ভুয়া সম্পর্কের সত্যি পরিণতি

ঢাকার ব্যস্ত মিরপুরে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে অর্পিতা আর রাফি পাশাপাশি বসে কাজ করত। অর্পিতা চুপচাপ, সিরিয়াস টাইপের মেয়ে। রাফি একটু অন্যরকম—হাসিখুশি, সবসময় কোনো না কোনো মজার কথা বলার অভ্যাস আছে। দুজনের বয়স কাছাকাছি, দুজনই বিশের কোঠায়।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

এক শুক্রবার সন্ধ্যায় অফিস শেষে অর্পিতা রাফির ডেস্কের কাছে এসে দাঁড়াল। চোখে একটা অস্থিরতা।

“রাফি, একটু কথা আছে।”

¦Ëk¢x/춺'ƒú

রাফি ল্যাপটপ বন্ধ করে তাকাল। “বলো।”

অর্পিতা একটু ইতস্তত করে বলল, “আমার বাড়িতে বিয়ের চাপ বাড়ছে। মা-বাবা প্রায়ই বলছে, এখন আর দেরি করা যাবে না। আমি... আমি চাই না এখনই বিয়ে করি। তাই ভেবেছি, যদি কেউ বাগদত্তা সেজে বাড়িতে যায়, তাহলে কিছুদিন সময় পাব।”

রাফি হাসল। “আর সেই কেউ আমি?”

অর্পিতা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। “তুমি যদি রাজি থাকো... শুধু দু-তিন মাস। তারপর আমি নিজে থেকেই বলে দেব যে ঠিক হয়নি।”

রাফি চেয়ারে হেলান দিয়ে বলল, “শর্ত আছে। আমি রাজি, কিন্তু তোমাকে আমার সব কথা শুনতে হবে। আর... পরিবারের সামনে আমি যা করব, তুমি আপত্তি করতে পারবে না।”

অর্পিতা একটু থতমত খেল। তারপর ধীরে বলল, “ঠিক আছে।”

পরের শনিবার সকালে রাফি অর্পিতার বাড়িতে গেল। উত্তরার একটা ফ্ল্যাটে। অর্পিতার বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা, মা ঘর সংসার সামলান। ছোট ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।

রাফি ঢোকার পর অর্পিতার মা হাসিমুখে বলল, “এসো বাবা, বসো।”

রাফি খুব নম্রভাবে বসল। অর্পিতার পাশে। তার হাতটা হালকা করে অর্পিতার হাতের ওপর রাখল। অর্পিতা চমকে গেল, কিন্তু কিছু বলল না।

খাবারের সময় রাফি অর্পিতার থালায় নিজে হাতে মাছের টুকরো দিয়ে দিল। “এই অংশটা তোমার পছন্দের, তাই না?”

অর্পিতার মা খুশি হয়ে বলল, “দেখো, কী যত্ন করে।”

রাফি হাসল। “আমি সবসময় যত্ন করি।” তারপর অর্পিতার দিকে তাকিয়ে চোখ পিটপিট করল।

বাড়ি থেকে বেরোনোর পর গাড়িতে উঠে রাফি বলল, “কী মজা লাগল না?”

অর্পিতা রাগ করে বলল, “তুমি অতিরিক্ত করে ফেললে।”

রাফি গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে হাসল। “আমি তো শুধু অভিনয় করছি। তুমিই তো বলেছ আপত্তি করতে পারবে না।”

পরের সপ্তাহগুলোতে রাফি প্রায়ই অর্পিতার বাড়িতে যেত। কখনো ফুল নিয়ে, কখনো মিষ্টি। পরিবারের সামনে সে এমন যত্নশীল হয়ে উঠল যে অর্পিতার মা প্রায়ই বলত, “এমন ছেলে আর পাওয়া যাবে না।”

কিন্তু একা পেলেই রাফির অন্য রূপ বেরিয়ে আসত।

একদিন অফিসের স্টোর রুমে দুজন একা। রাফি পেছন থেকে এসে অর্পিতার কোমর জড়িয়ে ধরল।

“কী করছ?” অর্পিতা ফিসফিস করে বলল।

রাফি তার কানে নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “অভিনয় প্র্যাকটিস। বাড়িতে যখন হাত ধরব, তখন যেন স্বাভাবিক লাগে।”

