বিয়ের পর দুই বছর কেটে গেছে। ঢাকার উত্তরায় একটা ভাড়া বাসায় অন্বেষা আর কাব্য থাকত। বাসাটা ছোট, দুই রুমের। সকালে কাব্য অফিসে চলে যেত, রাতে ফিরত। অন্বেষা বাসায় থাকত। দুজনের মধ্যে কথা কম। খাবার টেবিলে বসত, চুপচাপ খেত। রাতে এক বিছানায় শুত, কিন্তু শরীর দুটো আলাদা মনে হত।
অন্বেষা মাঝে মাঝে ভাবত, বিয়েটা কি ভুল হয়েছে। কাব্য তাকে ভালোবাসে কি না, সেটা নিয়েও সন্দেহ জন্মাত। কাব্য ব্যস্ত। তার কাজের চাপ বেশি। ব্যাংকে চাকরি। মাসের শেষে হিসাব মেলাতে হয়। অন্বেষা জিজ্ঞেস করলে সে বলত, “কাজ আছে।” আর কিছু বলত না।
একদিন সকালে অন্বেষা কাব্যের মোবাইলে মেসেজ দেখতে পেল। লক স্ক্রিনে একটা নাম উঠেছিল—রাবেয়া বেগম। কাব্য তাড়াতাড়ি মোবাইল সরিয়ে নিল। অন্বেষা জিজ্ঞেস করল, “কে এই রাবেয়া বেগম?” কাব্য বলল, “কাজের কথা।” মুখ ফিরিয়ে নিল।
সেই থেকে অন্বেষার মনে অশান্তি। সে লক্ষ করল, প্রতি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার কাব্য বাসা থেকে বের হয়। বিকেলে যায়, রাত নয়টার দিকে ফেরে। কোথায় যায়, কাকে দেখে—কিছু বলে না। অন্বেষা একদিন তার পিছু নিল।
কাব্য বাস ধরল। অন্বেষাও আলাদা বাসে উঠল। গন্তব্য ছিল নারায়ণগঞ্জের একটা পুরনো এলাকা। সরু গলি, পুরনো বাড়ি। কাব্য একটা ছোট দোতলা বাড়ির সামনে থামল। দরজায় কড়া নেড়ে ঢুকে গেল। অন্বেষা দূরে দাঁড়িয়ে দেখল। ভেতর থেকে এক বৃদ্ধার কণ্ঠস্বর শোনা গেল। কাব্য প্রায় এক ঘণ্টা পর বেরোল। হাতে একটা প্যাকেট। মুখ গম্ভীর।
অন্বেষা সেদিন আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। কিন্তু মনে সন্দেহ জমে উঠল। এই বৃদ্ধা কে? কাব্য কেন প্রতি মাসে তার কাছে যায়? টাকা দেয় কি? নাকি অন্য কিছু?
রাতের খাবারের সময় অন্বেষা জিজ্ঞেস করল, “তুমি আজ কোথায় গিয়েছিলে?”
কাব্য চুপ করে রইল। তারপর বলল, “কাজের দরকার ছিল।”
“কী কাজ?”
