নিশা আর আদ্রিকের পরিচয় শুরু হয়েছিল একই পাড়ার দুই বাড়িতে। ঢাকার মিরপুরের এক সরু গলির দুই পাশে তাদের বাড়ি। নিশার বাবা একটা ছোট দোকান চালাতেন, আদ্রিকের বাবা সরকারি চাকরি করতেন। ছোটবেলা থেকেই দুজনের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। স্কুলে একই ক্লাসে পড়ত। নিশা সবসময় প্রথম হতো, আদ্রিক দ্বিতীয়। পরীক্ষার ফল বেরোলেই আদ্রিক এসে বলত, “তুই নকল করেছে নিশ্চয়!” নিশা উত্তর দিত, “তোর মাথায় বুদ্ধি নেই, তাই ঈর্ষা করিস।”
একদিন স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে আদ্রিক নিশার খাতায় জল ছিটিয়ে দিল। নিশা রেগে তার কলম ভেঙে ফেলল। শিক্ষক এসে দুজনকেই শাস্তি দিলেন। বাড়িতে ফিরে নিশার মা বললেন, “ওর সঙ্গে কথা বলবি না আর।” কিন্তু পরদিনই আবার দেখা হয়ে গেল। আদ্রিক এসে হাসিমুখে বলল, “কালকের ব্যাপার ভুলে যা। আজ তোকে একটা চকলেট দিলাম।” নিশা চকলেট নিল না, কিন্তু মনে মনে হাসল।
বছর চলে যায়। তারা কলেজে ভর্তি হয়। নিশা ইংরেজি সাহিত্য পড়ে, আদ্রিক ব্যবসায়। এখন আর প্রতিদিন দেখা হয় না, কিন্তু যখন হয়, তখনই শুরু হয় খুনসুটি। একদিন কলেজের ক্যান্টিনে নিশা বই পড়ছিল। আদ্রিক এসে পাশে বসে বলল, “এত পড়ে কী হবে? বিয়ে তো করতেই হবে একদিন।” নিশা চোখ তুলে তাকিয়ে বলল, “তোর সঙ্গে কখনো না।” আদ্রিক হেসে উঠল, “কে জানে?”
নিশার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দোকান বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের অবস্থা খারাপ হয়। নিশা প্রাইভেট টিউশনি শুরু করে। একদিন রাতের বেলা বাসায় ফিরতে গিয়ে রাস্তায় একটা সমস্যা হয়। কেউ তার পেছনে লাগে। সে ভয়ে দৌড়ায়। হঠাৎ একটা গাড়ি এসে থামে। চালক তাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেয়। মুখ দেখা যায় না, কিন্তু কণ্ঠস্বর পরিচিত মনে হয়। নিশা ধন্যবাদ জানায়, লোকটা কিছু না বলে চলে যায়।
এভাবে আরও কয়েকবার। পরীক্ষার আগে তার নোট খুঁজে না পেলে হঠাৎ ডাকবাক্সে নোট চলে আসে। টাকার অভাব হলে অজানা কেউ সাহায্য করে। নিশা ভাবে, কে এই মানুষ? কিন্তু খুঁজে পায় না।
একদিন নিশার বাবা আদ্রিকের বাবাকে ডেকে পাঠান। দুই পরিবার বসে। নিশার বাবা বলেন, “আমাদের অবস্থা ভালো না। আদ্রিক ভালো ছেলে। যদি দুই পরিবার এক হয়...” আদ্রিকের বাবা রাজি হয়ে যান। নিশা শুনে চমকে ওঠে। “না, আমি রাজি না!” সে চিৎকার করে। আদ্রিকও বলে, “আমিও না। ওকে সহ্য হয় না আমার।” কিন্তু পরিস্থিতি চাপে ফেলে। নিশার বাবার চিকিৎসার টাকা নেই। আদ্রিকের পরিবার সাহায্যের শর্ত রাখে বিয়ে। দুজনেই শেষ পর্যন্ত মাথা নত করে।