তার হাতটা আস্তে আস্তে অর্পিতার পেটের দিকে নামল। অর্পিতার শরীর শিরশির করে উঠল। সে রাফির হাত সরিয়ে দিতে চাইল, কিন্তু রাফি আরেকটু শক্ত করে ধরল।

“তুমি ভয় পাচ্ছ না তো?” রাফি জিজ্ঞেস করল।

অর্পিতা মাথা নেড়ে না জানাল। তার গলা শুকিয়ে গিয়েছিল।

রাফি তাকে ঘুরিয়ে সামনে দাঁড় করাল। দুজনের চোখাচোখি। রাফির চোখে একটা গভীর আগুন। সে অর্পিতার ঠোঁটের কাছে মুখ নিয়ে এল, কিন্তু চুমু দিল না। শুধু ফিসফিস করে বলল, “তুমি জানো, আমি কতদিন ধরে তোমাকে দেখছি?”

অর্পিতা হঠাৎ সরে গেল। “যাও, বাইরে যাই।”

সেই রাত থেকে অর্পিতার ঘুম ভাঙতে লাগল। রাফির হাতের ছোঁয়া, তার কণ্ঠস্বর—সবকিছু মনে পড়তে লাগল। সে নিজেও বুঝতে পারছিল, অভিনয়ের সীমানা পেরিয়ে যাচ্ছে।

এক সন্ধ্যায় রাফি অর্পিতাকে নিয়ে গুলশানের একটা রেস্টুরেন্টে গেল। খাবার শেষে সে অর্পিতার হাত দুটো নিজের হাতে নিয়ে বলল, “তোমার হাত কেমন নরম।”

অর্পিতা হাত সরাতে চাইল। রাফি ছাড়ল না। তার বুড়ো আঙুল দিয়ে অর্পিতার হাতের তালুতে আলতো করে ঘষতে লাগল।

“রাফি...”

“হ্যাঁ?”

“এটা অভিনয় না।”

রাফি হাসল। “আমি জানি। কিন্তু তুমি কি চাও যে আমি থামি?”

অর্পিতা কিছু বলল না। তার বুকের ভেতর দুরুদুরু করছিল। রাফি তার হাত ছেড়ে দিয়ে টেবিলের ওপর ঝুঁকে পড়ল। দুজনের মুখ খুব কাছে।

“বলো, থামব?”

অর্পিতা ধীরে মাথা নেড়ে না জানাল।

রাফি তার ঠোঁটে হালকা চুমু দিল। শুধু এক সেকেন্ডের জন্য। তারপর পেছনে সরে গিয়ে বলল, “এবার বাড়ি চলো। কাল তোমার বাবা-মায়ের সামনে আরেকটু যত্ন দেখাতে হবে।”

গাড়িতে ফেরার পথে রাফি অর্পিতার উরুতে হাত রাখল। অর্পিতা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল। তার শরীর গরম হয়ে উঠেছিল। রাফির আঙুলগুলো আস্তে আস্তে তার পোশাকের ওপর দিয়ে ঘুরছিল।

বাসায় পৌঁছে রাফি গাড়ি থেকে নামল না। শুধু বলল, “রাতটা ভালো কাটাও। স্বপ্নে যদি আমি আসি, তাহলে জেগে উঠো না।”

অর্পিতা দরজা খুলে বাসার ভেতর ঢুকল। তার মনটা অস্থির। সে জানত, এটা শুধু অভিনয় নয় আর। রাফি তাকে জ্বালাচ্ছে, আর সে সেই জ্বালায় জ্বলতে শুরু করেছে।

পরের দিন অফিসে রাফি আবার এসে তার চেয়ারের পেছনে দাঁড়াল। সবাই ব্যস্ত। রাফি নিচু হয়ে অর্পিতার কানে বলল, “কাল রাতে তোমার শরীর মনে পড়ছিল।”

অর্পিতা কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে রইল। তার গাল লাল হয়ে গেল।

রাফি হাসল। “অভিনয় চালিয়ে যাও। আমিও যাচ্ছি।”

সে চলে গেল। অর্পিতা চেয়ারে বসে রইল। তার মনে হচ্ছিল, রাফি যেন ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে ফেলছে। আর সে নিজেও সেই ফাঁদে পা দিয়ে দিচ্ছে।

বাসায় ফিরে অর্পিতা আয়নার সামনে দাঁড়াল। নিজের মুখ দেখল। চোখে একটা নতুন আলো। সে ফিসফিস করে বলল, “এটা ঠিক হচ্ছে না।”

কিন্তু তারপরও সে রাফির ফোনের অপেক্ষায় রইল।

রাত বারোটার দিকে রাফির মেসেজ এল।

“ঘুমাচ্ছ?”