“বললে বুঝবে না।”
অন্বেষার গলা শক্ত হয়ে গেল। “আমি তোমার স্ত্রী। আমাকে বলার অধিকার আছে।”
কাব্য চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। “অন্বেষা, এখন না। পরে।”
সে শোবার ঘরে চলে গেল। দরজা বন্ধ করে দিল।
অন্বেষা একা বসে রইল। চোখে জল আসছিল। সে ভাবল, হয়তো কাব্যের জীবনে অন্য কেউ আছে। এই বৃদ্ধা হয়তো সেই মেয়ের আত্মীয়। অথবা কাব্য নিজেই কিছু গোপন রাখছে। বিয়ের আগে কাব্য তাকে অনেক কথা বলেছিল। ভালোবাসার কথা, একসাথে থাকার স্বপ্ন। এখন সব যেন মিথ্যে।
পরের দিন অন্বেষা সিদ্ধান্ত নিল। সে জানবেই। কাব্যের মোবাইলের গ্যালারি দেখল। কিছু ছবি পেল না। কল লিস্টে রাবেয়া বেগমের নাম কয়েকবার। সে নাম্বারটা নোট করল।
রাত গভীর হলে কাব্য ঘুমিয়ে পড়ল। অন্বেষা তার পাশে শুয়ে তার মুখ দেখতে লাগল। কাব্যের চোখের নিচে কালো দাগ। কাজের চাপে হয়তো। কিন্তু অন্বেষার মনে অন্য কথাই ঘুরছিল। সে কাব্যের বুকের ওপর হাত রাখল। কাব্যের শরীর গরম। অন্বেষার আঙুল তার বুকের চামড়ায় ঘষে যেতে লাগল। কাব্য ঘুমের মধ্যে একটু নড়ল। অন্বেষা কাছে সরে গেল। তার ঠোঁট কাব্যের কাঁধে লাগল। চুমু খেল। নরম, ধীরে। কাব্যের হাত তার কোমরে এসে পড়ল। কিন্তু কাব্য জেগে উঠল না। অন্বেষা আরও কাছে গেল। তার শরীর কাব্যের শরীরের সাথে মিশে গেল। সে কাব্যের গলায় চুমু খেল, কানে ফিসফিস করে বলল, “তুমি কেন আমাকে দূরে রাখো?”
কাব্যের চোখ খুলল। অন্ধকারে অন্বেষার মুখ দেখতে পেল। সে কিছু না বলে অন্বেষাকে টেনে নিল। দুজনের ঠোঁট মিলল। গভীর চুমু। অন্বেষার হাত কাব্যের চুলের মধ্যে ঢুকে গেল। কাব্য তার শাড়ির আঁচল সরিয়ে তার পিঠে হাত বুলাতে লাগল। অন্বেষার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। কাব্য তার গলায় চুমু খেল, কানে বলল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
কিন্তু অন্বেষার মনে সন্দেহ কাটল না। সে রাতে তারা কাছাকাছি এল। শরীরের উত্তাপ মিলল। অন্বেষা কাব্যের বুকে মাথা রাখল। কাব্য তার চুলে হাত বুলাতে লাগল। তবুও অন্বেষার চোখে ঘুম এল না। সে ভাবছিল, আগামী শুক্রবার আবার সে পিছু নেবে। এবার ভেতরে ঢুকবে। জানবে কে এই রাবেয়া বেগম।
সকালে কাব্য অফিসে যাওয়ার আগে অন্বেষাকে চুমু খেল। “আজকের খাবার ভালো করে রেখো,” বলল। অন্বেষা হাসল, কিন্তু হাসি মিথ্যে। কাব্য চলে গেলে অন্বেষা একা বসে রইল। জানালার বাইরে রাস্তায় গাড়ি চলছিল। মানুষ যাচ্ছিল। অন্বেষার জীবন যেন থেমে আছে। সে সিদ্ধান্ত নিল, সত্য জানতেই হবে। যাই হোক না কেন।
সেদিন সন্ধ্যায় অন্বেষা রাবেয়া বেগমের নাম্বারে কল করল। কেউ ধরল না। আবার কল করল। এক বৃদ্ধার গলা এল, “কে?”
অন্বেষা বলল, “আমি কাব্যের স্ত্রী। আপনি কে?”
লাইন কেটে গেল। অন্বেষার হাত কাঁপছিল। এখন নিশ্চিত। কিছু একটা লুকানো আছে।
রাতের খাবারের সময় অন্বেষা কাব্যকে বলল, “আমি জানি তুমি কোথায় যাও। রাবেয়া বেগম কে?”
কাব্যের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে চেয়ার ছেড়ে উঠল। “অন্বেষা, শোনো—”
“বলো। এখনই বলো।”
কাব্য দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বলল, “এখন নয়। সময় হলে বলব।”
অন্বেষা রাগ করে শোবার ঘরে চলে গেল। দরজা বন্ধ করে কাঁদতে লাগল। কাব্য দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে শুনছিল। কিন্তু ভেতরে ঢুকল না।
সেই রাতে দুজন আলাদা ঘুমাল। অন্বেষার মনে একটাই কথা—কাব্য তাকে ঠকাচ্ছে। বিয়ের পর এই প্রথম সে এত একা বোধ করল।
পরের শুক্রবার অন্বেষা আবার পিছু নিল। এবার সে আরও কাছে গেল। কাব্য সেই একই বাড়িতে ঢুকল। অন্বেষা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে শুনল। ভেতর থেকে কথা শোনা যাচ্ছিল।
কাব্য বলছিল, “এই মাসের টাকা দিয়ে এলাম। ওষুধ কিনে নিয়েছেন তো?”