বিয়ের দিন আসে। সাদা শাড়ি পরে নিশা দাঁড়ায়। আদ্রিক পাঞ্জাবি পরে। দুজনের চোখে চোখ পড়ে। আদ্রিক ফিসফিস করে বলে, “এখন থেকে তোকে সহ্য করতে হবে।” নিশা জবাব দেয়, “তুইও।” বিয়ে হয়ে যায়। রাতে নতুন ঘরে দুজনে মুখোমুখি। আদ্রিক হাসতে হাসতে বলে, “আজ থেকে আমার স্ত্রী। কিন্তু আমি তোকে বিরক্ত করতেই থাকব।” নিশা বালিশ ছুড়ে মারে। আদ্রিক ধরে ফেলে তার হাত। দুজনের শরীর কাছাকাছি আসে। নিশার হৃদয় দ্রুত বাজে। আদ্রিক তার গালে হাত রাখে। “তোর রাগ দেখতে ভালো লাগে,” সে বলে। নিশা তার ঠোঁটের দিকে তাকায়। এক মুহূর্তে দুজনের ঠোঁট মিলে যায়। গভীর চুম্বন। আদ্রিকের হাত নিশার কোমরে ঘোরে। নিশা তার বুকে মাথা রাখে। রাতটা কেটে যায় আলিঙ্গনে, চুম্বনে, শরীরের উত্তাপে। দুজনেই অবাক হয় নিজেদের অনুভূতিতে। ঝগড়ার আড়ালে যে টান ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সকালে আদ্রিক উঠে চা বানায়। নিশাকে দেয়। “আজ থেকে প্রতিদিন এভাবেই শুরু হবে,” সে বলে। নিশা চায়ের কাপ হাতে নিয়ে হাসে। কিন্তু মনে মনে ভাবে, এই ছেলেটা কতটা দুষ্টু আর কতটা যত্নশীল, তা এখনো বোঝা যায়নি।
বিয়ের পরের মাসগুলো কেটে যায় খুনসুটিতে। আদ্রিক সকালবেলা নিশার চুল এলোমেলো করে দেয়। নিশা তার মোজা লুকিয়ে রাখে। আদ্রিক অফিস থেকে ফিরে এসে বলে, “আজকের রান্নায় নুন কম।” নিশা জবাব দেয়, “তুই রান্না কর।” কিন্তু রাতে বিছানায় গেলে দুজনের মধ্যে অন্য রকম টান তৈরি হয়। আদ্রিক নিশার গলায় চুমু খায়। নিশা তার চুল আঁকড়ে ধরে। দুজনের শরীর জড়িয়ে যায়। আদ্রিক ধীরে ধীরে নিশার শাড়ির আঁচল সরাতে থাকে। নিশার শ্বাস দ্রুত হয়। আদ্রিকের হাত তার পিঠে ঘোরে, কোমর চেপে ধরে। নিশা তার ঠোঁট কামড়ে ধরে যাতে শব্দ না হয়। দুজনের উত্তাপ ঘর ভরিয়ে দেয়। শেষে নিশা আদ্রিকের বুকে শুয়ে ফিসফিস করে, “তুই খুব খারাপ।” আদ্রিক হাসে, “তুইও।”
একদিন নিশার বাবার অবস্থা খারাপ হয়। হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। টাকার প্রয়োজন। নিশা দুশ্চিন্তায় পড়ে। আদ্রিক কিছু না বলে সব ব্যবস্থা করে। নিশা জানে না টাকা কোথা থেকে এল। সে শুধু ধন্যবাদ জানায়। আদ্রিক বলে, “স্বামী হিসেবে দায়িত্ব।” কিন্তু নিশা মনে মনে ভাবে, এই ছেলেটা কেন এত যত্ন নেয়?