অর্পিতা উত্তর দিল, “না।”

রাফি লিখল, “তাহলে আমাকে ভাবো। আমিও তোমাকে ভাবছি। তোমার ঠোঁট, তোমার গলার গর্ত, তোমার কোমর...”

অর্পিতা ফোনটা বালিশের নিচে রেখে চোখ বন্ধ করল। তার শরীর কেঁপে উঠল। রাফির কথাগুলো যেন তার চামড়ার ওপর দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে।

সে জানত, এই অভিনয় আর বেশিদিন চলবে না। কোনো একদিন সব ভেঙে পড়বে। কিন্তু এখনো সে থামতে চাইছিল না।

পরের সপ্তাহে রাফি আবার বাড়িতে এল। এবার অর্পিতার বাবা তাকে ডেকে নিয়ে গেল বসার ঘরে।

“তোমরা কবে বিয়ে করবে?” বাবা সোজাসুজি জিজ্ঞেস করল।

রাফি অর্পিতার দিকে তাকাল। অর্পিতা চুপ। রাফি হাসিমুখে বলল, “শীঘ্রই। অর্পিতা চাইলে আগামী মাসেই।”

অর্পিতা চমকে গেল। বাবা খুশি হয়ে হাত মেলায়।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে অর্পিতা রাগ করে বলল, “তুমি কী বললে?”

রাফি গাড়ির দরজা খুলে বলল, “অভিনয়। মনে নেই?”

তারপর হঠাৎ অর্পিতাকে গাড়ির ভেতর টেনে নিল। দরজা বন্ধ করে তাকে চুমু দিল। গভীর, লম্বা চুমু। অর্পিতা প্রথমে বাধা দিতে চাইল, তারপর আঁকড়ে ধরল।

রাফির হাত তার চুলের ভেতর ঢুকে গেল। অর্পিতার নিঃশ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। দুজনের শরীর গাড়ির সীটের ওপর জড়িয়ে গেল।

রাফি তার গলায় চুমু দিতে দিতে বলল, “তুমি জানো না আমি কতদিন ধরে এটা চেয়েছি।”

অর্পিতা চোখ বন্ধ করে তার কথা শুনল। তার মনে হচ্ছিল, সে ডুবে যাচ্ছে।

সেই রাতটা দীর্ঘ হয়ে গেল। রাফি তাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে চলে গেল। অর্পিতা বিছানায় শুয়ে রাফির গন্ধ মনে করতে লাগল। তার শরীর এখনো গরম।

সে বুঝতে পারছিল, অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে সে সত্যিই রাফিকে ভালোবাসতে শুরু করেছে। আর রাফিও যেন তাকে শুধু জ্বালাচ্ছে না—সে তাকে পুরোপুরি দাবি করতে চাইছে।

পরের দিনগুলোতে দুজনের মধ্যে দূরত্ব কমে আসতে লাগল। অফিসে চুপিচুপি হাত ধরা, স্টোর রুমে চুমু, গাড়িতে আরও বেশি কিছু। রাফি কখনো কখনো অর্পিতার কানে বলত, “তুমি আমার। শুধু অভিনয় নয়।”

অর্পিতা উত্তর দিত না। শুধু তার হাত শক্ত করে ধরে রাখত।

একদিন অর্পিতার মা ফোন করে বলল, “বিয়ের তারিখ ঠিক করে ফেলো। আমরা অপেক্ষা করতে পারছি না।”

অর্পিতা রাফিকে জানাল। রাফি শুধু হাসল। “তাহলে ঠিক করে ফেলি।”

অর্পিতা বুঝতে পারল না, রাফি আসলে কী চায়। কিন্তু তার মনটা বলছিল, যাই হোক না কেন, সে আর পেছনে ফিরতে চায় না।

রাফির চোখে যে আগুন দেখত, সেই আগুনে সে নিজেও জ্বলতে শুরু করেছিল। আর সেই জ্বালা মিটছিল না।

বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে গেল পরের মাসের পনেরো তারিখ। অর্পিতার বাড়িতে উৎসবের আমেজ। মা নতুন শাড়ি কিনতে গেলেন, বাবা আত্মীয়স্বজনকে ফোন করতে লাগলেন।