বৃদ্ধা বলল, “হ্যাঁ। তুমি কেন এত কষ্ট করো, বাবা?”
“কষ্ট নয়। দরকার।”
“অন্বেষাকে বলেছ?”
“না। বলব না।”
অন্বেষার শরীর শক্ত হয়ে গেল। তার নাম। এই বৃদ্ধা তাকে চেনে।
অন্বেষা আর সহ্য করতে পারল না। দরজায় কড়া নাড়ল। কাব্য দরজা খুলল। মুখ দেখে চমকে গেল। “তুমি কেন এখানে?”
অন্বেষা ভেতরে ঢুকে গেল। ঘরটা অন্ধকার। এক বৃদ্ধা খাটে বসে। চোখে মোটা চশমা। মুখ কুঁচকানো। বৃদ্ধা অন্বেষাকে দেখে চিনতে পারল। “তুমি অন্বেষা?”
অন্বেষা দাঁড়িয়ে রইল। “আপনি কে? কাব্য কেন আপনার কাছে আসে?”
কাব্য তার হাত ধরতে গেল। অন্বেষা সরিয়ে নিল। “বলো।”
বৃদ্ধা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “বসো, মেয়ে। শোনো।”
অন্বেষা বসল না। দাঁড়িয়ে রইল।
বৃদ্ধা বলল, “আমার নাম রাবেয়া। আমি একসময় তোমার বাবার বাড়িতে কাজ করতাম। তুমি ছোট ছিলে। তোমার বাবা ব্যবসা করতেন। আমি তার হিসাব রাখতাম। একসময় আমি ভুল করেছিলাম। তোমার বাবার টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম। তোমার বাবা দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিলেন। তোমার পরিবার ভেঙে পড়েছিল। তোমার মা অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিলেন। তুমি স্কুল ছেড়ে দিয়েছিলে। সেই সময় তোমার জীবন প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল।”
অন্বেষার পা কাঁপছিল। সে মনে করতে পারল। সেই সময়ের কথা। বাবার ব্যবসা ভেঙে যাওয়া, মায়ের অসুখ, নিজেদের সব কিছু হারানো। কিন্তু এই বৃদ্ধার কথা সে জানত না।
কাব্য বলল, “আমি জানতাম। বিয়ের আগে তোমার পরিবারের ইতিহাস জেনেছিলাম। রাবেয়া বেগম এখন অসুস্থ। তার কেউ নেই। আমি প্রতি মাসে তাকে সাহায্য করি। যাতে সে আর কোনো সমস্যা না তৈরি করে। যাতে তোমার অতীত আর ফিরে না আসে। তোমাকে রক্ষা করার জন্যই আমি আসি।”
অন্বেষা কাব্যের দিকে তাকাল। “তুমি আমাকে বলোনি কেন?”