আদ্রিকের দুষ্টুমি বাড়তে থাকে। একদিন নিশা অফিস থেকে ফিরে দেখে বাড়ির সব জামাকাপড় এলোমেলো। আদ্রিক হেসে বলে, “সার্চ করছিলাম তোর পুরনো চিঠি।” নিশা রেগে তার দিকে বালিশ ছোড়ে। আদ্রিক ধরে ফেলে নিশাকে। দুজন মেঝেতে পড়ে যায়। আদ্রিক উপরে উঠে নিশার দুই হাত ধরে রাখে। “এখন বল, তুই আমাকে ভালোবাসস কি না?” নিশা মাথা নাড়ে। আদ্রিক তার গলায় চুমু খায়, তারপর ঠোঁটে। নিশা আর বাধা দেয় না। আদ্রিকের হাত নিশার ব্লাউজের ভেতরে ঢোকে। নিশার শরীর কাঁপে। দুজনের পোশাক খুলে যায় ধীরে ধীরে। আদ্রিক নিশার স্তন চুম্বন করে, নিশা তার পিঠে নখ বসায়। ঘরের বাতাস গরম হয়ে ওঠে। দুজনের মিলন গভীর, উত্তপ্ত। নিশা আদ্রিকের নাম ধরে ডাকে। আদ্রিক তার কানে বলে, “তুই আমার।” রাতভর দুজন জড়িয়ে থাকে।
কিন্তু দিনে আবার ঝগড়া। নিশা একদিন আদ্রিকের মোবাইল চেক করতে গিয়ে দেখে কিছু অজানা নম্বর। সে সন্দেহ করে। আদ্রিক বলে, “কাজের ব্যাপার।” নিশা বিশ্বাস করে না। সে ভাবে, হয়তো অন্য কেউ আছে। দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। আদ্রিক আরও বেশি বিরক্ত করে। নিশার প্রিয় বই লুকিয়ে রাখে। নিশা তার অফিসের ফাইল মিসপ্লেস করে দেয়। কিন্তু রাতে যখন বিছানায় যায়, তখন সব ভুলে যায়। আদ্রিক নিশাকে জড়িয়ে ধরে। নিশা তার গলায় মুখ গুঁজে দেয়। আদ্রিকের হাত নিশার উরুতে ওঠে। নিশা তার ঠোঁট চেপে ধরে। দুজনের শরীর এক হয়ে যায়। আদ্রিক ধীরে ধীরে প্রবেশ করে। নিশা আর্তনাদ চেপে রাখে। দুজনের চোখে চোখ। আদ্রিক বলে, “আমি তোকে হারাতে চাই না।” নিশা চোখ বন্ধ করে তার বুকে মাথা রাখে।
একদিন নিশা বাজার থেকে ফিরে দেখে বাড়িতে একটা চিঠি। অজানা হাতের লেখা। “তোমার বাবার চিকিৎসার টাকা আমি দিয়েছিলাম। চিন্তা কোরো না।” নিশা অবাক হয়। কে এই মানুষ? সে আদ্রিককে জিজ্ঞেস করে। আদ্রিক কাঁধ ঝাঁকায়, “জানি না।” কিন্তু নিশার মনে সন্দেহ জাগে। আদ্রিকের আচরণে কিছু একটা লুকানো আছে। সে ঠিক করে, খুঁজে বের করবে।
নিশা একদিন আদ্রিকের পুরনো ডায়েরি খুঁজে পায়। সেখানে লেখা, ছোটবেলার দিনগুলোর কথা। আদ্রিক লিখেছে কীভাবে নিশাকে সাহায্য করেছে ছায়া থেকে। স্কুলে তার নোট চুরি হলে আদ্রিকই নতুন নোট এনে দিত। কলেজে যখন নিশাকে কেউ বিরক্ত করত, আদ্রিক দূর থেকে দেখত। বাবার অসুস্থতার সময় টাকা দিয়েছিল সেই অজানা ব্যক্তি হিসেবে। নিশা পড়তে পড়তে চোখে জল আসে। এত বছরের ঝগড়ার আড়ালে আদ্রিকই ছিল সেই মানুষ।