রাফি প্রায় প্রতিদিনই বাড়িতে আসত। পরিবারের সামনে সে এত যত্নশীল হয়ে উঠেছিল যে অর্পিতার ছোট ভাইও বলত, “ভাবী, তোমার ভাগ্য ভালো।”

কিন্তু রাতে, যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ত, রাফি অর্পিতাকে নিয়ে ছাদে যেত। ছাদের এক কোণে দুজন বসত। রাফি অর্পিতার কাঁধে মাথা রেখে বলত, “আমার মনে হয়, আমি তোমাকে অনেকদিন ধরে চিনি।”

অর্পিতা হাসত। “অফিসে তো মাত্র দেড় বছর হলো।”

রাফি মাথা নেড়ে বলত, “তার আগেও।”

অর্পিতা আর কিছু জিজ্ঞেস করত না। কারণ রাফি যখন এভাবে কথা বলত, তার গলার স্বরটা এমন হয়ে যেত যে অর্পিতার শরীর কেঁপে উঠত।

এক রাতে ছাদে রাফি অর্পিতাকে তার কোলে বসাল। দুজনের শরীর লেগে গেল। রাফির হাত অর্পিতার পিঠে ঘুরতে লাগল। আস্তে আস্তে নিচে নামল।

“রাফি...” অর্পিতা ফিসফিস করল।

“চুপ করো।” রাফি তার গলায় চুমু দিল। “আজ আর কেউ নেই।”

তার হাত অর্পিতার শাড়ির ভাঁজের ভেতর ঢুকে গেল। অর্পিতার নিঃশ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। রাফি তার কানে বলল, “তুমি কত নরম। আমি প্রতি রাত তোমার কথা ভেবে কাটাই।”

অর্পিতা তার ঘাড় জড়িয়ে ধরল। রাফির ঠোঁট তার গলার নিচে নেমে এল। শাড়ির ওপর দিয়ে তার হাত ঘুরতে লাগল। অর্পিতার শরীর কাঁপছিল। রাফি তাকে আরেকটু কাছে টানল। দুজনের বুক লেগে গেল।

সেই রাতে তারা অনেকক্ষণ ছাদে কাটাল। রাফি অর্পিতার শরীরের প্রতিটি অংশ আস্তে আস্তে ছুঁয়ে দেখল। অর্পিতাও সাহস করে রাফির শার্টের বোতাম খুলল। তার বুকের লোমশ চামড়ায় হাত বুলিয়ে দিল।

রাফি গভীর নিঃশ্বাস ফেলল। “তুমি আমাকে পাগল করে দিচ্ছ।”

অর্পিতা তার চোখে তাকাল। “তুমিও।”

তারা চুমু খেল। লম্বা, গভীর চুমু। রাফির জিভ অর্পিতার মুখে ঢুকে গেল। অর্পিতা তার চুল টেনে ধরল। দুজনের শরীর এক হয়ে গেল।

পরের দিন অফিসে দুজন আর আগের মতো থাকতে পারল না। প্রতিটি নজর, প্রতিটি স্পর্শ যেন আগুন। স্টোর রুমে একবার ঢুকে রাফি অর্পিতাকে দেয়ালে ঠেস দিয়ে চুমু দিল। তার হাত অর্পিতার উরুতে উঠে গেল।

“কাল রাতে...” রাফি ফিসফিস করল।

অর্পিতা তার ঠোঁট চেপে ধরল। “আর কিছু বোলো না।”

বিয়ের আগের সপ্তাহে রাফি অর্পিতাকে নিয়ে কক্সবাজার গেল। দুদিনের ছুটি। অর্পিতার বাবা-মা খুশি হয়ে পাঠিয়ে দিল।

হোটেলের ঘরে ঢোকার পর রাফি দরজা বন্ধ করে অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরল। “আজ আর কেউ নেই। পুরো রাত তোমার।”

অর্পিতা তার শার্ট খুলে ফেলল। রাফি তার শাড়ি খুলতে লাগল। একটু একটু করে। প্রতিটি ইঞ্চি চুমু দিয়ে। অর্পিতার শরীর কাঁপছিল। রাফি তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। তারপর নিজেও শুয়ে পড়ল।

সেই রাতটা দীর্ঘ হয়ে গেল। দুজনের শরীর বারবার জড়িয়ে গেল। রাফি অর্পিতার প্রতিটি অঙ্গে চুমু দিল। অর্পিতাও সাহস করে রাফির শরীর ছুঁয়ে দেখল। তাদের নিঃশ্বাস মিশে গেল। ঘামে ভিজে গেল চাদর।