“কারণ তুমি কষ্ট পাবে। আমি চেয়েছিলাম তোমার জীবন শান্ত থাকুক।”
অন্বেষার চোখে জল এল। সে বৃদ্ধার দিকে তাকাল। বৃদ্ধা মাথা নিচু করে বলল, “আমি অনেক ভুল করেছি। এখন অনুশোচনা করি। কাব্য আমাকে সাহায্য করে। আমি আর কিছু চাই না।”
অন্বেষা বাড়ি ফিরল। কাব্য তার সাথেই এল। বাসায় ঢুকে অন্বেষা কাব্যকে জড়িয়ে ধরল। কেঁদে ফেলল। কাব্য তার পিঠে হাত বুলাতে লাগল। “দুঃখ পেয়ো না। আমি আছি।”
সেই রাতে অন্বেষা কাব্যের কাছে গেল। দুজনের শরীর মিলল। অন্বেষা কাব্যের বুকে মুখ রাখল। কাব্য তার ঠোঁটে চুমু খেল। গভীর, লম্বা। অন্বেষার হাত কাব্যের শরীরে ঘুরতে লাগল। কাব্য তার শাড়ি খুলে ফেলল। অন্বেষার ত্বক তার হাতের নিচে নরম। কাব্য তার গলায়, বুকে, পেটে চুমু খেল। অন্বেষার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। সে কাব্যের চুলে হাত দিল, তাকে আরও কাছে টানল।
দুজনের শরীর এক হয়ে গেল। অন্বেষা কাব্যের কানে ফিসফিস করে বলল, “আমাকে আর কখনো দূরে রেখো না।”
কাব্য বলল, “কখনো না।”
তারা দীর্ঘক্ষণ কাছাকাছি রইল। শরীরের উত্তাপ, শ্বাসের শব্দ, হাতের স্পর্শ—সব মিলিয়ে এক গভীর মুহূর্ত তৈরি হল। অন্বেষা কাব্যের বুকে মাথা রেখে শুয়ে রইল। কাব্য তার চুলে আঙুল চালাতে লাগল। বাইরে রাতের শব্দ। ভেতরে শুধু দুজনের নিঃশ্বাস।
সকালে অন্বেষা জেগে উঠল। কাব্য তার পাশে। সে কাব্যের মুখে চুমু খেল। কাব্য চোখ খুলল। হাসি দিল। “ভালো আছো?”
অন্বেষা মাথা নাড়ল। “এখন ভালো।”
তারা একসাথে নাস্তা করল। কথা বলল। অন্বেষা জিজ্ঞেস করল, “তুমি কতদিন ধরে যাচ্ছ?”
“বিয়ের পর থেকে। প্রতি মাসে।”
“আর কষ্ট করো না। আমিও যাব।”
কাব্য তার হাত ধরল। “ঠিক আছে।”
সেদিন অন্বেষা কাব্যের সাথে অফিসে গেল না। বাসায় থেকে ভাবল। অতীতের কষ্ট ফিরে এসেছিল। কিন্তু এখন কাব্য আছে। সে আর একা নয়।
সন্ধ্যায় কাব্য ফিরল। অন্বেষা তাকে জড়িয়ে ধরল। দুজনের ঠোঁট আবার মিলল। এবার আরও গভীর। অন্বেষা কাব্যের জামার বোতাম খুলল। কাব্য তার কোমরে হাত রাখল। তারা শোবার ঘরে গেল। দরজা বন্ধ হল। বাইরের পৃথিবী দূরে চলে গেল। শুধু দুজনের শরীর, দুজনের ভালোবাসা।
অন্বেষা কাব্যের বুকে শুয়ে বলল, “আমি তোমাকে বিশ্বাস করি।”
কাব্য তার কপালে চুমু খেল। “আমি তোমাকে রক্ষা করব। সবসময়।”
পরের কয়েকদিন ধরে অন্বেষা আর কাব্যের মধ্যে দূরত্ব কমে গেল। তারা একসাথে সময় কাটাতে লাগল। সকালে একসাথে নাস্তা, সন্ধ্যায় একসাথে হাঁটা। রাতে একসাথে শোয়া। অন্বেষা এখন আর সন্দেহ করে না। কাব্যের চোখে সে ভালোবাসা দেখে।
একদিন অন্বেষা বলল, “আজ রাবেয়া বেগমের কাছে যাই।”
কাব্য সম্মতি দিল। দুজনে নারায়ণগঞ্জে গেল। বৃদ্ধা তাদের দেখে খুশি হল। অন্বেষা তার হাত ধরল। “আপনি ভালো থাকুন।”
বৃদ্ধা বলল, “তুমি ক্ষমা করে দিয়েছ?”