সে ডায়েরি হাতে নিয়ে আদ্রিকের সামনে দাঁড়ায়। আদ্রিক অবাক হয়ে তাকায়। নিশা বলে, “তুই... তুইই সেই অজানা?” আদ্রিক চুপ করে থাকে। তারপর মাথা নেড়ে বলে, “হ্যাঁ। তোকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সরাসরি বললে তুই রাগ করতিস। তাই লুকিয়ে।” নিশা তার দিকে এগিয়ে যায়। “এত বছর ধরে ঝগড়া করেছিস কেন?” আদ্রিক হাসে, “কারণ তোর রাগ দেখতে ভালো লাগত। আর তোকে কাছে পাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল এটা।”
নিশা আর সহ্য করতে পারে না। সে আদ্রিককে জড়িয়ে ধরে। দুজনের ঠোঁট মিলে যায় গভীরভাবে। আদ্রিক নিশাকে তুলে বিছানায় নিয়ে যায়। নিশার শাড়ি খুলে যায় আদ্রিকের হাতে। আদ্রিক তার গলা থেকে শুরু করে স্তন, পেট, উরু—সব জায়গায় চুম্বন করে। নিশা কাঁপতে থাকে। আদ্রিক তার পা দুটো আলাদা করে। নিশা আদ্রিকের চুল আঁকড়ে ধরে। দুজনের মিলন এবার আরও গভীর, আরও উত্তপ্ত। আদ্রিক ধীরে ধীরে নড়ে, নিশা তার সঙ্গে মিলিত হয়। ঘর ভরে ওঠে শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দে। নিশা আদ্রিকের নাম ডাকে বারবার। আদ্রিক তার কানে বলে, “আমি তোকে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকে।” নিশা জবাব দেয়, “আমিও।” দুজনের শরীর একসঙ্গে কাঁপে। শেষে নিশা আদ্রিকের বুকে শুয়ে থাকে। আদ্রিক তার চুল আঁচড়ায়।
পরের দিনগুলো বদলে যায়। আর ঝগড়া নেই। আদ্রিক সকালবেলা নিশাকে চা দিয়ে জাগায়। নিশা তার অফিসের জামা ইস্ত্রি করে দেয়। রাতে দুজন একসঙ্গে রান্না করে। তারপর বিছানায় গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জড়িয়ে থাকে। আদ্রিক নিশার শরীরের প্রতিটি অংশ চিনে নেয়। নিশা আদ্রিকের বুকের ওপর শুয়ে তার হৃদস্পন্দন শোনে। একদিন নিশা বলে, “তুই যদি সরাসরি বলতিস...” আদ্রিক উত্তর দেয়, “তাহলে তোর সঙ্গে এত মজা হতো না।” দুজনে হেসে ওঠে।
নিশার বাবা সুস্থ হয়ে ওঠেন। দুই পরিবার একসঙ্গে বসে। নিশা আদ্রিকের হাত ধরে বলে, “এখন আর কোনো অজানা নেই।” আদ্রিক তার হাত চেপে ধরে। রাতে দুজন ছাদে যায়। শহরের আলো জ্বলছে। আদ্রিক নিশাকে জড়িয়ে ধরে। নিশা তার গলায় মুখ রাখে। আদ্রিক ধীরে ধীরে নিশার পোশাক সরাতে থাকে। ছাদের অন্ধকারে দুজনের শরীর মিলে যায়। নিশা আদ্রিকের পিঠে হাত বোলায়। আদ্রিক তার ঠোঁট কামড়ে ধরে। দুজনের উত্তাপ রাতভর থাকে। শেষে নিশা ফিসফিস করে বলে, “তুই আমার সব।” আদ্রিক জবাব দেয়, “আর তুই আমার।”
এভাবেই তাদের জীবন চলতে থাকে। ঝগড়ার জায়গায় এসেছে গভীর ভালোবাসা। আদ্রিকের দুষ্টুমি এখন স্নেহে মেশানো। নিশা আর একা নয়। সে জানে, তার পাশে সবসময় সেই মানুষটাই আছে—যে ছোটবেলা থেকে তাকে দেখেছে, সাহায্য করেছে, ভালোবেসেছে। দুজনের গল্প এখন শুধু তাদের। গভীর, উত্তপ্ত, আর চিরস্থায়ী।
....