ভোরে রাফি অর্পিতার চুল সরিয়ে বলল, “তুমি আমার হয়ে গেছ।”

অর্পিতা তার বুকে মাথা রেখে বলল, “আমিও।”

কক্সবাজার থেকে ফিরে অর্পিতার মন আরও অস্থির হয়ে উঠল। বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসছে। সে জানত, এটা অভিনয় দিয়ে শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখন সব সত্যি।

একদিন রাতে রাফি ফোন করে বলল, “কাল তোমার বাড়িতে যাব। তোমার মায়ের সাথে কথা বলে বিয়ের সবকিছু ফাইনাল করব।”

অর্পিতা বলল, “রাফি... তুমি কি সত্যিই বিয়ে করতে চাও?”

রাফি চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, “আমি তোমাকে চাই। বাকিটা পরে।”

অর্পিতা ফোন রেখে দিল। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সে জানত না, আনন্দ না ভয়।

পরের দিন রাফি বাড়িতে এল। মায়ের সাথে বসে সব আলোচনা করল। বিয়ের জামাকাপড়, অতিথি, সব। অর্পিতা দূর থেকে দেখছিল। রাফি মাঝে মাঝে তার দিকে তাকিয়ে হাসি দিত। সেই হাসি দেখে অর্পিতার বুক কেঁপে উঠত।

রাতের খাবারের পর রাফি অর্পিতাকে নিয়ে বেরিয়ে গেল। গাড়িতে উঠে সে অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরল।

“তুমি ভয় পাচ্ছ?”

অর্পিতা মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানাল।

রাফি তার কপালে চুমু দিয়ে বলল, “ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি আছি।”

তার হাত আবার অর্পিতার শরীরে ঘুরতে লাগল। গাড়ির অন্ধকারে দুজন আবার জড়িয়ে গেল। রাফি অর্পিতার পোশাকের ভেতর হাত ঢুকিয়ে দিল। অর্পিতা কাঁপতে কাঁপতে তার নাম ডাকল।

সেই রাতে তারা অনেক দূর গেল। রাফি অর্পিতাকে সম্পূর্ণ দাবি করে নিল। অর্পিতাও নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দিল। দুজনের শরীর এক হয়ে গেল। ঘাম, নিঃশ্বাস, চুমু—সব মিশে গেল।

ফিরে এসে অর্পিতা বাসায় ঢুকল। মা জিজ্ঞেস করল, “কেমন কাটল?”

অর্পিতা শুধু হাসল। “ভালো।”

রাত জেগে সে ভাবল। রাফি কীভাবে এত সহজে তার জীবনে ঢুকে পড়ল। অভিনয় দিয়ে শুরু, এখন সব সত্যি। আর বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসছে।

পরের কয়েকদিনে দুজন প্রায়ই দেখা করত। অফিসে, গাড়িতে, হোটেলে। প্রতিটি দেখায় তাদের শরীর আরও কাছে চলে আসত। রাফি অর্পিতাকে বলত, “তুমি আমার নেশা।”

অর্পিতা উত্তর দিত, “তুমি আমার পাপ।”

তারা হাসত। তারপর আবার জড়িয়ে ধরত।

বিয়ের তিন দিন আগে রাফি অর্পিতাকে নিয়ে একটা নীরব জায়গায় গেল। সেখানে সে অর্পিতার হাতে একটা আংটি পরিয়ে দিল।

“এটা আমার।”

অর্পিতা আংটি দেখে বলল, “এটা কি অভিনয়?”

রাফি মাথা নেড়ে না জানাল। “না। এটা সত্যি।”

অর্পিতা তার গলা জড়িয়ে ধরল। দুজন অনেকক্ষণ জড়িয়ে রইল। রাফির হাত অর্পিতার পিঠে ঘুরছিল। অর্পিতার হাত রাফির চুলে।

সেই রাতে তারা আবার এক হয়ে গেল। এবার আরও গভীর। রাফি অর্পিতার চোখে তাকিয়ে বলল, “আমি তোমাকে হারাতে চাই না।”

অর্পিতা তার ঠোঁটে আঙুল রেখে বলল, “হারাতে দিব না।”