অন্বেষা মাথা নাড়ল। “অতীত শেষ। এখন নতুন জীবন।”
ফেরার পথে কাব্য অন্বেষার হাত ধরে রাখল। বাসে পাশাপাশি বসল। অন্বেষা কাব্যের কাঁধে মাথা রাখল। কাব্য তার চুলে হাত বুলাল।
বাসায় ফিরে অন্বেষা কাব্যকে বলল, “আজ রাতটা শুধু আমাদের।”
কাব্য হাসল। “ঠিক আছে।”
রাতের খাবার শেষে অন্বেষা শোবার ঘরে গেল। কাব্য তার পিছু নিল। অন্বেষা শাড়ি খুলে ফেলল। কাব্য তার পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল। ঠোঁট তার ঘাড়ে লাগল। অন্বেষা চোখ বন্ধ করল। কাব্যের হাত তার শরীরে ঘুরতে লাগল। বুক, কোমর, উরু। অন্বেষার শরীর কেঁপে উঠল। সে ঘুরে দাঁড়াল। কাব্যের মুখে চুমু খেল। গভীর, ক্ষুধার্ত।
দুজন বিছানায় শুয়ে পড়ল। কাব্য অন্বেষার ওপর এল। তার হাত অন্বেষার চুলে। অন্বেষা কাব্যের পিঠে নখ বুলাল। কাব্য তার গলায় চুমু খেল, কানে বলল, “তুমি আমার।”
অন্বেষা বলল, “তুমি আমার।”
শরীর মিলল। ধীরগতির। প্রতিটি স্পর্শ গভীর। অন্বেষা কাব্যের চোখের দিকে তাকাল। সেখানে শুধু ভালোবাসা। কাব্য তার ঠোঁটে চুমু খেল, শরীর আরও কাছে টানল। অন্বেষার শ্বাস দ্রুত। সে কাব্যের নাম ডাকল। কাব্য তার কানে ফিসফিস করল, “আমি তোমাকে কখনো ছাড়ব না।”
মুহূর্তগুলো লম্বা হয়ে গেল। দুজনের শরীর এক ছন্দে চলল। অন্বেষা কাব্যের বুকে আঙুল দিয়ে নাম লিখল। কাব্য তার হাত ধরে চুমু খেল। শেষে তারা একে অপরকে জড়িয়ে শুয়ে রইল। ঘামে ভেজা শরীর। শান্ত নিঃশ্বাস।
অন্বেষা বলল, “তুমি আমাকে রক্ষা করেছ। আমি জানতাম না।”
কাব্য বলল, “তোমাকে সুখী দেখতে চাই। সেটাই আমার কাজ।”
পরের দিন থেকে তাদের জীবন বদলে গেল। কাব্য এখন সময় দেয়। অন্বেষা তার কাজের কথা শোনে। তারা একসাথে রান্না করে, একসাথে হাসে। মাঝে মাঝে রাবেয়া বেগমের কাছে যায়। বৃদ্ধা এখন শান্ত। অন্বেষা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছে।
এক সন্ধ্যায় অন্বেষা কাব্যকে বলল, “আমাদের একটা সন্তান হোক।”
কাব্য তার হাত ধরল। “হোক।”
তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। জানালার বাইরে ঢাকার আলো। ভেতরে দুজনের উষ্ণতা।
রাত গভীর হলে আবার তারা কাছাকাছি এল। এবার আরও গভীর। অন্বেষা কাব্যের শরীর চিনে নিয়েছে। কাব্য অন্বেষার প্রতিটি প্রতিক্রিয়া জানে। চুমু, স্পর্শ, শ্বাস—সব মিলিয়ে এক পরিপূর্ণ মুহূর্ত। অন্বেষা কাব্যের কানে বলল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
কাব্য বলল, “আমিও।”
সকালে অন্বেষা জেগে উঠল। কাব্য তার পাশে। সে কাব্যের বুকে মাথা রাখল। আর কোনো সন্দেহ নেই। আর কোনো দূরত্ব নেই। শুধু দুজন মানুষ, যারা একে অপরকে রক্ষা করে, ভালোবাসে।
অন্বেষা জানালার দিকে তাকাল। বাইরে সূর্য উঠছে। তার জীবনেও আলো এসেছে। কাব্যের হাত তার কোমরে। সে হাসল। সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে।
গল্পের শেষে অন্বেষা আর কাব্য হাতে হাত রেখে বসেছিল। তাদের চোখে শান্তি। অতীতের ছায়া দূরে চলে গেছে। ভবিষ্যৎ তাদের সামনে। গভীর ভালোবাসায় ভরা এক নতুন অধ্যায়।
....