা কথা বলেছিল কম। শুধু স্পর্শ। অভি তূর্ণাকে দেয়ালে চেপে ধরেছিল। তাদের চুমু গভীর। অভির হাত তূর্ণার উরুতে। তূর্ণার হাত তার চুলে। তারা বিছানায় গড়িয়ে পড়েছিল। অভি তূর্ণার শরীরের প্রতিটি অংশ চুমু দিয়েছিল। তূর্ণা তার নাম ধরে ডেকেছিল। তাদের শরীর এক হয়ে গিয়েছিল। ঘরের বাতাস ভারী। তাদের শ্বাস দ্রুত। অভি তূর্ণার চোখের দিকে তাকিয়েছিল যখন তারা চূড়ান্ত মুহূর্তে পৌঁছেছিল। তূর্ণার চোখে শুধু সে।

পরে তারা একে অপরের বাহুতে শুয়েছিল। তূর্ণা অভির বুকে আঙুল বুলিয়েছিল। “তুমি যখন প্রথম এসেছিলে, আমি জানতাম তুমি প্রতিশোধ নিতে এসেছ। তাই আমি তোমাকে জ্বালিয়েছি। যাতে তুমি আমাকে সহজে না পাও।”

অভি তার হাত ধরেছিল। “এখন পেয়েছি। আর ছাড়ব না।”

তূর্ণা হেসেছিল। “তাহলে দেখি। আমি এখনো তোমাকে নানাভাবে জ্বালাতে পারি।”

অভি তাকে টেনে নিয়ে আবার চুমু দিয়েছিল। গরম। গভীর। তাদের শরীর আবার কাছাকাছি এসেছিল। রাত আরও গভীর হয়েছিল। তারা জানত—প্রতিশোধ শেষ। এখন শুরু হয়েছে অন্য কিছু। গভীর। গরম। সত্যি।

কুমিল্লার নদীর ধারে, সেই বাগানঘেরা বাড়িতে, অভি আর তূর্ণা একে অপরকে পেয়েছিল। আর কোনো খেলা নেই। শুধু তারা। আর তাদের সেই আগুন, যা কখনো নিভবে না।

....
👁 17