বিয়ের আগের রাতে অর্পিতা ঘুমাতে পারল না। তার মনে হচ্ছিল, কাল সবকিছু বদলে যাবে। রাফি কী বলবে, কী করবে—কিছুই জানা নেই। কিন্তু একটা জিনিস সে জানত। সে রাফিকে ভালোবাসে। গভীরভাবে। আর সেই ভালোবাসায় তার শরীরও জড়িয়ে আছে।

রাতের শেষ প্রহরে রাফির মেসেজ এল।

“কাল তোমাকে আমার করব। পুরোপুরি।”

অর্পিতা উত্তর দিল, “আমি অপেক্ষায় আছি।”

সে চোখ বন্ধ করল। রাফির গন্ধ, তার স্পর্শ, তার কণ্ঠস্বর—সব মনে পড়তে লাগল। তার শরীর আবার গরম হয়ে উঠল। সে জানত, কাল আর অভিনয় থাকবে না। সব সত্যি হয়ে যাবে।

বিয়ের দিন সকাল থেকেই বাড়ি উৎসবে মেতে উঠল। অর্পিতাকে সাজাতে শুরু করল মা আর আত্মীয়রা। লাল জামা, গহনা, চুল বাঁধা। অর্পিতা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখল। তার চোখে একটা অস্থিরতা।

রাফি সকালে ফোন করে বলল, “আমি আসছি। সব ঠিক আছে।”

অর্পিতা শুধু বলল, “হ্যাঁ।”

দুপুরের দিকে রাফি এল। সাদা পাঞ্জাবি পরে। তার চোখে একটা গভীর দৃষ্টি। অর্পিতার দিকে তাকিয়ে সে হাসল। অর্পিতার বুক কেঁপে উঠল।

অতিথিরা আসতে লাগল। খাবার, গল্প, হাসি। রাফি অর্পিতার পাশে বসল। তার হাত অর্পিতার হাতের ওপর রাখল। সবাই দেখল, খুশি হল।

বিকেলের দিকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হল। মসজিদের ইমাম এলেন। সবাই জড়ো হল। অর্পিতা আর রাফি সামনে বসল।

ইমাম প্রশ্ন করতে লাগলেন। রাফি স্পষ্ট গলায় সম্মতি দিল। অর্পিতাও দিল।

তারপর ইমাম দোয়া পড়লেন। সবাই আমিন বলল।

বিয়ে হয়ে গেল।

অতিথিরা অভিনন্দন জানাতে লাগল। অর্পিতার মা কেঁদে ফেলল। বাবা রাফির পিঠ চাপড়ে বলল, “এবার তোমাদের দেখার দায়িত্ব তোমার।”

রাফি মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

সন্ধ্যায় অতিথিরা চলে যেতে লাগল। বাড়িতে শুধু পরিবার আর কয়েকজন কাছের লোক। রাফি অর্পিতাকে নিয়ে উপরের ঘরে গেল। দরজা বন্ধ করে দিল।

অর্পিতা জানালার পাশে দাঁড়িয়েছিল। রাফি পেছন থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরল।

“এখন তুমি আমার।”

অর্পিতা ঘুরে তাকাল। “তুমি কী বলতে চেয়েছিলে?”

রাফি তার চুল সরিয়ে বলল, “মনে আছে, তুমি বলেছিলে অভিনয়? আমি বলেছিলাম, আমি তোমাকে আগে থেকে চিনি।”

অর্পিতা চুপ করে রইল।

রাফি তাকে বিছানায় বসাল। নিজেও বসল। তার হাত অর্পিতার হাতে।

“পাঁচ বছর আগে। তুমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে। আমি একটা ইভেন্টে গিয়েছিলাম। সেখানে তোমাকে দেখেছিলাম। তুমি মঞ্চে কথা বলছিলে। তোমার গলা, তোমার হাসি... আমি সেদিন থেকে তোমাকে মনে রেখেছি। পরে অফিসে যোগ দিয়ে দেখলাম, তুমিই সেই মেয়ে। আমি অপেক্ষা করেছি। যখন তুমি বাগদত্তা সাজতে বললে, আমি সুযোগ নিলাম। কারণ আমি জানতাম, এভাবেই তোমাকে পাব।”

অর্পিতার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। “তুমি এতদিন চুপ করেছিলে?”

রাফি তার গাল মুছে দিল। “কারণ আমি চাইনি তুমি ভয় পাও। আমি চেয়েছি তুমি নিজে থেকে আমার কাছে আসো। আর তুমি এসেছ।”

অর্পিতা তার গলা জড়িয়ে ধরল। “আমি ভয় পাইনি। আমি তোমাকে চেয়েছি।”

রাফি তাকে চুমু দিল। গভীর চুমু। তারপর তার জামার বোতাম খুলতে লাগল। অর্পিতাও রাফির পাঞ্জাবি খুলে ফেলল। দুজনের শরীর আবার এক হয়ে গেল।

রাফি অর্পিতাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। তার শরীরের প্রতিটি অংশ চুমু দিয়ে সাজাতে লাগল। অর্পিতা কাঁপতে কাঁপতে তার নাম ডাকল। রাফি তার কানে বলল, “আজ থেকে তুমি সম্পূর্ণ আমার।”

রাত গভীর হয়ে গেল। দুজনের শরীর বারবার মিলিত হল। রাফি অর্পিতাকে এমনভাবে ভালোবাসল যে অর্পিতার মনে হল, সে আর আগের অর্পিতা নেই। সে রাফির হয়ে গেছে।

ভোরে দুজন জড়িয়ে শুয়ে রইল। রাফি অর্পিতার চুলে হাত বুলিয়ে বলল, “এখন আর কোনো অভিনয় নেই।”

অর্পিতা তার বুকে মাথা রেখে বলল, “না। এখন শুধু সত্যি।”

সকালে নিচে গিয়ে সবাইকে দেখল। মা হাসিমুখে বলল, “এবার সংসার শুরু করো।”

রাফি অর্পিতার হাত ধরে বলল, “হ্যাঁ।”

দুপুরে দুজন বেরিয়ে গেল। নতুন ফ্ল্যাটে। যেখানে তারা একা থাকবে। দরজা বন্ধ করে রাফি আবার অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরল।

“এখন পুরো জীবন।”

অর্পিতা তার ঠোঁটে চুমু দিয়ে বলল, “পুরো জীবন।”

তারা আবার বিছানায় গেল। এবার আরও ধীরে, আরও গভীরে। রাফি অর্পিতার চোখে তাকিয়ে বলল, “আমি তোমাকে প্রথম দেখার দিন থেকে চেয়েছি। আর এখন পেয়েছি।”

অর্পিতা তার পিঠে নখ বসিয়ে বলল, “আর ছাড়ব না।”

দুজনের শরীর আবার এক হয়ে গেল। ঘাম, নিঃশ্বাস, চুমু—সব মিশে গেল। বাইরে ঢাকার শহর গর্জে উঠছিল। ভেতরে দুজন শুধু একে অপরকে নিয়ে ব্যস্ত।

সন্ধ্যায় তারা ছাদে গেল। রাফি অর্পিতার কোমরে হাত রেখে বলল, “মনে আছে, প্রথম দিন তুমি আমাকে বলেছিলে বাগদত্তা সাজতে?”

অর্পিতা হাসল। “মনে আছে। তুমি বলেছিলে শর্ত আছে।”

রাফি তার কপালে চুমু দিয়ে বলল, “আমার শর্ত ছিল তোমাকে পাওয়া। আর আমি পেয়েছি।”

অর্পিতা তার গলায় মাথা রেখে বলল, “আমিও পেয়েছি।”

রাত নামল। দুজন আবার ঘরে ফিরল। দরজা বন্ধ। পৃথিবী বাইরে। ভেতরে শুধু তারা দুজন। রাফি অর্পিতাকে আবার জড়িয়ে ধরল। তার হাত অর্পিতার শরীরে ঘুরতে লাগল। অর্পিতাও সাড়া দিল।

সেই রাতে তারা আরও গভীরে ডুবল। রাফি অর্পিতাকে বারবার বলল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।”

অর্পিতাও বলল, “আমিও।”

ভোরের আলো ফুটতে লাগল। দুজন জড়িয়ে শুয়ে রইল। অর্পিতার মাথা রাফির বুকে। রাফির হাত তার পিঠে।

অর্পিতা ফিসফিস করে বলল, “এটা কি স্বপ্ন?”

রাফি তার চুলে চুমু দিয়ে বলল, “না। এটা আমাদের জীবন।”

বাইরে শহর জেগে উঠছিল। ভেতরে দুজন এখনো ঘুমাচ্ছিল। একসাথে। আর কোনো অভিনয় নেই। শুধু সত্যি। গভীর, গরম, অন্তহীন সত্যি।

....
👁 24